সাতক্ষীরা 2:13 am, Monday, 9 November 2026
সংবাদ শিরোনাম ::
ছবিটা ক্লিয়ার করে দাও সাতক্ষীরায় ‘বিজ’-এর কৃষি কর্মসূচির আওতায় ফলজ, বনজ ও ঔষধি চারা বিতরণ আলিপুর ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে আলোচনায় আব্দুর রউফের পৌত্র সামির সোয়েব রাদমির অন্যায়ের বিরুদ্ধে আপসহীন, অধিকার ও সম্প্রীতির প্রশ্নে অদম্য—নতুন প্রত্যয়ে সাতক্ষীরায় যুব ঐক্য পরিষদ আশাশুনিতে শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের মাসিক কর্মপরিকল্পনা বৈঠক অনুষ্ঠিত পর্নোগ্রাফি ও চাঁদাবাজির মামলায় সাতক্ষীরার কথিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর, আব্দুল্লাহ আল মামুন গ্রেপ্তার ফ্রান্সের বর্তমান অবস্থা (জনগণের ক্ষোভ ও সামরিক শক্তি বৃদ্ধি) সাতক্ষীরায় মোটরসাইকেল চুরির অভিযোগে সার্জেন্টের ছেলে আটক, গণপিটুনির পর পুলিশের হেফাজতে সাতক্ষীরার ভোমরা সীমান্তে ভারতে পাচারকালে ১ কোটি ৫৫ লক্ষ টাকার স্বর্ণ সহ আটক: ১ সাতক্ষীরা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে কোষাধ্যক্ষ পদপ্রার্থী অ্যাডভোকেট শামীম রেজা সাতক্ষীরার দেবহাটায় গৃহবধূকে হেনস্তার চেষ্টা ও শিশুদের হয়রানির অভিযোগে যুবক আটক

সাতক্ষীরায় নলতা শরীফে প্রতিদিন সাড়ে ৬ হাজার রোজাদারের গণইফতার নয় দশকের ঐতিহ্যে অনন্য মানবিক মিলনমেলা

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : 11:38:57 pm, Tuesday, 24 February 2026 152 300 বার পড়া হয়েছে
Khandakarit.com

সোহারাফ হোসেন সৌরভ: রমজান মাস এলেই সাতক্ষীরা জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার নলতা শরীফ পরিণত হয় এক ব্যতিক্রমী মানবিক মিলনমেলায়। ধনী-গরিব, গ্রাম-শহর কিংবা ভিন্ন পেশা ও পরিচয়ের মানুষ—সবাই একই কাতারে বসে অংশ নেন গণইফতারে। প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৬ থেকে সাড়ে ৬ হাজার রোজাদার এই ইফতার মাহফিলে অংশগ্রহণ করেন। দীর্ঘ নয় দশকেরও বেশি সময় ধরে চলে আসা এ আয়োজন এখন দেশের অন্যতম বৃহৎ গণইফতার হিসেবে পরিচিত।

ঐতিহ্যবাহী নলতা কেন্দ্রীয় আহছানিয়া মিশন–এর উদ্যোগে রমজান মাসজুড়ে প্রতিদিন এ ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হচ্ছে। আয়োজকরা জানান, প্রথম রমজান থেকে ৩০ রমজান পর্যন্ত প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক রোজাদার এখানে সমবেত হন।
সরেজমিনে দেখা যায়, খুব সকাল থেকেই শুরু হয় বিশাল প্রস্তুতি। ভোর ৫টা ১৫ মিনিট থেকে বাবুর্চিদের কর্মব্যস্ততা শুরু হয়ে বিকেল ৫টা পর্যন্ত চলে। প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ জন অভিজ্ঞ বাবুর্চি ও কর্মী প্রতিদিন ইফতার প্রস্তুতে নিয়োজিত থাকেন। শিঙাড়া, ছোলা, সেদ্ধ ডিম, ফিরনি, কলা, খেজুর ও চিড়াসহ বিভিন্ন পুষ্টিকর খাবার প্রস্তুত করা হয়।
মাগরিবের আগে সারিবদ্ধভাবে বসে পড়েন হাজারো রোজাদার। ইফতার বিতরণে প্রায় ৩০০ স্বেচ্ছাসেবক দায়িত্ব পালন করেন। পুরো আয়োজনজুড়ে শৃঙ্খলা ও স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ লক্ষ্য করা যায়।
জানা যায়, নলতা শরীফ–এ অবস্থিত এই ঐতিহ্যবাহী ইফতার মাহফিলটি ১৯৩৫ সাল থেকে প্রায় ৯০ বছর ধরে চলে আসছে। মিশনের প্রতিষ্ঠাতা হজরত খানবাহাদুর আহছানউল্লা (র.) মিশন প্রতিষ্ঠার পর থেকেই এই ইফতারের সূচনা করেন। ১৯৫০ সাল থেকে এটি বৃহৎ পরিসরে আয়োজন করা শুরু হয়। সময়ের ব্যবধানে আয়োজনের পরিধি বাড়লেও মূল লক্ষ্য অপরিবর্তিত—মানুষকে ভেদাভেদ ভুলে এক কাতারে আনা।
দীর্ঘদিন ধরে যুক্ত কারিগর মুক্তার হোসেন জানান, প্রায় ৪৮ বছর ধরে তিনি এখানে শিঙাড়া তৈরির কাজে সম্পৃক্ত। প্রতিদিন প্রায় সাড়ে ৬ হাজার শিঙাড়া প্রস্তুত করা হয়।
আরেক বাবুর্চি মো. আমানত বলেন, প্রতিদিন ভোর থেকেই আমরা কাজে নেমে পড়ি। ইফতারের সময় যেন কোনো ঘাটতি না থাকে, সে জন্য সবাই আন্তরিকভাবে দায়িত্ব পালন করি।
ইফতারে অংশ নেওয়া স্থানীয় জাকির হোসেন বলেন, এখানে সবাই একসঙ্গে বসে ইফতার করি। কোনো ভেদাভেদ নেই। এটি শুধু ইফতার নয়, আত্মিক প্রশান্তির জায়গা।
মিশনের সহকারী সম্পাদক আবুল ফজল জানান, দেশ-বিদেশের ভক্ত ও শুভানুধ্যায়ীদের আর্থিক সহযোগিতায় পুরো আয়োজন সম্পন্ন হয়। প্রতিদিন ইফতারের আগে ও পরে দেশের শান্তি, সমৃদ্ধি ও মুসলিম উম্মাহর কল্যাণ কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
ভাষা চেঞ্জ করুন

