সুন্দরবনে ১ এপ্রিল থেকে মধু আহরণ মৌসুম শুরু, প্রস্তুত মৌয়ালরা—ডাকাত আতঙ্কে শঙ্কা
- আপডেট সময় : 12:17:49 am, Monday, 30 March 2026 302 300 বার পড়া হয়েছে

সোহারাফ হোসেন সৌরভ, সাতক্ষীরা :বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবন-এ আগামী ১ এপ্রিল থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হচ্ছে বহুল প্রতীক্ষিত মধু আহরণ মৌসুম। ইতোমধ্যে মৌয়ালরা নৌকা ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম প্রস্তুত করে বনে প্রবেশের অপেক্ষায় রয়েছেন।
বন বিভাগের নির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে ১১০০ কুইন্টাল মধু এবং ৬০০ কুইন্টাল মৌমাছির মোম সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর আগে ২০২৪-২৫ মৌসুমে ৮৫৪.৫ কুইন্টাল মধু ও ২৭৫.৫ কুইন্টাল মোম সংগ্রহ করা হয়। সে সময় ২৪৮টি পাসের মাধ্যমে মোট ১৭০৯ জন মৌয়াল বনে প্রবেশ করেছিলেন।
বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, প্রতিবছরের মতো এবারও সুন্দরবনের বিভিন্ন রেঞ্জে পর্যায়ক্রমে মৌয়ালদের বন প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে। নির্ধারিত পারমিট নিয়ে দলবদ্ধভাবে তারা গভীর বনে প্রবেশ করে প্রাকৃতিক চাক থেকে মধু সংগ্রহ করবেন। সাধারণত এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত এই কার্যক্রম চলে।
গাবুরা-ডুমুরিয়া এলাকার মৌয়াল দলনেতা আব্দুর রাজ্জাক জানান, “প্রতিবছরের মতো এবারও ১২ জনের দল প্রস্তুত করেছি। ১ এপ্রিল বন বিভাগের পাস নিয়ে মধু আহরণে রওনা হবো। সুন্দরবনের মধু প্রাকৃতিক ও ভেজালমুক্ত হওয়ায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।”
তবে এই মধু সংগ্রহের পেছনে রয়েছে বড় ধরনের ঝুঁকি। বনের ভেতরে রয়েল বেঙ্গল টাইগার, বিষধর সাপসহ নানা বন্যপ্রাণীর পাশাপাশি প্রতিকূল পরিবেশ মৌয়ালদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়।
বুড়িগোয়ালিনী এলাকার মৌয়াল শাহাজান সরদার জানান, “গত বছর মধু সংগ্রহ করতে গিয়ে হঠাৎ বাঘের মুখোমুখি হই। চিৎকার ও সঙ্গীদের সহায়তায় কোনোভাবে প্রাণে বাঁচি। মধু খোঁজা আর বাঘ খোঁজা একই কথা—জীবনের ঝুঁকি নিয়েই বনে যেতে হয়।”
বন বিভাগ জানিয়েছে, মৌয়ালদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে বিভিন্ন নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বনজ সম্পদ রক্ষায় নির্ধারিত নিয়ম মেনে মধু সংগ্রহের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নিয়ম লঙ্ঘন করলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, অনুকূল আবহাওয়া ও বনজ পরিবেশ ভালো থাকলে এবার লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হবে। এতে একদিকে সরকার রাজস্ব আয় পাবে, অন্যদিকে উপকূলীয় অঞ্চলের হাজারো মৌয়াল পরিবার জীবিকা নির্বাহে স্বস্তি পাবে।
তবে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে ডাকাত আতঙ্ক। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মৌয়াল অভিযোগ করেন, প্রতি জনের কাছ থেকে ১০ থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা দাবি করছে ডাকাত চক্র। একটি দলকে একাধিক গ্রুপকে টাকা দিতে হয়। এ কারণে অনেক মৌয়াল এবছর সুন্দরবনে যেতে অনাগ্রহ প্রকাশ করেছেন।
সবমিলিয়ে, প্রস্তুতি সম্পন্ন হলেও নিরাপত্তা পরিস্থিতি ঘিরে এবারের মধু আহরণ মৌসুমে অনিশ্চয়তা
























