কয়রায় জমি দখলকে কেন্দ্র করে গৃহবধূ ও মরণব্যাধি আক্রান্ত শিশুসহ পরিবারের ওপর হামলা, হাসপাতালে সোনিয়া
- আপডেট সময় : 11:22:18 pm, Tuesday, 5 May 2026 194 300 বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক:খুলনার কয়রা উপজেলা-য় জমি দখলকে কেন্দ্র করে এক অসহায় পরিবারের ওপর বর্বরোচিত হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে ব্লাড ক্যান্সার ও থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত এক শিশু এবং তার মা-বাবা গুরুতর আহত হয়েছেন। বর্তমানে আহত গৃহবধূ সোনিয়া খাতুন কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স-এ চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বানিয়া গ্রামের একটি জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। প্রায় ০.৬৭ একর জমি সোনিয়া খাতুনের পরিবার ডিসিআর মূলে ভোগদখল করে আসলেও প্রতিবেশী রফিকুল গাজী, বিলাল গাজীসহ তাদের সহযোগীরা ওই জমি দখলের চেষ্টা করে আসছিল।
গত ৫ মে (মঙ্গলবার) বিকেলে অভিযুক্তরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সোনিয়ার বসতভিটার সীমানা প্রাচীর ভাঙচুর শুরু করে। এতে বাধা দিলে হামলাকারীরা সোনিয়ার স্বামী মফিজুল গাজীকে এলোপাতাড়ি মারধর করে। এ সময় তাদের মরণব্যাধি আক্রান্ত অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়ে মীম পিতাকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে তাকেও মারধর ও শ্লীলতাহানির অভিযোগ ওঠে।
পরিবারকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে সোনিয়া খাতুনকে লক্ষ্য করে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপ দেওয়া হয়, যা তার মাথার পেছনে গুরুতর আঘাত সৃষ্টি করে। স্থানীয়রা উদ্ধার করে তাকে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করেন। চিকিৎসকরা তার মাথায় তিনটি সেলাই দিয়েছেন।
ঘটনার পর কয়রা থানা-র এসআই প্রণয় ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং ছিনতাই হওয়া একটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করেন। তবে ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, তিনি ঘটনাটিকে ‘সাধারণ আঘাত’ হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করছেন এবং ৩২৩ ধারার মামলা আদালতে টিকবে না বলেও মন্তব্য করেছেন।
স্থানীয়দের দাবি, বাগালী ইউনিয়ন পরিষদের দফাদারের মাধ্যমে ফোনটি উদ্ধার হলেও তদন্ত কর্মকর্তা ঘটনার গুরুত্ব কমিয়ে দেখানোর চেষ্টা করছেন। অন্যদিকে, থানার বর্তমান অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) শাহ আলম অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এর আগেও একই পরিবারের ওপর হামলা ও হুমকির অভিযোগ রয়েছে বলে জানা গেছে। সর্বশেষ ঘটনায় সোনিয়া খাতুন থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
হাসপাতালের বিছানায় যন্ত্রণায় কাতর সোনিয়া খাতুন বলেন, “আমরা গরিব বলে কি বিচার পাব না? আমার অসুস্থ বাচ্চাটাকেও ওরা ছাড়ল না। পুলিশ যদি এটাকে সাধারণ ঘটনা বলে এড়িয়ে যায়, তবে আমরা কোথায় দাঁড়াব?”
এ ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয়রা দ্রুত দোষীদের গ্রেপ্তার এবং ভুক্তভোগী পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা





























