ধুলিহরে সরকারি রাস্তার ৫০হাজার ইট তুলে চুরি করে বিক্রি,২০হাজার উদ্ধারঃ নেপথ্যে চেয়ারম্যান মিজান চৌধুরীঃএলাকায় তোলপাড়
- আপডেট সময় : 01:14:19 am, Tuesday, 2 January 2024 325 300 বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিনিধি:সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ধুলিহর ইউনিয়নের শালিকাডাঙ্গার আশ্রয়ণ প্রকল্প এলাকার সরকারি রাস্তার আনুমানিক ৫০হাজার ইট তুলে নিয়ে কৌশলে বিক্রি করে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মিজান চৌধুরী ও তার লোকজন। সম্প্রতি অর্ধশতাধিক জনবল নিয়ে ইউনিয়নের শালিখেডাঙা-কুলপোতা আঞ্চলিক সড়কে এলজিডির অর্থায়নে নির্মিত ওই সড়কের ইট তুলে নিয়ে বিক্রি করতে থাকেন তিনি। খবর পেয়ে সাংবাদিকেরা ঘটনাস্থলে যেয়ে স্থির ছবি ও ভিডিও সংগ্রহ করলে সাংবাদিকের অবরুদ্ধ করে রাখেন চেয়ারম্যানের সন্ত্রাসী বাহিনী।
এসময় সাতক্ষীরার দৈনিক পত্রদূত পত্রিকার নিজস্ব প্রতিনিধি ও জাতীয় দৈনিক খবরের কাগজ পত্রিকার সাতক্ষীরা জেলা প্রতিনিধি সাংবাদিক নাজমুল শাহাদাৎ জাকিরের ফোন কেড়ে নিয়ে স্থির ছবি ও ভিডিও ডিলিট করে দেন তারা।বিষয়টি নিয়ে গত১৫ডিসেম্বর দৈনিক পত্রদূত পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ হলে প্রশাসনের টনক নড়ে।গতকাল ১জানুয়ারী সোমবার সাতক্ষীরা সদর উপজেলার প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোঃ ইয়ারুল হকের নেতৃত্বে ব্রহ্মরাজপুর ইউনিয়নের বড়খামার গ্রামের মৃত আ:রশিদ গাজীর পুত্র মোঃ আ: রহিম বাবুর বাড়ি থেকে আনুমানিক ২০হাজার চোরাই ইট উদ্ধার করা হয়েছে এবং অবশিষ্ট ৩০হাজার ইট অবিলম্বে উদ্ধারসহ সরকারি রাস্তার ইট চুরির সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে তিনি দৈনিক পত্রদূতকে জানান।
জানা যায়, ২০১৭ সালে এলজিইডির অর্থায়নে কয়েক লক্ষ টাকা ব্যয়ে বেতনা নদীর তীর ঘেষা ধুলিহর ইউনিয়নের শালিখেডাঙা-কুলপোতা সড়ক নির্মাণ করা হয়। সড়কের শালিখেডাঙা নামক স্থানে বেতনা নদীর ধারের খাস জমিতে মুজিব বর্ষের আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর নির্মাণ করা হয়। বর্তমানে সেখানে প্রায় অর্ধশতাধিক পরিবার বসবাস করেন। তবে ক্ষমতার বলে ইউপি চেয়ারম্যান মিজান চৌধুরী নিজের সন্ত্রাসী বাহিনীর মাধ্যমে প্রকাশ্য ওই সড়কের ইট তুলে নিয়ে বিক্রি করতে থাকেন।চেয়ারম্যান মিজান চৌধুরী কেন বা কিসের জন্য এই ইট তুলে নিয়ে বিক্রি করছেন চেয়ারম্যান তা জানেননা স্থানীয়রা।
বিষয়টি জানতে সরেজমিনে সেসময় শালিখাডাঙা-কুলপোতার ওই সড়কে যেয়ে দেখা যায়, অর্ধশতাধিক শ্রমিক তড়িঘড়ি করে সরকারি রাস্তার ইট তুলছেন। আর এদের অনেকে ইট একটি লড়িতে করে বেতনা নদীর তীরে নিয়ে যাচ্ছেন। আর সেখান থেকে ভালো ইটগুলো ট্রলি প্রতি গুণে বিক্রি করছেন চেয়ারম্যান মিজান চৌধুরীর লোকজন।
এসময় ভুক্তভোগী সাংবাদিক নাজমুল শাহাদাৎ জাকির বলেছিলেন সাবেক উচ্চ পদস্থ পুলিশ কর্মকর্তার ভাই স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মিজান চৌধুরী তার ইউনিয়নে সন্ত্রাসী রাজত্ব কায়েম করে দূর্নীতি,লুটপাট, স্বজনপ্রীতি করে টাকার পাহাড় গড়ে চলেছেন। তার ভয়ে কোন প্রতিবাদ করতে পারেননা স্থানীয়রা। এমনকী স্থানীয় সাংবাদিকদেরও জিম্মি করে রেখেছেন তিনি। বিষয়টি জানতে চাইলে ধুলিহর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোঃ মিজানুর রহমান চৌধুরী জানান -আমার এলাকার রাস্তা থেকে ৫০হাজার ইট চুরি হয়েছে। তারমধ্য কিছু ইট উদ্ধার হয়েছে এবং অবশিষ্ট ইট খুঁজে বের করে দেব।আ: রহিম বাবু গাজীর বাড়ি থেকে ইট উদ্ধারের বিষয় জানতে চাইলেও তার মুঠোফোন বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। প্রসঙ্গত চেয়ারম্যান মিজান চৌধুরীর বিরুদ্ধে এলাকায় ব্যাপক অনিয়ম,দূর্ণীতি,লুটপাট ও অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলনসহ বিভিন্ন অনিয়মের মাধ্যমে অবৈধ টাকার পাহাড় গড়ে তুলেছেন যা তদন্তের মাধ্যমে বেরিয়ে আসবে বলে সচেতন মহল জানিয়েছেন।





























