সাতক্ষীরা 2:14 am, Monday, 9 November 2026
সংবাদ শিরোনাম ::
ছবিটা ক্লিয়ার করে দাও সাতক্ষীরায় ‘বিজ’-এর কৃষি কর্মসূচির আওতায় ফলজ, বনজ ও ঔষধি চারা বিতরণ আলিপুর ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে আলোচনায় আব্দুর রউফের পৌত্র সামির সোয়েব রাদমির অন্যায়ের বিরুদ্ধে আপসহীন, অধিকার ও সম্প্রীতির প্রশ্নে অদম্য—নতুন প্রত্যয়ে সাতক্ষীরায় যুব ঐক্য পরিষদ আশাশুনিতে শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের মাসিক কর্মপরিকল্পনা বৈঠক অনুষ্ঠিত পর্নোগ্রাফি ও চাঁদাবাজির মামলায় সাতক্ষীরার কথিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর, আব্দুল্লাহ আল মামুন গ্রেপ্তার ফ্রান্সের বর্তমান অবস্থা (জনগণের ক্ষোভ ও সামরিক শক্তি বৃদ্ধি) সাতক্ষীরায় মোটরসাইকেল চুরির অভিযোগে সার্জেন্টের ছেলে আটক, গণপিটুনির পর পুলিশের হেফাজতে সাতক্ষীরার ভোমরা সীমান্তে ভারতে পাচারকালে ১ কোটি ৫৫ লক্ষ টাকার স্বর্ণ সহ আটক: ১ সাতক্ষীরা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে কোষাধ্যক্ষ পদপ্রার্থী অ্যাডভোকেট শামীম রেজা সাতক্ষীরার দেবহাটায় গৃহবধূকে হেনস্তার চেষ্টা ও শিশুদের হয়রানির অভিযোগে যুবক আটক

আশাশুনির চম্পাফুল স্কুলে শিক্ষক নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ, ২৮ বছর ধরে বেতন উত্তোলন নিয়ে প্রশ্ন

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : 11:19:26 pm, Saturday, 11 April 2026 220 300 বার পড়া হয়েছে
Khandakarit.com

সাতক্ষীরা কন্ঠ ডেস্ক: সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার চম্পাফুল আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র বিদ্যাপীঠে সহকারী কৃষি শিক্ষক স্বপন কুমার ঘোষের নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে গুরুতর অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, কোনো নিয়ম-কানুন অনুসরণ না করেই ১৯৯৭ সালে নিয়োগ নিয়ে তিনি দীর্ঘ ২৮ বছর ধরে বেতন-ভাতা উত্তোলন করে আসছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিয়োগের সময় তৎকালীন স্কুল পরিচালনা কমিটির সভাপতি মতিয়ার রহমানকে প্রভাবিত করতে অভিভাবক সদস্য আকতার হোসেনের মাধ্যমে আর্থিক সুবিধা প্রদান করা হয়। এর ফলে কোনো ধরনের লিখিত বা মৌখিক পরীক্ষা ছাড়াই স্বপন কুমার ঘোষকে সহকারী কৃষি শিক্ষক পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। সে সময় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ছিলেন স. ম. আজিজুল হক।
অভিযোগে আরও বলা হয়, শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য ন্যূনতম বিধি-বিধানও মানা হয়নি। যেখানে কমপক্ষে তিনজন প্রার্থীর উপস্থিতি বাধ্যতামূলক, সেখানে এককভাবে নিয়োগ সম্পন্ন করা হয়। এছাড়া নিয়োগ বোর্ড গঠন, ডিজির প্রতিনিধি মনোনয়ন, সাক্ষাৎকারের নম্বরপত্র, যোগদান অনুমোদনসহ গুরুত্বপূর্ণ কোনো কাগজপত্র সংরক্ষণ করা হয়নি।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের একাধিক অডিটে এসব অনিয়ম ধরা পড়লেও প্রতিবারই অবৈধ সুবিধার মাধ্যমে বিষয়টি ‘ম্যানেজ’ করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
নিয়োগপত্র পর্যালোচনায় দেখা যায়, এতে স্কুল পরিচালনা কমিটির কোনো সদস্যের স্বাক্ষর নেই, বরং নামবিহীন সীল ব্যবহার করা হয়েছে। এমনকি আশাশুনি উপজেলার তৎকালীন মৎস্য কর্মকর্তার স্বাক্ষর থাকলেও তার নাম উল্লেখ নেই, যা নিয়োগ প্রক্রিয়াকে আরও প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।
একই ধরনের অসঙ্গতি দেখা যায় ১৯৯৭ সালের ৭ এপ্রিলের যোগদানপত্রেও। সেখানে ‘গৃহীত হইল’ উল্লেখ থাকলেও গ্রহণকারীর নাম নেই, রয়েছে শুধুমাত্র একটি স্বাক্ষর। যোগদানপত্রটি আশাশুনি উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার মাধ্যমে সত্যায়িত হওয়াও নিয়োগের বৈধতা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলেছে।
এ বিষয়ে বর্তমান প্রধান শিক্ষক আব্দুল হাকিম বলেন, স্বপন কুমার ঘোষের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় যথেষ্ট গরমিল রয়েছে। প্রয়োজনীয় অনেক কাগজপত্রের ঘাটতি রয়েছে এবং বলা যায়, নিয়োগটি মন্ত্রণালয়ের বিধি অনুসরণ করে হয়নি।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে স্বপন কুমার ঘোষ বলেন, তার নিয়োগ সম্পূর্ণ বৈধ এবং একাধিক অডিটেও তা প্রমাণিত হয়েছে। একটি মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে বলেও তিনি দাবি করেন।
এদিকে, শিক্ষা সংশ্লিষ্ট সচেতন মহল দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন, অবৈধভাবে গ্রহণকৃত বেতন-ভাতা ফেরত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
ভাষা চেঞ্জ করুন

আশাশুনির চম্পাফুল স্কুলে শিক্ষক নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ, ২৮ বছর ধরে বেতন উত্তোলন নিয়ে প্রশ্ন

আপডেট সময় : 11:19:26 pm, Saturday, 11 April 2026

সাতক্ষীরা কন্ঠ ডেস্ক: সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার চম্পাফুল আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র বিদ্যাপীঠে সহকারী কৃষি শিক্ষক স্বপন কুমার ঘোষের নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে গুরুতর অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, কোনো নিয়ম-কানুন অনুসরণ না করেই ১৯৯৭ সালে নিয়োগ নিয়ে তিনি দীর্ঘ ২৮ বছর ধরে বেতন-ভাতা উত্তোলন করে আসছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিয়োগের সময় তৎকালীন স্কুল পরিচালনা কমিটির সভাপতি মতিয়ার রহমানকে প্রভাবিত করতে অভিভাবক সদস্য আকতার হোসেনের মাধ্যমে আর্থিক সুবিধা প্রদান করা হয়। এর ফলে কোনো ধরনের লিখিত বা মৌখিক পরীক্ষা ছাড়াই স্বপন কুমার ঘোষকে সহকারী কৃষি শিক্ষক পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। সে সময় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ছিলেন স. ম. আজিজুল হক।
অভিযোগে আরও বলা হয়, শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য ন্যূনতম বিধি-বিধানও মানা হয়নি। যেখানে কমপক্ষে তিনজন প্রার্থীর উপস্থিতি বাধ্যতামূলক, সেখানে এককভাবে নিয়োগ সম্পন্ন করা হয়। এছাড়া নিয়োগ বোর্ড গঠন, ডিজির প্রতিনিধি মনোনয়ন, সাক্ষাৎকারের নম্বরপত্র, যোগদান অনুমোদনসহ গুরুত্বপূর্ণ কোনো কাগজপত্র সংরক্ষণ করা হয়নি।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের একাধিক অডিটে এসব অনিয়ম ধরা পড়লেও প্রতিবারই অবৈধ সুবিধার মাধ্যমে বিষয়টি ‘ম্যানেজ’ করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
নিয়োগপত্র পর্যালোচনায় দেখা যায়, এতে স্কুল পরিচালনা কমিটির কোনো সদস্যের স্বাক্ষর নেই, বরং নামবিহীন সীল ব্যবহার করা হয়েছে। এমনকি আশাশুনি উপজেলার তৎকালীন মৎস্য কর্মকর্তার স্বাক্ষর থাকলেও তার নাম উল্লেখ নেই, যা নিয়োগ প্রক্রিয়াকে আরও প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।
একই ধরনের অসঙ্গতি দেখা যায় ১৯৯৭ সালের ৭ এপ্রিলের যোগদানপত্রেও। সেখানে ‘গৃহীত হইল’ উল্লেখ থাকলেও গ্রহণকারীর নাম নেই, রয়েছে শুধুমাত্র একটি স্বাক্ষর। যোগদানপত্রটি আশাশুনি উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার মাধ্যমে সত্যায়িত হওয়াও নিয়োগের বৈধতা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলেছে।
এ বিষয়ে বর্তমান প্রধান শিক্ষক আব্দুল হাকিম বলেন, স্বপন কুমার ঘোষের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় যথেষ্ট গরমিল রয়েছে। প্রয়োজনীয় অনেক কাগজপত্রের ঘাটতি রয়েছে এবং বলা যায়, নিয়োগটি মন্ত্রণালয়ের বিধি অনুসরণ করে হয়নি।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে স্বপন কুমার ঘোষ বলেন, তার নিয়োগ সম্পূর্ণ বৈধ এবং একাধিক অডিটেও তা প্রমাণিত হয়েছে। একটি মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে বলেও তিনি দাবি করেন।
এদিকে, শিক্ষা সংশ্লিষ্ট সচেতন মহল দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন, অবৈধভাবে গ্রহণকৃত বেতন-ভাতা ফেরত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।