সাতক্ষীরায় সাদিক জনকল্যাণ সমিতির এমডি গ্রাহকদের কোটি টাকা নিয়ে উধাও
- আপডেট সময় : 08:46:46 pm, Monday, 27 October 2025 199 300 বার পড়া হয়েছে

জি. এম. আমিনুল হক, সাতক্ষীরা:সাতক্ষীরায় আদালতপাড়া ও রেজিস্ট্রি অফিস এলাকাকে ঘিরে গড়ে ওঠা কথিত এনজিও ‘সাদিক জনকল্যাণ বহুমুখী সমবায় সমিতি’ গ্রাহকদের কোটি টাকার বেশি অর্থ আত্মসাৎ করে অফিসে তালা ঝুলিয়ে উধাও হয়ে গেছে। প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আব্দুল হামিদসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বর্তমানে পলাতক।
আদালতপাড়ার এক আইনজীবীর বাসার নিচতলায় ভাড়া অফিস নিয়ে প্রতিষ্ঠানটি ২০২০ সালের মাঝামাঝি থেকে কার্যক্রম শুরু করে। ব্যাংকের আদলে রেকর্ডবুক, প্যাড, চেকবই ও সঞ্চয়পত্র সাজিয়ে সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জন করে তারা। আদালতের কর্মকর্তা, আইনজীবী, আইনজীবী সহকারী ও রেজিস্ট্রি অফিসের কর্মচারীদের লক্ষ্য করে উচ্চ লভ্যাংশ ও সহজ ঋণের প্রলোভন দেখিয়ে ‘ডিপিএস’, ‘এফডিআর’ ও ‘সঞ্চয়পত্র’ চালু করেছিল প্রতিষ্ঠানটি।
প্রথম দিকে নিয়মিত লভ্যাংশ প্রদান করলেও ২০২৪ সালের জানুয়ারির পর থেকে তাদের কার্যক্রম ধীরে ধীরে বন্ধ হয়ে যায়। গত ৫ আগস্ট অফিসে তালা পড়লে প্রতারণার বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।
সূত্র জানায়, পরিচালক আব্দুল হামিদের পাশাপাশি ম্যানেজার আব্দুর রাজ্জাক সদস্য সংগ্রহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। এছাড়া নারী কর্মী পিয়া সুলতানা, খাদিজা খাতুন, শান্তা ও রিনাকে সামনে রেখে গ্রাহকদের আস্থা অর্জনের কৌশল নেয় প্রতিষ্ঠানটি। বর্তমানে অফিস ফাঁকা, আর কাউকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।
এক আইনজীবী সহকারী জানান, “আমি ১২ লাখ টাকা এফডিআর করেছিলাম। প্রথমে কিছু লভ্যাংশ পেয়েছি, পরে অফিস বন্ধ করে উধাও হয়ে যায়। ফোনেও যোগাযোগ করা যাচ্ছে না।”
অবসরপ্রাপ্ত আদালত পেশকার আব্দুল মুকিত বলেন, “২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। এখন অফিসে তালা। আমার কাগজপত্র সব আছে— প্রয়োজনে মামলা করব।”
জানা গেছে, আদালতপাড়া ও রেজিস্ট্রি অফিস এলাকার প্রায় তিন শতাধিক বিনিয়োগকারীর কাছ থেকে কোটি টাকারও বেশি অর্থ সংগ্রহ করেছে এ চক্রটি।
এক প্রতারিত গ্রাহক বলেন, “তাদের সবকিছুই ছিল পরিকল্পিত। নারী কর্মীরা ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলত। নতুন গ্রাহকের টাকা দিয়ে পুরনো গ্রাহককে লভ্যাংশ দেওয়া হতো। নতুন টাকা আসা বন্ধ হতেই সবাই পালিয়ে যায়।”
সাতক্ষীরা সদর সমবায় কার্যালয়ের কর্মকর্তা মো. শরিফুল ইসলাম জানান, “সাদিক জনকল্যাণ সমিতি নামে কোনো অনুমোদিত প্রতিষ্ঠান আছে কিনা জানা নেই। রেকর্ড দেখে বলতে পারব।”
অনুসন্ধানে জানা গেছে, মূল হোতা আব্দুল হামিদ সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলার আতাপুর গ্রামের মৃত মাদার ঢালির ছেলে। অফিস বন্ধের পর থেকেই তিনি আত্মগোপনে চলে যান। স্থানীয়রা জানান, আগে মাঝেমধ্যে বাড়িতে দেখা মিললেও এখন মাসের পর মাস অনুপস্থিত। কেউ বলছেন তিনি বিদেশে, কেউ বলছেন ঢাকায় লুকিয়ে আছেন।
প্রতারিত গ্রাহকদের হাতে এফডিআর বই, ডিপিএস রসিদ, সঞ্চয়পত্র ও চেকের কপি রয়েছে। তারা এসব প্রমাণসহ আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
স্থানীয় সচেতন মহল বলছেন, সাদিক জনকল্যাণ সমিতির প্রতারণা শুধু অর্থ আত্মসাৎ নয়— এটি সাধারণ মানুষের বিশ্বাস, আস্থা ও আর্থিক নিরাপত্তার ওপর চরম আঘাত।
তারা দ্রুত প্রতারক চক্রকে গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।


























