সাতক্ষীরা 1:33 am, Monday, 9 November 2026
সংবাদ শিরোনাম ::
ছবিটা ক্লিয়ার করে দাও সাতক্ষীরায় ‘বিজ’-এর কৃষি কর্মসূচির আওতায় ফলজ, বনজ ও ঔষধি চারা বিতরণ আলিপুর ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে আলোচনায় আব্দুর রউফের পৌত্র সামির সোয়েব রাদমির অন্যায়ের বিরুদ্ধে আপসহীন, অধিকার ও সম্প্রীতির প্রশ্নে অদম্য—নতুন প্রত্যয়ে সাতক্ষীরায় যুব ঐক্য পরিষদ আশাশুনিতে শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের মাসিক কর্মপরিকল্পনা বৈঠক অনুষ্ঠিত পর্নোগ্রাফি ও চাঁদাবাজির মামলায় সাতক্ষীরার কথিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর, আব্দুল্লাহ আল মামুন গ্রেপ্তার ফ্রান্সের বর্তমান অবস্থা (জনগণের ক্ষোভ ও সামরিক শক্তি বৃদ্ধি) সাতক্ষীরায় মোটরসাইকেল চুরির অভিযোগে সার্জেন্টের ছেলে আটক, গণপিটুনির পর পুলিশের হেফাজতে সাতক্ষীরার ভোমরা সীমান্তে ভারতে পাচারকালে ১ কোটি ৫৫ লক্ষ টাকার স্বর্ণ সহ আটক: ১ সাতক্ষীরা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে কোষাধ্যক্ষ পদপ্রার্থী অ্যাডভোকেট শামীম রেজা সাতক্ষীরার দেবহাটায় গৃহবধূকে হেনস্তার চেষ্টা ও শিশুদের হয়রানির অভিযোগে যুবক আটক

জাকারিয়া হত্যা: নাহিদসহ গ্রেপ্তার ২

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : 01:53:57 pm, Tuesday, 6 October 2026 95 300 বার পড়া হয়েছে
Khandakarit.com

সাতক্ষীরা কন্ঠ ডেস্ক:
সাতক্ষীরা শহরের বহুল আলোচিত কলেজছাত্র জাকারিয়া খাঁন হত্যা মামলার প্রধান আসামি নাহিদ হাসানসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ভারতে পালিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতিকালে সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার সীমান্তবর্তী শুইলপুর এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন সাতক্ষীরা শহরের ইটাগাছা এলাকার মৃত গিয়াসউদ্দিনের ছেলে ও মামলার প্রধান আসামি নাহিদ হাসান এবং একই এলাকার হুমায়ুন কবীরের ছেলে অমিত হাসান ওরফে শিপন হাসান (৩০)। অমিত হাসানকে জাকারিয়া হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সন্দেহভাজন সহযোগী হিসেবে উল্লেখ করেছে পুলিশ।
সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম জানান, কলেজছাত্র জাকারিয়া হত্যা মামলার প্রধান আসামি নাহিদ হাসান ভারতে পালিয়ে যাওয়ার উদ্দেশ্যে কালিগঞ্জ উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় অবস্থান করছেন—পুলিশের কাছে এমন তথ্য আসে। তথ্যের ভিত্তিতে মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) ভোর ৪টার দিকে সাতক্ষীরা সদর থানা, কালিগঞ্জ থানা ও গোয়েন্দা পুলিশের সমন্বয়ে একটি দল সেখানে অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযানের একপর্যায়ে সীমান্তবর্তী শুইলপুর এলাকা থেকে এজাহারভুক্ত প্রধান আসামি নাহিদ হাসান ও তার সহযোগী হিসেবে সন্দেহভাজন অমিত হাসানকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের পর তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ২ অক্টোবর শুক্রবার দিবাগত রাত সাড়ে ১১টার দিকে সাতক্ষীরা শহরের প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার কার্যালয়ের প্রধান ফটকের পাশে একটি চায়ের দোকানের সামনে বিরোধের সূত্রপাত হয়। ওই সময় চায়ের দোকানের মালিক রবিউল ইসলামের ভাইপো বাপ্পি হাসানের সঙ্গে নাহিদসহ কয়েকজন কিশোর গ্যাং সদস্যের বিরোধ বাধে।
একপর্যায়ে বাপ্পি হাসানকে রক্ষা করতে এগিয়ে আসেন কলেজছাত্র জাকারিয়া খাঁন। এ সময় নাহিদের ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত হন জাকারিয়া। পরে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। কলেজছাত্র জাকারিয়াকে প্রকাশ্যে ছুরিকাঘাত করে হত্যার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দেয়।

