সাতক্ষীরা 5:44 am, Monday, 9 November 2026
সংবাদ শিরোনাম ::
ছবিটা ক্লিয়ার করে দাও সাতক্ষীরায় ‘বিজ’-এর কৃষি কর্মসূচির আওতায় ফলজ, বনজ ও ঔষধি চারা বিতরণ আলিপুর ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে আলোচনায় আব্দুর রউফের পৌত্র সামির সোয়েব রাদমির অন্যায়ের বিরুদ্ধে আপসহীন, অধিকার ও সম্প্রীতির প্রশ্নে অদম্য—নতুন প্রত্যয়ে সাতক্ষীরায় যুব ঐক্য পরিষদ আশাশুনিতে শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের মাসিক কর্মপরিকল্পনা বৈঠক অনুষ্ঠিত পর্নোগ্রাফি ও চাঁদাবাজির মামলায় সাতক্ষীরার কথিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর, আব্দুল্লাহ আল মামুন গ্রেপ্তার ফ্রান্সের বর্তমান অবস্থা (জনগণের ক্ষোভ ও সামরিক শক্তি বৃদ্ধি) সাতক্ষীরায় মোটরসাইকেল চুরির অভিযোগে সার্জেন্টের ছেলে আটক, গণপিটুনির পর পুলিশের হেফাজতে সাতক্ষীরার ভোমরা সীমান্তে ভারতে পাচারকালে ১ কোটি ৫৫ লক্ষ টাকার স্বর্ণ সহ আটক: ১ সাতক্ষীরা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে কোষাধ্যক্ষ পদপ্রার্থী অ্যাডভোকেট শামীম রেজা সাতক্ষীরার দেবহাটায় গৃহবধূকে হেনস্তার চেষ্টা ও শিশুদের হয়রানির অভিযোগে যুবক আটক

সাতক্ষীরায় পৌরসভার সামনে গণঅবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে সাতক্ষীরা জেলা নাগরিক কমিটি

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : 11:13:38 pm, Wednesday, 12 July 2023 239 300 বার পড়া হয়েছে
Khandakarit.com

সাতক্ষীরা কন্ঠ ডেস্কঃ সাতক্ষীরা পৌরসভার বর্ধিত পানির বিল প্রত্যাহার এবং রাস্তাঘাট-ড্রেনেজসহ বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের দাবীতে আজ বুধবার ১২ই জুলাই ২০২৩ ইং সকাল ১০টায় পৌরসভার সামনে গণঅবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে সাতক্ষীরা জেলা নাগরিক কমিটি। গণঅবস্থান থেকে আগামী ২৯ জুলাই পর্যন্ত শহরের বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ এবং ৩০ জুলাই পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। জেলা নাগরিক কমিটির আয়োজনে অনুষ্ঠিত গণঅবস্থান কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করেন এবং কর্মসূচি ঘোষণা করেন সংগঠনের আহ্বায়ক এডঃ শেখ আজাদ হোসেন বেলাল।

গণঅবস্থান কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখেন বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যক্ষ আবু আহমেদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা সুভাষ সরকার, এ্যাডঃ আবুল কালাম আজাদ, সুধাংশু শেখর সরকার, শেখ ওবায়দুস সুলতান বাবলু, সাবেক পিপি এডঃ ওসমান গনি, শেখ সিদ্দিকুর রহমান, ইদ্রিস আলী, কাজী আকতার হোসেন, আবুল হোসেন, হাসান ইমাম, নিত্যানন্দ সরকার, মুনসুর রহমান, আবু তালেব, আবদুস সামাদ, আদিত্য মল্লিক, আবদুস সাত্তার, মো.আব্দুল্লাহ, কামরুজ্জামান কামু, গৌরপদ দাস, সুলতা সাহা, বায়জিত হোসেন প্রমুখ। কর্মসূচি পরিচালনা করেন আলী নুর খান বাবুল।

বক্তারা বলেন, কোন পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই সাতক্ষীরা পৌরসভার সরবরাহকৃত পানির বিল চারগুন বৃদ্ধি করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে পৌরসভার মেয়র, ভারপ্রাপ্ত মেয়রসহ পৌর পরিষদের সাথে একাধিকবার আলাপ-আলোচনাকালে অযৌক্তিকভাবে বৃদ্ধিকৃত বিল প্রত্যাহারের দাবী জানানো হয়। পৌর মেয়র নিজেও অযৌক্তিকভাবে বৃদ্ধিকৃত বিল প্রত্যাহারের আশ্বাস দেন। কিন্তু অদ্যাবধি বিল প্রত্যাহার করা হয়নি।

বক্তারা আরো বলেন, আধুনিকমানের সুযোগ সুবিধা সম্বলিত উন্নত নাগরিক সেবার মানোন্নয়নে সাতক্ষীরা পৌরসভার কোন সুদুর প্রসারি পরিকল্পনা নেই। জনসংখ্যা বৃদ্ধির সাথে সাথে চলাচলের সুবিধার্থে রাস্তাঘাট প্রসস্ত করা হচ্ছে না। বরং নতুন ভবন নির্মাণের সময় চলাচলের রাস্তা ও ড্রেনেজ ব্যবস্থা দখল হয়ে যাচ্ছে। ব্যস্ততম শহরের কোথাও ফুটপাথ রাখা হচ্ছে না।

