সাতক্ষীরা 4:26 am, Monday, 9 November 2026
সংবাদ শিরোনাম ::
ছবিটা ক্লিয়ার করে দাও সাতক্ষীরায় ‘বিজ’-এর কৃষি কর্মসূচির আওতায় ফলজ, বনজ ও ঔষধি চারা বিতরণ আলিপুর ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে আলোচনায় আব্দুর রউফের পৌত্র সামির সোয়েব রাদমির অন্যায়ের বিরুদ্ধে আপসহীন, অধিকার ও সম্প্রীতির প্রশ্নে অদম্য—নতুন প্রত্যয়ে সাতক্ষীরায় যুব ঐক্য পরিষদ আশাশুনিতে শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের মাসিক কর্মপরিকল্পনা বৈঠক অনুষ্ঠিত পর্নোগ্রাফি ও চাঁদাবাজির মামলায় সাতক্ষীরার কথিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর, আব্দুল্লাহ আল মামুন গ্রেপ্তার ফ্রান্সের বর্তমান অবস্থা (জনগণের ক্ষোভ ও সামরিক শক্তি বৃদ্ধি) সাতক্ষীরায় মোটরসাইকেল চুরির অভিযোগে সার্জেন্টের ছেলে আটক, গণপিটুনির পর পুলিশের হেফাজতে সাতক্ষীরার ভোমরা সীমান্তে ভারতে পাচারকালে ১ কোটি ৫৫ লক্ষ টাকার স্বর্ণ সহ আটক: ১ সাতক্ষীরা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে কোষাধ্যক্ষ পদপ্রার্থী অ্যাডভোকেট শামীম রেজা সাতক্ষীরার দেবহাটায় গৃহবধূকে হেনস্তার চেষ্টা ও শিশুদের হয়রানির অভিযোগে যুবক আটক

সাতক্ষীরার ঐতিহ্যবাহী মোজাফফর গার্ডেন(মন্টুমিয়ার বাগানবাড়ি)সহ বিভিন্ন স্থানে ধর্ষণ ও গর্ভপাতের অভিযোগ, বিয়ের দাবিতে যুবকের বাড়িতে গৃহবধূ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : 08:07:43 pm, Friday, 28 August 2026 128 300 বার পড়া হয়েছে
Khandakarit.com

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি :বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে এক গৃহবধূকে সাতক্ষীরার ঐতিহ্যবাহী মোজাফফর গার্ডেন (মন্টুমিয়ার বাগানবাড়ি)সহ বিভিন্ন স্থানে নিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ ও পরবর্তীতে গর্ভপাত করানোর অভিযোগ উঠেছে কলারোয়া উপজেলার কেড়াগাছী গ্রামের আশা গাজীর ছেলে মনিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে।

এদিকে মনিরুল বিদেশে চলে গেছেন—এমন খবর পেয়ে বিয়ের দাবিতে শুক্রবার (২৮ আগস্ট) সকালে তার বাড়িতে গিয়ে অবস্থান নেন ওই গৃহবধূ। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

ভুক্তভোগী রেক্সোনা আক্তার স্মৃতি অভিযোগ করে বলেন, স্বামী-সন্তান থাকা সত্ত্বেও বিভিন্ন অজুহাতে মনিরুল তার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন। একপর্যায়ে তাকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে সাতক্ষীরার মন্টুমিয়ার বাগানবাড়িতে নিয়ে একটি কক্ষ ভাড়া নেন। সেখানে তাকে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ তার। এছাড়া বিভিন্ন পার্ক ও মনিরুলের নিজ বাড়িতেও তাকে একাধিকবার ধর্ষণ করা হয়েছে বলে দাবি করেন স্মৃতি।

স্মৃতির দাবি, পরবর্তীতে তিনি গর্ভবতী হয়ে পড়েন। ২০২৫ সালের ২৪ মে সাতক্ষীরার স্বপ্না ক্লিনিক এন্ড আকসা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পরীক্ষা করিয়ে গর্ভধারণের বিষয়টি নিশ্চিত হয়। বিষয়টি জানাজানি হলে কাজী ডেকে বিয়ের আশ্বাস দেওয়া হয়। পরে তাকে সাতক্ষীরার একটি ক্লিনিকে নিয়ে কৌশলে গর্ভপাত করানো হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, গর্ভপাতের পর মনিরুল তার সঙ্গে করা সব প্রতিশ্রুতি ও সম্পর্ক অস্বীকার করেন। একপর্যায়ে গোপনে বিদেশে চলে যান তিনি। এরপর অসহায় অবস্থায় স্মৃতি বিভিন্ন জায়গায় বিচারের আশায় ঘুরতে থাকেন।
শুক্রবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে স্থানীয়দের পরামর্শে অধিকার ও স্বীকৃতি আদায়ের দাবিতে কলারোয়া উপজেলার কেড়াগাছী গ্রামে মনিরুলের বাড়িতে গিয়ে অবস্থান নেন স্মৃতি। এ সময় তাকে দেখতে স্থানীয়রা ভিড় করেন। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে।
স্মৃতি বলেন, “মনিরুল আমাকে স্ত্রী হিসেবে ব্যবহার করেছে। তার জন্য আমি স্বামী-সন্তান ছেড়েছি। সে যদি আমাকে বিয়ে না করে, তাহলে আমি আত্মহত্যা করব।”
এদিকে পরিস্থিতি বেগতিক দেখে মনিরুলের পরিবারের পক্ষ থেকে স্থানীয় ওয়ার্ডের সাবেক এক ইউপি সদস্যকে ডেকে আনা হয়। বিষয়টি স্থানীয়ভাবে সমাধানের চেষ্টা চলছে বলে জানা গেছে।
অভিযোগের বিষয়ে মোজাফফর গার্ডেন (মন্টুমিয়ার বাগানবাড়ি)-এর ম্যানেজার পারভেজ বলেন, “আইডি কার্ড ও বিয়ের কাবিননামা ছাড়া কোনো কাপলকে রুম ভাড়া দেওয়ার সুযোগ নেই। ওই মেয়ে মিথ্যা বলছে।”
এ বিষয়ে কলারোয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, “এ ব্যাপারে আমাকে কেউ কিছু জানাননি। খোঁজ নিয়ে দেখছি।”
তবে অভিযুক্ত মনিরুল ইসলামের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগের সত্যতা ও ঘটনার আইনগত দিক তদন্তের পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
ভাষা চেঞ্জ করুন

সাতক্ষীরার ঐতিহ্যবাহী মোজাফফর গার্ডেন(মন্টুমিয়ার বাগানবাড়ি)সহ বিভিন্ন স্থানে ধর্ষণ ও গর্ভপাতের অভিযোগ, বিয়ের দাবিতে যুবকের বাড়িতে গৃহবধূ

আপডেট সময় : 08:07:43 pm, Friday, 28 August 2026

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি :বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে এক গৃহবধূকে সাতক্ষীরার ঐতিহ্যবাহী মোজাফফর গার্ডেন (মন্টুমিয়ার বাগানবাড়ি)সহ বিভিন্ন স্থানে নিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ ও পরবর্তীতে গর্ভপাত করানোর অভিযোগ উঠেছে কলারোয়া উপজেলার কেড়াগাছী গ্রামের আশা গাজীর ছেলে মনিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে।

এদিকে মনিরুল বিদেশে চলে গেছেন—এমন খবর পেয়ে বিয়ের দাবিতে শুক্রবার (২৮ আগস্ট) সকালে তার বাড়িতে গিয়ে অবস্থান নেন ওই গৃহবধূ। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

ভুক্তভোগী রেক্সোনা আক্তার স্মৃতি অভিযোগ করে বলেন, স্বামী-সন্তান থাকা সত্ত্বেও বিভিন্ন অজুহাতে মনিরুল তার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন। একপর্যায়ে তাকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে সাতক্ষীরার মন্টুমিয়ার বাগানবাড়িতে নিয়ে একটি কক্ষ ভাড়া নেন। সেখানে তাকে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ তার। এছাড়া বিভিন্ন পার্ক ও মনিরুলের নিজ বাড়িতেও তাকে একাধিকবার ধর্ষণ করা হয়েছে বলে দাবি করেন স্মৃতি।

স্মৃতির দাবি, পরবর্তীতে তিনি গর্ভবতী হয়ে পড়েন। ২০২৫ সালের ২৪ মে সাতক্ষীরার স্বপ্না ক্লিনিক এন্ড আকসা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পরীক্ষা করিয়ে গর্ভধারণের বিষয়টি নিশ্চিত হয়। বিষয়টি জানাজানি হলে কাজী ডেকে বিয়ের আশ্বাস দেওয়া হয়। পরে তাকে সাতক্ষীরার একটি ক্লিনিকে নিয়ে কৌশলে গর্ভপাত করানো হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, গর্ভপাতের পর মনিরুল তার সঙ্গে করা সব প্রতিশ্রুতি ও সম্পর্ক অস্বীকার করেন। একপর্যায়ে গোপনে বিদেশে চলে যান তিনি। এরপর অসহায় অবস্থায় স্মৃতি বিভিন্ন জায়গায় বিচারের আশায় ঘুরতে থাকেন।
শুক্রবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে স্থানীয়দের পরামর্শে অধিকার ও স্বীকৃতি আদায়ের দাবিতে কলারোয়া উপজেলার কেড়াগাছী গ্রামে মনিরুলের বাড়িতে গিয়ে অবস্থান নেন স্মৃতি। এ সময় তাকে দেখতে স্থানীয়রা ভিড় করেন। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে।
স্মৃতি বলেন, “মনিরুল আমাকে স্ত্রী হিসেবে ব্যবহার করেছে। তার জন্য আমি স্বামী-সন্তান ছেড়েছি। সে যদি আমাকে বিয়ে না করে, তাহলে আমি আত্মহত্যা করব।”
এদিকে পরিস্থিতি বেগতিক দেখে মনিরুলের পরিবারের পক্ষ থেকে স্থানীয় ওয়ার্ডের সাবেক এক ইউপি সদস্যকে ডেকে আনা হয়। বিষয়টি স্থানীয়ভাবে সমাধানের চেষ্টা চলছে বলে জানা গেছে।
অভিযোগের বিষয়ে মোজাফফর গার্ডেন (মন্টুমিয়ার বাগানবাড়ি)-এর ম্যানেজার পারভেজ বলেন, “আইডি কার্ড ও বিয়ের কাবিননামা ছাড়া কোনো কাপলকে রুম ভাড়া দেওয়ার সুযোগ নেই। ওই মেয়ে মিথ্যা বলছে।”
এ বিষয়ে কলারোয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, “এ ব্যাপারে আমাকে কেউ কিছু জানাননি। খোঁজ নিয়ে দেখছি।”
তবে অভিযুক্ত মনিরুল ইসলামের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগের সত্যতা ও ঘটনার আইনগত দিক তদন্তের পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে।