সাতক্ষীরা 4:01 am, Monday, 9 November 2026
সংবাদ শিরোনাম ::
ছবিটা ক্লিয়ার করে দাও সাতক্ষীরায় ‘বিজ’-এর কৃষি কর্মসূচির আওতায় ফলজ, বনজ ও ঔষধি চারা বিতরণ আলিপুর ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে আলোচনায় আব্দুর রউফের পৌত্র সামির সোয়েব রাদমির অন্যায়ের বিরুদ্ধে আপসহীন, অধিকার ও সম্প্রীতির প্রশ্নে অদম্য—নতুন প্রত্যয়ে সাতক্ষীরায় যুব ঐক্য পরিষদ আশাশুনিতে শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের মাসিক কর্মপরিকল্পনা বৈঠক অনুষ্ঠিত পর্নোগ্রাফি ও চাঁদাবাজির মামলায় সাতক্ষীরার কথিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর, আব্দুল্লাহ আল মামুন গ্রেপ্তার ফ্রান্সের বর্তমান অবস্থা (জনগণের ক্ষোভ ও সামরিক শক্তি বৃদ্ধি) সাতক্ষীরায় মোটরসাইকেল চুরির অভিযোগে সার্জেন্টের ছেলে আটক, গণপিটুনির পর পুলিশের হেফাজতে সাতক্ষীরার ভোমরা সীমান্তে ভারতে পাচারকালে ১ কোটি ৫৫ লক্ষ টাকার স্বর্ণ সহ আটক: ১ সাতক্ষীরা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে কোষাধ্যক্ষ পদপ্রার্থী অ্যাডভোকেট শামীম রেজা সাতক্ষীরার দেবহাটায় গৃহবধূকে হেনস্তার চেষ্টা ও শিশুদের হয়রানির অভিযোগে যুবক আটক

জলাবদ্ধতায় নাকাল সাতক্ষীরাবাসী

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : 11:35:40 pm, Saturday, 30 August 2025 318 300 বার পড়া হয়েছে
Khandakarit.com

জি এম আমিনুল হক: সাতক্ষীরায় সুপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় বর্ষা মৌসুমে টানা বৃষ্টির কারণে পৌরসভা ও সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ভয়াবহ জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। পানি নিষ্কাশনের যথাযথ ব্যবস্থা না থাকায় প্রতিবছর জুন থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত কয়েক লক্ষ মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করছে।

শহর ও গ্রামের চিত্র

পৌরসভার জজকোর্ট, পুলিশ লাইন, সরকারি কলেজ, মাছখোলা, ঝুঁটিতলা, সুলতানপুর, কাটিয়া, ইটাগাছা, কামালনগর, খড়িবিলা, বকচরা, বদ্দিপুর কলোনীসহ অসংখ্য মহল্লা পানির নিচে ডুবে আছে। টিউবওয়েল, স্যানিটেশন ব্যবস্থা নষ্ট হয়ে পড়েছে। ফলে চর্মরোগ ও পানিবাহিত রোগ ছড়িয়ে পড়ছে।

গ্রামের অবস্থাও একই। ধুলিহর, ফিংড়ী, ব্রহ্মরাজপুর, লাবসা, ঝাউডাঙ্গা ইউনিয়নের ২৫-৩০টি গ্রামে স্থায়ী জলাবদ্ধতায় হাজার হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। রাস্তাঘাট, স্কুল-কলেজ, বিভিন্ন সরকারি স্থাপনাও পানিতে তলিয়ে গেছে।

বিল ও কৃষিজমি পানির নিচে

জলাবদ্ধতায় বুড়ামারা, পালিচাঁদ, ঢেপুরবিল, চেলারবিল, হাতিশালার বিল, কচুয়ার বিল, হাজিখালি বিল, ডাইয়ের বিল, রামচন্দ্রপুরবিল ও ঘুড্ডিরবিলসহ অসংখ্য বিল পানিতে তলিয়ে গেছে। শত শত একর জমির আমন ধান ও আউশ ফসল নষ্ট হয়ে গেছে। মাছের ঘের ও পুকুরের মাছ ভেসে গিয়ে বিপাকে পড়েছেন অসংখ্য মৎস্যচাষী। ফলে কৃষকরা ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

ভুক্তভোগীর কান্না

কামালনগরের সোহরাব হোসেন বলেন, “চারপাশে পানি, ছেলেমেয়েরা স্কুলে যেতে পারছে না। ভেলা-নৌকায় যাতায়াত করতে হচ্ছে। সবচেয়ে ভোগান্তি টয়লেট নিয়ে।”
একই কথা জানালেন পৌরসভার ঘুড্ডেরডাঙ্গীর সুলতান মাহমুদ, “বৃষ্টি হলেই পানি জমে যায়। নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় তা স্থায়ী হয়ে যায়।”
ধুলিহরের সাংবাদিক শাহাদাৎ হোসেন বাবু বলেন, “বছরের পর বছর ঘরবাড়ি পানিতে ডুবে আছে। অসংখ্য রাস্তা নষ্ট হয়ে যায়। জীবনযাপন অসহনীয় হয়ে পড়েছে।”

কারণ ও সমাধান

বিশেষজ্ঞদের মতে, সাতক্ষীরার জলাবদ্ধতার মূল কারণ হলো অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা, নদীর নাব্যতা হ্রাস, মাছের ঘের এবং অপরিকল্পিত স্লুইস গেট। গত এক যুগেরও বেশি সময় ধরে বেতনা নদী খননের দাবি থাকলেও ৩৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে কাজ শুরু হওয়ার পরও ধীর গতিতে চলছে। ফলে এখনো কোনো সুফল পাচ্ছে না এলাকাবাসী।

সচেতন মহলের দাবি

নাগরিক কমিটির নেতা আলী নূর খান বাবলু বলেন, “প্রতি বছর কোটি কোটি টাকা বরাদ্দ হয়, কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয় না। জলাবদ্ধতা এখন সাতক্ষীরার মানুষের জন্য অভিশাপ।”
এলাকাবাসীর দাবি, জরুরি ভিত্তিতে বেতনা নদী ও খালগুলো পূর্ণাঙ্গ খনন করে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করতে হবে। অন্যথায় প্রতি বছরই এ দুর্ভোগ আরও বাড়বে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ভাষা চেঞ্জ করুন

জলাবদ্ধতায় নাকাল সাতক্ষীরাবাসী

আপডেট সময় : 11:35:40 pm, Saturday, 30 August 2025

জি এম আমিনুল হক: সাতক্ষীরায় সুপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় বর্ষা মৌসুমে টানা বৃষ্টির কারণে পৌরসভা ও সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ভয়াবহ জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। পানি নিষ্কাশনের যথাযথ ব্যবস্থা না থাকায় প্রতিবছর জুন থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত কয়েক লক্ষ মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করছে।

শহর ও গ্রামের চিত্র

পৌরসভার জজকোর্ট, পুলিশ লাইন, সরকারি কলেজ, মাছখোলা, ঝুঁটিতলা, সুলতানপুর, কাটিয়া, ইটাগাছা, কামালনগর, খড়িবিলা, বকচরা, বদ্দিপুর কলোনীসহ অসংখ্য মহল্লা পানির নিচে ডুবে আছে। টিউবওয়েল, স্যানিটেশন ব্যবস্থা নষ্ট হয়ে পড়েছে। ফলে চর্মরোগ ও পানিবাহিত রোগ ছড়িয়ে পড়ছে।

গ্রামের অবস্থাও একই। ধুলিহর, ফিংড়ী, ব্রহ্মরাজপুর, লাবসা, ঝাউডাঙ্গা ইউনিয়নের ২৫-৩০টি গ্রামে স্থায়ী জলাবদ্ধতায় হাজার হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। রাস্তাঘাট, স্কুল-কলেজ, বিভিন্ন সরকারি স্থাপনাও পানিতে তলিয়ে গেছে।

বিল ও কৃষিজমি পানির নিচে

জলাবদ্ধতায় বুড়ামারা, পালিচাঁদ, ঢেপুরবিল, চেলারবিল, হাতিশালার বিল, কচুয়ার বিল, হাজিখালি বিল, ডাইয়ের বিল, রামচন্দ্রপুরবিল ও ঘুড্ডিরবিলসহ অসংখ্য বিল পানিতে তলিয়ে গেছে। শত শত একর জমির আমন ধান ও আউশ ফসল নষ্ট হয়ে গেছে। মাছের ঘের ও পুকুরের মাছ ভেসে গিয়ে বিপাকে পড়েছেন অসংখ্য মৎস্যচাষী। ফলে কৃষকরা ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

ভুক্তভোগীর কান্না

কামালনগরের সোহরাব হোসেন বলেন, “চারপাশে পানি, ছেলেমেয়েরা স্কুলে যেতে পারছে না। ভেলা-নৌকায় যাতায়াত করতে হচ্ছে। সবচেয়ে ভোগান্তি টয়লেট নিয়ে।”
একই কথা জানালেন পৌরসভার ঘুড্ডেরডাঙ্গীর সুলতান মাহমুদ, “বৃষ্টি হলেই পানি জমে যায়। নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় তা স্থায়ী হয়ে যায়।”
ধুলিহরের সাংবাদিক শাহাদাৎ হোসেন বাবু বলেন, “বছরের পর বছর ঘরবাড়ি পানিতে ডুবে আছে। অসংখ্য রাস্তা নষ্ট হয়ে যায়। জীবনযাপন অসহনীয় হয়ে পড়েছে।”

কারণ ও সমাধান

বিশেষজ্ঞদের মতে, সাতক্ষীরার জলাবদ্ধতার মূল কারণ হলো অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা, নদীর নাব্যতা হ্রাস, মাছের ঘের এবং অপরিকল্পিত স্লুইস গেট। গত এক যুগেরও বেশি সময় ধরে বেতনা নদী খননের দাবি থাকলেও ৩৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে কাজ শুরু হওয়ার পরও ধীর গতিতে চলছে। ফলে এখনো কোনো সুফল পাচ্ছে না এলাকাবাসী।

সচেতন মহলের দাবি

নাগরিক কমিটির নেতা আলী নূর খান বাবলু বলেন, “প্রতি বছর কোটি কোটি টাকা বরাদ্দ হয়, কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয় না। জলাবদ্ধতা এখন সাতক্ষীরার মানুষের জন্য অভিশাপ।”
এলাকাবাসীর দাবি, জরুরি ভিত্তিতে বেতনা নদী ও খালগুলো পূর্ণাঙ্গ খনন করে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করতে হবে। অন্যথায় প্রতি বছরই এ দুর্ভোগ আরও বাড়বে।