সাতক্ষীরা 4:14 am, Monday, 9 November 2026
সংবাদ শিরোনাম ::
ছবিটা ক্লিয়ার করে দাও সাতক্ষীরায় ‘বিজ’-এর কৃষি কর্মসূচির আওতায় ফলজ, বনজ ও ঔষধি চারা বিতরণ আলিপুর ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে আলোচনায় আব্দুর রউফের পৌত্র সামির সোয়েব রাদমির অন্যায়ের বিরুদ্ধে আপসহীন, অধিকার ও সম্প্রীতির প্রশ্নে অদম্য—নতুন প্রত্যয়ে সাতক্ষীরায় যুব ঐক্য পরিষদ আশাশুনিতে শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের মাসিক কর্মপরিকল্পনা বৈঠক অনুষ্ঠিত পর্নোগ্রাফি ও চাঁদাবাজির মামলায় সাতক্ষীরার কথিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর, আব্দুল্লাহ আল মামুন গ্রেপ্তার ফ্রান্সের বর্তমান অবস্থা (জনগণের ক্ষোভ ও সামরিক শক্তি বৃদ্ধি) সাতক্ষীরায় মোটরসাইকেল চুরির অভিযোগে সার্জেন্টের ছেলে আটক, গণপিটুনির পর পুলিশের হেফাজতে সাতক্ষীরার ভোমরা সীমান্তে ভারতে পাচারকালে ১ কোটি ৫৫ লক্ষ টাকার স্বর্ণ সহ আটক: ১ সাতক্ষীরা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে কোষাধ্যক্ষ পদপ্রার্থী অ্যাডভোকেট শামীম রেজা সাতক্ষীরার দেবহাটায় গৃহবধূকে হেনস্তার চেষ্টা ও শিশুদের হয়রানির অভিযোগে যুবক আটক

বিলুপ্তির পথে সাতক্ষীরার ‘যশ’: শীত ফুরালেও মিলল না খেজুরের রস

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : 11:32:52 pm, Saturday, 31 January 2026 239 300 বার পড়া হয়েছে
Khandakarit.com

জিএম আমিনুল হক: বাংলার শীত মানেই খেজুরের রসের স্বাদ ও নলেন গুড়ের ঘ্রাণ। কিন্তু চলতি মৌসুমে সাতক্ষীরার অধিকাংশ মানুষের জিভে সেই স্বাদ আর ধরা দেয়নি। একসময় বহুল প্রচলিত প্রবাদ— ‘সাতক্ষীরার যশ, তাল-খেজুরের রস’—আজ বিলুপ্তির পথে।
নির্বিচারে খেজুরগাছ কেটে ইটভাটায় জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার, দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে জেলায় দ্রুত কমে যাচ্ছে খেজুরগাছের সংখ্যা। পাশাপাশি পেশা বদলে ফেলায় কমে গেছে গাছির সংখ্যাও। ফলে শীতের শেষ সময়েও মিলছে না পর্যাপ্ত রস।
বালিথা গ্রামের রাজ্জাক মিঞা বলেন, “গাছ আছে, কিন্তু গাছি নেই। এক ভাড় রস এখন ২০০–৩০০ টাকা, তাও সহজে পাওয়া যায় না।”
কোমরপুর গ্রামের জাহাঙ্গীর কবীর জানান, “আগে শীতের সকালে নলেন গুড় জ্বালানোর গন্ধে ঘুম ভাঙত। এখন সেই স্বাদ স্মৃতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ।”
স্থানীয়রা জানান, আগে এক কাঁটায় যেখানে দুই ভাড় রস মিলত, এখন সেখানে অর্ধেক পাওয়াও কঠিন। ফলে নলেন গুড়, পাটালি ও পিঠাপুলির ঐতিহ্যও হারিয়ে যেতে বসেছে।
কৃষি বিভাগ বলছে, খেজুরগাছ থেকে রস সংগ্রহ একটি দক্ষ শিল্প। তবে গাছ ও গাছির সংখ্যা কমে যাওয়ায় এই ঐতিহ্য আজ হুমকির মুখে। সচেতন মহলের দাবি, পরিকল্পিতভাবে খেজুরগাছ রোপণ ও সংরক্ষণ না করলে ভবিষ্যতে সাতক্ষীরার খেজুরের রস কেবল ইতিহাসেই সীমাবদ্ধ থাকবে।
শীত বিদায় নিচ্ছে, কিন্তু প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে—নলেন গুড়ের সেই চেনা ঘ্রাণ কি আর ফিরবে সাতক্ষীরার বাতাসে?

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
ভাষা চেঞ্জ করুন

বিলুপ্তির পথে সাতক্ষীরার ‘যশ’: শীত ফুরালেও মিলল না খেজুরের রস

আপডেট সময় : 11:32:52 pm, Saturday, 31 January 2026

জিএম আমিনুল হক: বাংলার শীত মানেই খেজুরের রসের স্বাদ ও নলেন গুড়ের ঘ্রাণ। কিন্তু চলতি মৌসুমে সাতক্ষীরার অধিকাংশ মানুষের জিভে সেই স্বাদ আর ধরা দেয়নি। একসময় বহুল প্রচলিত প্রবাদ— ‘সাতক্ষীরার যশ, তাল-খেজুরের রস’—আজ বিলুপ্তির পথে।
নির্বিচারে খেজুরগাছ কেটে ইটভাটায় জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার, দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে জেলায় দ্রুত কমে যাচ্ছে খেজুরগাছের সংখ্যা। পাশাপাশি পেশা বদলে ফেলায় কমে গেছে গাছির সংখ্যাও। ফলে শীতের শেষ সময়েও মিলছে না পর্যাপ্ত রস।
বালিথা গ্রামের রাজ্জাক মিঞা বলেন, “গাছ আছে, কিন্তু গাছি নেই। এক ভাড় রস এখন ২০০–৩০০ টাকা, তাও সহজে পাওয়া যায় না।”
কোমরপুর গ্রামের জাহাঙ্গীর কবীর জানান, “আগে শীতের সকালে নলেন গুড় জ্বালানোর গন্ধে ঘুম ভাঙত। এখন সেই স্বাদ স্মৃতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ।”
স্থানীয়রা জানান, আগে এক কাঁটায় যেখানে দুই ভাড় রস মিলত, এখন সেখানে অর্ধেক পাওয়াও কঠিন। ফলে নলেন গুড়, পাটালি ও পিঠাপুলির ঐতিহ্যও হারিয়ে যেতে বসেছে।
কৃষি বিভাগ বলছে, খেজুরগাছ থেকে রস সংগ্রহ একটি দক্ষ শিল্প। তবে গাছ ও গাছির সংখ্যা কমে যাওয়ায় এই ঐতিহ্য আজ হুমকির মুখে। সচেতন মহলের দাবি, পরিকল্পিতভাবে খেজুরগাছ রোপণ ও সংরক্ষণ না করলে ভবিষ্যতে সাতক্ষীরার খেজুরের রস কেবল ইতিহাসেই সীমাবদ্ধ থাকবে।
শীত বিদায় নিচ্ছে, কিন্তু প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে—নলেন গুড়ের সেই চেনা ঘ্রাণ কি আর ফিরবে সাতক্ষীরার বাতাসে?