সাতক্ষীরা 2:44 am, Monday, 9 November 2026
সংবাদ শিরোনাম ::
ছবিটা ক্লিয়ার করে দাও সাতক্ষীরায় ‘বিজ’-এর কৃষি কর্মসূচির আওতায় ফলজ, বনজ ও ঔষধি চারা বিতরণ আলিপুর ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে আলোচনায় আব্দুর রউফের পৌত্র সামির সোয়েব রাদমির অন্যায়ের বিরুদ্ধে আপসহীন, অধিকার ও সম্প্রীতির প্রশ্নে অদম্য—নতুন প্রত্যয়ে সাতক্ষীরায় যুব ঐক্য পরিষদ আশাশুনিতে শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের মাসিক কর্মপরিকল্পনা বৈঠক অনুষ্ঠিত পর্নোগ্রাফি ও চাঁদাবাজির মামলায় সাতক্ষীরার কথিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর, আব্দুল্লাহ আল মামুন গ্রেপ্তার ফ্রান্সের বর্তমান অবস্থা (জনগণের ক্ষোভ ও সামরিক শক্তি বৃদ্ধি) সাতক্ষীরায় মোটরসাইকেল চুরির অভিযোগে সার্জেন্টের ছেলে আটক, গণপিটুনির পর পুলিশের হেফাজতে সাতক্ষীরার ভোমরা সীমান্তে ভারতে পাচারকালে ১ কোটি ৫৫ লক্ষ টাকার স্বর্ণ সহ আটক: ১ সাতক্ষীরা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে কোষাধ্যক্ষ পদপ্রার্থী অ্যাডভোকেট শামীম রেজা সাতক্ষীরার দেবহাটায় গৃহবধূকে হেনস্তার চেষ্টা ও শিশুদের হয়রানির অভিযোগে যুবক আটক

সাতক্ষীরায় ভারতীয় নাগরিক ট্যাগ দিয়ে জমি দখল, মিথ্যা মামলা দিয়ে সাংবাদিক মারধর

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : 12:59:46 am, Sunday, 5 April 2026 180 300 বার পড়া হয়েছে
Khandakarit.com

স্টাফ রিপোর্টার, সাতক্ষীরা: সাতক্ষীরা জেলায় এক জমির মালিককে জোরপূর্বক ভারতীয় নাগরিক ট্যাগ দিয়ে অবৈধভাবে আটক, মিথ্যা মামলা দিয়ে কারাগারে প্রেরণ এবং তার সম্পত্তি দখলের অভিযোগ উঠেছে একটি প্রভাবশালী ভূমিদস্যু ও সন্ত্রাসী সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে। একই ঘটনায় প্রতিবাদ করতে গিয়ে মারধরের শিকার হয়েছেন এনটিভি’র সাতক্ষীরা জেলা প্রতিনিধি এস এম জুলফিকার আলী জিন্নাহ।

ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নাম মোকসুদার রশিদ, পিতা মোমেনার রশিদ। তিনি খুলনা জেলার সোনাডাঙ্গা থানার অন্তর্গত পশ্চিম বানিয়াখামার গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা এবং জন্মসূত্রে বাংলাদেশের বৈধ নাগরিক। তার জাতীয় পরিচয়পত্র (NID), পাসপোর্ট এবং টিআইএন (TIN) সবই বৈধ থাকা সত্ত্বেও তাকে ‘ভারতীয় নাগরিক’ আখ্যা দিয়ে দীর্ঘদিন হয়রানি করা হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০১৭ সালে একটি চক্র জোরপূর্বক সাতক্ষীরা সদরের ভোমরা লক্ষীদাড়ী মৌজায় অবস্থিত তার পৈতৃক ৩১ শতক জমি দখল করে এবং তাকে এলাকা ছাড়তে বাধ্য করে। জীবন বাঁচাতে তিনি ভারতে আশ্রয় নেন।
পরবর্তীতে দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে তিনি জমি বিক্রির উদ্দেশ্যে গত সোমবার (৩০ মার্চ) সাতক্ষীরা সদর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে গেলে ওই সিন্ডিকেটের সদস্যরা তাকে এবং পাওয়ার গ্রহিতা সাংবাদিক জিন্নাহকে মারধর করে এবং উল্টো তার বিরুদ্ধে ভারতীয় নাগরিক ট্যাগ দিয়ে পুলিশকে ম্যানেজ করে মিথ্যা মামলা দিয়ে কারাগারে পাঠায়। আরও অভিযোগ রয়েছে, ২০২৩ সালে একই ব্যক্তি ভূমিদস্যু রহমত গং এর কাছে নামমাত্র মূল্যে ৮৪ শতক জমি (দলিল নং-৫৩৩৯/২৩) বিক্রি করতে বাধ্য হন, যেখানে তাকে বাংলাদেশি নাগরিক হিসেবেই উল্লেখ করা হয়েছিল। অথচ বর্তমানে তাকেই ‘ভারতীয়’ বলে দাবি করা হচ্ছে।

