সাতক্ষীরা 2:21 am, Monday, 9 November 2026
সংবাদ শিরোনাম ::
ছবিটা ক্লিয়ার করে দাও সাতক্ষীরায় ‘বিজ’-এর কৃষি কর্মসূচির আওতায় ফলজ, বনজ ও ঔষধি চারা বিতরণ আলিপুর ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে আলোচনায় আব্দুর রউফের পৌত্র সামির সোয়েব রাদমির অন্যায়ের বিরুদ্ধে আপসহীন, অধিকার ও সম্প্রীতির প্রশ্নে অদম্য—নতুন প্রত্যয়ে সাতক্ষীরায় যুব ঐক্য পরিষদ আশাশুনিতে শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের মাসিক কর্মপরিকল্পনা বৈঠক অনুষ্ঠিত পর্নোগ্রাফি ও চাঁদাবাজির মামলায় সাতক্ষীরার কথিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর, আব্দুল্লাহ আল মামুন গ্রেপ্তার ফ্রান্সের বর্তমান অবস্থা (জনগণের ক্ষোভ ও সামরিক শক্তি বৃদ্ধি) সাতক্ষীরায় মোটরসাইকেল চুরির অভিযোগে সার্জেন্টের ছেলে আটক, গণপিটুনির পর পুলিশের হেফাজতে সাতক্ষীরার ভোমরা সীমান্তে ভারতে পাচারকালে ১ কোটি ৫৫ লক্ষ টাকার স্বর্ণ সহ আটক: ১ সাতক্ষীরা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে কোষাধ্যক্ষ পদপ্রার্থী অ্যাডভোকেট শামীম রেজা সাতক্ষীরার দেবহাটায় গৃহবধূকে হেনস্তার চেষ্টা ও শিশুদের হয়রানির অভিযোগে যুবক আটক

কালিগঞ্জ এলজিইডিতে মোস্তাফিজের প্রত্যয়ন বাণিজ্যের অভিযোগ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : 11:10:02 pm, Monday, 18 May 2026 234 300 বার পড়া হয়েছে
Khandakarit.com

