সাতক্ষীরা 1:52 am, Monday, 9 November 2026
সংবাদ শিরোনাম ::
ছবিটা ক্লিয়ার করে দাও সাতক্ষীরায় ‘বিজ’-এর কৃষি কর্মসূচির আওতায় ফলজ, বনজ ও ঔষধি চারা বিতরণ আলিপুর ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে আলোচনায় আব্দুর রউফের পৌত্র সামির সোয়েব রাদমির অন্যায়ের বিরুদ্ধে আপসহীন, অধিকার ও সম্প্রীতির প্রশ্নে অদম্য—নতুন প্রত্যয়ে সাতক্ষীরায় যুব ঐক্য পরিষদ আশাশুনিতে শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের মাসিক কর্মপরিকল্পনা বৈঠক অনুষ্ঠিত পর্নোগ্রাফি ও চাঁদাবাজির মামলায় সাতক্ষীরার কথিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর, আব্দুল্লাহ আল মামুন গ্রেপ্তার ফ্রান্সের বর্তমান অবস্থা (জনগণের ক্ষোভ ও সামরিক শক্তি বৃদ্ধি) সাতক্ষীরায় মোটরসাইকেল চুরির অভিযোগে সার্জেন্টের ছেলে আটক, গণপিটুনির পর পুলিশের হেফাজতে সাতক্ষীরার ভোমরা সীমান্তে ভারতে পাচারকালে ১ কোটি ৫৫ লক্ষ টাকার স্বর্ণ সহ আটক: ১ সাতক্ষীরা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে কোষাধ্যক্ষ পদপ্রার্থী অ্যাডভোকেট শামীম রেজা সাতক্ষীরার দেবহাটায় গৃহবধূকে হেনস্তার চেষ্টা ও শিশুদের হয়রানির অভিযোগে যুবক আটক

আশাশুনিতে কাগজ জালকারীকে বাদ দিয়ে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাকে তালিকাভুক্তির দাবীতে সংবাদ সম্মেলন

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : 08:51:50 pm, Monday, 27 October 2025 147 300 বার পড়া হয়েছে
Khandakarit.com

