সাতক্ষীরা 4:50 am, Monday, 9 November 2026
সংবাদ শিরোনাম ::
ছবিটা ক্লিয়ার করে দাও সাতক্ষীরায় ‘বিজ’-এর কৃষি কর্মসূচির আওতায় ফলজ, বনজ ও ঔষধি চারা বিতরণ আলিপুর ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে আলোচনায় আব্দুর রউফের পৌত্র সামির সোয়েব রাদমির অন্যায়ের বিরুদ্ধে আপসহীন, অধিকার ও সম্প্রীতির প্রশ্নে অদম্য—নতুন প্রত্যয়ে সাতক্ষীরায় যুব ঐক্য পরিষদ আশাশুনিতে শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের মাসিক কর্মপরিকল্পনা বৈঠক অনুষ্ঠিত পর্নোগ্রাফি ও চাঁদাবাজির মামলায় সাতক্ষীরার কথিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর, আব্দুল্লাহ আল মামুন গ্রেপ্তার ফ্রান্সের বর্তমান অবস্থা (জনগণের ক্ষোভ ও সামরিক শক্তি বৃদ্ধি) সাতক্ষীরায় মোটরসাইকেল চুরির অভিযোগে সার্জেন্টের ছেলে আটক, গণপিটুনির পর পুলিশের হেফাজতে সাতক্ষীরার ভোমরা সীমান্তে ভারতে পাচারকালে ১ কোটি ৫৫ লক্ষ টাকার স্বর্ণ সহ আটক: ১ সাতক্ষীরা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে কোষাধ্যক্ষ পদপ্রার্থী অ্যাডভোকেট শামীম রেজা সাতক্ষীরার দেবহাটায় গৃহবধূকে হেনস্তার চেষ্টা ও শিশুদের হয়রানির অভিযোগে যুবক আটক

রক্তাক্ত জুলাই: শহীদ স্মৃতি

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : 09:52:11 pm, Friday, 18 July 2025 244 300 বার পড়া হয়েছে
Khandakarit.com

সাতক্ষীরার মাটি চিরকালই অন্যায়ের বিরুদ্ধে এক অদম্য দুর্গ। এই ভূমির সন্তানেরা বাতিলের সাথে আপোষহীন, প্রতিটি স্পন্দনে তাদের হৃদয়ে ন্যায় প্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষা। সেই ইতিহাসেরই এক রক্তাক্ত অধ্যায়ে, জুলাই আন্দোলনের অগ্নিগর্ভে জন্ম নিলেন এক অমর শহীদ, আসিফ হাসান।

গত জুলাইয়ে বাংলাদেশ দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছিল – একদিকে ন্যায় ও ইনসাফের আলোর পথ, অন্যদিকে অন্যায় ও স্বৈরাচারের অন্ধকার ছায়া। আসিফ সেদিন শুধু নিজের অধিকারের জন্য লড়েননি; তিনি ছিলেন সমগ্র বাংলাদেশের অধিকারবঞ্চিত মানুষের কণ্ঠস্বর। তাঁর আত্মোৎসর্গই আজ এই জাতিকে তাদের কাঙ্ক্ষিত অধিকার ও ন্যায়বিচার পুনরুদ্ধারের পথে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।

সাতক্ষীরার সাহসী সন্তান, উজ্জ্বল মেধাবী ছাত্র শহীদ আসিফ হাসান – তিনি শুধু একটি নাম নন, এক জীবন্ত ইতিহাস। তাঁর অকুতোভয় ভূমিকা সেদিন ফ্যাসিবাদী, স্বৈরাচারী শাসককে ক্ষমতাচ্যুত হতে বাধ্য করেছিল। জুলাই মাস যেন বাংলার সাহসী মায়েদের বুক খালি করার মাস হয়ে এসেছিল। কোনো মা জানতেন না, এই মাসেই তাঁদের কলিজার টুকরা সন্তান চিরতরে বিদায় নেবে। সেই নির্মম ভাগ্যের শিকার হয়েছিলেন সাতক্ষীরার এক সাহসী মা, হারিয়েছিলেন তাঁর প্রিয় সন্তানকে। আমরা হারিয়েছি আমাদের অকুতোভয় সেনানীকে। শুধু আমরা নই, হে আসিফ, পুরো বাংলাদেশ তোমাকে হারিয়েছে!

২০০৩ সালের ৫ আগস্ট জন্ম নেওয়া আসিফ হাসান, নর্দান বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের এক স্বপ্নবাজ তরুণ। পরিবারের মুখে হাসি ফোটানোর অদম্য আকাঙ্ক্ষা নিয়ে সে ঢাকার পথে পাড়ি জমিয়েছিল। কিন্তু তার সেই স্বপ্ন শুধু পরিবারের ক্ষুদ্র গণ্ডিতেই সীমাবদ্ধ থাকেনি; শহীদ আসিফের এই আত্মদান আজ সমগ্র বাংলাদেশের মুখে হাসি ফুটিয়েছে।

বোনের শেষ স্মৃতি… এক অশ্রুসিক্ত ফোনালাপ

রাজপথ তখন স্লোগানে মুখরিত, গুলি আর বারুদের গন্ধে ভারী বাতাস। ঠিক সেই মুহূর্তে আসিফের ফোনে ভেসে আসে বোনের কণ্ঠস্বর।

> “আপা, তুমি পরে ফোন দাও। আমাদের এক ভাই গুলিবিদ্ধ হয়েছে। সে পানি খেতে চাইছে, আমি তাকে পানি খাওয়াবো।”