বক্তারা আরো বলেন, বাংলাদেশের মধ্যে সাতক্ষীরাই একমাত্র পৌরসভা-যেখানে আগে নিউমার্কেট ছিল এখন নেই। আগে পাবলিক অডিটরিয়াম ছিল এখন নেই। আগে পৌর মিলনায়তন ছিল এখন নেই। আগে শিশু পার্ক ছিল এখন নেই। আগে রাস্তায় ঝাড়ুদার ছিল এখন নেই। আগে রাস্তার পাশে ফুটপাথ না থাকলেও সাধারণের চলাচলের পরিবেশ ছিল এখন নেই। আগে সুলতানপুর বড়বাজারে তরিতরকারী ব্যবসায়ীদের বসার জায়গা ছিল এখন নেই। তারা এখন রাস্তায় বসে। ইটাগাছা সান্ধ্য হাটের অস্তিত্ব বিলুপ্ত প্রায়। শহিদ আবদুর রাজ্জাক পার্ক দখল করে সেখানে কমপক্ষে ১০টি অবকাঠামো গড়ে তোলা হয়েছে। সেখানে অবসর বিনোদনের কোন পরিবেশ নেই। বিভিন্ন এলাকায় আগে পাবলিক টয়লেট থাকলেও এখন তার অধিকাংশই নেই। আগে ডাসবিন ছিল এখন নেই। রাস্তার পাশে পাকা পানির ট্যাপ ছিল এখন নেই। আগে রাস্তাঘাট ছিল এখন তার ছাল-চামড়া নেই। যানজট নিরসনে রাস্তায় ট্রাফিক দাড়ানোর জায়গা নেই। নতুন নতুন এলাকায় আবাসন গড়ে উঠলেও সেখানে যাতায়াতের কোন রাস্তাঘাট নেই। প্রাণ সায়র খালের প্রাণ নেই। দশ বছর পূর্বে সাতক্ষীরা শহর বাইপাস সড়ক নির্মিত হলেও শহরের সাথে যুক্ত লিঙ্ক রোডগুলো উপযোগী করে গড়ে না তোলার কোন উদ্যোগ নেই। শহরের যানজট নিরসনে প্রধান সড়কের সাথে অন্যান্য সড়কগুলোর পর্যাপ্ত লিঙ্ক রোড নির্মাণের উদ্যোগ নেই।

বক্তারা আরো বলেন, সাতক্ষীরা পৌরসভার সরবরাহকৃত পানি আগে শুধু ব্যবহার উপযোগীই ছিল না, তা শহরের লোকজন ছাড়াও ভ্যান-পিকআপ-ট্রাকযোগে বিভিন্ন এলাকায় নিয়ে যেয়ে মানুষ পান করতো। কিন্তু এখন যে পানি সরবরাহ করা হয় তা পান করাতো দুরের কথা ব্যবহার উপযোগী নয়। অধিকাংশ গ্রাহক নিয়মিত পানি পান না। যেকারনে আগে পানির ১৬ হাজার গ্রাহক থাকলেও এখন তা কমে ১০ হাজারে এসে দাড়িয়েছে। বক্তারা পৌরসভার সকল সমস্যা সমাধানে এবং বর্ধিত পানির বিল প্রত্যাহারে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহবান জানান।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
ভাষা চেঞ্জ করুন

সাতক্ষীরায় পৌরসভার সামনে গণঅবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে সাতক্ষীরা জেলা নাগরিক কমিটি

আপডেট সময় : 11:13:38 pm, Wednesday, 12 July 2023

সাতক্ষীরা কন্ঠ ডেস্কঃ সাতক্ষীরা পৌরসভার বর্ধিত পানির বিল প্রত্যাহার এবং রাস্তাঘাট-ড্রেনেজসহ বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের দাবীতে আজ বুধবার ১২ই জুলাই ২০২৩ ইং সকাল ১০টায় পৌরসভার সামনে গণঅবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে সাতক্ষীরা জেলা নাগরিক কমিটি। গণঅবস্থান থেকে আগামী ২৯ জুলাই পর্যন্ত শহরের বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ এবং ৩০ জুলাই পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। জেলা নাগরিক কমিটির আয়োজনে অনুষ্ঠিত গণঅবস্থান কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করেন এবং কর্মসূচি ঘোষণা করেন সংগঠনের আহ্বায়ক এডঃ শেখ আজাদ হোসেন বেলাল।

গণঅবস্থান কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখেন বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যক্ষ আবু আহমেদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা সুভাষ সরকার, এ্যাডঃ আবুল কালাম আজাদ, সুধাংশু শেখর সরকার, শেখ ওবায়দুস সুলতান বাবলু, সাবেক পিপি এডঃ ওসমান গনি, শেখ সিদ্দিকুর রহমান, ইদ্রিস আলী, কাজী আকতার হোসেন, আবুল হোসেন, হাসান ইমাম, নিত্যানন্দ সরকার, মুনসুর রহমান, আবু তালেব, আবদুস সামাদ, আদিত্য মল্লিক, আবদুস সাত্তার, মো.আব্দুল্লাহ, কামরুজ্জামান কামু, গৌরপদ দাস, সুলতা সাহা, বায়জিত হোসেন প্রমুখ। কর্মসূচি পরিচালনা করেন আলী নুর খান বাবুল।

বক্তারা বলেন, কোন পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই সাতক্ষীরা পৌরসভার সরবরাহকৃত পানির বিল চারগুন বৃদ্ধি করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে পৌরসভার মেয়র, ভারপ্রাপ্ত মেয়রসহ পৌর পরিষদের সাথে একাধিকবার আলাপ-আলোচনাকালে অযৌক্তিকভাবে বৃদ্ধিকৃত বিল প্রত্যাহারের দাবী জানানো হয়। পৌর মেয়র নিজেও অযৌক্তিকভাবে বৃদ্ধিকৃত বিল প্রত্যাহারের আশ্বাস দেন। কিন্তু অদ্যাবধি বিল প্রত্যাহার করা হয়নি।

বক্তারা আরো বলেন, আধুনিকমানের সুযোগ সুবিধা সম্বলিত উন্নত নাগরিক সেবার মানোন্নয়নে সাতক্ষীরা পৌরসভার কোন সুদুর প্রসারি পরিকল্পনা নেই। জনসংখ্যা বৃদ্ধির সাথে সাথে চলাচলের সুবিধার্থে রাস্তাঘাট প্রসস্ত করা হচ্ছে না। বরং নতুন ভবন নির্মাণের সময় চলাচলের রাস্তা ও ড্রেনেজ ব্যবস্থা দখল হয়ে যাচ্ছে। ব্যস্ততম শহরের কোথাও ফুটপাথ রাখা হচ্ছে না।

বক্তারা আরো বলেন, বাংলাদেশের মধ্যে সাতক্ষীরাই একমাত্র পৌরসভা-যেখানে আগে নিউমার্কেট ছিল এখন নেই। আগে পাবলিক অডিটরিয়াম ছিল এখন নেই। আগে পৌর মিলনায়তন ছিল এখন নেই। আগে শিশু পার্ক ছিল এখন নেই। আগে রাস্তায় ঝাড়ুদার ছিল এখন নেই। আগে রাস্তার পাশে ফুটপাথ না থাকলেও সাধারণের চলাচলের পরিবেশ ছিল এখন নেই। আগে সুলতানপুর বড়বাজারে তরিতরকারী ব্যবসায়ীদের বসার জায়গা ছিল এখন নেই। তারা এখন রাস্তায় বসে। ইটাগাছা সান্ধ্য হাটের অস্তিত্ব বিলুপ্ত প্রায়। শহিদ আবদুর রাজ্জাক পার্ক দখল করে সেখানে কমপক্ষে ১০টি অবকাঠামো গড়ে তোলা হয়েছে। সেখানে অবসর বিনোদনের কোন পরিবেশ নেই। বিভিন্ন এলাকায় আগে পাবলিক টয়লেট থাকলেও এখন তার অধিকাংশই নেই। আগে ডাসবিন ছিল এখন নেই। রাস্তার পাশে পাকা পানির ট্যাপ ছিল এখন নেই। আগে রাস্তাঘাট ছিল এখন তার ছাল-চামড়া নেই। যানজট নিরসনে রাস্তায় ট্রাফিক দাড়ানোর জায়গা নেই। নতুন নতুন এলাকায় আবাসন গড়ে উঠলেও সেখানে যাতায়াতের কোন রাস্তাঘাট নেই। প্রাণ সায়র খালের প্রাণ নেই। দশ বছর পূর্বে সাতক্ষীরা শহর বাইপাস সড়ক নির্মিত হলেও শহরের সাথে যুক্ত লিঙ্ক রোডগুলো উপযোগী করে গড়ে না তোলার কোন উদ্যোগ নেই। শহরের যানজট নিরসনে প্রধান সড়কের সাথে অন্যান্য সড়কগুলোর পর্যাপ্ত লিঙ্ক রোড নির্মাণের উদ্যোগ নেই।

বক্তারা আরো বলেন, সাতক্ষীরা পৌরসভার সরবরাহকৃত পানি আগে শুধু ব্যবহার উপযোগীই ছিল না, তা শহরের লোকজন ছাড়াও ভ্যান-পিকআপ-ট্রাকযোগে বিভিন্ন এলাকায় নিয়ে যেয়ে মানুষ পান করতো। কিন্তু এখন যে পানি সরবরাহ করা হয় তা পান করাতো দুরের কথা ব্যবহার উপযোগী নয়। অধিকাংশ গ্রাহক নিয়মিত পানি পান না। যেকারনে আগে পানির ১৬ হাজার গ্রাহক থাকলেও এখন তা কমে ১০ হাজারে এসে দাড়িয়েছে। বক্তারা পৌরসভার সকল সমস্যা সমাধানে এবং বর্ধিত পানির বিল প্রত্যাহারে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহবান জানান।