জাকারিয়া হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহতের ভাই শাহরিয়ার খাঁন বাদী হয়ে শনিবার রাতে সাতক্ষীরা সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় ১২ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও সাতজনকে আসামি করা হয়।
মামলা দায়েরের পরপরই আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করে পুলিশ। এরই ধারাবাহিকতায় শনিবার ভোরে নিজ বাড়ি থেকে এজাহারভুক্ত আসামি মুহিদ হাসান বনি গ্রেপ্তার হন। এরপর মঙ্গলবার ভোরে সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে মামলার প্রধান আসামি নাহিদ হাসান ও তার সহযোগী অমিত হাসানকে গ্রেপ্তার করা হলো।
পুলিশ জানিয়েছে, মামলার অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তার এবং হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে অভিযান ও তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
ভাষা চেঞ্জ করুন

জাকারিয়া হত্যা: নাহিদসহ গ্রেপ্তার ২

আপডেট সময় : 01:53:57 pm, Tuesday, 6 October 2026

সাতক্ষীরা কন্ঠ ডেস্ক:
সাতক্ষীরা শহরের বহুল আলোচিত কলেজছাত্র জাকারিয়া খাঁন হত্যা মামলার প্রধান আসামি নাহিদ হাসানসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ভারতে পালিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতিকালে সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার সীমান্তবর্তী শুইলপুর এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন সাতক্ষীরা শহরের ইটাগাছা এলাকার মৃত গিয়াসউদ্দিনের ছেলে ও মামলার প্রধান আসামি নাহিদ হাসান এবং একই এলাকার হুমায়ুন কবীরের ছেলে অমিত হাসান ওরফে শিপন হাসান (৩০)। অমিত হাসানকে জাকারিয়া হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সন্দেহভাজন সহযোগী হিসেবে উল্লেখ করেছে পুলিশ।
সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম জানান, কলেজছাত্র জাকারিয়া হত্যা মামলার প্রধান আসামি নাহিদ হাসান ভারতে পালিয়ে যাওয়ার উদ্দেশ্যে কালিগঞ্জ উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় অবস্থান করছেন—পুলিশের কাছে এমন তথ্য আসে। তথ্যের ভিত্তিতে মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) ভোর ৪টার দিকে সাতক্ষীরা সদর থানা, কালিগঞ্জ থানা ও গোয়েন্দা পুলিশের সমন্বয়ে একটি দল সেখানে অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযানের একপর্যায়ে সীমান্তবর্তী শুইলপুর এলাকা থেকে এজাহারভুক্ত প্রধান আসামি নাহিদ হাসান ও তার সহযোগী হিসেবে সন্দেহভাজন অমিত হাসানকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের পর তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ২ অক্টোবর শুক্রবার দিবাগত রাত সাড়ে ১১টার দিকে সাতক্ষীরা শহরের প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার কার্যালয়ের প্রধান ফটকের পাশে একটি চায়ের দোকানের সামনে বিরোধের সূত্রপাত হয়। ওই সময় চায়ের দোকানের মালিক রবিউল ইসলামের ভাইপো বাপ্পি হাসানের সঙ্গে নাহিদসহ কয়েকজন কিশোর গ্যাং সদস্যের বিরোধ বাধে।
একপর্যায়ে বাপ্পি হাসানকে রক্ষা করতে এগিয়ে আসেন কলেজছাত্র জাকারিয়া খাঁন। এ সময় নাহিদের ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত হন জাকারিয়া। পরে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। কলেজছাত্র জাকারিয়াকে প্রকাশ্যে ছুরিকাঘাত করে হত্যার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দেয়।

জাকারিয়া হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহতের ভাই শাহরিয়ার খাঁন বাদী হয়ে শনিবার রাতে সাতক্ষীরা সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় ১২ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও সাতজনকে আসামি করা হয়।
মামলা দায়েরের পরপরই আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করে পুলিশ। এরই ধারাবাহিকতায় শনিবার ভোরে নিজ বাড়ি থেকে এজাহারভুক্ত আসামি মুহিদ হাসান বনি গ্রেপ্তার হন। এরপর মঙ্গলবার ভোরে সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে মামলার প্রধান আসামি নাহিদ হাসান ও তার সহযোগী অমিত হাসানকে গ্রেপ্তার করা হলো।
পুলিশ জানিয়েছে, মামলার অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তার এবং হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে অভিযান ও তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।