সাতক্ষীরা 12:28 am, Monday, 9 November 2026
সংবাদ শিরোনাম ::
ছবিটা ক্লিয়ার করে দাও সাতক্ষীরায় ‘বিজ’-এর কৃষি কর্মসূচির আওতায় ফলজ, বনজ ও ঔষধি চারা বিতরণ আলিপুর ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে আলোচনায় আব্দুর রউফের পৌত্র সামির সোয়েব রাদমির অন্যায়ের বিরুদ্ধে আপসহীন, অধিকার ও সম্প্রীতির প্রশ্নে অদম্য—নতুন প্রত্যয়ে সাতক্ষীরায় যুব ঐক্য পরিষদ আশাশুনিতে শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের মাসিক কর্মপরিকল্পনা বৈঠক অনুষ্ঠিত পর্নোগ্রাফি ও চাঁদাবাজির মামলায় সাতক্ষীরার কথিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর, আব্দুল্লাহ আল মামুন গ্রেপ্তার ফ্রান্সের বর্তমান অবস্থা (জনগণের ক্ষোভ ও সামরিক শক্তি বৃদ্ধি) সাতক্ষীরায় মোটরসাইকেল চুরির অভিযোগে সার্জেন্টের ছেলে আটক, গণপিটুনির পর পুলিশের হেফাজতে সাতক্ষীরার ভোমরা সীমান্তে ভারতে পাচারকালে ১ কোটি ৫৫ লক্ষ টাকার স্বর্ণ সহ আটক: ১ সাতক্ষীরা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে কোষাধ্যক্ষ পদপ্রার্থী অ্যাডভোকেট শামীম রেজা সাতক্ষীরার দেবহাটায় গৃহবধূকে হেনস্তার চেষ্টা ও শিশুদের হয়রানির অভিযোগে যুবক আটক

কালীগঞ্জে মাদকাসক্তকে জেল, বাল্যবিবাহ বন্ধে বেরসিক ইউএনও,কনের বাবাকে জরিমানা

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : 06:34:13 pm, Tuesday, 6 October 2026 95 300 বার পড়া হয়েছে
Khandakarit.com

হাফিজুর রহমান কালিগঞ্জ (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধিঃ সাতক্ষীরার কালীগঞ্জে পৃথক দু,টি অভিযানে মাদকাসক্ত ছেলেকে ভ্রাম্যমান আদালতে সোপর্দ ও দশম শ্রেণীর ছাত্রীর বাল্যবিবাহ বন্ধ করতে অনুষ্ঠানে হাজির হয়ে বেরসিক ইএনও কনের বাবার কাছ থেকে জরিমানার ১০ হাজার টাকা আদায় করেছেন।

কালিগঞ্জ উপজেলার পশ্চিম মৌতলা রানিতলা গ্রামের শেখ সিরাজুল ইসলামের মাদকাসক্ত ছেলের অত্যাচার মারপিট সইতে না পেরে মা মাসুরা খাতুন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে অভিযোগের প্রেক্ষিতে ঘটনাস্থলে গিয়ে সোমবার (৫ অক্টোবর) বেলা পৌনে ২ টার দিকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানিয়া আক্তার মাসুদুর রহমান পিন্টু (২২) নামে মাদকাসক্ত ছেলেকে ২ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেছেন। মাদকের টাকা না দেওয়া, চাকু দেখানো এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের ৩৬(৫) ধারায় তাকে ২ মাসের সাজা প্রদান করা হয়েছে। ভ্রাম্যমান আদালত সূত্রে জানা যায় মাসুদুর রহমান ওরফে পিন্টু দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত। মাদকের টাকা জোগাড় করার জন্য বাড়িতে ঝামেলা সহ মাকে মারপিট, নির্যাতন করতো। ছেলের নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে মা মাসুরা খাতুন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট লিখিত অভিযোগ করেন। মায়ের কান্না দেখে বেলা পৌনে ২ টার দিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানিয়া আক্তার স্থানীয় চেয়ারম্যান ফেরদৌস মোড়লকে সাথে নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রমাণ পাওয়ায় তাৎক্ষণিক ভ্রাম্যমান আদালত বসিয়ে তাকে এই সাজা দেওয়া হয়।

