সাতক্ষীরা 10:35 pm, Sunday, 8 November 2026
সংবাদ শিরোনাম ::
ছবিটা ক্লিয়ার করে দাও সাতক্ষীরায় ‘বিজ’-এর কৃষি কর্মসূচির আওতায় ফলজ, বনজ ও ঔষধি চারা বিতরণ আলিপুর ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে আলোচনায় আব্দুর রউফের পৌত্র সামির সোয়েব রাদমির অন্যায়ের বিরুদ্ধে আপসহীন, অধিকার ও সম্প্রীতির প্রশ্নে অদম্য—নতুন প্রত্যয়ে সাতক্ষীরায় যুব ঐক্য পরিষদ আশাশুনিতে শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের মাসিক কর্মপরিকল্পনা বৈঠক অনুষ্ঠিত পর্নোগ্রাফি ও চাঁদাবাজির মামলায় সাতক্ষীরার কথিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর, আব্দুল্লাহ আল মামুন গ্রেপ্তার ফ্রান্সের বর্তমান অবস্থা (জনগণের ক্ষোভ ও সামরিক শক্তি বৃদ্ধি) সাতক্ষীরায় মোটরসাইকেল চুরির অভিযোগে সার্জেন্টের ছেলে আটক, গণপিটুনির পর পুলিশের হেফাজতে সাতক্ষীরার ভোমরা সীমান্তে ভারতে পাচারকালে ১ কোটি ৫৫ লক্ষ টাকার স্বর্ণ সহ আটক: ১ সাতক্ষীরা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে কোষাধ্যক্ষ পদপ্রার্থী অ্যাডভোকেট শামীম রেজা সাতক্ষীরার দেবহাটায় গৃহবধূকে হেনস্তার চেষ্টা ও শিশুদের হয়রানির অভিযোগে যুবক আটক

আশাশুনিতে পিআইও এর বিরুদ্ধে এবার কম্বল বিতরণে আড়াই লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : 05:54:30 pm, Wednesday, 7 January 2026 129 300 বার পড়া হয়েছে
Khandakarit.com
বিএম আলাউদ্দীন আশাশুনি প্রতিনিধি:আশাশুনিতে দুর্নীতির মাস্টারমাইন পিআইও এর বিরুদ্ধে এবার কম্বল বিতরণে আড়াই লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। সরকার শীতার্ত মানুষের জন্য মানবিক সহায়তা কর্মসূচিকে ঘিরে সমগ্র বাংলাদেশে কম্বল বিতরণের কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় আশাশুনি উপজেলায় ঘটেছে চরম ব্যতিক্রম একটি বিষয় প্রকৃত শীতার্তদের মাঝে কম্বল বিতরণ না করে বিত্তবানদের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে।
তিনি কম্বল বিতরণের নামে সরকারি অর্থ লোপাটের এমন ঘটনা স্থানীয়দের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। অনেকেই একে আলোচিত “বালিশ কাণ্ড”-এর সঙ্গে তুলনা করছেন।
জানা গেছে, গত ২৯ডিসেম্বর থেকে আশাশুনি উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় শীতার্তদের মাঝে কম্বল বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়। জরিপ অনুযায়ী উপজেলাটির ১১টি ইউনিয়নে প্রতিটি ইউনিয়নে ৭৫টি করে মোট ৮২৫টি কম্বল বিতরণ করা হয়। এছাড়া উপজেলার কর্মরত গ্রাম পুলিশের মাঝে ১০০টি এবং বিভিন্ন এতিমখানা ও মাদ্রাসায় ১৫০টি কম্বল দেওয়া হয়। সব মিলিয়ে প্রকৃত বিতরণকৃত কম্বলের সংখ্যা দাঁড়ায় ১হাজার ৭৫টি।
তবে আশাশুনি উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) আমিরুল ইসলাম দাবি করেছেন, তিনি মোট ১ হাজার ৩০২টি কম্বল বিতরণ করেছেন যা নিয়ে দেখা দিয়েছে বড় ধরনের প্রশ্ন।
সরকারি সূত্রে জানা যায়, শীতবস্ত্র বিতরণ প্রকল্পে আশাশুনি উপজেলার জন্য ৬লক্ষ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। এর মধ্যে আইটি ভ্যাট বাবদ ৯০হাজার টাকা বাদ দিয়ে অবশিষ্ট থাকে ৫লক্ষ ১০হাজার টাকা। কিন্তু বিস্ময়কর বিষয় হলো—প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা প্রতিটি কম্বলের মূল্য দেখিয়েছেন ৪৪১টাকা।
স্থানীয় বাজার ঘুরে জানা গেছে, একই মানের কম্বল সাতক্ষীরার ভ্যারাইটি স্টোর ও ফাল্গুনী বস্ত্রালয়সহ বিভিন্ন দোকানে ২৩৫টাকা দরে সহজেই পাওয়া যাচ্ছে। অর্থাৎ প্রতিটি কম্বলে প্রায় ২০৬টাকা অতিরিক্ত মূল্য দেখানো হয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আমিরুল ইসলাম এই প্রকল্প থেকে প্রায় ২লক্ষ ৫৭হাজার ৩শত ৭৫টাকা আত্মসাৎ করেছেন। অভিযোগ রয়েছে, কম্বলগুলো ক্রয় করা হয়েছে খুলনার নিকসন মার্কেটের মেসার্স কামাল অ্যান্ড ব্রাদার্স নামের একটি প্রতিষ্ঠান থেকে।
স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, শীতার্ত মানুষের দুর্দশাকে পুঁজি করে এমন অনৈতিক কর্মকাণ্ড চরম মানবতাবিরোধী। তারা অবিলম্বে এ ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আমিরুল ইসলাম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমি একজন প্রতিনিধির কাছে প্রাপ্য কম্বল স্ব স্ব ইউনিয়নে দিয়েছি। কিন্তু বিতরণের ক্ষেত্রে যদি সেটা তাদের মাঝে না দিয়ে বিত্তবানদের মাঝে দেওয়া হয় এর জন্য তো আমি দায়ী না।
আশাশুনি উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ সাইদুজ্জামান হিমু বলেন এমন একটি বিষয় আমিও শুনেছি। তবে কোথা থেকে কিভাবে কম্বল কেনা হয়েছে এটা আমার জানার বাহিরে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানা সম্ভব হলে তা পরবর্তীতে প্রকাশ করা হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
ভাষা চেঞ্জ করুন

আশাশুনিতে পিআইও এর বিরুদ্ধে এবার কম্বল বিতরণে আড়াই লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

আপডেট সময় : 05:54:30 pm, Wednesday, 7 January 2026
বিএম আলাউদ্দীন আশাশুনি প্রতিনিধি:আশাশুনিতে দুর্নীতির মাস্টারমাইন পিআইও এর বিরুদ্ধে এবার কম্বল বিতরণে আড়াই লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। সরকার শীতার্ত মানুষের জন্য মানবিক সহায়তা কর্মসূচিকে ঘিরে সমগ্র বাংলাদেশে কম্বল বিতরণের কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় আশাশুনি উপজেলায় ঘটেছে চরম ব্যতিক্রম একটি বিষয় প্রকৃত শীতার্তদের মাঝে কম্বল বিতরণ না করে বিত্তবানদের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে।
তিনি কম্বল বিতরণের নামে সরকারি অর্থ লোপাটের এমন ঘটনা স্থানীয়দের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। অনেকেই একে আলোচিত “বালিশ কাণ্ড”-এর সঙ্গে তুলনা করছেন।
জানা গেছে, গত ২৯ডিসেম্বর থেকে আশাশুনি উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় শীতার্তদের মাঝে কম্বল বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়। জরিপ অনুযায়ী উপজেলাটির ১১টি ইউনিয়নে প্রতিটি ইউনিয়নে ৭৫টি করে মোট ৮২৫টি কম্বল বিতরণ করা হয়। এছাড়া উপজেলার কর্মরত গ্রাম পুলিশের মাঝে ১০০টি এবং বিভিন্ন এতিমখানা ও মাদ্রাসায় ১৫০টি কম্বল দেওয়া হয়। সব মিলিয়ে প্রকৃত বিতরণকৃত কম্বলের সংখ্যা দাঁড়ায় ১হাজার ৭৫টি।
তবে আশাশুনি উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) আমিরুল ইসলাম দাবি করেছেন, তিনি মোট ১ হাজার ৩০২টি কম্বল বিতরণ করেছেন যা নিয়ে দেখা দিয়েছে বড় ধরনের প্রশ্ন।
সরকারি সূত্রে জানা যায়, শীতবস্ত্র বিতরণ প্রকল্পে আশাশুনি উপজেলার জন্য ৬লক্ষ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। এর মধ্যে আইটি ভ্যাট বাবদ ৯০হাজার টাকা বাদ দিয়ে অবশিষ্ট থাকে ৫লক্ষ ১০হাজার টাকা। কিন্তু বিস্ময়কর বিষয় হলো—প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা প্রতিটি কম্বলের মূল্য দেখিয়েছেন ৪৪১টাকা।
স্থানীয় বাজার ঘুরে জানা গেছে, একই মানের কম্বল সাতক্ষীরার ভ্যারাইটি স্টোর ও ফাল্গুনী বস্ত্রালয়সহ বিভিন্ন দোকানে ২৩৫টাকা দরে সহজেই পাওয়া যাচ্ছে। অর্থাৎ প্রতিটি কম্বলে প্রায় ২০৬টাকা অতিরিক্ত মূল্য দেখানো হয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আমিরুল ইসলাম এই প্রকল্প থেকে প্রায় ২লক্ষ ৫৭হাজার ৩শত ৭৫টাকা আত্মসাৎ করেছেন। অভিযোগ রয়েছে, কম্বলগুলো ক্রয় করা হয়েছে খুলনার নিকসন মার্কেটের মেসার্স কামাল অ্যান্ড ব্রাদার্স নামের একটি প্রতিষ্ঠান থেকে।
স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, শীতার্ত মানুষের দুর্দশাকে পুঁজি করে এমন অনৈতিক কর্মকাণ্ড চরম মানবতাবিরোধী। তারা অবিলম্বে এ ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আমিরুল ইসলাম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমি একজন প্রতিনিধির কাছে প্রাপ্য কম্বল স্ব স্ব ইউনিয়নে দিয়েছি। কিন্তু বিতরণের ক্ষেত্রে যদি সেটা তাদের মাঝে না দিয়ে বিত্তবানদের মাঝে দেওয়া হয় এর জন্য তো আমি দায়ী না।
আশাশুনি উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ সাইদুজ্জামান হিমু বলেন এমন একটি বিষয় আমিও শুনেছি। তবে কোথা থেকে কিভাবে কম্বল কেনা হয়েছে এটা আমার জানার বাহিরে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানা সম্ভব হলে তা পরবর্তীতে প্রকাশ করা হবে।