বটিয়াঘাটায় লিডার্সের উদ্যোগে কৃষকদের মাঝে জলবায়ু সহনশীল ধান বীজ ও জৈবসার বিতরণ
- আপডেট সময় : 11:28:56 pm, Friday, 10 July 2026 151 300 বার পড়া হয়েছে

বটিয়াঘাটা প্রতিনিধি:জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে উপকূলীয় অঞ্চলে ক্রমবর্ধমান লবণাক্ততা, বন্যা, খরা এবং অনিয়মিত আবহাওয়ার কারণে কৃষি উৎপাদন বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অভিযোজন সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং টেকসই কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে উন্নয়ন সংস্থা লিডার্স জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ কৃষকদের মাঝে জলবায়ু সহনশীল ধান বীজ ও জৈবসার বিতরণ করেছে।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সকাল ১১টায় বটিয়াঘাটা উপজেলার গঙ্গারামপুর ইউনিয়ন পরিষদে Climate Adaptation of High Risk Coastal Communities through Empowerment (CARE) প্রকল্পের আওতায় এ বিতরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ব্রেড ফর দ্য ওয়ার্ল্ড-এর আর্থিক সহযোগিতায় বাস্তবায়িত প্রকল্পটির অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন লিডার্সের প্রজেক্ট কো-অর্ডিনেটর মুহাম্মদ মঞ্জুরুল হক।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গঙ্গারামপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আসলাম হাওলাদার। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গঙ্গারামপুর ও সুরখালী ইউনিয়নের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা রাজিব বিশ্বাস, মো. মোস্তাফিজুর রহমান, বিষাদ সিন্ধু মণ্ডল এবং অঞ্জন মণ্ডল।
প্রকল্পের পরিচিতি তুলে ধরে লিডার্সের এগ্রিকালচার অ্যান্ড লাইভলিহুড অফিসার মো. ফয়সাল হাসান বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে উপকূলীয় অঞ্চলে কৃষি উৎপাদন ক্রমেই ঝুঁকির মুখে পড়ছে। এ পরিস্থিতিতে লবণ, খরা ও বন্যা সহিষ্ণু ধানের জাতের সম্প্রসারণ এবং জৈবসারের ব্যবহার বৃদ্ধি কৃষকদের উৎপাদনশীলতা ও অভিযোজন সক্ষমতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে চেয়ারম্যান আসলাম হাওলাদার বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় কৃষকদের জলবায়ু সহনশীল ধানের জাত ও আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি ব্যবহারে আরও উৎসাহিত করতে হবে। সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি লিডার্সের মতো উন্নয়ন সংস্থার এ ধরনের কার্যক্রম কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং টেকসই কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বিশেষ অতিথিদের বক্তব্যে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকি মোকাবিলায় সহিষ্ণু ধানের জাত নির্বাচন, আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতি অনুসরণ এবং জৈবসারের ব্যবহার বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তারা বলেন, রাসায়নিক সারের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে জৈবসারের ব্যবহার বাড়ানো গেলে মাটির উর্বরতা সংরক্ষণ, উৎপাদন ব্যয় হ্রাস এবং পরিবেশবান্ধব কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব হবে।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন লিডার্সের প্রজেক্ট অফিসার ইভানা আফরিন। এ সময় হিমাংশু মণ্ডল, চৈতি মণ্ডল, ফিল্ড ফ্যাসিলিটেটর এবং উপকারভোগী কৃষকরা উপস্থিত ছিলেন।
লিডার্সের CARE প্রকল্পের আওতায় চলতি আমন মৌসুমে খুলনা ও সাতক্ষীরা জেলার বটিয়াঘাটা, শ্যামনগর ও আশাশুনি উপজেলার ৩৫০ জন জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ কৃষকের মাঝে ৩ হাজার ৫৪০ কেজি লবণ ও বন্যা সহিষ্ণু ধান বীজ এবং সমপরিমাণ জৈবসার বিতরণ করা হবে। এ উদ্যোগের মাধ্যমে জলবায়ু সহনশীল কৃষি চর্চার সম্প্রসারণ, নিরাপদ ও টেকসই খাদ্য উৎপাদন নিশ্চিতকরণ এবং উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর অভিযোজন সক্ষমতা জোরদার করতে কাজ করছে লিডার্স।
আয়োজকরা জানান, জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবিলায় টেকসই কৃষিই হতে পারে উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার অন্যতম ভিত্তি। সেই লক্ষ্যেই লিডার্স স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে নিয়ে একটি জলবায়ু সহনশীল ও স্থিতিশীল সমাজ গঠনে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।






























