সাতক্ষীরা 12:55 am, Monday, 9 November 2026
সংবাদ শিরোনাম ::
ছবিটা ক্লিয়ার করে দাও সাতক্ষীরায় ‘বিজ’-এর কৃষি কর্মসূচির আওতায় ফলজ, বনজ ও ঔষধি চারা বিতরণ আলিপুর ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে আলোচনায় আব্দুর রউফের পৌত্র সামির সোয়েব রাদমির অন্যায়ের বিরুদ্ধে আপসহীন, অধিকার ও সম্প্রীতির প্রশ্নে অদম্য—নতুন প্রত্যয়ে সাতক্ষীরায় যুব ঐক্য পরিষদ আশাশুনিতে শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের মাসিক কর্মপরিকল্পনা বৈঠক অনুষ্ঠিত পর্নোগ্রাফি ও চাঁদাবাজির মামলায় সাতক্ষীরার কথিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর, আব্দুল্লাহ আল মামুন গ্রেপ্তার ফ্রান্সের বর্তমান অবস্থা (জনগণের ক্ষোভ ও সামরিক শক্তি বৃদ্ধি) সাতক্ষীরায় মোটরসাইকেল চুরির অভিযোগে সার্জেন্টের ছেলে আটক, গণপিটুনির পর পুলিশের হেফাজতে সাতক্ষীরার ভোমরা সীমান্তে ভারতে পাচারকালে ১ কোটি ৫৫ লক্ষ টাকার স্বর্ণ সহ আটক: ১ সাতক্ষীরা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে কোষাধ্যক্ষ পদপ্রার্থী অ্যাডভোকেট শামীম রেজা সাতক্ষীরার দেবহাটায় গৃহবধূকে হেনস্তার চেষ্টা ও শিশুদের হয়রানির অভিযোগে যুবক আটক

কালিগঞ্জ থানায় ‘পুলিশ ক্লিয়ারেন্স’ বাণিজ্যের অভিযোগ মামলার তথ্য গোপন করে আসামিকে বিদেশ পাঠানোর গুরুতর অভিযোগ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : 02:26:44 pm, Tuesday, 17 February 2026 250 300 বার পড়া হয়েছে
Khandakarit.com

