সাতক্ষীরা 10:32 pm, Sunday, 8 November 2026
সংবাদ শিরোনাম ::
ছবিটা ক্লিয়ার করে দাও সাতক্ষীরায় ‘বিজ’-এর কৃষি কর্মসূচির আওতায় ফলজ, বনজ ও ঔষধি চারা বিতরণ আলিপুর ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে আলোচনায় আব্দুর রউফের পৌত্র সামির সোয়েব রাদমির অন্যায়ের বিরুদ্ধে আপসহীন, অধিকার ও সম্প্রীতির প্রশ্নে অদম্য—নতুন প্রত্যয়ে সাতক্ষীরায় যুব ঐক্য পরিষদ আশাশুনিতে শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের মাসিক কর্মপরিকল্পনা বৈঠক অনুষ্ঠিত পর্নোগ্রাফি ও চাঁদাবাজির মামলায় সাতক্ষীরার কথিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর, আব্দুল্লাহ আল মামুন গ্রেপ্তার ফ্রান্সের বর্তমান অবস্থা (জনগণের ক্ষোভ ও সামরিক শক্তি বৃদ্ধি) সাতক্ষীরায় মোটরসাইকেল চুরির অভিযোগে সার্জেন্টের ছেলে আটক, গণপিটুনির পর পুলিশের হেফাজতে সাতক্ষীরার ভোমরা সীমান্তে ভারতে পাচারকালে ১ কোটি ৫৫ লক্ষ টাকার স্বর্ণ সহ আটক: ১ সাতক্ষীরা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে কোষাধ্যক্ষ পদপ্রার্থী অ্যাডভোকেট শামীম রেজা সাতক্ষীরার দেবহাটায় গৃহবধূকে হেনস্তার চেষ্টা ও শিশুদের হয়রানির অভিযোগে যুবক আটক

সীমানা চিহ্ন চুরি, খাস জমি নিয়ে জটিলতায় মসজিদের বাউন্ডারি নির্মাণ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : 02:10:13 pm, Thursday, 5 February 2026 117 300 বার পড়া হয়েছে
Khandakarit.com

নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ঝাউডাঙ্গা ইউনিয়নের ছয়ঘরিয়া–অমরাবতী এলাকার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ-পূর্বপাড়া জামে মসজিদকে কেন্দ্র করে সরকারি খাস জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় চরম আলোচনা ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
জানা গেছে, মসজিদের পূর্ব পাশে সম্প্রতি আরসিসি পিলার স্থাপন করে বাউন্ডারি প্রাচীর নির্মাণের জন্য বেস তৈরির কাজ শুরু করা হয়েছে। স্থানীয় একাধিক বিশ্বস্ত সূত্রের দাবি, নির্মাণাধীন বাউন্ডারির অন্তত ১১ ফুট অংশ সরকারি খাস জমির অন্তর্ভুক্ত। অথচ কোনো ধরনের সরকারি অনুমতি কিংবা নির্ভরযোগ্য সীমানা নির্ধারণ ছাড়াই কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, চলমান নির্বাচনী ব্যস্ততা ও রাজনৈতিক কর্মসূচির সুযোগকে কাজে লাগিয়ে মসজিদ কমিটির কয়েকজন সদস্যের উদ্যোগে নির্মাণকাজ শুরু হয়। রাস্তার পাশঘেঁষা ওই জমিটি দীর্ঘদিন ধরেই সরকারি খাস জমি হিসেবে পরিচিত থাকলেও যথাযথ যাচাই ছাড়াই প্রাচীর নির্মাণে স্থানীয়দের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
মসজিদ একটি ধর্মীয় ও সামাজিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান হওয়ায় এর সঙ্গে সরকারি জমি সংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগ সচেতন মহলে বাড়তি উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। অনেকেই মনে করছেন, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমে আইনগত বৈধতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা আরও বেশি জরুরি।

এ বিষয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য রবিউল ইসলাম মুঠোফোনে জানান,“মসজিদের বাউন্ডারি প্রাচীর দেওয়ার খুব একটা প্রয়োজন ছিল না। যেখানে প্রাচীর দেওয়া হচ্ছে সেখানে খাস জমি রয়েছে বলে শুনেছি। তবে মাপজোকের সময় আমি উপস্থিত ছিলাম না, তাই নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারছি না।”
অন্যদিকে, মাপজোকের সঙ্গে জড়িত বলে পরিচিত স্থানীয় মতিন আমিনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, তার করা মাপজোক অনুযায়ী নির্ধারিত সীমানার বাইরে গিয়ে প্রায় ১১ ফুট অতিরিক্ত জমি অন্তর্ভুক্ত করে বাউন্ডারি নির্মাণ করা হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দক্ষিণ-পূর্বপাড়া জামে মসজিদ কমিটির বর্তমান সভাপতি কামরুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক খোকন এবং কোষাধ্যক্ষ আজিজুল মোল্যা। মসজিদের জন্য সভাপতির পিতা প্রয়াত আব্দুল খালেক সরদার জীবদ্দশায় প্রায় দশ কাঠা জমি দান করেছিলেন।

স্থানীয়দের দাবি, উক্ত দানকৃত জমির বাইরে মসজিদের নামে আর কোনো জমি দানের রেকর্ড নেই।
এদিকে, আলোচিত খাস জমিটি মাধবকাটি ও যোগরাজপুর মৌজার সংযোগস্থলে অবস্থিত। কয়েক বছর আগে সেখানে সরকারি সীমানা নির্দেশক পিন স্থাপন করা হলেও তা পরবর্তীতে চুরি হয়ে যায় বলে জানান স্থানীয়রা। সীমানা চিহ্ন না থাকায় জমির প্রকৃত অবস্থান নির্ধারণে জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে।

এলাকাবাসীর জোর দাবি, দ্রুত ভূমি অফিস ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের মাধ্যমে বিষয়টি তদন্ত করে সঠিক সীমানা নির্ধারণ করা হোক। সরকারি খাস জমি জনস্বার্থের সম্পদ হওয়ায় এর অপব্যবহার রোধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি বলে মত দেন তারা।

এ বিষয়ে মসজিদ কমিটির পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয়রা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপে বিষয়টির স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য সমাধান প্রত্যাশা করছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
ভাষা চেঞ্জ করুন

সীমানা চিহ্ন চুরি, খাস জমি নিয়ে জটিলতায় মসজিদের বাউন্ডারি নির্মাণ

আপডেট সময় : 02:10:13 pm, Thursday, 5 February 2026

নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ঝাউডাঙ্গা ইউনিয়নের ছয়ঘরিয়া–অমরাবতী এলাকার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ-পূর্বপাড়া জামে মসজিদকে কেন্দ্র করে সরকারি খাস জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় চরম আলোচনা ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
জানা গেছে, মসজিদের পূর্ব পাশে সম্প্রতি আরসিসি পিলার স্থাপন করে বাউন্ডারি প্রাচীর নির্মাণের জন্য বেস তৈরির কাজ শুরু করা হয়েছে। স্থানীয় একাধিক বিশ্বস্ত সূত্রের দাবি, নির্মাণাধীন বাউন্ডারির অন্তত ১১ ফুট অংশ সরকারি খাস জমির অন্তর্ভুক্ত। অথচ কোনো ধরনের সরকারি অনুমতি কিংবা নির্ভরযোগ্য সীমানা নির্ধারণ ছাড়াই কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, চলমান নির্বাচনী ব্যস্ততা ও রাজনৈতিক কর্মসূচির সুযোগকে কাজে লাগিয়ে মসজিদ কমিটির কয়েকজন সদস্যের উদ্যোগে নির্মাণকাজ শুরু হয়। রাস্তার পাশঘেঁষা ওই জমিটি দীর্ঘদিন ধরেই সরকারি খাস জমি হিসেবে পরিচিত থাকলেও যথাযথ যাচাই ছাড়াই প্রাচীর নির্মাণে স্থানীয়দের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
মসজিদ একটি ধর্মীয় ও সামাজিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান হওয়ায় এর সঙ্গে সরকারি জমি সংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগ সচেতন মহলে বাড়তি উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। অনেকেই মনে করছেন, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমে আইনগত বৈধতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা আরও বেশি জরুরি।

এ বিষয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য রবিউল ইসলাম মুঠোফোনে জানান,“মসজিদের বাউন্ডারি প্রাচীর দেওয়ার খুব একটা প্রয়োজন ছিল না। যেখানে প্রাচীর দেওয়া হচ্ছে সেখানে খাস জমি রয়েছে বলে শুনেছি। তবে মাপজোকের সময় আমি উপস্থিত ছিলাম না, তাই নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারছি না।”
অন্যদিকে, মাপজোকের সঙ্গে জড়িত বলে পরিচিত স্থানীয় মতিন আমিনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, তার করা মাপজোক অনুযায়ী নির্ধারিত সীমানার বাইরে গিয়ে প্রায় ১১ ফুট অতিরিক্ত জমি অন্তর্ভুক্ত করে বাউন্ডারি নির্মাণ করা হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দক্ষিণ-পূর্বপাড়া জামে মসজিদ কমিটির বর্তমান সভাপতি কামরুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক খোকন এবং কোষাধ্যক্ষ আজিজুল মোল্যা। মসজিদের জন্য সভাপতির পিতা প্রয়াত আব্দুল খালেক সরদার জীবদ্দশায় প্রায় দশ কাঠা জমি দান করেছিলেন।

স্থানীয়দের দাবি, উক্ত দানকৃত জমির বাইরে মসজিদের নামে আর কোনো জমি দানের রেকর্ড নেই।
এদিকে, আলোচিত খাস জমিটি মাধবকাটি ও যোগরাজপুর মৌজার সংযোগস্থলে অবস্থিত। কয়েক বছর আগে সেখানে সরকারি সীমানা নির্দেশক পিন স্থাপন করা হলেও তা পরবর্তীতে চুরি হয়ে যায় বলে জানান স্থানীয়রা। সীমানা চিহ্ন না থাকায় জমির প্রকৃত অবস্থান নির্ধারণে জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে।

এলাকাবাসীর জোর দাবি, দ্রুত ভূমি অফিস ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের মাধ্যমে বিষয়টি তদন্ত করে সঠিক সীমানা নির্ধারণ করা হোক। সরকারি খাস জমি জনস্বার্থের সম্পদ হওয়ায় এর অপব্যবহার রোধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি বলে মত দেন তারা।

এ বিষয়ে মসজিদ কমিটির পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয়রা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপে বিষয়টির স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য সমাধান প্রত্যাশা করছেন।