অন্য আরেকটি পৃথক ঘটনায় উপজেলার কৃষ্ণনগর ইউনিয়নের রামনগর গ্রামে বাল্য বিবাহের আয়োজন করায় বাল্যবিবাহ নীরোধ আইন ২০১৭(৮) ধারায় কনের বাবা ইয়াসিন আলীকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমান আদালত। সোমবার (৫ অক্টোবর) বেলা ৩ টার দিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেড তানিয়া আক্তারের নেতৃত্বে পরিচালিত ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযানে বিবাহটি বন্ধ করা হয়। কনে স্থানীয় রামনগর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণীর ছাত্রী (১৫)। বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ও কম্পিউটার শিক্ষক রওশন আরার সহায়তায় ৩২ জন ছাত্রী সহপাঠী বান্ধবীর ঐ বিবাহ অনুষ্ঠানে গেছে এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বেরসিক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা অরনা চ্যাটার্জি ও পুলিশ ফোর্স সাথে নিয়ে বর পৌঁছানোর আগেই বিয়ে অনুষ্ঠানে হাজির হলে বিবাহ পন্ড হয়ে যায়। তবে নিজ স্কুলের ছাত্রীর বাল্যবিবাহ বিষয়ে জেনেও বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনকে না জানানোর জন্য ঐ বিদ্যালয়ের শিক্ষক শিক্ষিকাদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে ওই সমস্ত শিক্ষকদের প্রতি আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তানিয়া আক্তার। দেশের প্রথম বাল্যবিবাহ মুক্ত উপজেলায় বর্তমানে মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার অবহেলা ও নজরদারির অভাবে প্রতিনিয়ত বাল্যবিবাহ ঘটে গেলেও দেখার কেউ নাই বলে সচেতন মহলের দাবি।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
ভাষা চেঞ্জ করুন

কালীগঞ্জে মাদকাসক্তকে জেল, বাল্যবিবাহ বন্ধে বেরসিক ইউএনও,কনের বাবাকে জরিমানা

আপডেট সময় : 06:34:13 pm, Tuesday, 6 October 2026

হাফিজুর রহমান কালিগঞ্জ (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধিঃ সাতক্ষীরার কালীগঞ্জে পৃথক দু,টি অভিযানে মাদকাসক্ত ছেলেকে ভ্রাম্যমান আদালতে সোপর্দ ও দশম শ্রেণীর ছাত্রীর বাল্যবিবাহ বন্ধ করতে অনুষ্ঠানে হাজির হয়ে বেরসিক ইএনও কনের বাবার কাছ থেকে জরিমানার ১০ হাজার টাকা আদায় করেছেন।

কালিগঞ্জ উপজেলার পশ্চিম মৌতলা রানিতলা গ্রামের শেখ সিরাজুল ইসলামের মাদকাসক্ত ছেলের অত্যাচার মারপিট সইতে না পেরে মা মাসুরা খাতুন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে অভিযোগের প্রেক্ষিতে ঘটনাস্থলে গিয়ে সোমবার (৫ অক্টোবর) বেলা পৌনে ২ টার দিকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানিয়া আক্তার মাসুদুর রহমান পিন্টু (২২) নামে মাদকাসক্ত ছেলেকে ২ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেছেন। মাদকের টাকা না দেওয়া, চাকু দেখানো এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের ৩৬(৫) ধারায় তাকে ২ মাসের সাজা প্রদান করা হয়েছে। ভ্রাম্যমান আদালত সূত্রে জানা যায় মাসুদুর রহমান ওরফে পিন্টু দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত। মাদকের টাকা জোগাড় করার জন্য বাড়িতে ঝামেলা সহ মাকে মারপিট, নির্যাতন করতো। ছেলের নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে মা মাসুরা খাতুন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট লিখিত অভিযোগ করেন। মায়ের কান্না দেখে বেলা পৌনে ২ টার দিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানিয়া আক্তার স্থানীয় চেয়ারম্যান ফেরদৌস মোড়লকে সাথে নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রমাণ পাওয়ায় তাৎক্ষণিক ভ্রাম্যমান আদালত বসিয়ে তাকে এই সাজা দেওয়া হয়।

অন্য আরেকটি পৃথক ঘটনায় উপজেলার কৃষ্ণনগর ইউনিয়নের রামনগর গ্রামে বাল্য বিবাহের আয়োজন করায় বাল্যবিবাহ নীরোধ আইন ২০১৭(৮) ধারায় কনের বাবা ইয়াসিন আলীকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমান আদালত। সোমবার (৫ অক্টোবর) বেলা ৩ টার দিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেড তানিয়া আক্তারের নেতৃত্বে পরিচালিত ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযানে বিবাহটি বন্ধ করা হয়। কনে স্থানীয় রামনগর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণীর ছাত্রী (১৫)। বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ও কম্পিউটার শিক্ষক রওশন আরার সহায়তায় ৩২ জন ছাত্রী সহপাঠী বান্ধবীর ঐ বিবাহ অনুষ্ঠানে গেছে এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বেরসিক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা অরনা চ্যাটার্জি ও পুলিশ ফোর্স সাথে নিয়ে বর পৌঁছানোর আগেই বিয়ে অনুষ্ঠানে হাজির হলে বিবাহ পন্ড হয়ে যায়। তবে নিজ স্কুলের ছাত্রীর বাল্যবিবাহ বিষয়ে জেনেও বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনকে না জানানোর জন্য ঐ বিদ্যালয়ের শিক্ষক শিক্ষিকাদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে ওই সমস্ত শিক্ষকদের প্রতি আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তানিয়া আক্তার। দেশের প্রথম বাল্যবিবাহ মুক্ত উপজেলায় বর্তমানে মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার অবহেলা ও নজরদারির অভাবে প্রতিনিয়ত বাল্যবিবাহ ঘটে গেলেও দেখার কেউ নাই বলে সচেতন মহলের দাবি।