শ্যামনগরে নামজারি ও জমি ইজারায় অনিয়মের অভিযোগ নায়েব গগন ও ঝাড়ুদার জিতেনকে ঘিরে ‘সিন্ডিকেটের’ অভিযোগ, তদন্ত দাবি
- আপডেট সময় : 11:15:14 pm, Wednesday, 12 August 2026 261 300 বার পড়া হয়েছে

বিশেষ প্রতিনিধি:সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়ন ভূমি অফিসে নামজারি (খারিজ), সরকারি খাল ও খাস জমি ইজারাসহ বিভিন্ন ভূমিসেবা নিয়ে অনিয়ম, ঘুষ বাণিজ্য ও হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা (নায়েব) গগন চন্দ্র মন্ডল এবং শ্যামনগর উপজেলা ভূমি অফিসের ঝাড়ুদার জিতেনকে ঘিরে এসব অভিযোগ করেছেন স্থানীয় কয়েকজন সেবাগ্রহীতা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়ন ভূমি অফিসে বিভিন্ন কাজ করাতে জিতেনের মাধ্যমে যোগাযোগ করতে হয়। সরাসরি অফিসে গিয়ে আবেদন করার পরও অনেক ক্ষেত্রে ফাইল দীর্ঘদিন আটকে থাকার অভিযোগ রয়েছে। তবে কথিতভাবে আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে দ্রুত কাজ সম্পন্ন করার সুযোগ দেওয়া হয়—এমন অভিযোগও করেছেন কয়েকজন ভুক্তভোগী।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন সেবাগ্রহীতা অভিযোগ করে বলেন, ভূমি অফিসের বিভিন্ন সেবা নিতে গিয়ে তাদের দীর্ঘদিন ঘুরতে হয়েছে। তাদের দাবি, কথিত মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে আর্থিক লেনদেন করলে কাজ দ্রুত এগিয়ে যায়। কেউ কেউ টাকা দেওয়ার পরও দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন।
এদিকে নায়েব গগন চন্দ্র মন্ডল ও ঝাড়ুদার জিতেনের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে একই এলাকায় কর্মরত থাকার সুযোগে একটি প্রভাবশালী চক্র গড়ে তোলার অভিযোগও উঠেছে। স্থানীয়দের কেউ কেউ তাদের সম্পদের বিষয়ে প্রশ্ন তুলে বিষয়টি তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তবে এসব সম্পদ অবৈধ উপায়ে অর্জিত হয়েছে—এমন দাবির স্বাধীন প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
নায়েবের বক্তব্য:
উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা (নায়েব) গগন চন্দ্র মন্ডলের বক্তব্য জানতে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগগুলো অস্বীকার করে বলেন, “আমি এ বিষয়ে কিছু জানি না। আমি কোনো দুর্নীতি করি নাই। আপনাদের যা ভালো হয়, তাই করেন।”
এ সময় ঘুষ বাণিজ্য, দালালনির্ভরতা এবং জিতেনের মাধ্যমে ভূমিসেবা দেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি এসব অভিযোগের সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততার কথা অস্বীকার করেন।
অন্যদিকে, বিষয়টি নিয়ে শ্যামনগর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি)-এর সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় সেবাগ্রহীতাদের অভিযোগ, ভূমি অফিসে কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী বা মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে অবৈধ অর্থ লেনদেনের ঘটনা ঘটে থাকলে তা তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। একই সঙ্গে নামজারি, খাসজমি ও সরকারি খাল ইজারাসহ সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যাচাই করে অভিযোগের সত্যতা উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন তারা।
দীর্ঘদিনের এসব অভিযোগের বিষয়ে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিরপেক্ষ তদন্ত, আকস্মিক পরিদর্শন এবং অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।





























