রাতের অন্ধকারে তেল কারবার, দিনে উদ্ধার ৫৪০০ লিটার—কালিগঞ্জে চাঞ্চল্য
- আপডেট সময় : 09:20:55 pm, Tuesday, 24 March 2026 165 300 বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক: সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলায় অবৈধভাবে বেশি দামে বিক্রি হওয়া বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেল উদ্ধার করা হয়েছে। বিষ্ণুপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম-এর হস্তক্ষেপে উদ্ধারকৃত ৫৪০০ লিটার তেল পরবর্তীতে ন্যায্যমূল্যে সাধারণ মোটরচালকদের মাঝে বিক্রির ব্যবস্থা করা হয়।
জানা যায়, সোমবার উপজেলার পারুলগাছা গ্রাম-এ অবস্থিত আল মদিনা ট্রেডার্স-এ গোপনে তেল বিক্রির ঘটনা ঘটে। প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী আনছার হাজী অবৈধভাবে ১৭৫ টাকা দরে প্রায় ১৪০০ লিটার তেল বিভিন্ন ব্যবসায়ীর কাছে বিক্রি করেন বলে অভিযোগ ওঠে।
বিষয়টি জানাজানি হলে চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে স্থানীয় নেতাকর্মীদের সহায়তায় অভিযান পরিচালনা করেন। এ সময় প্রায় ৮০০ লিটার অকটেন উদ্ধার করা হয়। পাশাপাশি অন্য একটি স্থান থেকে ৫০০০ লিটার মজুদ ডিজেল জব্দ করা হয়। পরে উদ্ধারকৃত তেল সাধারণ মোটরসাইকেল চালকদের লাইনে দাঁড় করিয়ে ন্যায্যমূল্যে বিক্রির ব্যবস্থা করা হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কালিগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় একটি সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে জ্বালানি তেল বেশি দামে বিক্রি করে আসছে। খুচরা বাজারে যেখানে নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি হওয়ার কথা নয়, সেখানে ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা দরে তেল বিক্রি করা হচ্ছে, যা সাধারণ মানুষের জন্য চরম ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বাইকচালক আরিফুল ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “কালোবাজারিরা ৩০০ টাকা দরে তেল বিক্রি করছে। কিছু বললে উল্টো হুমকি দেয়। তেলের অভাবে আমরা ঠিকমতো চলাচল করতে পারছি না। সরকারের কঠোর নজরদারি প্রয়োজন।”
এদিকে স্থানীয় বাসিন্দা মাহমুদ মোস্তফা বলেন, “কিছু অসাধু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট করে বেশি দামে তেল বিক্রি করছে। চেয়ারম্যানের হস্তক্ষেপে অন্তত সাধারণ মানুষ কিছুটা স্বস্তি পেয়েছে।”
চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “কালোবাজারিদের কারণে সাধারণ মানুষ ভোগান্তিতে পড়ছে। আমরা অভিযান চালিয়ে তেল উদ্ধার করে ন্যায্যমূল্যে বিক্রির ব্যবস্থা করেছি। এ ধরনের অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া উচিত।”
তবে এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে কালিগঞ্জের সহকারী কমিশনার (ভূমি) অমিত কুমার কোনো মন্তব্য করতে অপারগতা প্রকাশ করেন।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, প্রশাসনের কঠোর নজরদারি ও নিয়মিত অভিযান না হলে কালোবাজারি সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য বন্ধ করা কঠিন হয়ে পড়বে।






