অভিযোগ উঠেছে, পরবর্তীতে বিএনপি নেতা আব্দুর রউফ এর নির্দেশে সাংবাদিক জিন্নাহ ও পাওয়ার দাতা মোকসুদারের নামে নতুন করে আরেকটি মামলা দায়ের করা হয়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
এ বিষয়ে সাংবাদিক জিন্নাহর কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, আমি মূল মালিকের কাছ থেকে দলিল রেজিস্ট্রি করতে সদর সাব রেজিস্ট্রি অফিসে গেলে ভূমিদস্যু সিণ্ডিকেট দলের হোতা মাহাবুব উল্লাহ, মামুন, গোল্ড টুটুল সহ ২০/২৫ জন সন্ত্রাসী রেজিস্ট্রি অফিসের এজলাসে দেশীয় অস্ত্রসহ আমার উপর হামলা করে গুরতর জখম করে ৫ লক্ষ টাকা ছিনিয়ে নেয় এবং আমার জমি দাতাকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে গিয়ে মারধর করে মিথ্যা স্বীকারোক্তি আদায়ের চেষ্টা করে। তারা দলিল সম্পাদনের জন্য ৫০ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করে। পরবর্তীতে তারা পুলিশকে ম্যানেজ করে দাতা মোকসুদারকে ভারতীয় নাগরিক ট্যাগিং করে মামলা দিয়ে কারাগারে পাঠায়। এ বিষয়ে আমি সদর থানার একটি মামলা (সাতক্ষীরা সদর থানার মামলা নং-১ (০১.০৪.২০২৬) দায়ের করেছি। সম্পূর্ণ ঘটনাটি রেজিস্ট্রি অফিসের সিসিটিভি ফুটেজে সংরক্ষিত আছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, একটি প্রভাবশালী মহল দীর্ঘদিন ধরে ভূমি দখল, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং মিথ্যা মামলার মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করে আসছে। তারা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে সচেতন মহল বলছে, এ ধরনের ঘটনা আইনের শাসন ও মানবাধিকারের জন্য বড় হুমকি, যা দ্রুত সমাধান প্রয়োজন।#

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
ভাষা চেঞ্জ করুন

সাতক্ষীরায় ভারতীয় নাগরিক ট্যাগ দিয়ে জমি দখল, মিথ্যা মামলা দিয়ে সাংবাদিক মারধর

আপডেট সময় : 12:59:46 am, Sunday, 5 April 2026

স্টাফ রিপোর্টার, সাতক্ষীরা: সাতক্ষীরা জেলায় এক জমির মালিককে জোরপূর্বক ভারতীয় নাগরিক ট্যাগ দিয়ে অবৈধভাবে আটক, মিথ্যা মামলা দিয়ে কারাগারে প্রেরণ এবং তার সম্পত্তি দখলের অভিযোগ উঠেছে একটি প্রভাবশালী ভূমিদস্যু ও সন্ত্রাসী সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে। একই ঘটনায় প্রতিবাদ করতে গিয়ে মারধরের শিকার হয়েছেন এনটিভি’র সাতক্ষীরা জেলা প্রতিনিধি এস এম জুলফিকার আলী জিন্নাহ।

ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নাম মোকসুদার রশিদ, পিতা মোমেনার রশিদ। তিনি খুলনা জেলার সোনাডাঙ্গা থানার অন্তর্গত পশ্চিম বানিয়াখামার গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা এবং জন্মসূত্রে বাংলাদেশের বৈধ নাগরিক। তার জাতীয় পরিচয়পত্র (NID), পাসপোর্ট এবং টিআইএন (TIN) সবই বৈধ থাকা সত্ত্বেও তাকে ‘ভারতীয় নাগরিক’ আখ্যা দিয়ে দীর্ঘদিন হয়রানি করা হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০১৭ সালে একটি চক্র জোরপূর্বক সাতক্ষীরা সদরের ভোমরা লক্ষীদাড়ী মৌজায় অবস্থিত তার পৈতৃক ৩১ শতক জমি দখল করে এবং তাকে এলাকা ছাড়তে বাধ্য করে। জীবন বাঁচাতে তিনি ভারতে আশ্রয় নেন।
পরবর্তীতে দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে তিনি জমি বিক্রির উদ্দেশ্যে গত সোমবার (৩০ মার্চ) সাতক্ষীরা সদর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে গেলে ওই সিন্ডিকেটের সদস্যরা তাকে এবং পাওয়ার গ্রহিতা সাংবাদিক জিন্নাহকে মারধর করে এবং উল্টো তার বিরুদ্ধে ভারতীয় নাগরিক ট্যাগ দিয়ে পুলিশকে ম্যানেজ করে মিথ্যা মামলা দিয়ে কারাগারে পাঠায়। আরও অভিযোগ রয়েছে, ২০২৩ সালে একই ব্যক্তি ভূমিদস্যু রহমত গং এর কাছে নামমাত্র মূল্যে ৮৪ শতক জমি (দলিল নং-৫৩৩৯/২৩) বিক্রি করতে বাধ্য হন, যেখানে তাকে বাংলাদেশি নাগরিক হিসেবেই উল্লেখ করা হয়েছিল। অথচ বর্তমানে তাকেই ‘ভারতীয়’ বলে দাবি করা হচ্ছে।

অভিযোগ উঠেছে, পরবর্তীতে বিএনপি নেতা আব্দুর রউফ এর নির্দেশে সাংবাদিক জিন্নাহ ও পাওয়ার দাতা মোকসুদারের নামে নতুন করে আরেকটি মামলা দায়ের করা হয়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
এ বিষয়ে সাংবাদিক জিন্নাহর কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, আমি মূল মালিকের কাছ থেকে দলিল রেজিস্ট্রি করতে সদর সাব রেজিস্ট্রি অফিসে গেলে ভূমিদস্যু সিণ্ডিকেট দলের হোতা মাহাবুব উল্লাহ, মামুন, গোল্ড টুটুল সহ ২০/২৫ জন সন্ত্রাসী রেজিস্ট্রি অফিসের এজলাসে দেশীয় অস্ত্রসহ আমার উপর হামলা করে গুরতর জখম করে ৫ লক্ষ টাকা ছিনিয়ে নেয় এবং আমার জমি দাতাকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে গিয়ে মারধর করে মিথ্যা স্বীকারোক্তি আদায়ের চেষ্টা করে। তারা দলিল সম্পাদনের জন্য ৫০ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করে। পরবর্তীতে তারা পুলিশকে ম্যানেজ করে দাতা মোকসুদারকে ভারতীয় নাগরিক ট্যাগিং করে মামলা দিয়ে কারাগারে পাঠায়। এ বিষয়ে আমি সদর থানার একটি মামলা (সাতক্ষীরা সদর থানার মামলা নং-১ (০১.০৪.২০২৬) দায়ের করেছি। সম্পূর্ণ ঘটনাটি রেজিস্ট্রি অফিসের সিসিটিভি ফুটেজে সংরক্ষিত আছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, একটি প্রভাবশালী মহল দীর্ঘদিন ধরে ভূমি দখল, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং মিথ্যা মামলার মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করে আসছে। তারা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে সচেতন মহল বলছে, এ ধরনের ঘটনা আইনের শাসন ও মানবাধিকারের জন্য বড় হুমকি, যা দ্রুত সমাধান প্রয়োজন।#