এস,এম মোস্তাফিজুর রহমান:সাতক্ষীরার আশাশুনিতে বিমাতা ভাইয়ের কাগজপত্র চুরি করে নিজের নাম ব্যবহারে মুক্তিযোদ্ধা হওয়া আনছারুজ্জামানকে বাতিল এবং প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাকে তালিকাভুক্তির দাবীতে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (২৭ অক্টোবর) বিকালে আশাশুনি প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করা হয়।
লিখিত বক্তব্য ও সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে উপজেলার নাংলা গ্রামের মৃত কারাচাদ মোল্যার ছেলে বীর মুক্তিযোদ্ধা জামালউদ্দিন মোল্লা জানান,আমার বিমাতা ভাই আনছারুজামান বাড়ীতে থাকাকালীন সময়ে আমার মুক্তিযোদ্ধা সকল কাগজপত্র চুরি করে নেয়। ঐ সময় আমি খুলনায় থাকি,তার কাছে মুক্তিযোদ্ধা কাগজপাতি চাইলে আজ দেব কাল দেব বলে ঘুরাতে থাকে। একসময় ঝগড়া বিবাদ হলে বেশী বাড়াবাড়ি করলে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। তখন উনি আওয়ামীলীগের বড় নেতা আমি ভয়ে বাড়ীতে ফেরতাম না। ২০০০ সালে আমার ২টি কিডনীতে পাথর হয়,ঘা হয়,প্রস্রাবে রক্ত পড়তে থাকে। খুলনায় ডাক্তার দেখালে বলে দেরী হয়ে গেছে এখনই অপারেশন করতে হবে। তখন এক আত্মীয়র মাধ্যমে ঢাকায় অপারেশন করি। তিন মাস পরে আবার অনেক পাথর ধরা পড়লে চিন্তায় অসুস্থ হয়ে পড়ি। ভারতে উখাট কিডনি মেডিকেল হসপিটালে অপারেশন করি। একটু সুস্থ্ হয়ে ১৫/৫/২২ তাং জামুকায় অভিযোগ করি।অভিযোগ আমলে নিয়ে ২১/১২/২২ তারিখে আমাকে স্বাক্ষী প্রমান নিয়ে হাজির হতে বলেন। আমি স্বাক্ষীদের নিয়ে ঢাকায় জামুকা মুক্তিযোদ্ধা অফিসে হাজির হই। তখন বিবাদী সময়ের আবেদন করেন এবং বার বার সময় নিতে থাকেন। মন্ত্রী মহোদয় আশাশুনির ইউএনও সাহেবের কাছে তদন্ত পাঠালে,ইউএনও সাহেব আমাকে স্বাক্ষী প্রমান ও কাগজপত্র নিয়ে হাজির হতে বলেন। বাদী সময় চায় যতবার দিন পরে ফাইল খুজে পাওয়া যায় না। এভাবে ২ বছর চলে যায়। ইউএনও সাহেব বদলী হলে তদস্থলে কৃষ্ণা রানী দাশ যোগদান করেন। তাঁর কাছে সকল কথা খুলে বলায় উনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন যে, এতদিনে তদন্ত হয় নাই এখন তদন্ত হবে। তিনি এসি (ল্যান্ড) স্যারের নিকট তদন্ত দেন এবং এসি (ল্যান্ড) ৮/৯/২০২৪ তারিখে স্বাক্ষী সহ কাগজপত্র নিয়ে হাজির হতে বলেন। আমি যথাসময়ে হাজির হয়ে স্বাক্ষীগন এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তি ও মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে হাজির হলে বিবাদী সময়ের আবেদন করেন। স্যার এবার বিবাদী হাজির না হলে একতরফা ভাবে খারিজ করে দেব বলেন। পরবর্তীতে আমি স্বাক্ষীগন ও মুক্তিযোদ্ধা মোক্তার হোসেন,মাহাবুবুর রহমান,বককার গাজী,আনিছুর রহমান,মোসলেম গাজী,লুৎফর রহমান,কামরুল ইসলাম,পরিমল চন্দ্র কার্তিক,ইসমাইল মোল্লা, রফিকুল ইসলাম,রুহুল কুদ্দুসকে নিয়ে সঠিক সময়ে হাজির হলে এসি ল্যান্ড মুক্তিযোদ্ধাদের ও গন্যমান্য ব্যক্তিদের স্বাক্ষীনেন এবং আনছারুজজামান ভূয়া মুক্তিযোদ্ধা বলে ঘোষনা দেন। বিবাদী এলাকার কোন গন্যমান্য ব্যক্তিকে হাজির করতে পারেন নাই। তিনি আরও বলেন,১৯৭১ সালে ইষ্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট যশোর সেনানিবাসে লোক নেয়। এসময় আনছারুজজামান,মোক্তার হোসেন,আঃ মালেক যোগদান করেন।
১৯৭১ সালে দেশের অবস্থা খারাপ হলে আনছারুজ্জামান যশোর হতে পালিয়ে খুলনায় চলে আসে। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার পরে গ্রামের বাড়ীতে চলে আসে। জামুকায় গত ২৯/৭/২৫ তাং উভয় পক্ষের শুনানি হয়। সেখানেও আনছারুজজমান আমার মুক্তিযোদ্ধার সকল কাগজপত্র দেখিয়ে নিজেই মুক্তিযোদ্ধা সাজে ও সরকার হতে সকল প্রকার ভাতা নিচ্ছে। ভূয়া মুক্তিযোদ্ধা আনছারুজ্জামান আমার কাগজপত্র ব্যবহার করে মুক্তিযোদ্ধার কাগজপত্র হাসিল করেছে। ইউএনও ও এসি ল্যান্ডের তদন্তে ও রিপোর্টে যা প্রমানিত হয়েছে। ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা আনছারুজ্জামানের কাগজপত্র বাতিল এবং আমাকে বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে তালিকাভুক্ত করতে উদ্ধর্তন কর্তৃপক্ষ যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহন করবেন সে দাবী জানাচ্ছি।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
ভাষা চেঞ্জ করুন

আশাশুনিতে কাগজ জালকারীকে বাদ দিয়ে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাকে তালিকাভুক্তির দাবীতে সংবাদ সম্মেলন

