মাদক ও সন্ত্রাস দমনে কড়া অবস্থান: বদলাচ্ছে কি সাতক্ষীরার অপরাধ মানচিত্র?
- আপডেট সময় : 09:43:08 pm, Monday, 2 March 2026 294 300 বার পড়া হয়েছে

সাতক্ষীরা কণ্ঠ: সীমান্তবর্তী সাতক্ষীরা জেলা দীর্ঘদিন ধরে মাদক, চোরাচালান ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের কারণে আলোচনায় ছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে জেলা পুলিশের ধারাবাহিক বিশেষ অভিযানে দৃশ্যমান পরিবর্তনের দাবি উঠেছে। প্রশ্ন হচ্ছে—এই পরিবর্তন কতটা স্থায়ী?
অনুসন্ধানে জানা গেছে, জেলা পুলিশ সুপার মোঃ আরেফিন জুয়েল দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই “জিরো টলারেন্স” নীতি ঘোষণা করেন। এরপর চিহ্নিত মাদক কারবারি, ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ও সক্রিয় সন্ত্রাসীদের তালিকা তৈরি করে পরিকল্পিতভাবে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে জেলার বিভিন্ন থানা এলাকায়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়—
গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও প্রবেশপথে চেকপোস্ট বসানো হয়েছে
নিয়মিত রাত্রীকালীন টহল জোরদার করা হয়েছে
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ব্লক রেইড পরিচালিত হচ্ছে
সীমান্তবর্তী এলাকায় গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে
সাম্প্রতিক অভিযানে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা, গাঁজা ও ফেনসিডিল উদ্ধার এবং একাধিক ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি গ্রেপ্তারের তথ্য দিয়েছে পুলিশ। কয়েকটি সক্রিয় সন্ত্রাসী চক্র ভেঙে দেওয়ার দাবিও করা হয়েছে।
জেলা পুলিশের দাবি, প্রায় ৮০ শতাংশ এলাকা এখন মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত। তবে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রকাশ্য মাদক বিক্রি কমলেও কিছু এলাকায় গোপনে লেনদেন এখনও চলছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
শহরের একাধিক ব্যবসায়ী জানান, রাতের টহল বাড়ায় ছিনতাই ও চাঁদাবাজির ঘটনা কমেছে। সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরতে শুরু করেছে বলেও তারা মন্তব্য করেন।
পুলিশ সুপার মোঃ আরেফিন জুয়েল বলেন,
“অপরাধ দমনে আমরা কোনো আপস করবো না। সাতক্ষীরাকে সম্পূর্ণ মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত করতে অভিযান অব্যাহত থাকবে।”
বিশ্লেষকদের মতে, সীমান্তবর্তী জেলা হওয়ায় মাদক প্রবাহ পুরোপুরি বন্ধ করা দীর্ঘমেয়াদি চ্যালেঞ্জ। তাই কেবল অভিযান নয়, সামাজিক প্রতিরোধ ও জনসম্পৃক্ততাও জরুরি।
সব মিলিয়ে অনুসন্ধানে ইঙ্গিত মিলেছে—আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে দৃশ্যমান উন্নতি এলেও স্থায়ী পরিবর্তনের জন্য প্রয়োজন ধারাবাহিক কঠোরতা ও নজরদারি। এখন দেখার বিষয়, চলমান অভিযানের ধারাবাহিকতা কতদিন বজায় থাকে এবং সত্যিই কি বদলে যায় সাতক্ষীরার অপরাধ মানচিত্র।
























