সাতক্ষীরা 5:39 am, Monday, 9 November 2026
সংবাদ শিরোনাম ::
ছবিটা ক্লিয়ার করে দাও সাতক্ষীরায় ‘বিজ’-এর কৃষি কর্মসূচির আওতায় ফলজ, বনজ ও ঔষধি চারা বিতরণ আলিপুর ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে আলোচনায় আব্দুর রউফের পৌত্র সামির সোয়েব রাদমির অন্যায়ের বিরুদ্ধে আপসহীন, অধিকার ও সম্প্রীতির প্রশ্নে অদম্য—নতুন প্রত্যয়ে সাতক্ষীরায় যুব ঐক্য পরিষদ আশাশুনিতে শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের মাসিক কর্মপরিকল্পনা বৈঠক অনুষ্ঠিত পর্নোগ্রাফি ও চাঁদাবাজির মামলায় সাতক্ষীরার কথিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর, আব্দুল্লাহ আল মামুন গ্রেপ্তার ফ্রান্সের বর্তমান অবস্থা (জনগণের ক্ষোভ ও সামরিক শক্তি বৃদ্ধি) সাতক্ষীরায় মোটরসাইকেল চুরির অভিযোগে সার্জেন্টের ছেলে আটক, গণপিটুনির পর পুলিশের হেফাজতে সাতক্ষীরার ভোমরা সীমান্তে ভারতে পাচারকালে ১ কোটি ৫৫ লক্ষ টাকার স্বর্ণ সহ আটক: ১ সাতক্ষীরা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে কোষাধ্যক্ষ পদপ্রার্থী অ্যাডভোকেট শামীম রেজা সাতক্ষীরার দেবহাটায় গৃহবধূকে হেনস্তার চেষ্টা ও শিশুদের হয়রানির অভিযোগে যুবক আটক

এক সকালে চঞ্চলের গ্রামের বাড়িতে

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : 03:16:02 pm, Saturday, 12 November 2022 487 300 বার পড়া হয়েছে
Khandakarit.com

সুজানগর উপজেলার কামারহাট পাবনা শহর থেকে প্রায় ৪২ কিলোমিটার দূরে। দূরত্ব বিবেচনায় শহর থেকে যাত্রাটা করি শিশিরভেজা সকালে। সূর্যটা মাত্র উঁকি দিচ্ছে যখন। প্রথমে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় পৌঁছাই নাজিরগঞ্জ বাজার। সেখান থেকে যেতে হয় কামারহাট। এ গ্রামেই বেড়ে উঠেছেন অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরী। আমরা তাঁর বাড়িতেই যাচ্ছি।

সকাল ৯টা। সবুজ ছায়াময় গ্রামের পথ ধরে পৌঁছাই চঞ্চলের জন্মভিটায়। বাড়ির প্রধান ফটকে স্বাগত জানায় সদ্য ফোটা নীল অপরাজিতা। সদর দরজা খোলাই ছিল। গুটি গুটি পায়ে ভেতরে ঢুকে পড়ি।

উঠানের এক কোনায় বসে সবজি কাটছিলেন নমিতা রানী। তিনি চঞ্চল চৌধুরীর মা। কে বলবে বয়স আশির কোঠায়। এ বয়সেও বাড়ির টুকিটাকি কাজ নিজেই করেন। তাঁর কাছে গিয়ে প্রণাম জানাই। নিজেদের পরিচয় দিই। সন্তানের মতো সমাদরে বসতে দেন। বসে যখন ইতিউতি করছি, তখন নিজে থেকেই বললেন, ‘তোমার কাকাবাবু ওষুধ সেবন করছেন’।

এরই মধ্যে দুজন নারী-পুরুষ এগিয়ে এলেন। এই দুজন চঞ্চল চৌধুরীর বয়স্ক মা-বাবার দেখভাল করেন। আমাদের কণ্ঠ শুনে ঘর থেকে বেরিয়ে আসেন চতুর্থজনও। তিনি চঞ্চল চৌধুরীর বাবা রাধাগোবিন্দ চৌধুরী। বর্তমান বয়স ৯১ বছর।

রাধাগোবিন্দ চৌধুরীর শারীরিক অবস্থা দেখে বুঝতে বাকি রইল না, প্রথম আলোর কর্মী উৎসবে বাবার কথা বলতে গিয়ে চঞ্চল চৌধুরীর কণ্ঠ কেন ভারী হয়ে উঠেছিল। বয়সের ভারে অনেকটাই দুর্বল হয়ে পড়েছেন এলাকার জনপ্রিয় এই শিক্ষক। তবে ফেলে আসা দিনের কথা বলতে এতটুকু ক্লান্তি নেই। উঠানে বসে গল্প শুরু করেন। পাশে বসেন নমিতা রানী। চঞ্চল চৌধুরীর শৈশব-কৈশোর আর বেড়ে ওঠার নানা গল্প শোনান দুজন।

