এক সকালে চঞ্চলের গ্রামের বাড়িতে
- আপডেট সময় : 03:16:02 pm, Saturday, 12 November 2022 487 300 বার পড়া হয়েছে

সুজানগর উপজেলার কামারহাট পাবনা শহর থেকে প্রায় ৪২ কিলোমিটার দূরে। দূরত্ব বিবেচনায় শহর থেকে যাত্রাটা করি শিশিরভেজা সকালে। সূর্যটা মাত্র উঁকি দিচ্ছে যখন। প্রথমে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় পৌঁছাই নাজিরগঞ্জ বাজার। সেখান থেকে যেতে হয় কামারহাট। এ গ্রামেই বেড়ে উঠেছেন অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরী। আমরা তাঁর বাড়িতেই যাচ্ছি।
সকাল ৯টা। সবুজ ছায়াময় গ্রামের পথ ধরে পৌঁছাই চঞ্চলের জন্মভিটায়। বাড়ির প্রধান ফটকে স্বাগত জানায় সদ্য ফোটা নীল অপরাজিতা। সদর দরজা খোলাই ছিল। গুটি গুটি পায়ে ভেতরে ঢুকে পড়ি।
উঠানের এক কোনায় বসে সবজি কাটছিলেন নমিতা রানী। তিনি চঞ্চল চৌধুরীর মা। কে বলবে বয়স আশির কোঠায়। এ বয়সেও বাড়ির টুকিটাকি কাজ নিজেই করেন। তাঁর কাছে গিয়ে প্রণাম জানাই। নিজেদের পরিচয় দিই। সন্তানের মতো সমাদরে বসতে দেন। বসে যখন ইতিউতি করছি, তখন নিজে থেকেই বললেন, ‘তোমার কাকাবাবু ওষুধ সেবন করছেন’।
এরই মধ্যে দুজন নারী-পুরুষ এগিয়ে এলেন। এই দুজন চঞ্চল চৌধুরীর বয়স্ক মা-বাবার দেখভাল করেন। আমাদের কণ্ঠ শুনে ঘর থেকে বেরিয়ে আসেন চতুর্থজনও। তিনি চঞ্চল চৌধুরীর বাবা রাধাগোবিন্দ চৌধুরী। বর্তমান বয়স ৯১ বছর।
রাধাগোবিন্দ চৌধুরীর শারীরিক অবস্থা দেখে বুঝতে বাকি রইল না, প্রথম আলোর কর্মী উৎসবে বাবার কথা বলতে গিয়ে চঞ্চল চৌধুরীর কণ্ঠ কেন ভারী হয়ে উঠেছিল। বয়সের ভারে অনেকটাই দুর্বল হয়ে পড়েছেন এলাকার জনপ্রিয় এই শিক্ষক। তবে ফেলে আসা দিনের কথা বলতে এতটুকু ক্লান্তি নেই। উঠানে বসে গল্প শুরু করেন। পাশে বসেন নমিতা রানী। চঞ্চল চৌধুরীর শৈশব-কৈশোর আর বেড়ে ওঠার নানা গল্প শোনান দুজন।
চঞ্চল চৌধুরীরা তিন ভাই ও পাঁচ বোন। কেউই তাঁরা বাড়িতে থাকেন না। চঞ্চলের মেজ ভাই অরিত্র চৌধুরী চিকিৎসক। চঞ্চল চৌধুরীর মতো তিনিও থাকেন ঢাকায়। চঞ্চল চৌধুরীর মা–বাবার শহর একদম ভালো লাগে না। দম বন্ধ হয়ে আসে। তাই বেশি দিন ছেলেদের বাড়িতে থাকতে পারেন না। গত সপ্তাহে দুই ছেলের বাড়ি ঘুরে গ্রামে এসেছেন দুজন। নমিতা রানী বলেন, ‘এখানে একটু হেঁটে বেড়ানো যায়। অনেক মানুষের সঙ্গে দেখা হয়। কথা বলা যায়।’ সব মিলিয়ে গ্রামেই ভালো থাকেন তাঁরা।






























