সাতক্ষীরা 5:53 am, Monday, 9 November 2026
সংবাদ শিরোনাম ::
ছবিটা ক্লিয়ার করে দাও সাতক্ষীরায় ‘বিজ’-এর কৃষি কর্মসূচির আওতায় ফলজ, বনজ ও ঔষধি চারা বিতরণ আলিপুর ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে আলোচনায় আব্দুর রউফের পৌত্র সামির সোয়েব রাদমির অন্যায়ের বিরুদ্ধে আপসহীন, অধিকার ও সম্প্রীতির প্রশ্নে অদম্য—নতুন প্রত্যয়ে সাতক্ষীরায় যুব ঐক্য পরিষদ আশাশুনিতে শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের মাসিক কর্মপরিকল্পনা বৈঠক অনুষ্ঠিত পর্নোগ্রাফি ও চাঁদাবাজির মামলায় সাতক্ষীরার কথিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর, আব্দুল্লাহ আল মামুন গ্রেপ্তার ফ্রান্সের বর্তমান অবস্থা (জনগণের ক্ষোভ ও সামরিক শক্তি বৃদ্ধি) সাতক্ষীরায় মোটরসাইকেল চুরির অভিযোগে সার্জেন্টের ছেলে আটক, গণপিটুনির পর পুলিশের হেফাজতে সাতক্ষীরার ভোমরা সীমান্তে ভারতে পাচারকালে ১ কোটি ৫৫ লক্ষ টাকার স্বর্ণ সহ আটক: ১ সাতক্ষীরা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে কোষাধ্যক্ষ পদপ্রার্থী অ্যাডভোকেট শামীম রেজা সাতক্ষীরার দেবহাটায় গৃহবধূকে হেনস্তার চেষ্টা ও শিশুদের হয়রানির অভিযোগে যুবক আটক

মশার উৎপাতে অতিষ্ঠ সাতক্ষীরাবাসী: দ্রুত প্রতিকার দাবি

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : 06:54:45 pm, Monday, 8 December 2025 262 300 বার পড়া হয়েছে
Khandakarit.com

জি এম আমিনুল হক:সাতক্ষীরা শহর থেকে গ্রাম—সর্বত্র মশার উপদ্রব ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। দিনের বেলায় যেমন স্বস্তি নেই, সন্ধ্যা নামলেই মশার উৎপাত চরমে পৌঁছে যায়। শিশু, নারী, বৃদ্ধ এমনকি গৃহপালিত পশুও রেহাই পাচ্ছে না। নোংরা পরিবেশ, ময়লা–আবর্জনা ও অপরিচ্ছন্ন ড্রেনেজ ব্যবস্থার কারণে জেলাজুড়ে বেড়ে চলছে মশা–মাছির প্রজনন কেন্দ্র। শীতের শুরুতে এই উপদ্রব আরও তীব্র হয়েছে। এ অবস্থায় পৌরসভা থেকে শুরু করে ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত এখনো কার্যকর উদ্যোগ না নেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে সাধারণ মানুষ।
অতিষ্ঠ সাতক্ষীরাবাসী অবিলম্বে ফগার মেশিনের মাধ্যমে নিয়মিত মশা নিধন কার্যক্রম চালুর দাবি জানিয়েছে।

জানা গেছে, ৩১.১০ বর্গকিলোমিটারের সাতক্ষীরা পৌরসভা ১৮৬৯ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে নানা অব্যবস্থাপনা এবং নাগরিক সেবা বঞ্চনায় ভুগছে প্রায় দুই লাখ বাসিন্দা। শহরে প্রায় দুই শ কিলোমিটার কাঁচা–পাকা ড্রেন, দেড় শতাধিক ডাস্টবিন, কসাইখানা ও গণশৌচাগার থাকলেও এগুলোর বেশিরভাগই অপরিচ্ছন্ন। শহরের বুক চিরে প্রবাহিত প্রাণসায়ার খালও এখন মশার অন্যতম প্রজনন স্থান।
অভিযোগ আছে—ডেঙ্গু মশা, লার্ভা ও মাছির নিরাপদ এসব জায়গা নিয়মিত পরিষ্কার না করায় পরিস্থিতি ভয়াবহভাবে অবনতির দিকে গেছে। অন্যান্য বছরে কিছু দৃশ্যমান ফগিং কার্যক্রম থাকলেও এ বছর তাও নেই বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

পৌরসভার বাসিন্দা জামশেদ আলী বলেন,
“মশার অত্যাচারে রাতে ঘুমানো, দিনে কাজ করা এবং বাচ্চাদের পড়াশোনা—সবই দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। পৌরসভাকে নিয়মিত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।”

পলাশপোল এলাকার মুসল্লি আবু দাউদ বলেন,
“মসজিদে নামাজ পড়াও কষ্টকর হয়ে পড়েছে। মশার কামড়ে মনোযোগ ধরে রাখা কঠিন।”

অনেকেই অভিযোগ করেছেন—মাঝে মাঝে পৌরসভা থেকে স্প্রে করা হলেও তা সঠিক নিয়মে প্রয়োগ করা হয় না, ফলে তেমন কোনো ফল মিলছে না।