চঞ্চল চৌধুরীরা তিন ভাই ও পাঁচ বোন। কেউই তাঁরা বাড়িতে থাকেন না। চঞ্চলের মেজ ভাই অরিত্র চৌধুরী চিকিৎসক। চঞ্চল চৌধুরীর মতো তিনিও থাকেন ঢাকায়। চঞ্চল চৌধুরীর মা–বাবার শহর একদম ভালো লাগে না। দম বন্ধ হয়ে আসে। তাই বেশি দিন ছেলেদের বাড়িতে থাকতে পারেন না। গত সপ্তাহে দুই ছেলের বাড়ি ঘুরে গ্রামে এসেছেন দুজন। নমিতা রানী বলেন, ‘এখানে একটু হেঁটে বেড়ানো যায়। অনেক মানুষের সঙ্গে দেখা হয়। কথা বলা যায়।’ সব মিলিয়ে গ্রামেই ভালো থাকেন তাঁরা।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
ভাষা চেঞ্জ করুন

এক সকালে চঞ্চলের গ্রামের বাড়িতে

আপডেট সময় : 03:16:02 pm, Saturday, 12 November 2022

সুজানগর উপজেলার কামারহাট পাবনা শহর থেকে প্রায় ৪২ কিলোমিটার দূরে। দূরত্ব বিবেচনায় শহর থেকে যাত্রাটা করি শিশিরভেজা সকালে। সূর্যটা মাত্র উঁকি দিচ্ছে যখন। প্রথমে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় পৌঁছাই নাজিরগঞ্জ বাজার। সেখান থেকে যেতে হয় কামারহাট। এ গ্রামেই বেড়ে উঠেছেন অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরী। আমরা তাঁর বাড়িতেই যাচ্ছি।

সকাল ৯টা। সবুজ ছায়াময় গ্রামের পথ ধরে পৌঁছাই চঞ্চলের জন্মভিটায়। বাড়ির প্রধান ফটকে স্বাগত জানায় সদ্য ফোটা নীল অপরাজিতা। সদর দরজা খোলাই ছিল। গুটি গুটি পায়ে ভেতরে ঢুকে পড়ি।

উঠানের এক কোনায় বসে সবজি কাটছিলেন নমিতা রানী। তিনি চঞ্চল চৌধুরীর মা। কে বলবে বয়স আশির কোঠায়। এ বয়সেও বাড়ির টুকিটাকি কাজ নিজেই করেন। তাঁর কাছে গিয়ে প্রণাম জানাই। নিজেদের পরিচয় দিই। সন্তানের মতো সমাদরে বসতে দেন। বসে যখন ইতিউতি করছি, তখন নিজে থেকেই বললেন, ‘তোমার কাকাবাবু ওষুধ সেবন করছেন’।

এরই মধ্যে দুজন নারী-পুরুষ এগিয়ে এলেন। এই দুজন চঞ্চল চৌধুরীর বয়স্ক মা-বাবার দেখভাল করেন। আমাদের কণ্ঠ শুনে ঘর থেকে বেরিয়ে আসেন চতুর্থজনও। তিনি চঞ্চল চৌধুরীর বাবা রাধাগোবিন্দ চৌধুরী। বর্তমান বয়স ৯১ বছর।

রাধাগোবিন্দ চৌধুরীর শারীরিক অবস্থা দেখে বুঝতে বাকি রইল না, প্রথম আলোর কর্মী উৎসবে বাবার কথা বলতে গিয়ে চঞ্চল চৌধুরীর কণ্ঠ কেন ভারী হয়ে উঠেছিল। বয়সের ভারে অনেকটাই দুর্বল হয়ে পড়েছেন এলাকার জনপ্রিয় এই শিক্ষক। তবে ফেলে আসা দিনের কথা বলতে এতটুকু ক্লান্তি নেই। উঠানে বসে গল্প শুরু করেন। পাশে বসেন নমিতা রানী। চঞ্চল চৌধুরীর শৈশব-কৈশোর আর বেড়ে ওঠার নানা গল্প শোনান দুজন।

চঞ্চল চৌধুরীরা তিন ভাই ও পাঁচ বোন। কেউই তাঁরা বাড়িতে থাকেন না। চঞ্চলের মেজ ভাই অরিত্র চৌধুরী চিকিৎসক। চঞ্চল চৌধুরীর মতো তিনিও থাকেন ঢাকায়। চঞ্চল চৌধুরীর মা–বাবার শহর একদম ভালো লাগে না। দম বন্ধ হয়ে আসে। তাই বেশি দিন ছেলেদের বাড়িতে থাকতে পারেন না। গত সপ্তাহে দুই ছেলের বাড়ি ঘুরে গ্রামে এসেছেন দুজন। নমিতা রানী বলেন, ‘এখানে একটু হেঁটে বেড়ানো যায়। অনেক মানুষের সঙ্গে দেখা হয়। কথা বলা যায়।’ সব মিলিয়ে গ্রামেই ভালো থাকেন তাঁরা।