নিজস্ব প্রতিবেদক: সাতক্ষীরা জেলার কালিগঞ্জ থানায় ‘পুলিশ ক্লিয়ারেন্স’ বা অপরাধমুক্ত সনদ প্রদানকে কেন্দ্র করে গুরুতর জালিয়াতি ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। থানার কম্পিউটার অপারেটর পিয়াসের বিরুদ্ধে মোটা অংকের উৎকোচ গ্রহণ করে একাধিক মামলার আসামিকে দেশত্যাগের সুযোগ করে দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন এক ভুক্তভোগী। অভিযোগ রয়েছে, মামলার নথি ও জিডি থাকা সত্ত্বেও তথ্য গোপন করে এই ক্লিয়ারেন্স প্রদান করা হয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, কালিগঞ্জ উপজেলার কুশুলিয়া ইউনিয়নের মদপুর গ্রামের নুর আলী মোল্লার মেয়ে মঞ্জুয়ারা বেগমের নামে আদালতে একাধিক সিআর (CR) মামলা বিচারাধীন থাকা অবস্থায় তিনি ‘পুলিশ ক্লিয়ারেন্স’-এর জন্য আবেদন করেন। গত ৩ জুন ২০২৫ তারিখে আবেদন করার মাত্র দুই সপ্তাহের মধ্যে, ১৭ জুন রহস্যজনকভাবে থানা থেকে ক্লিয়ারেন্স সনদ গ্রহণ করেন তিনি।
মঞ্জুয়ারার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলার বাদী কাজী আব্দুস সালাম অভিযোগ করেন, আসামি যেন কোনোভাবেই দেশত্যাগ করতে না পারেন—সেজন্য তিনি নিজে কালিগঞ্জ থানায় গিয়ে মামলার সকল নথিপত্র কম্পিউটার অপারেটর পিয়াসের হাতে তুলে দেন এবং একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
ভুক্তভোগী আব্দুস সালাম সাংবাদিকদের জানান,
“আমি নিজে পিয়াসের কাছে গিয়ে মামলার কপি দিয়ে আসি যাতে সে ক্লিয়ারেন্স না পায়। পিয়াস আমার কাছ থেকে ২ হাজার টাকা ঘুষ নিয়ে আশ্বাস দিয়েছিল যে সে বিষয়টি আটকে দেবে। কিন্তু পরে জানতে পারি, বড় অংকের টাকার বিনিময়ে কোনো তদন্ত ছাড়াই তাকে ক্লিয়ারেন্স দেওয়া হয়েছে। এমনকি এর সাত দিন পর, ২৪ জুন থানায় তার বিরুদ্ধে আরও একটি এফআইআর (FIR) মামলা হয়।”
গণমাধ্যমকর্মীরা অভিযুক্ত পিয়াসের মুখোমুখি হলে তিনি প্রথমে ক্লিয়ারেন্স দেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেন। পরে প্রমাণ উপস্থাপন করা হলে তিনি ক্লিয়ারেন্স দেওয়ার কথা স্বীকার করেন। তার দাবি, “অনলাইনে সার্চ দিয়ে আমি কোনো মামলা পাইনি এবং তিনি একটি মামলা থেকে অব্যাহতি পেয়েছেন।”
তবে প্রশ্ন উঠেছে—একজন কম্পিউটার অপারেটর কীভাবে তদন্তকারী কর্মকর্তার (IO) ভূমিকা পালন করলেন? ডিএসবি (DSB) ভেরিফিকেশন বা মাঠ পর্যায়ের তদন্ত ছাড়া কীভাবে নিজ সিদ্ধান্তে ছাড়পত্র ইস্যু হলো?
এ ঘটনায় স্থানীয় জনমনে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। ভুক্তভোগী কাজী আব্দুস সালাম জানিয়েছেন, পুলিশের সেবাকে কলুষিত করা এবং আসামিকে পালানোর সুযোগ করে দেওয়ার অভিযোগে তিনি সাতক্ষীরা পুলিশ সুপার (SP) ও পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের সংশ্লিষ্ট শাখায় লিখিত অভিযোগ দাখিল করবেন।
সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, একজন কম্পিউটার অপারেটরের হাতে এমন গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র নিয়ন্ত্রণ এবং অর্থের বিনিময়ে ছাড়পত্র প্রদানের অভিযোগ পুলিশের ভাবমূর্তিকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। দ্রুত বিভাগীয় তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটনের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী ও এলাকাবাসী।
এ বিষয়ে বিস্তারিত অনুসন্ধান ও আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য নিয়ে আসছে দ্বিতীয় পর্ব। আমাদের সাথেই থাকুন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
ভাষা চেঞ্জ করুন

কালিগঞ্জ থানায় ‘পুলিশ ক্লিয়ারেন্স’ বাণিজ্যের অভিযোগ মামলার তথ্য গোপন করে আসামিকে বিদেশ পাঠানোর গুরুতর অভিযোগ