মানবাধিকার কর্মী মাধব চন্দ্র দত্ত বলেন,
“শহরের জলাবদ্ধ এলাকা, নালা–নর্দমা ও ড্রেনে জমে থাকা পানি পরিষ্কারে ঢিলেমি থাকায় মশা দ্রুত বংশবিস্তার করছে।”

জেলা নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট বেলাল হোসেন বলেন,
“শুধু স্প্রে নয়—মশার উৎপত্তিস্থল ধ্বংস করাই একমাত্র স্থায়ী সমাধান। পৌরসভাকে আধুনিক পদ্ধতি ও কার্যকর ওষুধ ব্যবহার করে দ্রুত উদ্যোগ নিতে হবে।”

মশার ভয়াবহতা জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে জানিয়ে সাতক্ষীরাবাসী পৌর কর্তৃপক্ষ ও জেলা প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছে

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
ভাষা চেঞ্জ করুন

মশার উৎপাতে অতিষ্ঠ সাতক্ষীরাবাসী: দ্রুত প্রতিকার দাবি

আপডেট সময় : 06:54:45 pm, Monday, 8 December 2025

জি এম আমিনুল হক:সাতক্ষীরা শহর থেকে গ্রাম—সর্বত্র মশার উপদ্রব ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। দিনের বেলায় যেমন স্বস্তি নেই, সন্ধ্যা নামলেই মশার উৎপাত চরমে পৌঁছে যায়। শিশু, নারী, বৃদ্ধ এমনকি গৃহপালিত পশুও রেহাই পাচ্ছে না। নোংরা পরিবেশ, ময়লা–আবর্জনা ও অপরিচ্ছন্ন ড্রেনেজ ব্যবস্থার কারণে জেলাজুড়ে বেড়ে চলছে মশা–মাছির প্রজনন কেন্দ্র। শীতের শুরুতে এই উপদ্রব আরও তীব্র হয়েছে। এ অবস্থায় পৌরসভা থেকে শুরু করে ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত এখনো কার্যকর উদ্যোগ না নেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে সাধারণ মানুষ।
অতিষ্ঠ সাতক্ষীরাবাসী অবিলম্বে ফগার মেশিনের মাধ্যমে নিয়মিত মশা নিধন কার্যক্রম চালুর দাবি জানিয়েছে।

জানা গেছে, ৩১.১০ বর্গকিলোমিটারের সাতক্ষীরা পৌরসভা ১৮৬৯ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে নানা অব্যবস্থাপনা এবং নাগরিক সেবা বঞ্চনায় ভুগছে প্রায় দুই লাখ বাসিন্দা। শহরে প্রায় দুই শ কিলোমিটার কাঁচা–পাকা ড্রেন, দেড় শতাধিক ডাস্টবিন, কসাইখানা ও গণশৌচাগার থাকলেও এগুলোর বেশিরভাগই অপরিচ্ছন্ন। শহরের বুক চিরে প্রবাহিত প্রাণসায়ার খালও এখন মশার অন্যতম প্রজনন স্থান।
অভিযোগ আছে—ডেঙ্গু মশা, লার্ভা ও মাছির নিরাপদ এসব জায়গা নিয়মিত পরিষ্কার না করায় পরিস্থিতি ভয়াবহভাবে অবনতির দিকে গেছে। অন্যান্য বছরে কিছু দৃশ্যমান ফগিং কার্যক্রম থাকলেও এ বছর তাও নেই বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

পৌরসভার বাসিন্দা জামশেদ আলী বলেন,
“মশার অত্যাচারে রাতে ঘুমানো, দিনে কাজ করা এবং বাচ্চাদের পড়াশোনা—সবই দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। পৌরসভাকে নিয়মিত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।”

পলাশপোল এলাকার মুসল্লি আবু দাউদ বলেন,
“মসজিদে নামাজ পড়াও কষ্টকর হয়ে পড়েছে। মশার কামড়ে মনোযোগ ধরে রাখা কঠিন।”

অনেকেই অভিযোগ করেছেন—মাঝে মাঝে পৌরসভা থেকে স্প্রে করা হলেও তা সঠিক নিয়মে প্রয়োগ করা হয় না, ফলে তেমন কোনো ফল মিলছে না।

মানবাধিকার কর্মী মাধব চন্দ্র দত্ত বলেন,
“শহরের জলাবদ্ধ এলাকা, নালা–নর্দমা ও ড্রেনে জমে থাকা পানি পরিষ্কারে ঢিলেমি থাকায় মশা দ্রুত বংশবিস্তার করছে।”

জেলা নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট বেলাল হোসেন বলেন,
“শুধু স্প্রে নয়—মশার উৎপত্তিস্থল ধ্বংস করাই একমাত্র স্থায়ী সমাধান। পৌরসভাকে আধুনিক পদ্ধতি ও কার্যকর ওষুধ ব্যবহার করে দ্রুত উদ্যোগ নিতে হবে।”

মশার ভয়াবহতা জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে জানিয়ে সাতক্ষীরাবাসী পৌর কর্তৃপক্ষ ও জেলা প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছে