সাতক্ষীরায় এডিসি রিপন বিশ্বাসের অপসারণের দাবিতে আইনজীবীদের মানববন্ধন
- আপডেট সময় : 08:37:47 pm, Wednesday, 28 October 2026 83 300 বার পড়া হয়েছে

৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম, দাবি পূরণ না হলে লাগাতার আন্দোলনের ঘোষণা
নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এডিসি) রিপন কুমার বিশ্বাসের বিরুদ্ধে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী অ্যাডভোকেট আকরাম আলীকে মারধর ও লাঞ্ছিত করা এবং আইনজীবী সমিতির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট মো. নুরুল আমিনকে কক্ষে আটকে রাখার অভিযোগ উঠেছে। এসব ঘটনার প্রতিবাদে তাঁর অপসারণের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সাতক্ষীরা জেলা ইউনিটের নেতারা। মানববন্ধন থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তাঁকে অপসারণের দাবি জানিয়ে অন্যথায় লাগাতার আন্দোলন কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) সকাল ১০টায় সাতক্ষীরা জেলা আইনজীবী সমিতির শহীদ মিনারের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সাতক্ষীরা জেলা ইউনিটের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মো. আকবর আলী।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, গত ১ অক্টোবর জেনারেল সার্টিফিকেট আদালতে সি.সি. মামলা নং ১৭৫/২৬-এর শুনানিকে কেন্দ্র করে ম্যাজিস্ট্রেটের কক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী অ্যাডভোকেট আকরাম আলীর সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন এডিসি রিপন কুমার বিশ্বাস। একপর্যায়ে তাঁর গলার টাই ধরে মারধর ও লাঞ্ছিত করা হয় বলে দাবি করেন তাঁরা।
বক্তারা আরও অভিযোগ করেন, ঘটনার শান্তিপূর্ণ সমাধানের উদ্দেশ্যে সাতক্ষীরা জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট মো. নুরুল আমিন গত ২৬ অক্টোবর সকাল ১০টা ৪০ মিনিটে এডিসির আমন্ত্রণে তাঁর কক্ষে যান। সেখানে কথোপকথনের একপর্যায়ে তাঁকে প্রায় ৪৫ মিনিট আটকে রাখা হয় বলে অভিযোগ করেন তাঁরা।
বক্তারা বলেন, একজন আইনজীবীকে লাঞ্ছিত করা মানে দেশের আইনজীবী সমাজকে অসম্মান করা। তাঁদের দাবি, রিপন কুমার বিশ্বাস এর আগে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে আইনজীবীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে তিনবার আদালত বর্জনের ঘটনা ঘটেছে। এ ছাড়া অ্যাডভোকেট আকবর আলীসহ প্রায় ১০ জন আইনজীবী তাঁর অসৌজন্যমূলক আচরণের শিকার হয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন তাঁরা।
মানববন্ধনে এডিসির বিরুদ্ধে আইনজীবী সমাজের একটি অংশের সঙ্গে বৈরী আচরণের অভিযোগ তোলা হয়। তাঁর রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা নিয়েও বক্তব্য দেন কয়েকজন বক্তা। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
অর্পিত সম্পত্তির মামলা নিয়ে নুরুল আমিনের বক্তব্য
মানববন্ধনে অ্যাডভোকেট মো. নুরুল আমিন একটি অর্পিত সম্পত্তিসংক্রান্ত মামলার প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, অর্পিত মামলা নং ৮০৯/২০১২-এর রায় হয় ২০২৩ সালের ১৮ এপ্রিল এবং ডিক্রি হয় ২৪ এপ্রিল। পরে ২০২৫ সালের ৪ মে তাঁকে মামলাটির আইনজীবী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।
নুরুল আমিনের দাবি, মামলাটির পূর্ববর্তী আইনজীবী অ্যাডভোকেট প্রবীর মণ্ডল নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আপিল করেননি। ফলে তামাদিসংক্রান্ত আইনি জটিলতা তৈরি হয়। বিষয়টি তাঁকে যথাযথভাবে অবহিত করা হয়নি বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ আইন অনুযায়ী আপিল দায়েরের নির্ধারিত সময়সীমা রয়েছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, আইনের ১৮ ধারার বিধান অনুসারে রায় প্রকাশের ৪৫ দিনের মধ্যে আপিল করতে হয়। দীর্ঘ সময় পার হয়ে যাওয়ায় তামাদিসংক্রান্ত জটিলতা তৈরি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। এ পরিস্থিতিতে পূর্ববর্তী আইনজীবীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে যথাযথ ব্যবস্থা না নেওয়ার অভিযোগও করেন নুরুল আমিন।
এ ছাড়া তাঁর বিরুদ্ধে মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানোর বিষয়টি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। নুরুল আমিনের দাবি, গত ২৬ অক্টোবর মানববন্ধনের ঘোষণা দেওয়ার পর সাংবাদিকদের কাছে তাঁকে নিয়ে মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানোর কথা বলা হয়। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
উপস্থিত ছিলেন যাঁরা
মানববন্ধনে আরও উপস্থিত ছিলেন অ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান পিন্টু, অ্যাডভোকেট ইব্রাহিম, অ্যাডভোকেট শফিকুল ইসলাম, অ্যাডভোকেট রফিকুল ইসলাম খোকন, অ্যাডভোকেট হেলালুজ্জামান, অ্যাডভোকেট জাকির, অ্যাডভোকেট শাহাজান, অ্যাডভোকেট জগলু, অ্যাডভোকেট একরাম ও অ্যাডভোকেট জাহিদুর রহমানসহ শতাধিক আইনজীবী।
মানববন্ধন থেকে এডিসি রিপন কুমার বিশ্বাসকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে অপসারণের দাবি জানানো হয়। বক্তারা বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দাবি পূরণ না হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত আবেদনসহ লাগাতার আন্দোলন কর্মসূচি পালন করা হবে। একই সঙ্গে তাঁরা প্রধানমন্ত্রী, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী, সাতক্ষীরার দায়িত্বপ্রাপ্ত আইনমন্ত্রী এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।























