সাতক্ষীরা 4:18 am, Monday, 9 November 2026
সংবাদ শিরোনাম ::
ছবিটা ক্লিয়ার করে দাও সাতক্ষীরায় ‘বিজ’-এর কৃষি কর্মসূচির আওতায় ফলজ, বনজ ও ঔষধি চারা বিতরণ আলিপুর ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে আলোচনায় আব্দুর রউফের পৌত্র সামির সোয়েব রাদমির অন্যায়ের বিরুদ্ধে আপসহীন, অধিকার ও সম্প্রীতির প্রশ্নে অদম্য—নতুন প্রত্যয়ে সাতক্ষীরায় যুব ঐক্য পরিষদ আশাশুনিতে শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের মাসিক কর্মপরিকল্পনা বৈঠক অনুষ্ঠিত পর্নোগ্রাফি ও চাঁদাবাজির মামলায় সাতক্ষীরার কথিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর, আব্দুল্লাহ আল মামুন গ্রেপ্তার ফ্রান্সের বর্তমান অবস্থা (জনগণের ক্ষোভ ও সামরিক শক্তি বৃদ্ধি) সাতক্ষীরায় মোটরসাইকেল চুরির অভিযোগে সার্জেন্টের ছেলে আটক, গণপিটুনির পর পুলিশের হেফাজতে সাতক্ষীরার ভোমরা সীমান্তে ভারতে পাচারকালে ১ কোটি ৫৫ লক্ষ টাকার স্বর্ণ সহ আটক: ১ সাতক্ষীরা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে কোষাধ্যক্ষ পদপ্রার্থী অ্যাডভোকেট শামীম রেজা সাতক্ষীরার দেবহাটায় গৃহবধূকে হেনস্তার চেষ্টা ও শিশুদের হয়রানির অভিযোগে যুবক আটক

সাতক্ষীরায় হাড়কাঁপানো শীতে জবুথবু জনজীবন: এক সপ্তাহেও সূর্যের দেখা নেই, চরম ভোগান্তিতে ছিন্নমূল ও শ্রমজীবী মানুষ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : 10:40:18 pm, Tuesday, 30 December 2025 272 300 বার পড়া হয়েছে
Khandakarit.com

জি এম আমিনুল হক:প্রকৃতিতে পৌষের মাঝামাঝি। উত্তুরে হাওয়ার দাপটে সাতক্ষীরা জুড়ে জেঁকে বসেছে হাড়কাঁপানো তীব্র শীত। ঘন কুয়াশার চাদরে ঢেকে আছে চারদিক। টানা এক সপ্তাহ ধরে সূর্যের দেখা না মেলায় জনজীবন প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন ছিন্নমূল, বৃদ্ধ, শিশু ও খেটে খাওয়া শ্রমজীবী মানুষ।
শনিবার ভোরে সাতক্ষীরা শহর ও আশপাশের এলাকা ঘুরে দেখা যায়, রাজপথ ঘন কুয়াশায় আচ্ছন্ন। রিকশাচালক, ভ্যানচালক ও দিনমজুরেরা খড়কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন। তবে শীতের কারণে মানুষের চলাচল কমে যাওয়ায় যাত্রী সংকটে পড়েছেন তারা। এতে অর্ধেকেরও কমে গেছে তাদের দৈনিক আয়।
শহরের দিনমজুর আমিন মণ্ডল বলেন,
“শীতের চোটে হাত-পা অবশ হয়ে যাচ্ছে। রাস্তায় মানুষ নেই, কাজও নেই। দিন এনে দিন খাই—এখন ঘরে চাল তুলব কীভাবে?”
একই কথা বলেন ধুলিহর গোবিন্দপুর গ্রামের মফিজুল ইসলাম। তিনি বলেন,
“শীতে বাইরে বের হওয়াই দায়, কিন্তু পেটের দায়ে বের হতে হয়।”
তাপমাত্রা আরও নামার শঙ্কা
আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৩ থেকে ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত সাতক্ষীরায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ১৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন ১০ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আগামী দুই-একদিনের মধ্যে তাপমাত্রা আরও কমতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এই নিম্ন তাপমাত্রার সরাসরি প্রভাব পড়ছে ছিন্নমূল, শিশু, বৃদ্ধ ও সাধারণ শ্রমজীবী মানুষের ওপর। একই সঙ্গে বেড়েছে শীতজনিত রোগ—সর্দি-কাশি, নিউমোনিয়া, কোল্ড ডায়রিয়া ও জ্বর। এতে হাসপাতালে রোগীর ভিড় বাড়ছে।
শীতার্ত প্রায় ৫০ হাজার মানুষ
সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসনের হিসাব অনুযায়ী, জেলায় প্রায় ৫০ হাজার মানুষ এখন অতিমাত্রায় শীতার্ত। সরকারিভাবে কম্বল ও শীতবস্ত্র বিতরণ শুরু হলেও চাহিদার তুলনায় তা অপ্রতুল বলে অভিযোগ রয়েছে।
জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শীতার্তদের জন্য ত্রাণ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি সমাজের বিত্তবানদেরও মানবিক সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
কঠিন অস্তিত্বের লড়াই
পৌষের এই কুয়াশাচ্ছন্ন দিন ও হিমেল রাত বিত্তশালীদের কাছে স্বস্তিকর মনে হলেও, সাতক্ষীরার প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে তা পরিণত হয়েছে কঠিন অস্তিত্বের লড়াইয়ে। ঘন কুয়াশা আর শীতল বাতাসে আগামী দিনগুলোতে পরিস্থিতি আরও কঠিন হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
ভাষা চেঞ্জ করুন

