সাতক্ষীরায় সরকারি দপ্তরজুড়ে টেন্ডার সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য রাজনৈতিক পরিচয়ের আড়ালে কোটি কোটি টাকার কাজ বাগিয়ে নেওয়ার অভিযোগ
- আপডেট সময় : 07:07:25 pm, Thursday, 15 January 2026 269 300 বার পড়া হয়েছে

ওমর ফারুক বিপ্লব: সাতক্ষীরা জেলার বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানে একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের নাম ব্যবহার করে টেন্ডার সিন্ডিকেটের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার সরকারি কাজ লুটে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অনুসন্ধানে উঠে এসেছে—স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি), শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর, গণপূর্ত বিভাগ, পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো), জেলা পরিষদসহ একাধিক সরকারি দপ্তরে দীর্ঘদিন ধরে এই সিন্ডিকেট সক্রিয়।
সূত্র জানায়, এসব দপ্তরে দরপত্র আহ্বান করা হলে রাজনৈতিক পরিচয়ধারী একটি চক্র পরিকল্পিতভাবে টেন্ডার সিডিউল ক্রয় ও জমা দেওয়ার পুরো প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করে। লাইসেন্সধারী অনেক ঠিকাদারকে সিডিউল কিনতে বাধা দেওয়া হয়, কোথাও হুমকি, কোথাও জোরপূর্বক প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হয়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ঠিকাদাররা কৌশলে সিডিউল সংগ্রহ করলেও টেন্ডার বক্সে জমা দিতে পারেন না।
অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, এই সিন্ডিকেটের সঙ্গে কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীর গোপন যোগসাজশ রয়েছে। আর্থিক লেনদেনের বিনিময়ে সিন্ডিকেটভুক্ত ঠিকাদারদের কাগজপত্র বৈধ দেখিয়ে কাজ পাইয়ে দেওয়া হয়। বিপরীতে, সিন্ডিকেটের বাইরে থাকা ঠিকাদারদের কাগজপত্র সঠিক হলেও নানা অজুহাতে বাতিল করা হয়।
একাধিক ঠিকাদার নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, “বারবার টেন্ডারে অংশ নিয়েও আমরা কোনো কাজ পাই না। সিন্ডিকেটের বাইরে থাকলে কাজ পাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। প্রতিবাদ করলে হুমকি দেওয়া হয়।”
বিশেষ প্রক্রিয়ায় একাধিক প্রকল্প একই চক্রের হাতে চলে যাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। রাজনৈতিক দলের নাম ভাঙিয়ে গড়ে ওঠা এই চক্রে দখলবাজি, চাঁদাবাজি ও প্রভাব বিস্তারের মাধ্যমে সরকারি কাজ ভাগাভাগি করা হচ্ছে। ফলে প্রকৃত ও যোগ্য ঠিকাদাররা ন্যায্য কাজ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের পর ফ্যাসিস্ট সরকার পতনের পরও সাতক্ষীরায় এই সিন্ডিকেট আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ। শিক্ষা প্রকৌশল বিভাগ, পানি উন্নয়ন বোর্ড, গণপূর্ত বিভাগ ও জেলা পরিষদের একাধিক প্রকল্প থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।
পাউবো’র মাটি নিলামে অনিয়মের অভিযোগ
অনুসন্ধানে পাওয়া একটি নির্দিষ্ট ঘটনায় জানা যায়, সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ড-২ কর্তৃক বেতনা নদীর মাটি উত্তোলনের নিলামে “খুকুমনি” নামের এক ব্যক্তি সিডিউল ক্রয় করে অংশগ্রহণ করেন। যাচাই-বাছাই শেষে তিনি মাছখোলা এলাকার ৫ নম্বর প্যাকেজের কাজ বরাদ্দ পান।
কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, তিনি কোনো সিন্ডিকেটের সঙ্গে না থাকায় বরাদ্দকৃত স্থান থেকে দিনে-রাতে ২০ থেকে ৪০ ট্রলি ও ভ্যানে মাটি অপসারণ করছে একটি প্রভাবশালী চক্র।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী খুকুমনি বলেন,
“আমি নিয়ম মেনে নিলামে অংশগ্রহণ করে ৫ নম্বর প্যাকেজ পাই। কিন্তু আমার বরাদ্দকৃত মাটি প্রকাশ্যে লুট করা হচ্ছে। আমি জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। কোনো সিন্ডিকেটের সঙ্গে আপোষ করবো না।”
প্রশ্নের মুখে প্রশাসনের ভূমিকা
এ ঘটনায় প্রশাসনের নজরদারি ও দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সচেতন মহলের দাবি, অবিলম্বে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে টেন্ডার সিন্ডিকেট ভেঙে দেওয়া না হলে সরকারি উন্নয়ন কার্যক্রম চরমভাবে বাধাগ্রস্ত হবে।


























