সাতক্ষীরা 12:05 am, Monday, 9 November 2026
সংবাদ শিরোনাম ::
ছবিটা ক্লিয়ার করে দাও সাতক্ষীরায় ‘বিজ’-এর কৃষি কর্মসূচির আওতায় ফলজ, বনজ ও ঔষধি চারা বিতরণ আলিপুর ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে আলোচনায় আব্দুর রউফের পৌত্র সামির সোয়েব রাদমির অন্যায়ের বিরুদ্ধে আপসহীন, অধিকার ও সম্প্রীতির প্রশ্নে অদম্য—নতুন প্রত্যয়ে সাতক্ষীরায় যুব ঐক্য পরিষদ আশাশুনিতে শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের মাসিক কর্মপরিকল্পনা বৈঠক অনুষ্ঠিত পর্নোগ্রাফি ও চাঁদাবাজির মামলায় সাতক্ষীরার কথিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর, আব্দুল্লাহ আল মামুন গ্রেপ্তার ফ্রান্সের বর্তমান অবস্থা (জনগণের ক্ষোভ ও সামরিক শক্তি বৃদ্ধি) সাতক্ষীরায় মোটরসাইকেল চুরির অভিযোগে সার্জেন্টের ছেলে আটক, গণপিটুনির পর পুলিশের হেফাজতে সাতক্ষীরার ভোমরা সীমান্তে ভারতে পাচারকালে ১ কোটি ৫৫ লক্ষ টাকার স্বর্ণ সহ আটক: ১ সাতক্ষীরা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে কোষাধ্যক্ষ পদপ্রার্থী অ্যাডভোকেট শামীম রেজা সাতক্ষীরার দেবহাটায় গৃহবধূকে হেনস্তার চেষ্টা ও শিশুদের হয়রানির অভিযোগে যুবক আটক

সমাজসেবা অফিসারের বিরুদ্ধে প্রতিবন্ধীর টাকার আত্মসাতের অভিযোগ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : 09:37:21 pm, Sunday, 21 September 2025 176 300 বার পড়া হয়েছে
Khandakarit.com

শেখ ইলিয়াছ হোসেন, সাতক্ষীরা: সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলায় সাবেক সমাজসেবা অফিসার ও বর্তমানে বাগেরহাট জেলা সমাজসেবা অফিসের প্রবেশন অফিসার শেখ শহিদুর রহমানের বিরুদ্ধে গুরুতর অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, মথুরেশপুর ইউনিয়নের চরদাহ গ্রামের এক প্রতিবন্ধী আলমগীর কবিরের নামে ভিক্ষুক পুনর্বাসন প্রকল্প থেকে বরাদ্দকৃত ট্রাইসাইকেল বাবদ ৩০ হাজার টাকা আত্মসাৎ করেছেন তিনি।

প্রতিবন্ধী আলমগীর কবির অভিযোগে উল্লেখ করেছেন, ২০২৪ সালের ২০ অক্টোবর কালিগঞ্জ উপজেলা সমাজসেবা অফিস থেকে তার নামে ভিক্ষুক পুনর্বাসন প্রকল্পে ৩০ হাজার টাকা অনুমোদন হয়। এর আগেই ২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে সমাজসেবা অফিসার শেখ শহিদুর রহমান তার কাছ থেকে দরখাস্ত নিয়ে অফিসের হুমায়ুন কবিরকে দিয়ে প্রতিবন্ধী সেবা ও সাহায্য কেন্দ্র, সাতক্ষীরা থেকে একটি ট্রাইসাইকেল সংগ্রহ করেন। পরে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের মাধ্যমে ২৮ নভেম্বর আলমগীরকে সেই ট্রাইসাইকেলটি প্রদান করা হয়। কিন্তু বরাদ্দকৃত ৩০ হাজার টাকা তাকে দেওয়া হয়নি।

ভুক্তভোগী আলমগীর কবির সমাজসেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, বিভাগীয় পরিচালক ও জেলা প্রশাসকসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত আবেদন করে বরাদ্দকৃত টাকা ফেরত ও অভিযুক্ত অফিসারের বিচার দাবি করেছেন। তার অভিযোগ, তিনি একজন প্রতিবন্ধী হয়েও প্রতারণার শিকার হয়েছেন, অথচ প্রকল্পের টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে প্রবেশন অফিসার শেখ শহিদুর রহমান বলেন, অভিযোগটি সঠিক নয়। তিনি দাবি করেন, ভিক্ষুক পুনর্বাসন প্রকল্পের বরাদ্দকৃত ৩০ হাজার টাকা ভুক্তভোগী আলমগীরের মায়ের হাতে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া প্রতিবন্ধী সেবা ও সাহায্য কেন্দ্র থেকে প্রাপ্ত ট্রাইসাইকেলও ভুক্তভোগীর হাতে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।

শেখ শহিদুর রহমানের বিরুদ্ধে এর আগেও অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তিনি সরকারি কলেজ রোডে অনিয়মের মাধ্যমে একটি আলিশান বাড়ি নির্মাণ করেছেন। ২০২৪ সালের আগস্টে তাকে শ্যামনগরে বদলি করা হলে স্থানীয়রা তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে যায় যে তিনি সেখানকার দায়িত্ব নিতে পারেননি। পরে তাকে বাগেরহাটে প্রবেশন অফিসার হিসেবে বদলি করা হয়।

এ ঘটনায় এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। সাধারণ মানুষ ও ভুক্তভোগী পরিবার অভিযোগগুলোর স্বচ্ছ তদন্ত এবং প্রকৃত সত্য উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
ভাষা চেঞ্জ করুন

সমাজসেবা অফিসারের বিরুদ্ধে প্রতিবন্ধীর টাকার আত্মসাতের অভিযোগ

আপডেট সময় : 09:37:21 pm, Sunday, 21 September 2025

শেখ ইলিয়াছ হোসেন, সাতক্ষীরা: সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলায় সাবেক সমাজসেবা অফিসার ও বর্তমানে বাগেরহাট জেলা সমাজসেবা অফিসের প্রবেশন অফিসার শেখ শহিদুর রহমানের বিরুদ্ধে গুরুতর অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, মথুরেশপুর ইউনিয়নের চরদাহ গ্রামের এক প্রতিবন্ধী আলমগীর কবিরের নামে ভিক্ষুক পুনর্বাসন প্রকল্প থেকে বরাদ্দকৃত ট্রাইসাইকেল বাবদ ৩০ হাজার টাকা আত্মসাৎ করেছেন তিনি।

প্রতিবন্ধী আলমগীর কবির অভিযোগে উল্লেখ করেছেন, ২০২৪ সালের ২০ অক্টোবর কালিগঞ্জ উপজেলা সমাজসেবা অফিস থেকে তার নামে ভিক্ষুক পুনর্বাসন প্রকল্পে ৩০ হাজার টাকা অনুমোদন হয়। এর আগেই ২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে সমাজসেবা অফিসার শেখ শহিদুর রহমান তার কাছ থেকে দরখাস্ত নিয়ে অফিসের হুমায়ুন কবিরকে দিয়ে প্রতিবন্ধী সেবা ও সাহায্য কেন্দ্র, সাতক্ষীরা থেকে একটি ট্রাইসাইকেল সংগ্রহ করেন। পরে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের মাধ্যমে ২৮ নভেম্বর আলমগীরকে সেই ট্রাইসাইকেলটি প্রদান করা হয়। কিন্তু বরাদ্দকৃত ৩০ হাজার টাকা তাকে দেওয়া হয়নি।

ভুক্তভোগী আলমগীর কবির সমাজসেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, বিভাগীয় পরিচালক ও জেলা প্রশাসকসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত আবেদন করে বরাদ্দকৃত টাকা ফেরত ও অভিযুক্ত অফিসারের বিচার দাবি করেছেন। তার অভিযোগ, তিনি একজন প্রতিবন্ধী হয়েও প্রতারণার শিকার হয়েছেন, অথচ প্রকল্পের টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে প্রবেশন অফিসার শেখ শহিদুর রহমান বলেন, অভিযোগটি সঠিক নয়। তিনি দাবি করেন, ভিক্ষুক পুনর্বাসন প্রকল্পের বরাদ্দকৃত ৩০ হাজার টাকা ভুক্তভোগী আলমগীরের মায়ের হাতে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া প্রতিবন্ধী সেবা ও সাহায্য কেন্দ্র থেকে প্রাপ্ত ট্রাইসাইকেলও ভুক্তভোগীর হাতে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।

শেখ শহিদুর রহমানের বিরুদ্ধে এর আগেও অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তিনি সরকারি কলেজ রোডে অনিয়মের মাধ্যমে একটি আলিশান বাড়ি নির্মাণ করেছেন। ২০২৪ সালের আগস্টে তাকে শ্যামনগরে বদলি করা হলে স্থানীয়রা তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে যায় যে তিনি সেখানকার দায়িত্ব নিতে পারেননি। পরে তাকে বাগেরহাটে প্রবেশন অফিসার হিসেবে বদলি করা হয়।

এ ঘটনায় এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। সাধারণ মানুষ ও ভুক্তভোগী পরিবার অভিযোগগুলোর স্বচ্ছ তদন্ত এবং প্রকৃত সত্য উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন।