সাতক্ষীরা 5:38 am, Monday, 9 November 2026
সংবাদ শিরোনাম ::
ছবিটা ক্লিয়ার করে দাও সাতক্ষীরায় ‘বিজ’-এর কৃষি কর্মসূচির আওতায় ফলজ, বনজ ও ঔষধি চারা বিতরণ আলিপুর ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে আলোচনায় আব্দুর রউফের পৌত্র সামির সোয়েব রাদমির অন্যায়ের বিরুদ্ধে আপসহীন, অধিকার ও সম্প্রীতির প্রশ্নে অদম্য—নতুন প্রত্যয়ে সাতক্ষীরায় যুব ঐক্য পরিষদ আশাশুনিতে শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের মাসিক কর্মপরিকল্পনা বৈঠক অনুষ্ঠিত পর্নোগ্রাফি ও চাঁদাবাজির মামলায় সাতক্ষীরার কথিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর, আব্দুল্লাহ আল মামুন গ্রেপ্তার ফ্রান্সের বর্তমান অবস্থা (জনগণের ক্ষোভ ও সামরিক শক্তি বৃদ্ধি) সাতক্ষীরায় মোটরসাইকেল চুরির অভিযোগে সার্জেন্টের ছেলে আটক, গণপিটুনির পর পুলিশের হেফাজতে সাতক্ষীরার ভোমরা সীমান্তে ভারতে পাচারকালে ১ কোটি ৫৫ লক্ষ টাকার স্বর্ণ সহ আটক: ১ সাতক্ষীরা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে কোষাধ্যক্ষ পদপ্রার্থী অ্যাডভোকেট শামীম রেজা সাতক্ষীরার দেবহাটায় গৃহবধূকে হেনস্তার চেষ্টা ও শিশুদের হয়রানির অভিযোগে যুবক আটক

হারিয়ে যাচ্ছে চবির প্রাকৃতিক সৌন্দর্য :প্রশাসন ব্যর্থ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : 07:37:12 pm, Tuesday, 4 January 2022 736 300 বার পড়া হয়েছে
Khandakarit.com

সবুজ পাহাড়ে ঘেরা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস যেন প্রকৃতির অনন্য সুন্দর আাশীর্বাদ।চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শহরের যান্ত্রিকতা ও কোলাহল থেকে অনেকটা দূরে অবস্থান করে দূষণমুক্ত একটা প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অবয়ব সৃষ্টি করেছে।পাখির কলকাকলি ও বন্য প্রাণীর ডাক এই সৌন্দর্যকে যেন আরো বাড়িয়ে তোলে।কিন্তু এই সৌন্দর্য দিনের পর দিন বিলীন হয়ে যাচ্ছে।প্রতিনিয়তই দূষিত হচ্ছে প্রাকৃতিক নৈসর্গিক পরিবেশ।

বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের আশেপাশে বসবাসরত মানুষের নিত্যব্যবহার্য পরিত্যক্ত সামগ্রী উদাসীন মনোভাবের কারণে যত্রতত্র ফেলে পরিবেশ দূষিত করছে।তাছাড়া বিভিন্ন কোচিং সেন্টারের বিজ্ঞাপনের কাগজ, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনী প্রার্থীদের ব্যানার,লিফলেট, রাজনৈতিক দলের পোস্টার, জেলা ছাত্রকল্যাণ পরিষদের পোস্টার, ছাত্রলীগের বিভিন্ন পোস্টার,বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলের পিলার,দেয়াল,আবার বিভিন্ন অনুষদে,বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক থেকে শুরু করে জিরো পয়েন্ট পর্যন্ত দেখা যায়।বিভিন্ন দিবস উপলক্ষে আবাসিক হলগুলোতে চিকা মারা, রাজনৈতিক নেতার অনুসারীদের ছবি অংকন করতে দেখা যায়।এ ছাড়াও আবাসিক হলে ছাত্রলীগের বিভিন্ন গ্রুপের আধিপত্যকে পুজি করে কক্ষের দরজা,কক্ষের ভিতরে গ্রুপের নাম,চিকা মারা,বিভিন্ন মনিষীদের বাণী লিখে সৌন্দর্যকে নষ্ট করছে। অবৈধভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের জমি দখল,বৃক্ষ কর্তন,মাটি কাটার ফলে বর্ষাকালে পাহাড় ধসের পরিস্থিতি তৈরি হয়।

আবার বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্দিষ্ট কোন ডাস্টবিন না থাকায় আবাসিক হলগুলোর শিক্ষার্থীদের ফেলে দেওয়া জিনিসপত্র পচে দূর্গন্ধ ছড়ায়। ডাস্টবিনের অভাব থাকায় পরিত্যক্ত সামগ্রী পুড়ানোর ফলে সৃষ্ট কালো ধোয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে নষ্ট করছে। অনেক সময় মৃত বন্যপ্রাণী আবাসিক হল,রাস্তার পাশে পড়ে থাকে, ।যেটা থেকে দূর্গন্ধ ছড়ায়। এছাড়া ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের বিভিন্ন অশালীন কার্যকলাপ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছে। এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের সবসময় উদাসীনতা লক্ষ্য করা যায়। ক্যাম্পাসে সৌন্দর্য বর্ধক কমিটি থাকা সত্বেও তাদের কোন কার্যক্রম লক্ষ্য করা যায় না।

এ বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর ড.শহীদুল ইসলাম বলেন, আমরা একটি কমিটি গঠন করে দিব তদারকি করতে।তাছাড়া আমরা ক্যাম্পাসের অপ্রয়োজনীয় পোস্টার সরিয়ে ফেলতে। সৌন্দর্য বর্ধক কমিটির বিষয়ে তিনি বলেন,আমরা তাদের সাথে আলোচনা করে নতুন করে কমিটি গঠন করে দিব।

প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসের সৌন্দর্য রক্ষার বিষয়ে ভূগোল ও পরিবেশ বিদ্যার অধ্যাপক ড.আতিকুর রহমান বলেন,বিশ্ববিদ্যালয় মানে এখানে মুক্ত জ্ঞানের চর্চা হবে।ক্লাসের বাইরে থেকে শিক্ষার্থীরা বেশি শিখে।উন্নত বিশ্বের বিশ্ববিদ্যালয় গুলোতে সৌন্দর্য ও পরিবেশ রক্ষার বিষয়ে খুব তৎপর।তারা ছাত্র ছাত্রীদের একটা মানানসই শিক্ষার পরিবেশ দিতে পারে।আমাদের দেশের বিশ্ববিদ্যালয় গুলো এদিক থেকে ব্যর্থ।

প্রশাসনের পদক্ষেপ নিয়ে তিনি বলেন,প্রশাসন এ ব্যাপারে একটু কঠোর হতে পারে।কিছু আর্থিক জরিমানা করতে পারে। আবার পুলিশি অভিযান চালানো যেতে পারে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
ভাষা চেঞ্জ করুন

হারিয়ে যাচ্ছে চবির প্রাকৃতিক সৌন্দর্য :প্রশাসন ব্যর্থ

আপডেট সময় : 07:37:12 pm, Tuesday, 4 January 2022

সবুজ পাহাড়ে ঘেরা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস যেন প্রকৃতির অনন্য সুন্দর আাশীর্বাদ।চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শহরের যান্ত্রিকতা ও কোলাহল থেকে অনেকটা দূরে অবস্থান করে দূষণমুক্ত একটা প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অবয়ব সৃষ্টি করেছে।পাখির কলকাকলি ও বন্য প্রাণীর ডাক এই সৌন্দর্যকে যেন আরো বাড়িয়ে তোলে।কিন্তু এই সৌন্দর্য দিনের পর দিন বিলীন হয়ে যাচ্ছে।প্রতিনিয়তই দূষিত হচ্ছে প্রাকৃতিক নৈসর্গিক পরিবেশ।

বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের আশেপাশে বসবাসরত মানুষের নিত্যব্যবহার্য পরিত্যক্ত সামগ্রী উদাসীন মনোভাবের কারণে যত্রতত্র ফেলে পরিবেশ দূষিত করছে।তাছাড়া বিভিন্ন কোচিং সেন্টারের বিজ্ঞাপনের কাগজ, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনী প্রার্থীদের ব্যানার,লিফলেট, রাজনৈতিক দলের পোস্টার, জেলা ছাত্রকল্যাণ পরিষদের পোস্টার, ছাত্রলীগের বিভিন্ন পোস্টার,বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলের পিলার,দেয়াল,আবার বিভিন্ন অনুষদে,বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক থেকে শুরু করে জিরো পয়েন্ট পর্যন্ত দেখা যায়।বিভিন্ন দিবস উপলক্ষে আবাসিক হলগুলোতে চিকা মারা, রাজনৈতিক নেতার অনুসারীদের ছবি অংকন করতে দেখা যায়।এ ছাড়াও আবাসিক হলে ছাত্রলীগের বিভিন্ন গ্রুপের আধিপত্যকে পুজি করে কক্ষের দরজা,কক্ষের ভিতরে গ্রুপের নাম,চিকা মারা,বিভিন্ন মনিষীদের বাণী লিখে সৌন্দর্যকে নষ্ট করছে। অবৈধভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের জমি দখল,বৃক্ষ কর্তন,মাটি কাটার ফলে বর্ষাকালে পাহাড় ধসের পরিস্থিতি তৈরি হয়।

আবার বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্দিষ্ট কোন ডাস্টবিন না থাকায় আবাসিক হলগুলোর শিক্ষার্থীদের ফেলে দেওয়া জিনিসপত্র পচে দূর্গন্ধ ছড়ায়। ডাস্টবিনের অভাব থাকায় পরিত্যক্ত সামগ্রী পুড়ানোর ফলে সৃষ্ট কালো ধোয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে নষ্ট করছে। অনেক সময় মৃত বন্যপ্রাণী আবাসিক হল,রাস্তার পাশে পড়ে থাকে, ।যেটা থেকে দূর্গন্ধ ছড়ায়। এছাড়া ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের বিভিন্ন অশালীন কার্যকলাপ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছে। এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের সবসময় উদাসীনতা লক্ষ্য করা যায়। ক্যাম্পাসে সৌন্দর্য বর্ধক কমিটি থাকা সত্বেও তাদের কোন কার্যক্রম লক্ষ্য করা যায় না।

এ বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর ড.শহীদুল ইসলাম বলেন, আমরা একটি কমিটি গঠন করে দিব তদারকি করতে।তাছাড়া আমরা ক্যাম্পাসের অপ্রয়োজনীয় পোস্টার সরিয়ে ফেলতে। সৌন্দর্য বর্ধক কমিটির বিষয়ে তিনি বলেন,আমরা তাদের সাথে আলোচনা করে নতুন করে কমিটি গঠন করে দিব।

প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসের সৌন্দর্য রক্ষার বিষয়ে ভূগোল ও পরিবেশ বিদ্যার অধ্যাপক ড.আতিকুর রহমান বলেন,বিশ্ববিদ্যালয় মানে এখানে মুক্ত জ্ঞানের চর্চা হবে।ক্লাসের বাইরে থেকে শিক্ষার্থীরা বেশি শিখে।উন্নত বিশ্বের বিশ্ববিদ্যালয় গুলোতে সৌন্দর্য ও পরিবেশ রক্ষার বিষয়ে খুব তৎপর।তারা ছাত্র ছাত্রীদের একটা মানানসই শিক্ষার পরিবেশ দিতে পারে।আমাদের দেশের বিশ্ববিদ্যালয় গুলো এদিক থেকে ব্যর্থ।

প্রশাসনের পদক্ষেপ নিয়ে তিনি বলেন,প্রশাসন এ ব্যাপারে একটু কঠোর হতে পারে।কিছু আর্থিক জরিমানা করতে পারে। আবার পুলিশি অভিযান চালানো যেতে পারে।