সাতক্ষীরা 12:54 am, Monday, 9 November 2026
সংবাদ শিরোনাম ::
ছবিটা ক্লিয়ার করে দাও সাতক্ষীরায় ‘বিজ’-এর কৃষি কর্মসূচির আওতায় ফলজ, বনজ ও ঔষধি চারা বিতরণ আলিপুর ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে আলোচনায় আব্দুর রউফের পৌত্র সামির সোয়েব রাদমির অন্যায়ের বিরুদ্ধে আপসহীন, অধিকার ও সম্প্রীতির প্রশ্নে অদম্য—নতুন প্রত্যয়ে সাতক্ষীরায় যুব ঐক্য পরিষদ আশাশুনিতে শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের মাসিক কর্মপরিকল্পনা বৈঠক অনুষ্ঠিত পর্নোগ্রাফি ও চাঁদাবাজির মামলায় সাতক্ষীরার কথিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর, আব্দুল্লাহ আল মামুন গ্রেপ্তার ফ্রান্সের বর্তমান অবস্থা (জনগণের ক্ষোভ ও সামরিক শক্তি বৃদ্ধি) সাতক্ষীরায় মোটরসাইকেল চুরির অভিযোগে সার্জেন্টের ছেলে আটক, গণপিটুনির পর পুলিশের হেফাজতে সাতক্ষীরার ভোমরা সীমান্তে ভারতে পাচারকালে ১ কোটি ৫৫ লক্ষ টাকার স্বর্ণ সহ আটক: ১ সাতক্ষীরা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে কোষাধ্যক্ষ পদপ্রার্থী অ্যাডভোকেট শামীম রেজা সাতক্ষীরার দেবহাটায় গৃহবধূকে হেনস্তার চেষ্টা ও শিশুদের হয়রানির অভিযোগে যুবক আটক

কালিগঞ্জে উন্নয়ন প্রকল্পে ‘পার্সেন্টেজ বাণিজ্য’? অভিযোগের কেন্দ্রে প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : 08:56:33 pm, Tuesday, 24 February 2026 201 300 বার পড়া হয়েছে
Khandakarit.com

কালিগঞ্জ (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি: সাতক্ষীরা জেলার কালিগঞ্জ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে উন্নয়ন প্রকল্পে ঘুষ, কমিশন ও পার্সেন্টেজ বাণিজ্যের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও একাধিক বাসিন্দার দাবি, গত এক বছরে উপজেলার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্প থেকে ১৫ থেকে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত কমিশন আদায় করা হচ্ছে।
১২ ইউনিয়নে ‘কমিশন সংস্কৃতি’? অভিযোগ রয়েছে, উপজেলার ১২টি ইউনিয়নে বাস্তবায়িত টি-আর, কাবিখা, কাবিটা, অতিদরিদ্রদের কর্মসংস্থান কর্মসূচি, গ্রামীণ অবকাঠামো নির্মাণসহ বিভিন্ন প্রকল্পে নির্ধারিত বরাদ্দের একটি অংশ আগেই ‘ম্যানেজ’ করতে হয়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার অনুমোদন ছাড়া বিল ছাড় না হওয়ায় অনেক ঠিকাদার ও জনপ্রতিনিধি নীরব থাকেন বলে দাবি অভিযোগকারীদের।

২৮ লাখ টাকার কালভার্টে অনিয়মের অভিযোগ
অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০২৪–২৫ অর্থবছরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর-এর আওতায় ধলবাড়িয়া ইউনিয়নের মহেশ্বরপুর গ্রামে সম্ভখালি খালের ওপর ২৮ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি কালভার্ট নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। টেন্ডারে শ্যামনগর উপজেলার এক ঠিকাদার কাজটি পেলেও পরে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে অন্য একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে কাজটি পরিচালিত হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।স্থানীয়দের দাবি, কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও তদারকি নেই। কালভার্ট নির্মাণের ক্ষেত্রেও মোটা অঙ্কের কমিশন নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
রাস্তা প্রকল্পে নিম্নমানের কাজ?গত অর্থবছরে নলতা ইউনিয়নের ঝায়ামারি এলাকায় হেরিংবোন বন্ড (এইচবিবি) পদ্ধতিতে ১২০০ মিটার রাস্তা নির্মাণে ৭৭ লাখ ৫১ হাজার ৫৫০ টাকার প্রকল্প নেওয়া হয়। টেন্ডারে শ্যামনগরের একটি প্রতিষ্ঠান কাজটি পেলেও স্থানীয়দের অভিযোগ— নিম্নমানের ইট, অপর্যাপ্ত বালি ও দায়সারা মাটির কাজ করা হয়েছে।

এছাড়া প্যালাসাইডিংয়ের জন্য সিমেন্টের খুঁটির পরিবর্তে বিকল্প নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহারের অভিযোগও উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, এ প্রকল্প থেকেও উল্লেখযোগ্য অঙ্কের ঘুষ আদায় করা হয়েছে।
‘ঘুষ না দিলে বিল পাস নয়’— অভিযোগএকাধিক জনপ্রতিনিধির ভাষ্য, প্রকল্পের বিল ছাড় ও কাজের অনুমোদনের ক্ষেত্রে অনানুষ্ঠানিক আর্থিক লেনদেন এখন নিয়মে পরিণত হয়েছে। ফলে সরকারি উন্নয়ন বরাদ্দের একটি বড় অংশ অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে হারিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
প্রশাসনিক তদারকি প্রশ্নের মুখে

এলাকাবাসীর অভিযোগ, যথাযথ তদারকি না থাকায় উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে স্কুল, মাদ্রাসা, মসজিদ, মন্দির, কবরস্থান, ঈদগাহ, রাস্তা, সেতু ও কালভার্ট নির্মাণে অনিয়ম বেড়েই চলেছে। এতে সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রমের সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন সাধারণ মানুষ।
তবে অভিযোগের বিষয়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মফিজুর রহমানের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।স্থানীয়দের দাবি, বিষয়টি তদন্ত করে প্রকৃত সত্য উদঘাটনে জেলা প্রশাসন ও দুর্নীতি দমন কমিশনের হস্তক্ষেপ জরুরি।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
ভাষা চেঞ্জ করুন

কালিগঞ্জে উন্নয়ন প্রকল্পে ‘পার্সেন্টেজ বাণিজ্য’? অভিযোগের কেন্দ্রে প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা

আপডেট সময় : 08:56:33 pm, Tuesday, 24 February 2026

কালিগঞ্জ (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি: সাতক্ষীরা জেলার কালিগঞ্জ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে উন্নয়ন প্রকল্পে ঘুষ, কমিশন ও পার্সেন্টেজ বাণিজ্যের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও একাধিক বাসিন্দার দাবি, গত এক বছরে উপজেলার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্প থেকে ১৫ থেকে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত কমিশন আদায় করা হচ্ছে।
১২ ইউনিয়নে ‘কমিশন সংস্কৃতি’? অভিযোগ রয়েছে, উপজেলার ১২টি ইউনিয়নে বাস্তবায়িত টি-আর, কাবিখা, কাবিটা, অতিদরিদ্রদের কর্মসংস্থান কর্মসূচি, গ্রামীণ অবকাঠামো নির্মাণসহ বিভিন্ন প্রকল্পে নির্ধারিত বরাদ্দের একটি অংশ আগেই ‘ম্যানেজ’ করতে হয়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার অনুমোদন ছাড়া বিল ছাড় না হওয়ায় অনেক ঠিকাদার ও জনপ্রতিনিধি নীরব থাকেন বলে দাবি অভিযোগকারীদের।

২৮ লাখ টাকার কালভার্টে অনিয়মের অভিযোগ
অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০২৪–২৫ অর্থবছরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর-এর আওতায় ধলবাড়িয়া ইউনিয়নের মহেশ্বরপুর গ্রামে সম্ভখালি খালের ওপর ২৮ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি কালভার্ট নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। টেন্ডারে শ্যামনগর উপজেলার এক ঠিকাদার কাজটি পেলেও পরে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে অন্য একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে কাজটি পরিচালিত হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।স্থানীয়দের দাবি, কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও তদারকি নেই। কালভার্ট নির্মাণের ক্ষেত্রেও মোটা অঙ্কের কমিশন নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
রাস্তা প্রকল্পে নিম্নমানের কাজ?গত অর্থবছরে নলতা ইউনিয়নের ঝায়ামারি এলাকায় হেরিংবোন বন্ড (এইচবিবি) পদ্ধতিতে ১২০০ মিটার রাস্তা নির্মাণে ৭৭ লাখ ৫১ হাজার ৫৫০ টাকার প্রকল্প নেওয়া হয়। টেন্ডারে শ্যামনগরের একটি প্রতিষ্ঠান কাজটি পেলেও স্থানীয়দের অভিযোগ— নিম্নমানের ইট, অপর্যাপ্ত বালি ও দায়সারা মাটির কাজ করা হয়েছে।

এছাড়া প্যালাসাইডিংয়ের জন্য সিমেন্টের খুঁটির পরিবর্তে বিকল্প নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহারের অভিযোগও উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, এ প্রকল্প থেকেও উল্লেখযোগ্য অঙ্কের ঘুষ আদায় করা হয়েছে।
‘ঘুষ না দিলে বিল পাস নয়’— অভিযোগএকাধিক জনপ্রতিনিধির ভাষ্য, প্রকল্পের বিল ছাড় ও কাজের অনুমোদনের ক্ষেত্রে অনানুষ্ঠানিক আর্থিক লেনদেন এখন নিয়মে পরিণত হয়েছে। ফলে সরকারি উন্নয়ন বরাদ্দের একটি বড় অংশ অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে হারিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
প্রশাসনিক তদারকি প্রশ্নের মুখে

এলাকাবাসীর অভিযোগ, যথাযথ তদারকি না থাকায় উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে স্কুল, মাদ্রাসা, মসজিদ, মন্দির, কবরস্থান, ঈদগাহ, রাস্তা, সেতু ও কালভার্ট নির্মাণে অনিয়ম বেড়েই চলেছে। এতে সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রমের সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন সাধারণ মানুষ।
তবে অভিযোগের বিষয়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মফিজুর রহমানের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।স্থানীয়দের দাবি, বিষয়টি তদন্ত করে প্রকৃত সত্য উদঘাটনে জেলা প্রশাসন ও দুর্নীতি দমন কমিশনের হস্তক্ষেপ জরুরি।