জলাবদ্ধতায় নাকাল সাতক্ষীরাবাসী
- আপডেট সময় : 11:35:40 pm, Saturday, 30 August 2025 317 300 বার পড়া হয়েছে

জি এম আমিনুল হক: সাতক্ষীরায় সুপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় বর্ষা মৌসুমে টানা বৃষ্টির কারণে পৌরসভা ও সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ভয়াবহ জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। পানি নিষ্কাশনের যথাযথ ব্যবস্থা না থাকায় প্রতিবছর জুন থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত কয়েক লক্ষ মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করছে।
শহর ও গ্রামের চিত্র
পৌরসভার জজকোর্ট, পুলিশ লাইন, সরকারি কলেজ, মাছখোলা, ঝুঁটিতলা, সুলতানপুর, কাটিয়া, ইটাগাছা, কামালনগর, খড়িবিলা, বকচরা, বদ্দিপুর কলোনীসহ অসংখ্য মহল্লা পানির নিচে ডুবে আছে। টিউবওয়েল, স্যানিটেশন ব্যবস্থা নষ্ট হয়ে পড়েছে। ফলে চর্মরোগ ও পানিবাহিত রোগ ছড়িয়ে পড়ছে।
গ্রামের অবস্থাও একই। ধুলিহর, ফিংড়ী, ব্রহ্মরাজপুর, লাবসা, ঝাউডাঙ্গা ইউনিয়নের ২৫-৩০টি গ্রামে স্থায়ী জলাবদ্ধতায় হাজার হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। রাস্তাঘাট, স্কুল-কলেজ, বিভিন্ন সরকারি স্থাপনাও পানিতে তলিয়ে গেছে।
বিল ও কৃষিজমি পানির নিচে
জলাবদ্ধতায় বুড়ামারা, পালিচাঁদ, ঢেপুরবিল, চেলারবিল, হাতিশালার বিল, কচুয়ার বিল, হাজিখালি বিল, ডাইয়ের বিল, রামচন্দ্রপুরবিল ও ঘুড্ডিরবিলসহ অসংখ্য বিল পানিতে তলিয়ে গেছে। শত শত একর জমির আমন ধান ও আউশ ফসল নষ্ট হয়ে গেছে। মাছের ঘের ও পুকুরের মাছ ভেসে গিয়ে বিপাকে পড়েছেন অসংখ্য মৎস্যচাষী। ফলে কৃষকরা ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
ভুক্তভোগীর কান্না
কামালনগরের সোহরাব হোসেন বলেন, “চারপাশে পানি, ছেলেমেয়েরা স্কুলে যেতে পারছে না। ভেলা-নৌকায় যাতায়াত করতে হচ্ছে। সবচেয়ে ভোগান্তি টয়লেট নিয়ে।”
একই কথা জানালেন পৌরসভার ঘুড্ডেরডাঙ্গীর সুলতান মাহমুদ, “বৃষ্টি হলেই পানি জমে যায়। নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় তা স্থায়ী হয়ে যায়।”
ধুলিহরের সাংবাদিক শাহাদাৎ হোসেন বাবু বলেন, “বছরের পর বছর ঘরবাড়ি পানিতে ডুবে আছে। অসংখ্য রাস্তা নষ্ট হয়ে যায়। জীবনযাপন অসহনীয় হয়ে পড়েছে।”
কারণ ও সমাধান
বিশেষজ্ঞদের মতে, সাতক্ষীরার জলাবদ্ধতার মূল কারণ হলো অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা, নদীর নাব্যতা হ্রাস, মাছের ঘের এবং অপরিকল্পিত স্লুইস গেট। গত এক যুগেরও বেশি সময় ধরে বেতনা নদী খননের দাবি থাকলেও ৩৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে কাজ শুরু হওয়ার পরও ধীর গতিতে চলছে। ফলে এখনো কোনো সুফল পাচ্ছে না এলাকাবাসী।
সচেতন মহলের দাবি
নাগরিক কমিটির নেতা আলী নূর খান বাবলু বলেন, “প্রতি বছর কোটি কোটি টাকা বরাদ্দ হয়, কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয় না। জলাবদ্ধতা এখন সাতক্ষীরার মানুষের জন্য অভিশাপ।”
এলাকাবাসীর দাবি, জরুরি ভিত্তিতে বেতনা নদী ও খালগুলো পূর্ণাঙ্গ খনন করে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করতে হবে। অন্যথায় প্রতি বছরই এ দুর্ভোগ আরও বাড়বে।





























