সাতক্ষীরা 12:55 am, Monday, 9 November 2026
সংবাদ শিরোনাম ::
ছবিটা ক্লিয়ার করে দাও সাতক্ষীরায় ‘বিজ’-এর কৃষি কর্মসূচির আওতায় ফলজ, বনজ ও ঔষধি চারা বিতরণ আলিপুর ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে আলোচনায় আব্দুর রউফের পৌত্র সামির সোয়েব রাদমির অন্যায়ের বিরুদ্ধে আপসহীন, অধিকার ও সম্প্রীতির প্রশ্নে অদম্য—নতুন প্রত্যয়ে সাতক্ষীরায় যুব ঐক্য পরিষদ আশাশুনিতে শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের মাসিক কর্মপরিকল্পনা বৈঠক অনুষ্ঠিত পর্নোগ্রাফি ও চাঁদাবাজির মামলায় সাতক্ষীরার কথিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর, আব্দুল্লাহ আল মামুন গ্রেপ্তার ফ্রান্সের বর্তমান অবস্থা (জনগণের ক্ষোভ ও সামরিক শক্তি বৃদ্ধি) সাতক্ষীরায় মোটরসাইকেল চুরির অভিযোগে সার্জেন্টের ছেলে আটক, গণপিটুনির পর পুলিশের হেফাজতে সাতক্ষীরার ভোমরা সীমান্তে ভারতে পাচারকালে ১ কোটি ৫৫ লক্ষ টাকার স্বর্ণ সহ আটক: ১ সাতক্ষীরা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে কোষাধ্যক্ষ পদপ্রার্থী অ্যাডভোকেট শামীম রেজা সাতক্ষীরার দেবহাটায় গৃহবধূকে হেনস্তার চেষ্টা ও শিশুদের হয়রানির অভিযোগে যুবক আটক

ঘোনায় ফসলি জমির মাটি বিক্রি গভীর খাদের কারণে হুমকিতে গ্রামীণ সড়ক, অস্তিত্ব সংকটে কৃষিজমি

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : 12:32:09 am, Thursday, 25 December 2025 162 300 বার পড়া হয়েছে
Khandakarit.com

নিজস্ব প্রতিবেদক: সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ঘোনা ইউনিয়নের বাকাঘোজ এলাকায় ফসলি জমি থেকে অবৈধভাবে মাটি কেটে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে লিটন হোসেন নামে এক মাটি ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে। ড্রেজার ও ভেকু মেশিন ব্যবহার করে ফসলি জমির বুক চিরে মাটি উত্তোলনের ফলে সড়কের পাশে সৃষ্টি হয়েছে বিশাল গভীর খাদ। এতে আসন্ন বর্ষা মৌসুমে ওই গ্রামীণ সড়কটি ধসে পড়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
সরেজমিনে দেখা যায়, বাকাঘোজ এলাকার একটি গুরুত্বপূর্ণ গ্রামীণ সড়কের একেবারে পাশে ফসলি জমি থেকে অবাধে মাটি কাটা হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রভাবশালী মাটি ব্যবসায়ী লিটন হোসেন কোনো ধরনের নিয়মনীতি তোয়াক্কা না করে দিনরাত ট্রাক্টরের মাধ্যমে বিভিন্ন স্থানে মাটি সরবরাহ করছেন। মাটি কাটার গভীরতা এতটাই বেশি যে, তা বর্তমানে সড়কের অস্তিত্বের জন্য মারাত্মক হুমকিতে পরিণত হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, যে জায়গা থেকে মাটি কাটা হচ্ছে তার পাশ দিয়েই জনগুরুত্বপূর্ণ একটি সড়ক রয়েছে। এভাবে গভীর গর্ত তৈরি হওয়ায় সামান্য বৃষ্টি হলেই পাড় ভেঙে সড়কটি খাদের মধ্যে বিলীন হয়ে যেতে পারে। পাশাপাশি বিস্তীর্ণ ফসলি জমি নষ্ট হওয়ায় ভবিষ্যতে কৃষিজমির সংকটও দেখা দিতে পারে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
তারা আরও অভিযোগ করেন, যে জমি থেকে মাটি কাটা হচ্ছে তা এক প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তির মালিকানাধীন বলে শোনা যাচ্ছে। আর মাটি ব্যবসায়ী লিটন প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় থাকায় কেউ প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করার সাহস পাচ্ছেন না। কৃষিজমি সুরক্ষা আইন ও বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা নীতিমালা অনুযায়ী ফসলি জমি নষ্ট করে বা জনপথের ক্ষতি করে মাটি কাটা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ হলেও এখানে তার কোনো প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না বলে দাবি করেন স্থানীয়রা।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত মাটি ব্যবসায়ী লিটন হোসেন বলেন, “আমার চাচা শাহিনের জমি থেকে মাটি কেটে বাড়ির উঠান ভরাট করা হচ্ছে। এছাড়া জমিতে ফসল ভালো না হওয়ায় এখানে মাছের ঘের করা হবে, তাই মাটি কাটা হচ্ছে।”
ফসলি জমি থেকে মাটি কাটার আইনি অনুমতির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “ঘোনা ইউনিয়ন ভূমি অফিসের নায়েব আব্দুল বারির পরামর্শে আমি ও কয়েকজন গণ্যমান্য ব্যক্তি সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি)-এর সঙ্গে মৌখিকভাবে কথা বলেছি। এখানে মাটি কাটায় কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই।”
এ বিষয়ে ঘোনা ইউনিয়ন ভূমি অফিসের নায়েব আব্দুল বারি মঙ্গলবার (২৪ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় বলেন, “অফিসে যাওয়ার পথে মাটি কাটার বিষয়টি নজরে আসায় লিটনকে মাটি কাটতে নিষেধ করেছি। কিন্তু সে নিষেধাজ্ঞা না মানায় ৪-৫ দিন আগেই বিষয়টি সহকারী কমিশনার (ভূমি) মহোদয়কে অবহিত করেছি।”
ফসলি জমি কেটে গভীর খাদে পরিণত করার ঘটনায় সহকারী কমিশনার (ভূমি) কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নিয়েছেন কি না— জানতে চাইলে তিনি বলেন, “সে বিষয়ে এসিল্যান্ড মহোদয়ই বিস্তারিত বলতে পারবেন।”
এ প্রসঙ্গে সাতক্ষীরা সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ বদরুদ্দোজা বলেন, “বিষয়টি আমি দেখছি। প্রয়োজন হলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
ভাষা চেঞ্জ করুন

