সাতক্ষীরা 2:48 am, Monday, 9 November 2026
সংবাদ শিরোনাম ::
ছবিটা ক্লিয়ার করে দাও সাতক্ষীরায় ‘বিজ’-এর কৃষি কর্মসূচির আওতায় ফলজ, বনজ ও ঔষধি চারা বিতরণ আলিপুর ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে আলোচনায় আব্দুর রউফের পৌত্র সামির সোয়েব রাদমির অন্যায়ের বিরুদ্ধে আপসহীন, অধিকার ও সম্প্রীতির প্রশ্নে অদম্য—নতুন প্রত্যয়ে সাতক্ষীরায় যুব ঐক্য পরিষদ আশাশুনিতে শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের মাসিক কর্মপরিকল্পনা বৈঠক অনুষ্ঠিত পর্নোগ্রাফি ও চাঁদাবাজির মামলায় সাতক্ষীরার কথিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর, আব্দুল্লাহ আল মামুন গ্রেপ্তার ফ্রান্সের বর্তমান অবস্থা (জনগণের ক্ষোভ ও সামরিক শক্তি বৃদ্ধি) সাতক্ষীরায় মোটরসাইকেল চুরির অভিযোগে সার্জেন্টের ছেলে আটক, গণপিটুনির পর পুলিশের হেফাজতে সাতক্ষীরার ভোমরা সীমান্তে ভারতে পাচারকালে ১ কোটি ৫৫ লক্ষ টাকার স্বর্ণ সহ আটক: ১ সাতক্ষীরা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে কোষাধ্যক্ষ পদপ্রার্থী অ্যাডভোকেট শামীম রেজা সাতক্ষীরার দেবহাটায় গৃহবধূকে হেনস্তার চেষ্টা ও শিশুদের হয়রানির অভিযোগে যুবক আটক

সাতক্ষীরায় নায়েব আশরাফউজ্জামানের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ, ধামাচাপা দিতে সাংবাদিকদের ‘ম্যানেজ’ করার অভিযোগ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : 04:06:52 pm, Tuesday, 3 March 2026 258 300 বার পড়া হয়েছে
Khandakarit.com

নিজস্ব প্রতিবেদক :সাতক্ষীরায় এক ভূমি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন, দালাল সিন্ডিকেট পরিচালনা, ঘুষ বাণিজ্য এবং বিভিন্ন অনিয়মের একাধিক অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত আশরাফউজ্জামান বর্তমানে আটুলিয়া ইউনিয়ন-এ ভূমি সহকারী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তার পিতা রমজানগর ইউনিয়নের পাথরখোলা গ্রামের একজন সাধারণ কৃষক ছিলেন। ২০০৫ সালে ভূমি অফিসে চাকরি পাওয়ার পর থেকে তার আর্থিক অবস্থার দ্রুত পরিবর্তন ঘটে বলে অভিযোগ রয়েছে।
দৃশ্যমান সম্পদ নিয়ে প্রশ্ন
অভিযোগ অনুযায়ী—
সাতক্ষীরা শহরের মুনজিতপুর এলাকায় প্রায় ৩ কোটি টাকা মূল্যে দুইতলা বাড়ি নির্মাণ।
কাটিয়া এলাকায় প্রায় ২ কোটি টাকা মূল্যে দুটি দোকানসহ একতলা বাড়ি ক্রয়।
সুলতানপুর এলাকায় ৫ শতক জমির আমবাগান ক্রয় (প্রায় ৭০ লাখ টাকা মূল্যে, শ্বশুরের নামে)।
গ্রামে কয়েক একর কৃষিজমি ক্রয় এবং পরিবারের সদস্যদের নামে বিভিন্ন ব্যাংকে উল্লেখযোগ্য অঙ্কের আমানত।
স্থানীয়দের দাবি, ২১ বছরের চাকরি জীবনে সরকারি বেতন-ভাতার তুলনায় তার দৃশ্যমান সম্পদের পরিমাণ অস্বাভাবিকভাবে বেশি, যার বাজারমূল্য আনুমানিক ৭–৮ কোটি টাকা হতে পারে।
ঘুষ ও দালাল সিন্ডিকেটের অভিযোগ
সরজমিনে অনুসন্ধানে কয়েকজন ভুক্তভোগী অভিযোগ করেন, আটুলিয়া ভূমি অফিসে ঘুষ ছাড়া সেবা পাওয়া কঠিন। নামজারি, খাজনা দাখিলা, খাসজমি বন্দোবস্তসহ বিভিন্ন কাজে একটি দালাল চক্র সক্রিয় রয়েছে বলে তারা দাবি করেন।
অভিযোগ রয়েছে, খোলপেটুয়া নদীর চর এলাকায় জমি দখল ও প্লট বণ্টনকে কেন্দ্র করে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট কাজ করছে। সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বৈধ নিলাম বা লিখিত অনুমোদন ছাড়া লেনদেনের অভিযোগও উঠেছে।
সাংবাদিকদের টাকা দিয়ে ‘ম্যানেজ’ করার অভিযোগ
স্থানীয় সচেতন মহলের একাংশের দাবি, তার বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগ গণমাধ্যমে প্রকাশ না করতে বা নরমভাবে উপস্থাপন করতে কিছু সাংবাদিককে আর্থিকভাবে ‘ম্যানেজ’ করার চেষ্টা করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, বিভিন্ন সময় সংবাদ প্রকাশ ঠেকাতে প্রভাব খাটানো এবং আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়।
তবে এ সংক্রান্ত অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকদের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ভুক্তভোগীর বক্তব্য
আটুলিয়ার সাবেক ইউপি সদস্য আবুল বাশার দাবি করেন, দোকান বরাদ্দের নামে তার কাছ থেকে ৩ লাখ টাকা নেওয়া হয়েছে। টাকা ফেরত চাইলে ভয়ভীতি দেখানো হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
নারী কেলেঙ্কারির অভিযোগ
স্থানীয়দের একাংশের দাবি, অতীতে খরসা ইউনিয়নে কর্মরত থাকাকালীন তার বিরুদ্ধে নারী সংক্রান্ত অনৈতিক আচরণের অভিযোগ উঠেছিল। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক তদন্ত বা প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া
এ বিষয়ে শ্যামনগরের সহকারী ভূমি কমিশনারের বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি বলে জানা গেছে।
সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক আফরোজা আক্তার বলেন, বিষয়টি তার নজরে এসেছে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অভিযুক্ত আশরাফউজ্জামানের বক্তব্য জানার জন্য একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রকাশ করা হবে।
তদন্তের দাবি
ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সচেতন মহল দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং জেলা প্রশাসনের নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন। তাদের মতে, সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন হলে সাধারণ মানুষের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা পাবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
ভাষা চেঞ্জ করুন

সাতক্ষীরায় নায়েব আশরাফউজ্জামানের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ, ধামাচাপা দিতে সাংবাদিকদের ‘ম্যানেজ’ করার অভিযোগ

আপডেট সময় : 04:06:52 pm, Tuesday, 3 March 2026

নিজস্ব প্রতিবেদক :সাতক্ষীরায় এক ভূমি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন, দালাল সিন্ডিকেট পরিচালনা, ঘুষ বাণিজ্য এবং বিভিন্ন অনিয়মের একাধিক অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত আশরাফউজ্জামান বর্তমানে আটুলিয়া ইউনিয়ন-এ ভূমি সহকারী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তার পিতা রমজানগর ইউনিয়নের পাথরখোলা গ্রামের একজন সাধারণ কৃষক ছিলেন। ২০০৫ সালে ভূমি অফিসে চাকরি পাওয়ার পর থেকে তার আর্থিক অবস্থার দ্রুত পরিবর্তন ঘটে বলে অভিযোগ রয়েছে।
দৃশ্যমান সম্পদ নিয়ে প্রশ্ন
অভিযোগ অনুযায়ী—
সাতক্ষীরা শহরের মুনজিতপুর এলাকায় প্রায় ৩ কোটি টাকা মূল্যে দুইতলা বাড়ি নির্মাণ।
কাটিয়া এলাকায় প্রায় ২ কোটি টাকা মূল্যে দুটি দোকানসহ একতলা বাড়ি ক্রয়।
সুলতানপুর এলাকায় ৫ শতক জমির আমবাগান ক্রয় (প্রায় ৭০ লাখ টাকা মূল্যে, শ্বশুরের নামে)।
গ্রামে কয়েক একর কৃষিজমি ক্রয় এবং পরিবারের সদস্যদের নামে বিভিন্ন ব্যাংকে উল্লেখযোগ্য অঙ্কের আমানত।
স্থানীয়দের দাবি, ২১ বছরের চাকরি জীবনে সরকারি বেতন-ভাতার তুলনায় তার দৃশ্যমান সম্পদের পরিমাণ অস্বাভাবিকভাবে বেশি, যার বাজারমূল্য আনুমানিক ৭–৮ কোটি টাকা হতে পারে।
ঘুষ ও দালাল সিন্ডিকেটের অভিযোগ
সরজমিনে অনুসন্ধানে কয়েকজন ভুক্তভোগী অভিযোগ করেন, আটুলিয়া ভূমি অফিসে ঘুষ ছাড়া সেবা পাওয়া কঠিন। নামজারি, খাজনা দাখিলা, খাসজমি বন্দোবস্তসহ বিভিন্ন কাজে একটি দালাল চক্র সক্রিয় রয়েছে বলে তারা দাবি করেন।
অভিযোগ রয়েছে, খোলপেটুয়া নদীর চর এলাকায় জমি দখল ও প্লট বণ্টনকে কেন্দ্র করে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট কাজ করছে। সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বৈধ নিলাম বা লিখিত অনুমোদন ছাড়া লেনদেনের অভিযোগও উঠেছে।
সাংবাদিকদের টাকা দিয়ে ‘ম্যানেজ’ করার অভিযোগ
স্থানীয় সচেতন মহলের একাংশের দাবি, তার বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগ গণমাধ্যমে প্রকাশ না করতে বা নরমভাবে উপস্থাপন করতে কিছু সাংবাদিককে আর্থিকভাবে ‘ম্যানেজ’ করার চেষ্টা করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, বিভিন্ন সময় সংবাদ প্রকাশ ঠেকাতে প্রভাব খাটানো এবং আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়।
তবে এ সংক্রান্ত অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকদের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ভুক্তভোগীর বক্তব্য
আটুলিয়ার সাবেক ইউপি সদস্য আবুল বাশার দাবি করেন, দোকান বরাদ্দের নামে তার কাছ থেকে ৩ লাখ টাকা নেওয়া হয়েছে। টাকা ফেরত চাইলে ভয়ভীতি দেখানো হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
নারী কেলেঙ্কারির অভিযোগ
স্থানীয়দের একাংশের দাবি, অতীতে খরসা ইউনিয়নে কর্মরত থাকাকালীন তার বিরুদ্ধে নারী সংক্রান্ত অনৈতিক আচরণের অভিযোগ উঠেছিল। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক তদন্ত বা প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া
এ বিষয়ে শ্যামনগরের সহকারী ভূমি কমিশনারের বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি বলে জানা গেছে।
সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক আফরোজা আক্তার বলেন, বিষয়টি তার নজরে এসেছে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অভিযুক্ত আশরাফউজ্জামানের বক্তব্য জানার জন্য একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রকাশ করা হবে।
তদন্তের দাবি
ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সচেতন মহল দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং জেলা প্রশাসনের নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন। তাদের মতে, সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন হলে সাধারণ মানুষের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা পাবে।