সাতক্ষীরা 2:13 am, Monday, 9 November 2026
সংবাদ শিরোনাম ::
ছবিটা ক্লিয়ার করে দাও সাতক্ষীরায় ‘বিজ’-এর কৃষি কর্মসূচির আওতায় ফলজ, বনজ ও ঔষধি চারা বিতরণ আলিপুর ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে আলোচনায় আব্দুর রউফের পৌত্র সামির সোয়েব রাদমির অন্যায়ের বিরুদ্ধে আপসহীন, অধিকার ও সম্প্রীতির প্রশ্নে অদম্য—নতুন প্রত্যয়ে সাতক্ষীরায় যুব ঐক্য পরিষদ আশাশুনিতে শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের মাসিক কর্মপরিকল্পনা বৈঠক অনুষ্ঠিত পর্নোগ্রাফি ও চাঁদাবাজির মামলায় সাতক্ষীরার কথিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর, আব্দুল্লাহ আল মামুন গ্রেপ্তার ফ্রান্সের বর্তমান অবস্থা (জনগণের ক্ষোভ ও সামরিক শক্তি বৃদ্ধি) সাতক্ষীরায় মোটরসাইকেল চুরির অভিযোগে সার্জেন্টের ছেলে আটক, গণপিটুনির পর পুলিশের হেফাজতে সাতক্ষীরার ভোমরা সীমান্তে ভারতে পাচারকালে ১ কোটি ৫৫ লক্ষ টাকার স্বর্ণ সহ আটক: ১ সাতক্ষীরা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে কোষাধ্যক্ষ পদপ্রার্থী অ্যাডভোকেট শামীম রেজা সাতক্ষীরার দেবহাটায় গৃহবধূকে হেনস্তার চেষ্টা ও শিশুদের হয়রানির অভিযোগে যুবক আটক

খোলপেটুয়া নদীর চর দখল বাণিজ্য: নায়েবের ছত্রছায়ায় কোটি টাকার সিন্ডিকেট!

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : 08:40:42 pm, Tuesday, 24 February 2026 208 300 বার পড়া হয়েছে
Khandakarit.com

নিজস্ব প্রতিবেদক: সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার আটুলিয়া ইউনিয়নে খোলপেটুয়া নদীর চর দখলকে ঘিরে গড়ে উঠেছে প্রভাবশালী একটি সিন্ডিকেট— এমন গুরুতর অভিযোগ উঠেছে ইউনিয়ন ভূমি অফিসের নায়েব আশরাফুজ্জামানের বিরুদ্ধে। সরকারি খাসজমি রক্ষা ও ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধেই নদীর চর প্লট আকারে বিক্রি করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ করছেন স্থানীয়রা।
নদীর চরে ‘প্লট বাণিজ্য’
অনুসন্ধানে জানা গেছে, আটুলিয়া ইউনিয়নের নওয়াবেঁকী বাজার সংলগ্ন খোলপেটুয়া নদীর বিস্তীর্ণ চরভূমি প্রভাবশালী ব্যক্তি ও ব্যবসায়ীদের কাছে প্লট আকারে হস্তান্তর করা হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় এক কাঠ ব্যবসায়ী ও সমিল মালিককে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে চর দখলের সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে।
একাধিক সূত্র দাবি করেছে, প্রতি প্লট ১০ থেকে ১২ লাখ টাকা পর্যন্ত দরে বিক্রির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই কোনো সরকারি নিলাম, বৈধ বন্দোবস্ত বা লিখিত অনুমোদনের প্রমাণ দেখাতে পারেননি সংশ্লিষ্টরা।
দালাল চক্রের সক্রিয়তা
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, নায়েবের আশপাশে একটি ‘বিশ্বস্ত দালাল চক্র’ সক্রিয় রয়েছে। এই চক্রের সদস্যরা প্লট নির্ধারণ, দখল বুঝিয়ে দেওয়া এবং লেনদেনের মধ্যস্থতা করেন। অভিযোগ রয়েছে, মৌখিক প্রতিশ্রুতি ও অনানুষ্ঠানিক কাগজপত্রের মাধ্যমে কোটি টাকার বাণিজ্য চলছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বাসিন্দা বলেন,
“সরকারি জমি রক্ষার দায়িত্ব যাদের, তারাই যদি বিক্রি করে দেন— তাহলে সাধারণ মানুষ কোথায় যাবে? আমরা প্রতিবাদ করেও ফল পাচ্ছি না।”
সম্পদের উৎস নিয়ে প্রশ্ন
স্থানীয়দের অভিযোগ, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সংশ্লিষ্ট নায়েবের সম্পদের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বাড়ি নির্মাণ ও জমি কেনাসহ একাধিক সম্পদ অর্জনের তথ্য নিয়ে এলাকায় আলোচনা চলছে।
একজন ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তার সরকারি বেতন কাঠামোর সঙ্গে এসব সম্পদের সামঞ্জস্য রয়েছে কি না— তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন সচেতন মহল।
প্রশাসনের নীরবতা, তদন্তের দাবি
অভিযোগ উঠলেও এখনো দৃশ্যমান কোনো তদন্ত শুরু হয়নি বলে জানা গেছে। স্থানীয়রা দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও জেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের দাবি, সরকারি খাসজমি দখল ও প্লট বাণিজ্যের অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত হলে প্রকৃত চিত্র সামনে আসবে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত নায়েব আশরাফুজ্জামানের বক্তব্য জানার জন্য একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
খোলপেটুয়া নদীর চর দখল ও প্লট বাণিজ্য নিয়ে উত্থাপিত অভিযোগের অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী পর্বে প্রকাশ করা হবে।
(চলমান অনুসন্ধান)