ঘোনায় ফসলি জমির মাটি বিক্রি গভীর খাদের কারণে হুমকিতে গ্রামীণ সড়ক, অস্তিত্ব সংকটে কৃষিজমি

আপডেট সময় : 12:32:09 am, Thursday, 25 December 2025

নিজস্ব প্রতিবেদক: সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ঘোনা ইউনিয়নের বাকাঘোজ এলাকায় ফসলি জমি থেকে অবৈধভাবে মাটি কেটে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে লিটন হোসেন নামে এক মাটি ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে। ড্রেজার ও ভেকু মেশিন ব্যবহার করে ফসলি জমির বুক চিরে মাটি উত্তোলনের ফলে সড়কের পাশে সৃষ্টি হয়েছে বিশাল গভীর খাদ। এতে আসন্ন বর্ষা মৌসুমে ওই গ্রামীণ সড়কটি ধসে পড়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
সরেজমিনে দেখা যায়, বাকাঘোজ এলাকার একটি গুরুত্বপূর্ণ গ্রামীণ সড়কের একেবারে পাশে ফসলি জমি থেকে অবাধে মাটি কাটা হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রভাবশালী মাটি ব্যবসায়ী লিটন হোসেন কোনো ধরনের নিয়মনীতি তোয়াক্কা না করে দিনরাত ট্রাক্টরের মাধ্যমে বিভিন্ন স্থানে মাটি সরবরাহ করছেন। মাটি কাটার গভীরতা এতটাই বেশি যে, তা বর্তমানে সড়কের অস্তিত্বের জন্য মারাত্মক হুমকিতে পরিণত হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, যে জায়গা থেকে মাটি কাটা হচ্ছে তার পাশ দিয়েই জনগুরুত্বপূর্ণ একটি সড়ক রয়েছে। এভাবে গভীর গর্ত তৈরি হওয়ায় সামান্য বৃষ্টি হলেই পাড় ভেঙে সড়কটি খাদের মধ্যে বিলীন হয়ে যেতে পারে। পাশাপাশি বিস্তীর্ণ ফসলি জমি নষ্ট হওয়ায় ভবিষ্যতে কৃষিজমির সংকটও দেখা দিতে পারে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
তারা আরও অভিযোগ করেন, যে জমি থেকে মাটি কাটা হচ্ছে তা এক প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তির মালিকানাধীন বলে শোনা যাচ্ছে। আর মাটি ব্যবসায়ী লিটন প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় থাকায় কেউ প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করার সাহস পাচ্ছেন না। কৃষিজমি সুরক্ষা আইন ও বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা নীতিমালা অনুযায়ী ফসলি জমি নষ্ট করে বা জনপথের ক্ষতি করে মাটি কাটা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ হলেও এখানে তার কোনো প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না বলে দাবি করেন স্থানীয়রা।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত মাটি ব্যবসায়ী লিটন হোসেন বলেন, “আমার চাচা শাহিনের জমি থেকে মাটি কেটে বাড়ির উঠান ভরাট করা হচ্ছে। এছাড়া জমিতে ফসল ভালো না হওয়ায় এখানে মাছের ঘের করা হবে, তাই মাটি কাটা হচ্ছে।”
ফসলি জমি থেকে মাটি কাটার আইনি অনুমতির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “ঘোনা ইউনিয়ন ভূমি অফিসের নায়েব আব্দুল বারির পরামর্শে আমি ও কয়েকজন গণ্যমান্য ব্যক্তি সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি)-এর সঙ্গে মৌখিকভাবে কথা বলেছি। এখানে মাটি কাটায় কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই।”
এ বিষয়ে ঘোনা ইউনিয়ন ভূমি অফিসের নায়েব আব্দুল বারি মঙ্গলবার (২৪ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় বলেন, “অফিসে যাওয়ার পথে মাটি কাটার বিষয়টি নজরে আসায় লিটনকে মাটি কাটতে নিষেধ করেছি। কিন্তু সে নিষেধাজ্ঞা না মানায় ৪-৫ দিন আগেই বিষয়টি সহকারী কমিশনার (ভূমি) মহোদয়কে অবহিত করেছি।”
ফসলি জমি কেটে গভীর খাদে পরিণত করার ঘটনায় সহকারী কমিশনার (ভূমি) কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নিয়েছেন কি না— জানতে চাইলে তিনি বলেন, “সে বিষয়ে এসিল্যান্ড মহোদয়ই বিস্তারিত বলতে পারবেন।”
এ প্রসঙ্গে সাতক্ষীরা সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ বদরুদ্দোজা বলেন, “বিষয়টি আমি দেখছি। প্রয়োজন হলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”