এ ছিল আসিফের শেষ কথা। সেই নির্মম স্বৈরাচারের বুলেট এক নিমেষেই তার সব স্বপ্নকে ছিন্নভিন্ন করে দিল। কিন্তু শহীদ আসিফের স্বপ্ন অপূর্ণ থাকেনি। অসংখ্য জুলাই যোদ্ধা আজও সেই স্বপ্ন পূরণের প্রত্যয়ে বেঁচে আছে, ইনশাআল্লাহ তারা তা পূরণ করবেই।

আল্লাহ তাঁর শাহাদাত কবুল করুন। তাঁর পবিত্র রক্তের বিনিময়ে এই দেশে স্বৈরাচার, ফ্যাসিবাদ ও খুনের রাজনীতি যেন আর ফিরে না আসে। হে আল্লাহ, আমাদেরকে যেন চিরকাল সত্য ও ন্যায়ের পথে অটল রাখেন…আমিন।
লেখক: মোঃ জুবায়ের হোসেন।
সভাপতি, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির,
সাতক্ষীরা জেলা

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
ভাষা চেঞ্জ করুন

রক্তাক্ত জুলাই: শহীদ স্মৃতি

আপডেট সময় : 09:52:11 pm, Friday, 18 July 2025

সাতক্ষীরার মাটি চিরকালই অন্যায়ের বিরুদ্ধে এক অদম্য দুর্গ। এই ভূমির সন্তানেরা বাতিলের সাথে আপোষহীন, প্রতিটি স্পন্দনে তাদের হৃদয়ে ন্যায় প্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষা। সেই ইতিহাসেরই এক রক্তাক্ত অধ্যায়ে, জুলাই আন্দোলনের অগ্নিগর্ভে জন্ম নিলেন এক অমর শহীদ, আসিফ হাসান।

গত জুলাইয়ে বাংলাদেশ দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছিল – একদিকে ন্যায় ও ইনসাফের আলোর পথ, অন্যদিকে অন্যায় ও স্বৈরাচারের অন্ধকার ছায়া। আসিফ সেদিন শুধু নিজের অধিকারের জন্য লড়েননি; তিনি ছিলেন সমগ্র বাংলাদেশের অধিকারবঞ্চিত মানুষের কণ্ঠস্বর। তাঁর আত্মোৎসর্গই আজ এই জাতিকে তাদের কাঙ্ক্ষিত অধিকার ও ন্যায়বিচার পুনরুদ্ধারের পথে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।

সাতক্ষীরার সাহসী সন্তান, উজ্জ্বল মেধাবী ছাত্র শহীদ আসিফ হাসান – তিনি শুধু একটি নাম নন, এক জীবন্ত ইতিহাস। তাঁর অকুতোভয় ভূমিকা সেদিন ফ্যাসিবাদী, স্বৈরাচারী শাসককে ক্ষমতাচ্যুত হতে বাধ্য করেছিল। জুলাই মাস যেন বাংলার সাহসী মায়েদের বুক খালি করার মাস হয়ে এসেছিল। কোনো মা জানতেন না, এই মাসেই তাঁদের কলিজার টুকরা সন্তান চিরতরে বিদায় নেবে। সেই নির্মম ভাগ্যের শিকার হয়েছিলেন সাতক্ষীরার এক সাহসী মা, হারিয়েছিলেন তাঁর প্রিয় সন্তানকে। আমরা হারিয়েছি আমাদের অকুতোভয় সেনানীকে। শুধু আমরা নই, হে আসিফ, পুরো বাংলাদেশ তোমাকে হারিয়েছে!

২০০৩ সালের ৫ আগস্ট জন্ম নেওয়া আসিফ হাসান, নর্দান বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের এক স্বপ্নবাজ তরুণ। পরিবারের মুখে হাসি ফোটানোর অদম্য আকাঙ্ক্ষা নিয়ে সে ঢাকার পথে পাড়ি জমিয়েছিল। কিন্তু তার সেই স্বপ্ন শুধু পরিবারের ক্ষুদ্র গণ্ডিতেই সীমাবদ্ধ থাকেনি; শহীদ আসিফের এই আত্মদান আজ সমগ্র বাংলাদেশের মুখে হাসি ফুটিয়েছে।

বোনের শেষ স্মৃতি… এক অশ্রুসিক্ত ফোনালাপ

রাজপথ তখন স্লোগানে মুখরিত, গুলি আর বারুদের গন্ধে ভারী বাতাস। ঠিক সেই মুহূর্তে আসিফের ফোনে ভেসে আসে বোনের কণ্ঠস্বর।

> “আপা, তুমি পরে ফোন দাও। আমাদের এক ভাই গুলিবিদ্ধ হয়েছে। সে পানি খেতে চাইছে, আমি তাকে পানি খাওয়াবো।”

এ ছিল আসিফের শেষ কথা। সেই নির্মম স্বৈরাচারের বুলেট এক নিমেষেই তার সব স্বপ্নকে ছিন্নভিন্ন করে দিল। কিন্তু শহীদ আসিফের স্বপ্ন অপূর্ণ থাকেনি। অসংখ্য জুলাই যোদ্ধা আজও সেই স্বপ্ন পূরণের প্রত্যয়ে বেঁচে আছে, ইনশাআল্লাহ তারা তা পূরণ করবেই।

আল্লাহ তাঁর শাহাদাত কবুল করুন। তাঁর পবিত্র রক্তের বিনিময়ে এই দেশে স্বৈরাচার, ফ্যাসিবাদ ও খুনের রাজনীতি যেন আর ফিরে না আসে। হে আল্লাহ, আমাদেরকে যেন চিরকাল সত্য ও ন্যায়ের পথে অটল রাখেন…আমিন।
লেখক: মোঃ জুবায়ের হোসেন।
সভাপতি, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির,
সাতক্ষীরা জেলা