আপডেট সময় : 08:51:50 pm, Monday, 27 October 2025

এস,এম মোস্তাফিজুর রহমান:সাতক্ষীরার আশাশুনিতে বিমাতা ভাইয়ের কাগজপত্র চুরি করে নিজের নাম ব্যবহারে মুক্তিযোদ্ধা হওয়া আনছারুজ্জামানকে বাতিল এবং প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাকে তালিকাভুক্তির দাবীতে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (২৭ অক্টোবর) বিকালে আশাশুনি প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করা হয়।
লিখিত বক্তব্য ও সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে উপজেলার নাংলা গ্রামের মৃত কারাচাদ মোল্যার ছেলে বীর মুক্তিযোদ্ধা জামালউদ্দিন মোল্লা জানান,আমার বিমাতা ভাই আনছারুজামান বাড়ীতে থাকাকালীন সময়ে আমার মুক্তিযোদ্ধা সকল কাগজপত্র চুরি করে নেয়। ঐ সময় আমি খুলনায় থাকি,তার কাছে মুক্তিযোদ্ধা কাগজপাতি চাইলে আজ দেব কাল দেব বলে ঘুরাতে থাকে। একসময় ঝগড়া বিবাদ হলে বেশী বাড়াবাড়ি করলে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। তখন উনি আওয়ামীলীগের বড় নেতা আমি ভয়ে বাড়ীতে ফেরতাম না। ২০০০ সালে আমার ২টি কিডনীতে পাথর হয়,ঘা হয়,প্রস্রাবে রক্ত পড়তে থাকে। খুলনায় ডাক্তার দেখালে বলে দেরী হয়ে গেছে এখনই অপারেশন করতে হবে। তখন এক আত্মীয়র মাধ্যমে ঢাকায় অপারেশন করি। তিন মাস পরে আবার অনেক পাথর ধরা পড়লে চিন্তায় অসুস্থ হয়ে পড়ি। ভারতে উখাট কিডনি মেডিকেল হসপিটালে অপারেশন করি। একটু সুস্থ্ হয়ে ১৫/৫/২২ তাং জামুকায় অভিযোগ করি।অভিযোগ আমলে নিয়ে ২১/১২/২২ তারিখে আমাকে স্বাক্ষী প্রমান নিয়ে হাজির হতে বলেন। আমি স্বাক্ষীদের নিয়ে ঢাকায় জামুকা মুক্তিযোদ্ধা অফিসে হাজির হই। তখন বিবাদী সময়ের আবেদন করেন এবং বার বার সময় নিতে থাকেন। মন্ত্রী মহোদয় আশাশুনির ইউএনও সাহেবের কাছে তদন্ত পাঠালে,ইউএনও সাহেব আমাকে স্বাক্ষী প্রমান ও কাগজপত্র নিয়ে হাজির হতে বলেন। বাদী সময় চায় যতবার দিন পরে ফাইল খুজে পাওয়া যায় না। এভাবে ২ বছর চলে যায়। ইউএনও সাহেব বদলী হলে তদস্থলে কৃষ্ণা রানী দাশ যোগদান করেন। তাঁর কাছে সকল কথা খুলে বলায় উনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন যে, এতদিনে তদন্ত হয় নাই এখন তদন্ত হবে। তিনি এসি (ল্যান্ড) স্যারের নিকট তদন্ত দেন এবং এসি (ল্যান্ড) ৮/৯/২০২৪ তারিখে স্বাক্ষী সহ কাগজপত্র নিয়ে হাজির হতে বলেন। আমি যথাসময়ে হাজির হয়ে স্বাক্ষীগন এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তি ও মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে হাজির হলে বিবাদী সময়ের আবেদন করেন। স্যার এবার বিবাদী হাজির না হলে একতরফা ভাবে খারিজ করে দেব বলেন। পরবর্তীতে আমি স্বাক্ষীগন ও মুক্তিযোদ্ধা মোক্তার হোসেন,মাহাবুবুর রহমান,বককার গাজী,আনিছুর রহমান,মোসলেম গাজী,লুৎফর রহমান,কামরুল ইসলাম,পরিমল চন্দ্র কার্তিক,ইসমাইল মোল্লা, রফিকুল ইসলাম,রুহুল কুদ্দুসকে নিয়ে সঠিক সময়ে হাজির হলে এসি ল্যান্ড মুক্তিযোদ্ধাদের ও গন্যমান্য ব্যক্তিদের স্বাক্ষীনেন এবং আনছারুজজামান ভূয়া মুক্তিযোদ্ধা বলে ঘোষনা দেন। বিবাদী এলাকার কোন গন্যমান্য ব্যক্তিকে হাজির করতে পারেন নাই। তিনি আরও বলেন,১৯৭১ সালে ইষ্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট যশোর সেনানিবাসে লোক নেয়। এসময় আনছারুজজামান,মোক্তার হোসেন,আঃ মালেক যোগদান করেন।
১৯৭১ সালে দেশের অবস্থা খারাপ হলে আনছারুজ্জামান যশোর হতে পালিয়ে খুলনায় চলে আসে। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার পরে গ্রামের বাড়ীতে চলে আসে। জামুকায় গত ২৯/৭/২৫ তাং উভয় পক্ষের শুনানি হয়। সেখানেও আনছারুজজমান আমার মুক্তিযোদ্ধার সকল কাগজপত্র দেখিয়ে নিজেই মুক্তিযোদ্ধা সাজে ও সরকার হতে সকল প্রকার ভাতা নিচ্ছে। ভূয়া মুক্তিযোদ্ধা আনছারুজ্জামান আমার কাগজপত্র ব্যবহার করে মুক্তিযোদ্ধার কাগজপত্র হাসিল করেছে। ইউএনও ও এসি ল্যান্ডের তদন্তে ও রিপোর্টে যা প্রমানিত হয়েছে। ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা আনছারুজ্জামানের কাগজপত্র বাতিল এবং আমাকে বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে তালিকাভুক্ত করতে উদ্ধর্তন কর্তৃপক্ষ যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহন করবেন সে দাবী জানাচ্ছি।