সাতক্ষীরা কন্ঠ ডেস্ক:সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলা এলজিইডি অফিসের হিসাবরক্ষক মোস্তাফিজুর রহমানকে ঘিরে নতুন করে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। অফিসে বসে ঘুষ গ্রহণের ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর সাময়িক বরখাস্ত ও বিভাগীয় তদন্তের মুখে পড়ে এবার তিনি নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ আড়াল করতে বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের কাছ থেকে প্রত্যয়নপত্র সংগ্রহের চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, ঘুষ গ্রহণের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর দেশব্যাপী বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়। এরপর থেকেই মোস্তাফিজুর রহমান নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করতে নানা তৎপরতা শুরু করেন। অভিযোগ রয়েছে, প্রথমেই তিনি অফিসে স্থাপিত সিসিটিভি ক্যামেরা খুলে ফেলেন, যাতে ভবিষ্যতে কোনো অনিয়ম বা ঘুষ লেনদেনের দৃশ্য আর রেকর্ড না হয়।
এছাড়া উপজেলা প্রকৌশলী জাকির হোসেনের নাম ব্যবহার করে বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের কাছ থেকে প্রত্যয়নপত্র আদায়ের অভিযোগও উঠেছে। এসব প্রত্যয়নপত্রে ভাইরাল হওয়া ভিডিও ও প্রকাশিত সংবাদকে “মিথ্যা” হিসেবে উল্লেখ করার চেষ্টা করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে কালিগঞ্জ এলজিইডি অফিসে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। অফিসের একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারীর দাবি, মোস্তাফিজুর রহমান অতীতেও বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় কর্মরত অবস্থায় ঘুষ গ্রহণের অভিযোগে আলোচিত ছিলেন। ঠিকাদার, ইউপি সচিব ও চেয়ারম্যানদের কাছ থেকে আর্থিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগে একাধিকবার সংবাদ শিরোনামেও আসেন তিনি।
তালা উপজেলায় চাকরিকালীন সময়ে এক ঠিকাদারের সঙ্গে আর্থিক লেনদেন নিয়ে বিরোধের ঘটনাও নতুন করে সামনে এসেছে। অভিযোগ রয়েছে, ধার নেওয়া টাকা ফেরত চাওয়ায় মোবাইল ফোনে কথোপকথন রেকর্ড করে উল্টো ওই ঠিকাদারের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ তোলেন মোস্তাফিজ। পরে এ ঘটনায় সাংবাদিক সমাজের প্রতিবাদের মুখে তাকে সেখান থেকে বদলি করা হয়।
কালিগঞ্জে যোগদানের আগেও তার বিরুদ্ধে আপত্তি জানিয়ে এলজিইডি অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা গণস্বাক্ষরিত আবেদন করেছিলেন বলে জানা গেছে। তারপরও রহস্যজনক কারণে তিনি সেখানে যোগদান করেন।
ভাইরাল ভিডিও ফাঁসের ঘটনায় নিজের দায় এড়াতে অফিস সহকারী চঞ্চল কুমার দাসের ওপর দোষ চাপানোরও অভিযোগ উঠেছে। তবে চঞ্চল কুমার দাস সাংবাদিকদের জানান, ভিডিও ফাঁসের সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। তিনি বলেন, আমি অফিসের সবচেয়ে জুনিয়র কর্মচারী। বিষয়টি তদন্ত করলে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে।
চাম্পাফুল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হক গাইন জানান, তিনি বিষয়টি না বুঝেই প্রত্যয়নপত্রে স্বাক্ষর করেছিলেন। পরে প্রতারণার বিষয়টি জানতে পেরে তিনি সেই প্রত্যয়নপত্র প্রত্যাহার করেন। একই ধরনের বক্তব্য দেন ওই ইউনিয়নের প্রশাসনিক কর্মকর্তা আবু সাঈদও। তিনি বলেন, উপজেলা প্রকৌশলীর নাম ব্যবহার করে মোস্তাফিজ তাকে বিভ্রান্ত করেছিলেন।
মৌতলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফিরদৌস মোড়লও একই অভিযোগ করেন। তিনি জানান, উপজেলা প্রকৌশলীর নির্দেশ আছে বলে জানিয়ে মোস্তাফিজ তার কাছ থেকে স্বাক্ষর নেন। পরে প্রকৌশলীর সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি বুঝতে পেরে তিনি আগের প্রত্যয়নপত্র প্রত্যাহার করেন।
অন্যদিকে কুশুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল কাশেম মোঃ আব্দুল্লাহ জানান, মোস্তাফিজ একাধিকবার তার কাছে গেলেও তিনি কোনো প্রত্যয়নপত্রে স্বাক্ষর করেননি। কারণ হিসেবে তিনি বলেন, আমি তার কর্মকাণ্ডে সমর্থন দেইনি।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী জাকির হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, তিনি সারাদিন বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকেন। কেউ যদি তার নাম ব্যবহার করে টাকা লেনদেন বা কোনো কাগজে স্বাক্ষর সংগ্রহ করে থাকে, তবে তার দায়ভার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকেই বহন করতে হবে। তিনি আরও বলেন, আমার সরল বিশ্বাসকে ব্যবহার করে আগেও কিছু বিষয় ভিন্ন খাতে নেওয়া হয়েছে।
এদিকে মোস্তাফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে উপজেলা ডরমেটরিতে অনুমতি ছাড়া অবস্থান এবং দীর্ঘদিন ভাড়া না দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। সব মিলিয়ে কালিগঞ্জ এলজিইডি অফিসে তাকে ঘিরে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট মহল নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানিয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
ভাষা চেঞ্জ করুন

কালিগঞ্জ এলজিইডিতে মোস্তাফিজের প্রত্যয়ন বাণিজ্যের অভিযোগ

আপডেট সময় : 11:10:02 pm, Monday, 18 May 2026

সাতক্ষীরা কন্ঠ ডেস্ক:সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলা এলজিইডি অফিসের হিসাবরক্ষক মোস্তাফিজুর রহমানকে ঘিরে নতুন করে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। অফিসে বসে ঘুষ গ্রহণের ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর সাময়িক বরখাস্ত ও বিভাগীয় তদন্তের মুখে পড়ে এবার তিনি নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ আড়াল করতে বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের কাছ থেকে প্রত্যয়নপত্র সংগ্রহের চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, ঘুষ গ্রহণের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর দেশব্যাপী বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়। এরপর থেকেই মোস্তাফিজুর রহমান নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করতে নানা তৎপরতা শুরু করেন। অভিযোগ রয়েছে, প্রথমেই তিনি অফিসে স্থাপিত সিসিটিভি ক্যামেরা খুলে ফেলেন, যাতে ভবিষ্যতে কোনো অনিয়ম বা ঘুষ লেনদেনের দৃশ্য আর রেকর্ড না হয়।
এছাড়া উপজেলা প্রকৌশলী জাকির হোসেনের নাম ব্যবহার করে বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের কাছ থেকে প্রত্যয়নপত্র আদায়ের অভিযোগও উঠেছে। এসব প্রত্যয়নপত্রে ভাইরাল হওয়া ভিডিও ও প্রকাশিত সংবাদকে “মিথ্যা” হিসেবে উল্লেখ করার চেষ্টা করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে কালিগঞ্জ এলজিইডি অফিসে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। অফিসের একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারীর দাবি, মোস্তাফিজুর রহমান অতীতেও বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় কর্মরত অবস্থায় ঘুষ গ্রহণের অভিযোগে আলোচিত ছিলেন। ঠিকাদার, ইউপি সচিব ও চেয়ারম্যানদের কাছ থেকে আর্থিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগে একাধিকবার সংবাদ শিরোনামেও আসেন তিনি।
তালা উপজেলায় চাকরিকালীন সময়ে এক ঠিকাদারের সঙ্গে আর্থিক লেনদেন নিয়ে বিরোধের ঘটনাও নতুন করে সামনে এসেছে। অভিযোগ রয়েছে, ধার নেওয়া টাকা ফেরত চাওয়ায় মোবাইল ফোনে কথোপকথন রেকর্ড করে উল্টো ওই ঠিকাদারের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ তোলেন মোস্তাফিজ। পরে এ ঘটনায় সাংবাদিক সমাজের প্রতিবাদের মুখে তাকে সেখান থেকে বদলি করা হয়।
কালিগঞ্জে যোগদানের আগেও তার বিরুদ্ধে আপত্তি জানিয়ে এলজিইডি অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা গণস্বাক্ষরিত আবেদন করেছিলেন বলে জানা গেছে। তারপরও রহস্যজনক কারণে তিনি সেখানে যোগদান করেন।
ভাইরাল ভিডিও ফাঁসের ঘটনায় নিজের দায় এড়াতে অফিস সহকারী চঞ্চল কুমার দাসের ওপর দোষ চাপানোরও অভিযোগ উঠেছে। তবে চঞ্চল কুমার দাস সাংবাদিকদের জানান, ভিডিও ফাঁসের সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। তিনি বলেন, আমি অফিসের সবচেয়ে জুনিয়র কর্মচারী। বিষয়টি তদন্ত করলে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে।
চাম্পাফুল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হক গাইন জানান, তিনি বিষয়টি না বুঝেই প্রত্যয়নপত্রে স্বাক্ষর করেছিলেন। পরে প্রতারণার বিষয়টি জানতে পেরে তিনি সেই প্রত্যয়নপত্র প্রত্যাহার করেন। একই ধরনের বক্তব্য দেন ওই ইউনিয়নের প্রশাসনিক কর্মকর্তা আবু সাঈদও। তিনি বলেন, উপজেলা প্রকৌশলীর নাম ব্যবহার করে মোস্তাফিজ তাকে বিভ্রান্ত করেছিলেন।
মৌতলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফিরদৌস মোড়লও একই অভিযোগ করেন। তিনি জানান, উপজেলা প্রকৌশলীর নির্দেশ আছে বলে জানিয়ে মোস্তাফিজ তার কাছ থেকে স্বাক্ষর নেন। পরে প্রকৌশলীর সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি বুঝতে পেরে তিনি আগের প্রত্যয়নপত্র প্রত্যাহার করেন।
অন্যদিকে কুশুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল কাশেম মোঃ আব্দুল্লাহ জানান, মোস্তাফিজ একাধিকবার তার কাছে গেলেও তিনি কোনো প্রত্যয়নপত্রে স্বাক্ষর করেননি। কারণ হিসেবে তিনি বলেন, আমি তার কর্মকাণ্ডে সমর্থন দেইনি।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী জাকির হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, তিনি সারাদিন বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকেন। কেউ যদি তার নাম ব্যবহার করে টাকা লেনদেন বা কোনো কাগজে স্বাক্ষর সংগ্রহ করে থাকে, তবে তার দায়ভার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকেই বহন করতে হবে। তিনি আরও বলেন, আমার সরল বিশ্বাসকে ব্যবহার করে আগেও কিছু বিষয় ভিন্ন খাতে নেওয়া হয়েছে।
এদিকে মোস্তাফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে উপজেলা ডরমেটরিতে অনুমতি ছাড়া অবস্থান এবং দীর্ঘদিন ভাড়া না দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। সব মিলিয়ে কালিগঞ্জ এলজিইডি অফিসে তাকে ঘিরে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট মহল নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানিয়েছে।