সাতক্ষীরা সিটি কলেজে নিয়োগ পরীক্ষায় জালিয়াতির অভিযোগ
- আপডেট সময় : 04:51:58 pm, Sunday, 5 October 2025 206 300 বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক: সাতক্ষীরা সিটি কলেজে আদালতের আদেশ অমান্য করে গোপনে নিয়োগ পরীক্ষা সম্পন্নের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, চলমান মামলার তোয়াক্কা না করেই কলেজটির ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ও ম্যানেজিং কমিটি নিজেদের পছন্দের প্রার্থীদের সুবিধা দিতে গোপনে নিয়োগ বোর্ড গঠন করে পরীক্ষা সম্পন্ন করেছেন।
সূত্র জানায়, শনিবার (৪ অক্টোবর) দুপুরে সাতক্ষীরা সিটি কলেজের কৃষি ডিপ্লোমা বিভাগে ২ জন ল্যাব সহকারী-কাম কম্পিউটার অপারেটর এবং ১ জন মালি পদে নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। অথচ এই বিভাগের নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে মহামান্য হাইকোর্টে মামলা (রিট পিটিশন নং-১৫০৮৬/২০২৪) চলমান রয়েছে।
সচেতন মহলের প্রশ্ন—আদালতে বিচারাধীন অবস্থায় কীভাবে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোঃ মনিরুজ্জামান নিয়োগ বোর্ড গঠন করলেন? এমনকি নিয়োগপ্রার্থীদের মোবাইল ফোনে ডেকে এনে ব্যাক ডেটে (১৮ সেপ্টেম্বর) অধ্যক্ষের স্বাক্ষরযুক্ত প্রবেশপত্র ধরিয়ে দেওয়া হয়। এরপর পরীক্ষার হলে পিয়নের বুকে তারিখ ছাড়া পরীক্ষার্থীদের স্বাক্ষর করিয়ে নেওয়া হয়। চাকরি প্রত্যাশীদের দাবি, এটি স্পষ্ট জালিয়াতির অংশ।
ল্যাব সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর পদে অংশ নেওয়া প্রার্থী মোঃ আসাদুল ইসলামসহ কয়েকজন জানান, “আমাদের ৪ অক্টোবর কলেজে ডেকে এনে ব্যাক ডেটের প্রবেশপত্র দেওয়া হয়। পরীক্ষা শেষে আবার সেই প্রবেশপত্র নিয়ে নেয়া হয়। এমনকি পরীক্ষার আধা ঘণ্টা আগে পছন্দের দুই প্রার্থীকে বিশেষ কক্ষে নিয়ে প্রশ্নের উত্তর মুখস্থ করিয়ে দেওয়া হয়।”
এ ঘটনায় অন্যান্য পরীক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা সৃষ্টি হয়েছে। তারা অভিযোগ করেন, টাকা-পয়সার বিনিময়ে পছন্দের প্রার্থীকে নিয়োগ দেওয়ার প্রক্রিয়া আগেই ঠিক করে রাখা হয়েছিল।
এ বিষয়ে সাতক্ষীরা সিটি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোঃ মনিরুজ্জামানের সাথে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
নিয়োগ বোর্ডে থাকা সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মনির হোসেন বলেন, “আমি কিছুক্ষণ পর বোর্ড থেকে চলে এসেছিলাম।” ফলে পুরো প্রক্রিয়াটি তার অজান্তে সম্পন্ন হয় বলে দাবি করেন তিনি।
অভিযোগ উঠেছে—এই নিয়োগ প্রক্রিয়া ছিল অবৈধ, অনৈতিক ও আদালত অবমাননাকর। তাই পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী প্রার্থীরা সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসকের কাছে তদন্ত সাপেক্ষে নিয়োগ বোর্ড বাতিল এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
অন্যদিকে সাতক্ষীরা জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা বিষয়টি জানেন না বলে মন্তব্য করেছেন। সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মোঃ বদরুদ্দোজা জানান, তিনি ঘটনাটি সম্পর্কে অবগত নন, তবে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বোর্ডের প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
সচেতন নাগরিক ও অভিভাবকদের দাবি—একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এমন অনৈতিক প্রক্রিয়া শিক্ষা ব্যবস্থার প্রতি আস্থা নষ্ট করছে। দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তারা।
