সাতক্ষীরায় নলতা শরীফে প্রতিদিন সাড়ে ৬ হাজার রোজাদারের গণইফতার নয় দশকের ঐতিহ্যে অনন্য মানবিক মিলনমেলা

আপডেট সময় : 11:38:57 pm, Tuesday, 24 February 2026

সোহারাফ হোসেন সৌরভ: রমজান মাস এলেই সাতক্ষীরা জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার নলতা শরীফ পরিণত হয় এক ব্যতিক্রমী মানবিক মিলনমেলায়। ধনী-গরিব, গ্রাম-শহর কিংবা ভিন্ন পেশা ও পরিচয়ের মানুষ—সবাই একই কাতারে বসে অংশ নেন গণইফতারে। প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৬ থেকে সাড়ে ৬ হাজার রোজাদার এই ইফতার মাহফিলে অংশগ্রহণ করেন। দীর্ঘ নয় দশকেরও বেশি সময় ধরে চলে আসা এ আয়োজন এখন দেশের অন্যতম বৃহৎ গণইফতার হিসেবে পরিচিত।

ঐতিহ্যবাহী নলতা কেন্দ্রীয় আহছানিয়া মিশন–এর উদ্যোগে রমজান মাসজুড়ে প্রতিদিন এ ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হচ্ছে। আয়োজকরা জানান, প্রথম রমজান থেকে ৩০ রমজান পর্যন্ত প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক রোজাদার এখানে সমবেত হন।
সরেজমিনে দেখা যায়, খুব সকাল থেকেই শুরু হয় বিশাল প্রস্তুতি। ভোর ৫টা ১৫ মিনিট থেকে বাবুর্চিদের কর্মব্যস্ততা শুরু হয়ে বিকেল ৫টা পর্যন্ত চলে। প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ জন অভিজ্ঞ বাবুর্চি ও কর্মী প্রতিদিন ইফতার প্রস্তুতে নিয়োজিত থাকেন। শিঙাড়া, ছোলা, সেদ্ধ ডিম, ফিরনি, কলা, খেজুর ও চিড়াসহ বিভিন্ন পুষ্টিকর খাবার প্রস্তুত করা হয়।
মাগরিবের আগে সারিবদ্ধভাবে বসে পড়েন হাজারো রোজাদার। ইফতার বিতরণে প্রায় ৩০০ স্বেচ্ছাসেবক দায়িত্ব পালন করেন। পুরো আয়োজনজুড়ে শৃঙ্খলা ও স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ লক্ষ্য করা যায়।
জানা যায়, নলতা শরীফ–এ অবস্থিত এই ঐতিহ্যবাহী ইফতার মাহফিলটি ১৯৩৫ সাল থেকে প্রায় ৯০ বছর ধরে চলে আসছে। মিশনের প্রতিষ্ঠাতা হজরত খানবাহাদুর আহছানউল্লা (র.) মিশন প্রতিষ্ঠার পর থেকেই এই ইফতারের সূচনা করেন। ১৯৫০ সাল থেকে এটি বৃহৎ পরিসরে আয়োজন করা শুরু হয়। সময়ের ব্যবধানে আয়োজনের পরিধি বাড়লেও মূল লক্ষ্য অপরিবর্তিত—মানুষকে ভেদাভেদ ভুলে এক কাতারে আনা।
দীর্ঘদিন ধরে যুক্ত কারিগর মুক্তার হোসেন জানান, প্রায় ৪৮ বছর ধরে তিনি এখানে শিঙাড়া তৈরির কাজে সম্পৃক্ত। প্রতিদিন প্রায় সাড়ে ৬ হাজার শিঙাড়া প্রস্তুত করা হয়।
আরেক বাবুর্চি মো. আমানত বলেন, প্রতিদিন ভোর থেকেই আমরা কাজে নেমে পড়ি। ইফতারের সময় যেন কোনো ঘাটতি না থাকে, সে জন্য সবাই আন্তরিকভাবে দায়িত্ব পালন করি।
ইফতারে অংশ নেওয়া স্থানীয় জাকির হোসেন বলেন, এখানে সবাই একসঙ্গে বসে ইফতার করি। কোনো ভেদাভেদ নেই। এটি শুধু ইফতার নয়, আত্মিক প্রশান্তির জায়গা।
মিশনের সহকারী সম্পাদক আবুল ফজল জানান, দেশ-বিদেশের ভক্ত ও শুভানুধ্যায়ীদের আর্থিক সহযোগিতায় পুরো আয়োজন সম্পন্ন হয়। প্রতিদিন ইফতারের আগে ও পরে দেশের শান্তি, সমৃদ্ধি ও মুসলিম উম্মাহর কল্যাণ কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়।