সাতক্ষীরা 3:48 am, Monday, 9 November 2026
সংবাদ শিরোনাম ::
ছবিটা ক্লিয়ার করে দাও সাতক্ষীরায় ‘বিজ’-এর কৃষি কর্মসূচির আওতায় ফলজ, বনজ ও ঔষধি চারা বিতরণ আলিপুর ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে আলোচনায় আব্দুর রউফের পৌত্র সামির সোয়েব রাদমির অন্যায়ের বিরুদ্ধে আপসহীন, অধিকার ও সম্প্রীতির প্রশ্নে অদম্য—নতুন প্রত্যয়ে সাতক্ষীরায় যুব ঐক্য পরিষদ আশাশুনিতে শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের মাসিক কর্মপরিকল্পনা বৈঠক অনুষ্ঠিত পর্নোগ্রাফি ও চাঁদাবাজির মামলায় সাতক্ষীরার কথিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর, আব্দুল্লাহ আল মামুন গ্রেপ্তার ফ্রান্সের বর্তমান অবস্থা (জনগণের ক্ষোভ ও সামরিক শক্তি বৃদ্ধি) সাতক্ষীরায় মোটরসাইকেল চুরির অভিযোগে সার্জেন্টের ছেলে আটক, গণপিটুনির পর পুলিশের হেফাজতে সাতক্ষীরার ভোমরা সীমান্তে ভারতে পাচারকালে ১ কোটি ৫৫ লক্ষ টাকার স্বর্ণ সহ আটক: ১ সাতক্ষীরা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে কোষাধ্যক্ষ পদপ্রার্থী অ্যাডভোকেট শামীম রেজা সাতক্ষীরার দেবহাটায় গৃহবধূকে হেনস্তার চেষ্টা ও শিশুদের হয়রানির অভিযোগে যুবক আটক

২০ বছর পেটের ভেতরে কাঁচি, সেই বাচেনাকে পাওয়া যাচ্ছে না

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : 09:30:07 am, Wednesday, 5 January 2022 582 300 বার পড়া হয়েছে
Khandakarit.com

চুয়াডাঙ্গার বাচেনা খাতুনের অবস্থা না বাঁচার মতোই। পেটের পাথর অপারেশন করতে গিয়ে চিকিৎসক তার পেটের ভেতরে কাঁচি রেখে সেলাই দিয়েছিলেন। সে প্রায় ২০ বছর আগের কথা। সেই থেকে অসহ্য যন্ত্রণা নিয়ে অনেক ডাক্তারের দ্বারে দ্বারে ঘুরেছেন তিনি।

এরপর যন্ত্রণার আসল রহস্য উদঘাটন হলো রাজশাহীতে গিয়ে। অন্য এক চিকিৎসক বাচেনা খাতুনের পেটের যন্ত্রণার রহস্য আবিষ্কার করলেন এক্স-রে করে। দেখা গেল আস্ত একটা কাঁচি রয়েছে তার পেটের ভেতরে।

এরপরই সোমবার বিকালে এলাকায় তোলপাড় শুরু হয়। তোলপাড় শুরু হয় মেহেরপুরের স্বাস্থ্য বিভাগেও। এরপর থেকেই বাচেনা খাতুনকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

মঙ্গলবার দিনভর সন্ধান চালিয়েও পাওয়া যায়নি বাচেনা খাতুনকে। ধারণা করা হচ্ছে অভিযুক্ত রাজা ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ কৌশলে বাচেনা খাতুনকে আড়াল করে রেখেছে। যাতে সাংবাদিকরা আর বেশি হইচই করতে না পারেন।

চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার চিৎলা ইউনিয়নের নওদা হাপানিয়া গ্রামের শারীরিক প্রতিবন্ধী আবদুল হামিদের স্ত্রী বাচেনা খাতুন। তিনি ২০০২ সালে পেটের যন্ত্রণায় ভুগতেন। সে সময় নিকটবর্তী হওয়ায় মেহেরপুর জেলার গাংনীর রাজা ক্লিনিকে ডাক্তার দেখান। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর রাজা ক্লিনিকের পরিচালক ডা. পারভিয়াস হোসেন রাজা পিত্তথলির পাথর অপারেশনের জন্য বলেন বাচেনা খাতুনকে।

ওষুধপথ্য ও অপারেশন ফি বাবদ ২০ হাজার টাকায় চুক্তি হয়। স্ত্রীর অপারেশনের জন্য একমাত্র সম্বল ১০ কাঠা জমি বিক্রি করেন স্বামী আবদুল হামিদ। ওই বছরের ২৫ মার্চ রাজা ক্লিনিকে বাচেনা খাতুনের অপারেশন করেন সার্জারি বিভাগের বিশেষজ্ঞ ডা. মিজানুর রহমান। সহকারী হিসেবে ছিলেন ক্লিনিক পরিচালক ডা. পারভিয়াস হোসেন রাজা এবং অ্যানেস্থেসিয়া করেন ডা. তাপস কুমার।