আপডেট সময় : 02:26:44 pm, Tuesday, 17 February 2026

নিজস্ব প্রতিবেদক: সাতক্ষীরা জেলার কালিগঞ্জ থানায় ‘পুলিশ ক্লিয়ারেন্স’ বা অপরাধমুক্ত সনদ প্রদানকে কেন্দ্র করে গুরুতর জালিয়াতি ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। থানার কম্পিউটার অপারেটর পিয়াসের বিরুদ্ধে মোটা অংকের উৎকোচ গ্রহণ করে একাধিক মামলার আসামিকে দেশত্যাগের সুযোগ করে দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন এক ভুক্তভোগী। অভিযোগ রয়েছে, মামলার নথি ও জিডি থাকা সত্ত্বেও তথ্য গোপন করে এই ক্লিয়ারেন্স প্রদান করা হয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, কালিগঞ্জ উপজেলার কুশুলিয়া ইউনিয়নের মদপুর গ্রামের নুর আলী মোল্লার মেয়ে মঞ্জুয়ারা বেগমের নামে আদালতে একাধিক সিআর (CR) মামলা বিচারাধীন থাকা অবস্থায় তিনি ‘পুলিশ ক্লিয়ারেন্স’-এর জন্য আবেদন করেন। গত ৩ জুন ২০২৫ তারিখে আবেদন করার মাত্র দুই সপ্তাহের মধ্যে, ১৭ জুন রহস্যজনকভাবে থানা থেকে ক্লিয়ারেন্স সনদ গ্রহণ করেন তিনি।
মঞ্জুয়ারার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলার বাদী কাজী আব্দুস সালাম অভিযোগ করেন, আসামি যেন কোনোভাবেই দেশত্যাগ করতে না পারেন—সেজন্য তিনি নিজে কালিগঞ্জ থানায় গিয়ে মামলার সকল নথিপত্র কম্পিউটার অপারেটর পিয়াসের হাতে তুলে দেন এবং একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
ভুক্তভোগী আব্দুস সালাম সাংবাদিকদের জানান,
“আমি নিজে পিয়াসের কাছে গিয়ে মামলার কপি দিয়ে আসি যাতে সে ক্লিয়ারেন্স না পায়। পিয়াস আমার কাছ থেকে ২ হাজার টাকা ঘুষ নিয়ে আশ্বাস দিয়েছিল যে সে বিষয়টি আটকে দেবে। কিন্তু পরে জানতে পারি, বড় অংকের টাকার বিনিময়ে কোনো তদন্ত ছাড়াই তাকে ক্লিয়ারেন্স দেওয়া হয়েছে। এমনকি এর সাত দিন পর, ২৪ জুন থানায় তার বিরুদ্ধে আরও একটি এফআইআর (FIR) মামলা হয়।”
গণমাধ্যমকর্মীরা অভিযুক্ত পিয়াসের মুখোমুখি হলে তিনি প্রথমে ক্লিয়ারেন্স দেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেন। পরে প্রমাণ উপস্থাপন করা হলে তিনি ক্লিয়ারেন্স দেওয়ার কথা স্বীকার করেন। তার দাবি, “অনলাইনে সার্চ দিয়ে আমি কোনো মামলা পাইনি এবং তিনি একটি মামলা থেকে অব্যাহতি পেয়েছেন।”
তবে প্রশ্ন উঠেছে—একজন কম্পিউটার অপারেটর কীভাবে তদন্তকারী কর্মকর্তার (IO) ভূমিকা পালন করলেন? ডিএসবি (DSB) ভেরিফিকেশন বা মাঠ পর্যায়ের তদন্ত ছাড়া কীভাবে নিজ সিদ্ধান্তে ছাড়পত্র ইস্যু হলো?
এ ঘটনায় স্থানীয় জনমনে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। ভুক্তভোগী কাজী আব্দুস সালাম জানিয়েছেন, পুলিশের সেবাকে কলুষিত করা এবং আসামিকে পালানোর সুযোগ করে দেওয়ার অভিযোগে তিনি সাতক্ষীরা পুলিশ সুপার (SP) ও পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের সংশ্লিষ্ট শাখায় লিখিত অভিযোগ দাখিল করবেন।
সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, একজন কম্পিউটার অপারেটরের হাতে এমন গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র নিয়ন্ত্রণ এবং অর্থের বিনিময়ে ছাড়পত্র প্রদানের অভিযোগ পুলিশের ভাবমূর্তিকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। দ্রুত বিভাগীয় তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটনের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী ও এলাকাবাসী।
এ বিষয়ে বিস্তারিত অনুসন্ধান ও আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য নিয়ে আসছে দ্বিতীয় পর্ব। আমাদের সাথেই থাকুন।