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
ভাষা চেঞ্জ করুন

খোলপেটুয়া নদীর চর দখল বাণিজ্য: নায়েবের ছত্রছায়ায় কোটি টাকার সিন্ডিকেট!

আপডেট সময় : 08:40:42 pm, Tuesday, 24 February 2026

নিজস্ব প্রতিবেদক: সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার আটুলিয়া ইউনিয়নে খোলপেটুয়া নদীর চর দখলকে ঘিরে গড়ে উঠেছে প্রভাবশালী একটি সিন্ডিকেট— এমন গুরুতর অভিযোগ উঠেছে ইউনিয়ন ভূমি অফিসের নায়েব আশরাফুজ্জামানের বিরুদ্ধে। সরকারি খাসজমি রক্ষা ও ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধেই নদীর চর প্লট আকারে বিক্রি করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ করছেন স্থানীয়রা।
নদীর চরে ‘প্লট বাণিজ্য’
অনুসন্ধানে জানা গেছে, আটুলিয়া ইউনিয়নের নওয়াবেঁকী বাজার সংলগ্ন খোলপেটুয়া নদীর বিস্তীর্ণ চরভূমি প্রভাবশালী ব্যক্তি ও ব্যবসায়ীদের কাছে প্লট আকারে হস্তান্তর করা হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় এক কাঠ ব্যবসায়ী ও সমিল মালিককে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে চর দখলের সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে।
একাধিক সূত্র দাবি করেছে, প্রতি প্লট ১০ থেকে ১২ লাখ টাকা পর্যন্ত দরে বিক্রির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই কোনো সরকারি নিলাম, বৈধ বন্দোবস্ত বা লিখিত অনুমোদনের প্রমাণ দেখাতে পারেননি সংশ্লিষ্টরা।
দালাল চক্রের সক্রিয়তা
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, নায়েবের আশপাশে একটি ‘বিশ্বস্ত দালাল চক্র’ সক্রিয় রয়েছে। এই চক্রের সদস্যরা প্লট নির্ধারণ, দখল বুঝিয়ে দেওয়া এবং লেনদেনের মধ্যস্থতা করেন। অভিযোগ রয়েছে, মৌখিক প্রতিশ্রুতি ও অনানুষ্ঠানিক কাগজপত্রের মাধ্যমে কোটি টাকার বাণিজ্য চলছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বাসিন্দা বলেন,
“সরকারি জমি রক্ষার দায়িত্ব যাদের, তারাই যদি বিক্রি করে দেন— তাহলে সাধারণ মানুষ কোথায় যাবে? আমরা প্রতিবাদ করেও ফল পাচ্ছি না।”
সম্পদের উৎস নিয়ে প্রশ্ন
স্থানীয়দের অভিযোগ, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সংশ্লিষ্ট নায়েবের সম্পদের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বাড়ি নির্মাণ ও জমি কেনাসহ একাধিক সম্পদ অর্জনের তথ্য নিয়ে এলাকায় আলোচনা চলছে।
একজন ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তার সরকারি বেতন কাঠামোর সঙ্গে এসব সম্পদের সামঞ্জস্য রয়েছে কি না— তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন সচেতন মহল।
প্রশাসনের নীরবতা, তদন্তের দাবি
অভিযোগ উঠলেও এখনো দৃশ্যমান কোনো তদন্ত শুরু হয়নি বলে জানা গেছে। স্থানীয়রা দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও জেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের দাবি, সরকারি খাসজমি দখল ও প্লট বাণিজ্যের অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত হলে প্রকৃত চিত্র সামনে আসবে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত নায়েব আশরাফুজ্জামানের বক্তব্য জানার জন্য একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
খোলপেটুয়া নদীর চর দখল ও প্লট বাণিজ্য নিয়ে উত্থাপিত অভিযোগের অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী পর্বে প্রকাশ করা হবে।
(চলমান অনুসন্ধান)