অপারেশনের এক সপ্তাহ পর বাচেনা খাতুনকে প্রেসক্রিপশন দিয়ে ছাড়পত্র দেওয়া হয়। কিন্তু বাচেনা খাতুন কোনোদিন সুস্থতাবোধ করেননি। খুবই দরিদ্র বাচেনা খাতুন। স্বামী জন খেটে কিছু আয় করেন আর নিজে কোনো রকম ছাগল মুরগি পালন করে সংসার চালান। এরই মধ্যে সুস্থ হওয়ার জন্য এ ডাক্তার থেকে ও ডাক্তার ছুটেছেন কিন্তু কিছুতেই যন্ত্রণা কমেনি তার। অসহ্য যন্ত্রণার রহস্য কেউই উদঘাটন করতে পারে না। রাজা ক্লিনিকেও তিনি ধরনা দিয়েছেন অনেকবার।

তারাও যখন গুরুত্ব দেয়নি শেষমেশ গিয়েছিলেন রাজশাহীতে। কয়েকদিন আগে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিউরো মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. রেজা নাসিমের কাছে চিকিৎসা নিতে গেলে বাচেনা খাতুনকে এক্স-রে করানো হয়।

রিপোর্টে দেখা যায় পেটের মধ্যে ৪-৫ ইঞ্চির একটি কাঁচি রয়েছে। ২০ বছর পর পেটের মধ্যে কাঁচির সন্ধান পাওয়ার খবরে কান্নায় ভেঙে পড়েন বাচেনা খাতুন। এমন খবর গ্রামে ছড়িয়ে পড়লে সোমবার বিকেলে বাচেনা খাতুনের বাড়িতে ভিড় জমায় এলাকার মানুষ। ছুটে আসেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও। রাজা ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ বাচেনা খাতুন ও তার পরিবারকে ম্যানেজ করতে মরিয়া হয়ে ওঠে।

বাচেনা খাতুনের গ্রামের সাবেক ইউপি মেম্বার রবিউল হক মন্টু বলেন, বিষয়টি আমি সোমবার সন্ধ্যায় জানতে পারি। এরপর থেকেই বাচেনাদের বাড়িতে বিভিন্ন লোকজন আসতে থাকে। সন্ধ্যার পর গাংনীর রাজা ক্লিনিক থেকেও লোকজন আসে। তারা সাংবাদিকদের তোপের মুখ থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য বাচেনার পরিবারকে ম্যানেজ করতে চায়। সন্ধ্যার পর ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ বাচেনাকে ক্লিনিকে নিয়ে যায়। সেখানে বসে গোপনে বাচেনার সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয় তারা। বাচেনাকে ক্ষতিপূরণসহ অপারেশনের দায়িত্ব নেয়। সেই মোতাবেক মঙ্গলবার সকাল ১০টায় চুয়াডাঙ্গায় যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হন বাচেনা খাতুন।

চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের সার্জিক্যাল কনসালটেন্ট ডা. ওয়ালিউর রহমান নয়নের তত্ত্বাবধানে পুনরায় অপারেশন হওয়ার কথা বলে যান গ্রামে। কিন্তু মঙ্গলবার সকাল থেকে দিনভর খোঁজ করেও হদিস পাওয়া যায়নি বাচেনা খাতুনের।

এ ব্যাপারে ডা. ওয়ালিউর রহমান নয়ন জানান, রাজা ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ মোবাইল ফোনে আমাকে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য জানিয়েছিল। কিন্তু মঙ্গলবার সারা দিনের মধ্যে বাচেনা খাতুন আমার কাছে আসেননি। এলাকার অনেকেই বলেছেন, সাংবাদিকদের তোপের মুখে না পড়তেই রাজা ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ বাচেনা খাতুনকে চুয়াডাঙ্গা বা মেহেরপুরে না নিয়ে আশপাশ কোনো জেলায় নিয়ে গেছে পুনরায় অপারেশনের জন্য।

এ ব্যাপারে রাজা ক্লিনিকের অন্যতম পরিচালক শামসুল আলম বলেন, পেটের ভেতরে কাঁচি রেখে সেলাই দেওয়াটি চিকিৎসকের একটি একটি ভুল। মানুষ মাত্রই ভুলের ঊর্ধ্বে নয়। তবে ভুক্তভোগী বাচেনা খাতুন আমাদের পরিচালক ডা. পারভিয়াস হোসেন রাজার আত্মীয়। সেই সুবাদে বাচেনা খাতুন আমাদের কাছে পুনরায় অপারেশনের খরচখরচা চেয়েছেন। আমরা তা দিতে রাজি হয়েছি। আমরা বলেছি ওনার যেখানে ইচ্ছে অপারেশন করতে পারেন আমরা এর ব্যয়ভার বহন করব। তবে উনি কোথায় অপারেশনের জন্য গিয়েছেন তা আমরা বলতে পারব না।

অভিযুক্ত রাজা ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না? জানতে চাইলে গাংনী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মৌসুমী খানম বলেন, বিষয়টি আমি জানতে পেরেছি। তবে ভুক্তভোগী কেউ এখন পর্যন্ত আমার কাছে মৌখিক বা লিখিতভাবে কোনো প্রকার অভিযোগ করেননি। অভিযোগ পেলে আমি অবশ্যই তদন্তপূর্বক রাজা ক্লিনিকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
ভাষা চেঞ্জ করুন

২০ বছর পেটের ভেতরে কাঁচি, সেই বাচেনাকে পাওয়া যাচ্ছে না

আপডেট সময় : 09:30:07 am, Wednesday, 5 January 2022

চুয়াডাঙ্গার বাচেনা খাতুনের অবস্থা না বাঁচার মতোই। পেটের পাথর অপারেশন করতে গিয়ে চিকিৎসক তার পেটের ভেতরে কাঁচি রেখে সেলাই দিয়েছিলেন। সে প্রায় ২০ বছর আগের কথা। সেই থেকে অসহ্য যন্ত্রণা নিয়ে অনেক ডাক্তারের দ্বারে দ্বারে ঘুরেছেন তিনি।

এরপর যন্ত্রণার আসল রহস্য উদঘাটন হলো রাজশাহীতে গিয়ে। অন্য এক চিকিৎসক বাচেনা খাতুনের পেটের যন্ত্রণার রহস্য আবিষ্কার করলেন এক্স-রে করে। দেখা গেল আস্ত একটা কাঁচি রয়েছে তার পেটের ভেতরে।

এরপরই সোমবার বিকালে এলাকায় তোলপাড় শুরু হয়। তোলপাড় শুরু হয় মেহেরপুরের স্বাস্থ্য বিভাগেও। এরপর থেকেই বাচেনা খাতুনকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

মঙ্গলবার দিনভর সন্ধান চালিয়েও পাওয়া যায়নি বাচেনা খাতুনকে। ধারণা করা হচ্ছে অভিযুক্ত রাজা ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ কৌশলে বাচেনা খাতুনকে আড়াল করে রেখেছে। যাতে সাংবাদিকরা আর বেশি হইচই করতে না পারেন।

চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার চিৎলা ইউনিয়নের নওদা হাপানিয়া গ্রামের শারীরিক প্রতিবন্ধী আবদুল হামিদের স্ত্রী বাচেনা খাতুন। তিনি ২০০২ সালে পেটের যন্ত্রণায় ভুগতেন। সে সময় নিকটবর্তী হওয়ায় মেহেরপুর জেলার গাংনীর রাজা ক্লিনিকে ডাক্তার দেখান। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর রাজা ক্লিনিকের পরিচালক ডা. পারভিয়াস হোসেন রাজা পিত্তথলির পাথর অপারেশনের জন্য বলেন বাচেনা খাতুনকে।

ওষুধপথ্য ও অপারেশন ফি বাবদ ২০ হাজার টাকায় চুক্তি হয়। স্ত্রীর অপারেশনের জন্য একমাত্র সম্বল ১০ কাঠা জমি বিক্রি করেন স্বামী আবদুল হামিদ। ওই বছরের ২৫ মার্চ রাজা ক্লিনিকে বাচেনা খাতুনের অপারেশন করেন সার্জারি বিভাগের বিশেষজ্ঞ ডা. মিজানুর রহমান। সহকারী হিসেবে ছিলেন ক্লিনিক পরিচালক ডা. পারভিয়াস হোসেন রাজা এবং অ্যানেস্থেসিয়া করেন ডা. তাপস কুমার।

অপারেশনের এক সপ্তাহ পর বাচেনা খাতুনকে প্রেসক্রিপশন দিয়ে ছাড়পত্র দেওয়া হয়। কিন্তু বাচেনা খাতুন কোনোদিন সুস্থতাবোধ করেননি। খুবই দরিদ্র বাচেনা খাতুন। স্বামী জন খেটে কিছু আয় করেন আর নিজে কোনো রকম ছাগল মুরগি পালন করে সংসার চালান। এরই মধ্যে সুস্থ হওয়ার জন্য এ ডাক্তার থেকে ও ডাক্তার ছুটেছেন কিন্তু কিছুতেই যন্ত্রণা কমেনি তার। অসহ্য যন্ত্রণার রহস্য কেউই উদঘাটন করতে পারে না। রাজা ক্লিনিকেও তিনি ধরনা দিয়েছেন অনেকবার।

তারাও যখন গুরুত্ব দেয়নি শেষমেশ গিয়েছিলেন রাজশাহীতে। কয়েকদিন আগে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিউরো মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. রেজা নাসিমের কাছে চিকিৎসা নিতে গেলে বাচেনা খাতুনকে এক্স-রে করানো হয়।

রিপোর্টে দেখা যায় পেটের মধ্যে ৪-৫ ইঞ্চির একটি কাঁচি রয়েছে। ২০ বছর পর পেটের মধ্যে কাঁচির সন্ধান পাওয়ার খবরে কান্নায় ভেঙে পড়েন বাচেনা খাতুন। এমন খবর গ্রামে ছড়িয়ে পড়লে সোমবার বিকেলে বাচেনা খাতুনের বাড়িতে ভিড় জমায় এলাকার মানুষ। ছুটে আসেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও। রাজা ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ বাচেনা খাতুন ও তার পরিবারকে ম্যানেজ করতে মরিয়া হয়ে ওঠে।

বাচেনা খাতুনের গ্রামের সাবেক ইউপি মেম্বার রবিউল হক মন্টু বলেন, বিষয়টি আমি সোমবার সন্ধ্যায় জানতে পারি। এরপর থেকেই বাচেনাদের বাড়িতে বিভিন্ন লোকজন আসতে থাকে। সন্ধ্যার পর গাংনীর রাজা ক্লিনিক থেকেও লোকজন আসে। তারা সাংবাদিকদের তোপের মুখ থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য বাচেনার পরিবারকে ম্যানেজ করতে চায়। সন্ধ্যার পর ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ বাচেনাকে ক্লিনিকে নিয়ে যায়। সেখানে বসে গোপনে বাচেনার সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয় তারা। বাচেনাকে ক্ষতিপূরণসহ অপারেশনের দায়িত্ব নেয়। সেই মোতাবেক মঙ্গলবার সকাল ১০টায় চুয়াডাঙ্গায় যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হন বাচেনা খাতুন।

চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের সার্জিক্যাল কনসালটেন্ট ডা. ওয়ালিউর রহমান নয়নের তত্ত্বাবধানে পুনরায় অপারেশন হওয়ার কথা বলে যান গ্রামে। কিন্তু মঙ্গলবার সকাল থেকে দিনভর খোঁজ করেও হদিস পাওয়া যায়নি বাচেনা খাতুনের।

এ ব্যাপারে ডা. ওয়ালিউর রহমান নয়ন জানান, রাজা ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ মোবাইল ফোনে আমাকে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য জানিয়েছিল। কিন্তু মঙ্গলবার সারা দিনের মধ্যে বাচেনা খাতুন আমার কাছে আসেননি। এলাকার অনেকেই বলেছেন, সাংবাদিকদের তোপের মুখে না পড়তেই রাজা ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ বাচেনা খাতুনকে চুয়াডাঙ্গা বা মেহেরপুরে না নিয়ে আশপাশ কোনো জেলায় নিয়ে গেছে পুনরায় অপারেশনের জন্য।

এ ব্যাপারে রাজা ক্লিনিকের অন্যতম পরিচালক শামসুল আলম বলেন, পেটের ভেতরে কাঁচি রেখে সেলাই দেওয়াটি চিকিৎসকের একটি একটি ভুল। মানুষ মাত্রই ভুলের ঊর্ধ্বে নয়। তবে ভুক্তভোগী বাচেনা খাতুন আমাদের পরিচালক ডা. পারভিয়াস হোসেন রাজার আত্মীয়। সেই সুবাদে বাচেনা খাতুন আমাদের কাছে পুনরায় অপারেশনের খরচখরচা চেয়েছেন। আমরা তা দিতে রাজি হয়েছি। আমরা বলেছি ওনার যেখানে ইচ্ছে অপারেশন করতে পারেন আমরা এর ব্যয়ভার বহন করব। তবে উনি কোথায় অপারেশনের জন্য গিয়েছেন তা আমরা বলতে পারব না।

অভিযুক্ত রাজা ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না? জানতে চাইলে গাংনী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মৌসুমী খানম বলেন, বিষয়টি আমি জানতে পেরেছি। তবে ভুক্তভোগী কেউ এখন পর্যন্ত আমার কাছে মৌখিক বা লিখিতভাবে কোনো প্রকার অভিযোগ করেননি। অভিযোগ পেলে আমি অবশ্যই তদন্তপূর্বক রাজা ক্লিনিকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করব।