সাতক্ষীরায় হাড়কাঁপানো শীতে জবুথবু জনজীবন: এক সপ্তাহেও সূর্যের দেখা নেই, চরম ভোগান্তিতে ছিন্নমূল ও শ্রমজীবী মানুষ

আপডেট সময় : 10:40:18 pm, Tuesday, 30 December 2025

জি এম আমিনুল হক:প্রকৃতিতে পৌষের মাঝামাঝি। উত্তুরে হাওয়ার দাপটে সাতক্ষীরা জুড়ে জেঁকে বসেছে হাড়কাঁপানো তীব্র শীত। ঘন কুয়াশার চাদরে ঢেকে আছে চারদিক। টানা এক সপ্তাহ ধরে সূর্যের দেখা না মেলায় জনজীবন প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন ছিন্নমূল, বৃদ্ধ, শিশু ও খেটে খাওয়া শ্রমজীবী মানুষ।
শনিবার ভোরে সাতক্ষীরা শহর ও আশপাশের এলাকা ঘুরে দেখা যায়, রাজপথ ঘন কুয়াশায় আচ্ছন্ন। রিকশাচালক, ভ্যানচালক ও দিনমজুরেরা খড়কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন। তবে শীতের কারণে মানুষের চলাচল কমে যাওয়ায় যাত্রী সংকটে পড়েছেন তারা। এতে অর্ধেকেরও কমে গেছে তাদের দৈনিক আয়।
শহরের দিনমজুর আমিন মণ্ডল বলেন,
“শীতের চোটে হাত-পা অবশ হয়ে যাচ্ছে। রাস্তায় মানুষ নেই, কাজও নেই। দিন এনে দিন খাই—এখন ঘরে চাল তুলব কীভাবে?”
একই কথা বলেন ধুলিহর গোবিন্দপুর গ্রামের মফিজুল ইসলাম। তিনি বলেন,
“শীতে বাইরে বের হওয়াই দায়, কিন্তু পেটের দায়ে বের হতে হয়।”
তাপমাত্রা আরও নামার শঙ্কা
আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৩ থেকে ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত সাতক্ষীরায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ১৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন ১০ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আগামী দুই-একদিনের মধ্যে তাপমাত্রা আরও কমতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এই নিম্ন তাপমাত্রার সরাসরি প্রভাব পড়ছে ছিন্নমূল, শিশু, বৃদ্ধ ও সাধারণ শ্রমজীবী মানুষের ওপর। একই সঙ্গে বেড়েছে শীতজনিত রোগ—সর্দি-কাশি, নিউমোনিয়া, কোল্ড ডায়রিয়া ও জ্বর। এতে হাসপাতালে রোগীর ভিড় বাড়ছে।
শীতার্ত প্রায় ৫০ হাজার মানুষ
সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসনের হিসাব অনুযায়ী, জেলায় প্রায় ৫০ হাজার মানুষ এখন অতিমাত্রায় শীতার্ত। সরকারিভাবে কম্বল ও শীতবস্ত্র বিতরণ শুরু হলেও চাহিদার তুলনায় তা অপ্রতুল বলে অভিযোগ রয়েছে।
জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শীতার্তদের জন্য ত্রাণ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি সমাজের বিত্তবানদেরও মানবিক সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
কঠিন অস্তিত্বের লড়াই
পৌষের এই কুয়াশাচ্ছন্ন দিন ও হিমেল রাত বিত্তশালীদের কাছে স্বস্তিকর মনে হলেও, সাতক্ষীরার প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে তা পরিণত হয়েছে কঠিন অস্তিত্বের লড়াইয়ে। ঘন কুয়াশা আর শীতল বাতাসে আগামী দিনগুলোতে পরিস্থিতি আরও কঠিন হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা