মোবাইল কোর্টের মাছ ‘নিধন’ নয়, বাজারে বিক্রি! কলারোয়ায় ১২০ মণ নিষিদ্ধ মাগুর নিয়ে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ
- আপডেট সময় : 12:44:29 am, Wednesday, 4 March 2026 117 300 বার পড়া হয়েছে

সাতক্ষীরা সংবাদদাতা: সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলায় প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে জব্দ হওয়া ১২০ মণ নিষিদ্ধ আফ্রিকান মাগুর মাছ নিধনের বদলে বাজারে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। প্রায় ১০ লাখ টাকা বাজারমূল্যের মাছ মাত্র ১ লাখ ২০ হাজার টাকায় ‘দফা-রফা’ করে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগে এলাকায় তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে।
প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, গত সোমবার (২ মার্চ) গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কলারোয়া উপজেলা মৎস্য অফিস-এর উদ্যোগে একটি অভিযান পরিচালিত হয়। উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সাঈদুর রহমান রেজার নেতৃত্বে পৌর সদরের তুলশীডাঙ্গা এলাকায় যশোর-সাতক্ষীরা মহাসড়ক থেকে ১২০ মণ আফ্রিকান মাগুরসহ একটি ট্রাক জব্দ করা হয়। এ সময় আটক হন হেলাতলা ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি ও মাছ ব্যবসায়ী আনোয়ারুল ইসলাম।
পরে অভিযুক্ত ব্যক্তি ও জব্দকৃত ট্রাক উপজেলা পরিষদ চত্বরে নেওয়া হলে কলারোয়া উপজেলা নির্বাহী অফিস-এ ভ্রাম্যমাণ আদালত বসান উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জেবুন নাহার। আদালত মামলার (নং ১-২০২৬) প্রেক্ষিতে অভিযুক্তকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেন এবং মাছগুলো তাৎক্ষণিক নিধনের মৌখিক নির্দেশ দেন বলে জানা যায়।
তবে অভিযোগ উঠেছে, সেই নির্দেশ বাস্তবে কার্যকর হয়নি। স্থানীয় সূত্রের দাবি, প্রভাবশালী মহলের মধ্যস্থতায় মাছগুলো নিধনের পরিবর্তে গোপনে বিক্রির সুযোগ করে দেওয়া হয়। মঙ্গলবার (৩ মার্চ) সকালে এসব মাছ ঢাকায় চড়া দামে বিক্রি হয়েছে বলেও অনুসন্ধানে জানা গেছে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার জেবুন নাহার বলেন, তিনি মাছ নিধনের আদেশ দিয়েছিলেন, কিন্তু তা কীভাবে বাস্তবায়ন হয়েছে—সে বিষয়ে তার কাছে কোনো তথ্য নেই। সাংবাদিকদের কাছে নিধনের লিখিত প্রমাণও দেখাতে পারেননি তিনি।
অন্যদিকে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সাঈদুর রহমান রেজা বলেন, তার দায়িত্ব ছিল অভিযুক্তকে আদালতে হাজির করা। মাছ জব্দ, শাস্তি প্রদান কিংবা নিধন বা অবমুক্ত করার এখতিয়ার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের।
ঘটনার বিষয়ে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসন-এর দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে জেলা প্রশাসক মিজ্ আফরোজা আখতার বিস্ময় প্রকাশ করেন। তিনি জানান, জব্দকৃত মাছ ও পরিবহন ছেড়ে দেওয়া সম্পূর্ণ বেআইনি। পুরো বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, অভিযুক্ত আনোয়ারুল ইসলাম এর আগেও দুইবার নিষিদ্ধ মাগুরসহ আটক হয়ে মুচলেকা দিয়ে ছাড়া পেয়েছিলেন। বারবার ছাড় পেয়ে তিনি আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন বলে দাবি এলাকাবাসীর।
নিষিদ্ধ আফ্রিকান মাগুর পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হিসেবে বিবেচিত হওয়া সত্ত্বেও প্রশাসনের এমন রহস্যজনক ভূমিকা নিয়ে কলারোয়ায় চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে।
























