বাংলাদেশী নাগরিকদের প্রতারণার ফাঁদে ফেলে হাতিয়ে নিচ্ছে কোটি কোটি টাকা
- আপডেট সময় : 01:10:43 am, Tuesday, 26 March 2024 496 300 বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক: বিদেশে অবস্থানরত প্রবাসী বাঙালিদের বিদেশে নিয়ে যাওয়ার নাম করে প্রতারণা মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে একটি প্রতারক চক্র। এতে করে প্রতারণার ফাঁদে পড়ে একদিকে যেমন নিঃস্ব হচ্ছে বাংলাদেশী নাগরিক অপরদিকে হুন্ডির মাধ্যমে টাকার লেনদেন হওয়ার কারণে সরকার মোটা অংকের রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এভাবে প্রতারণা করে প্রতারক চক্রের সদস্যরা কোটি কোটি টাকার মালিক হয়েছেন।
তারা দিন রাত গোপন স্থানে মোবাইলের ইমো ও হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার করে প্রতিদিন প্রতারণার মাধ্যমে টাকা হাতিয়ে নিয়ে প্রবাসীদের নিঃস্ব করে দিচ্ছেন। বিভিন্ন কোম্পানিতে আকর্ষণীয় বেতন ও সুযোগ–সুবিধার প্রলোভন দেখিয়ে নতুন ভিসা বের করে দেওয়ার নামে প্রতারণার ফাঁদ পেতেছে প্রতারকেরা। এ জন্য তারা বেছে নিয়েছে ফেসবুক, ইউটিউব কিংবা টিকটক। হোয়াটসঅ্যাপ,ইমু ও মেসেঞ্জারের মাধ্যমে যেখানে তাঁদের খুব ভালো বেতনের অফার দেওয়া হয়। ভিসাদাতা নিজেকে বিশ্বস্ত করার জন্য ভিসার কয়েকটি কপি দেখায়।
এমনকি নিজের পাসপোর্ট কপি, সিভিল আইডি কপিসহ কিছু ডকুমেন্ট দেখিয়ে আস্থা অর্জন করে। যেটি মূলত নিজের নয়। যাচাই-বাছাই না করে শুধু লোভনীয় অফার দেখে নিজেদের পাসপোর্টের কপি দিয়ে দেন ভুক্তভোগীরা।এভাবে প্রতারণার ফাঁদে পা দিচ্ছেন বাংলাদেশের মধ্যবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষগুলো। এসব চক্রের ফাঁদে পড়ে নিঃস্ব ও ঋণগ্রস্ত হয়ে স্ট্রোক কিংবা আত্মহত্যা করছেন অনেকে।
প্রতারক চক্র মারিয়া হানিয়াম -পিতা, এম এ মালেক মাতা, ইসমত আরা জাহান। ঠিকানা ৭/২ প্রীতি হোমস পরিবাগ, শাহবাগ ঢাকা। বাংলাদেশী নাগরিক বর্তমানে আমেরিকার প্রবাসী মা ও মেয়ে সহ আরো দু-তিন জন মিলে পতিতা বৃতি ও নানা রকমের প্রতারণা করেন আমেরিকান প্রবাসী ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার ও কিছু ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ পরিমাণের হাতিয়ে নিয়েছেন।
বর্তমানে মা ইসমত জাহান এবং তার মেয়ে হানিয়াম মারিয়া আমেরিকা প্রবাসী একটি পরিবার। ইসমত জাহান(মা)বাংলাদেশ থেকে বহু বছর আগে জার্মানিতে চলে গিয়েছিল। সেখানে একজন অন্য পুরুষের সঙ্গে বহুবছর বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কে আবদ্ধ ছিল।এরপর সে আমেরিকা চলে যায় এবং তার বর্তমান স্বামীকে তালাক দিয়ে গ্রীন কার্ড লাভের আশায় পুনরায় বিবাহ করে।পরবর্তীতে গ্রীন কার্ড লাভের পর সেই স্বামীকেও সে তালাক দেয়।এরপর সে তার মেয়েকে গ্রীন কার্ডের মাধ্যমে বাংলাদেশ থেকে আমেরিকাতে নিয়ে আসে। আমেরিকার নেওয়ার পর সেখানে সে তার মেয়ে হানিয়াম মারিয়াকে উদ্বুদ্ধ করে সে যেন ব্যবসায়ী পেশাদার যেমন ডাক্তার,ইঞ্জিনিয়ার কে ব্ল্যাকমেইল করার চেষ্টা করে।
মেয়ে হানিয়াম মারিয়া কে ব্যবহার করা হয় অবৈধভাবে টাকা উপার্জনের হাতিয়ার হিসেবে।এই প্রক্রিয়ার ধারাবাহিকতায় গত এক বছর মা ইসমত জাহান ও তার কন্যা হানিয়াম মারিয়াকে দিয়ে বাংলাদেশেও এই ব্ল্যাকমেইল ও পতিতাবৃত্তি শুরু করে ।এবং হাতিয়ে নেওয়া হয় লক্ষ লক্ষ টাকা। তাদের হাত থেকে বাদ যায়নি বাংলাদেশের স্বনামধন্য ডাক্তার ,ইঞ্জিনিয়ার ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী।
তাদের মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ে ঢাকার ভুক্তভোগীগণ কতিপয় লিটন সরদার, পিতা -ফারুক সরদার সাং বনানী । খন্দকার মেরাজ পিতা লতিফ খন্দকার উত্তরা ৯ নম্বর সেক্টর ,৩.জনি খান ,পিতা -ওলিয়ার রহমান কুড়িল বিশ্ব রোড।তাদের অভিযোগের ভিত্তিতে ২০২৩ সালে হানিয়াম মারিয়া কে জাল ডলার সহ আটক করেন বাংলাদেশের গোয়েন্দা সংস্থা। বাকি দুইজন ধরাছোঁয়ার বাইরে আছে।
সে আদালতে স্বীকার করে তার মা ইসমত জাহান তাকে এই পথে আনতে উদ্বুদ্ধ করেছিল।আদালতের জিজ্ঞাসাবাদে সে আরো স্বীকার করে তার মায়ের প্ররোচনার কথা এবং জাল ডলার ব্যবসায়ের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা। এই প্রক্রিয়াতে তার নববিবাহিত স্বামীও তাকে সহযোগিতা করত বলে জানা যায়।পাশাপাশি এই পুরো প্রক্রিয়া তত্বাবধায়নসহ,সাহস যোগানো আর সর্বক্ষন পাশে ছিলো তাদের ই আইনজীবী সুজান ক্রুমিলার।এই আইনজীবীর সাজানো নাটকে সে পা দেয়। সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশী যুবতীদের এই অভিনব কায়দায়, ব্যবসায়িক ও বিভিন্নধরনের অপরাধমূলক কাজে জড়িয়ে যাবার কারণে বাংলাদেশী অভিবাসীরা বিভিন্নভাবে হেয় প্রতিপন্ন হচ্ছে।
এসব প্রতারকরা রাবারবার স্থান পরিবর্তন করে নানাভাবে তার প্রতারনা চালিয়ে যাচ্ছেন। আন্তর্জাতিক মাফিয়া চক্রের সঙ্গেও সে জড়িত বলে অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীরা আন্তঃক্রাইম প্রতারকদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির পাশাপাশি ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন।





























