কালীগঞ্জে মাদকাসক্তকে জেল, বাল্যবিবাহ বন্ধে বেরসিক ইউএনও,কনের বাবাকে জরিমানা
- আপডেট সময় : 06:34:13 pm, Tuesday, 6 October 2026 96 300 বার পড়া হয়েছে

হাফিজুর রহমান কালিগঞ্জ (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধিঃ সাতক্ষীরার কালীগঞ্জে পৃথক দু,টি অভিযানে মাদকাসক্ত ছেলেকে ভ্রাম্যমান আদালতে সোপর্দ ও দশম শ্রেণীর ছাত্রীর বাল্যবিবাহ বন্ধ করতে অনুষ্ঠানে হাজির হয়ে বেরসিক ইএনও কনের বাবার কাছ থেকে জরিমানার ১০ হাজার টাকা আদায় করেছেন।
কালিগঞ্জ উপজেলার পশ্চিম মৌতলা রানিতলা গ্রামের শেখ সিরাজুল ইসলামের মাদকাসক্ত ছেলের অত্যাচার মারপিট সইতে না পেরে মা মাসুরা খাতুন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে অভিযোগের প্রেক্ষিতে ঘটনাস্থলে গিয়ে সোমবার (৫ অক্টোবর) বেলা পৌনে ২ টার দিকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানিয়া আক্তার মাসুদুর রহমান পিন্টু (২২) নামে মাদকাসক্ত ছেলেকে ২ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেছেন। মাদকের টাকা না দেওয়া, চাকু দেখানো এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের ৩৬(৫) ধারায় তাকে ২ মাসের সাজা প্রদান করা হয়েছে। ভ্রাম্যমান আদালত সূত্রে জানা যায় মাসুদুর রহমান ওরফে পিন্টু দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত। মাদকের টাকা জোগাড় করার জন্য বাড়িতে ঝামেলা সহ মাকে মারপিট, নির্যাতন করতো। ছেলের নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে মা মাসুরা খাতুন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট লিখিত অভিযোগ করেন। মায়ের কান্না দেখে বেলা পৌনে ২ টার দিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানিয়া আক্তার স্থানীয় চেয়ারম্যান ফেরদৌস মোড়লকে সাথে নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রমাণ পাওয়ায় তাৎক্ষণিক ভ্রাম্যমান আদালত বসিয়ে তাকে এই সাজা দেওয়া হয়।
অন্য আরেকটি পৃথক ঘটনায় উপজেলার কৃষ্ণনগর ইউনিয়নের রামনগর গ্রামে বাল্য বিবাহের আয়োজন করায় বাল্যবিবাহ নীরোধ আইন ২০১৭(৮) ধারায় কনের বাবা ইয়াসিন আলীকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমান আদালত। সোমবার (৫ অক্টোবর) বেলা ৩ টার দিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেড তানিয়া আক্তারের নেতৃত্বে পরিচালিত ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযানে বিবাহটি বন্ধ করা হয়। কনে স্থানীয় রামনগর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণীর ছাত্রী (১৫)। বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ও কম্পিউটার শিক্ষক রওশন আরার সহায়তায় ৩২ জন ছাত্রী সহপাঠী বান্ধবীর ঐ বিবাহ অনুষ্ঠানে গেছে এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বেরসিক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা অরনা চ্যাটার্জি ও পুলিশ ফোর্স সাথে নিয়ে বর পৌঁছানোর আগেই বিয়ে অনুষ্ঠানে হাজির হলে বিবাহ পন্ড হয়ে যায়। তবে নিজ স্কুলের ছাত্রীর বাল্যবিবাহ বিষয়ে জেনেও বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনকে না জানানোর জন্য ঐ বিদ্যালয়ের শিক্ষক শিক্ষিকাদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে ওই সমস্ত শিক্ষকদের প্রতি আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তানিয়া আক্তার। দেশের প্রথম বাল্যবিবাহ মুক্ত উপজেলায় বর্তমানে মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার অবহেলা ও নজরদারির অভাবে প্রতিনিয়ত বাল্যবিবাহ ঘটে গেলেও দেখার কেউ নাই বলে সচেতন মহলের দাবি।






























