সাতক্ষীরা 11:39 pm, Sunday, 8 November 2026
সংবাদ শিরোনাম ::
ছবিটা ক্লিয়ার করে দাও সাতক্ষীরায় ‘বিজ’-এর কৃষি কর্মসূচির আওতায় ফলজ, বনজ ও ঔষধি চারা বিতরণ আলিপুর ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে আলোচনায় আব্দুর রউফের পৌত্র সামির সোয়েব রাদমির অন্যায়ের বিরুদ্ধে আপসহীন, অধিকার ও সম্প্রীতির প্রশ্নে অদম্য—নতুন প্রত্যয়ে সাতক্ষীরায় যুব ঐক্য পরিষদ আশাশুনিতে শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের মাসিক কর্মপরিকল্পনা বৈঠক অনুষ্ঠিত পর্নোগ্রাফি ও চাঁদাবাজির মামলায় সাতক্ষীরার কথিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর, আব্দুল্লাহ আল মামুন গ্রেপ্তার ফ্রান্সের বর্তমান অবস্থা (জনগণের ক্ষোভ ও সামরিক শক্তি বৃদ্ধি) সাতক্ষীরায় মোটরসাইকেল চুরির অভিযোগে সার্জেন্টের ছেলে আটক, গণপিটুনির পর পুলিশের হেফাজতে সাতক্ষীরার ভোমরা সীমান্তে ভারতে পাচারকালে ১ কোটি ৫৫ লক্ষ টাকার স্বর্ণ সহ আটক: ১ সাতক্ষীরা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে কোষাধ্যক্ষ পদপ্রার্থী অ্যাডভোকেট শামীম রেজা সাতক্ষীরার দেবহাটায় গৃহবধূকে হেনস্তার চেষ্টা ও শিশুদের হয়রানির অভিযোগে যুবক আটক

কালিগঞ্জে জমি দখল, ভয়ভীতি ও মিথ্যা মামলার অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : 10:12:33 pm, Wednesday, 29 October 2025 188 300 বার পড়া হয়েছে
Khandakarit.com

নিজস্ব প্রতিনিধি :সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে জমি দখল, ভয়ভীতি, মিথ্যা মামলা ও সামাজিকভাবে হেয় করার অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন করেছেন উপজেলার কুশলিয়া ইউনিয়নের ঠেকরা গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা কাজী কবির আহম্মদ। মঙ্গলবার (২৯ অক্টোবর) বিকেলে কালিগঞ্জ সাংবাদিক ফোরামে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি লিখিত বক্তব্যে বলেন একই গ্রামের এক ব্যক্তি তথাকথিত সাংবাদিক পরিচয় ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় দখলবাজি, চাঁদাবাজি ও ত্রাস সৃষ্টি করে চলেছে।

অভিযোগে তিনি বলেন, ঠেকরা মৌজার ৩৪২ খতিয়ান ও ৪৫৬ দাগে মোট ৩৯ শতক জমি কবির আহম্মেদ বৈধভাবে দলিলমূলে ক্রয় করেছেন। কিন্তু স্থানীয় এক পরিবার—মৃত কাজী আবু হানিফার পাঁচ পুত্র, যথাক্রমে শফিকুল ইসলাম, আহাদুল ইসলাম, শাহিন ওরফে শাকিল, শাহীলাল ও সুমন—জোরপূর্বক ওই জমির ২২ শতক দখলের চেষ্টা করছে। এর মধ্যে শাহিন ওরফে শাকিল নিজেকে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে প্রশাসনের ভয় দেখানো, মিথ্যা মামলা ও সামাজিকভাবে হয়রানির মাধ্যমে এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি করছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

কাজী কবির আহম্মদ জানান, সম্প্রতি “এশিয়ান টিভি”-এর নাম ব্যবহার করে একটি ইউটিউব প্রতিবেদনে তার বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত তথ্য প্রচার করা হয়েছে। ওই প্রতিবেদনে তাকে অবৈধ দখলদার হিসেবে উপস্থাপন করা হলেও, প্রশাসনিক ও আদালতের অনুসন্ধানে দেখা গেছে তার দলিল বৈধ এবং দখল সঠিক রয়েছে। বরং প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধেই ভূমি অপরাধ আইনের ১৮৮ ধারায় চার্জশিট গঠিত হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

তিনি বলেন, বিষয়টি স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের কাছে অভিযোগ আকারে দাখিলের পর একাধিক শুনানি হয়। চেয়ারম্যানের রায়ে বলা হয়, “যদি ষোল আনা প্লটে জমি কম বা বেশি থাকে, তবে রেকর্ডধারী ব্যক্তি ভোগদখল করিবে।” পরবর্তীতে দুইজন আমিনের উপস্থিতিতে জমির মাপ নেওয়া হলে দেখা যায়, তার দখলে থাকা জমির পরিমাণ ঠিক ৩৯ শতক—যা দলিল অনুযায়ী বৈধ। কিন্তু প্রতিপক্ষ পরিবার রায় মানতে অস্বীকৃতি জানিয়ে বিভিন্নভাবে সময়ক্ষেপণ করছে এবং দখলচেষ্টার পাঁয়তারা চালাচ্ছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়, অভিযুক্ত শাহিন ওরফে শাকিল সাংবাদিক পরিচয়ের অপব্যবহার করে ঘের দখল, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও মিথ্যা মামলা দিয়ে এলাকাবাসীকে জিম্মি করে রেখেছে। ওই পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের বিরুদ্ধেও রয়েছে নানাবিধ অপরাধের অভিযোগ। এর মধ্যে শফিকুল ইসলাম প্রতারণার মাধ্যমে বহু বিয়ে করে আর্থিক প্রতারণা করেছেন; আহাদুল ইসলাম প্রায় ৩৫–৩৬ লাখ টাকা আত্মসাৎ করে স্ত্রী-সন্তানসহ পালিয়ে আছেন; শাহীলাল স্ত্রী-সন্তান রেখে আত্মীয়কে বিয়ে করে সামাজিকভাবে বিতর্কিত হয়েছেন; সুমন দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসায় জড়িত এবং এলাকায় “গাঁজার সম্রাট” নামে পরিচিত—এমন দাবিও করেন অভিযোগকারী।

সংবাদ সম্মেলনে কাজী কবির আহম্মদ বলেন, “আমি একজন অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা। জীবনের সঞ্চয়ে ক্রয় করা বৈধ সম্পত্তি এখন দখলবাজদের টার্গেট হয়েছে। তথাকথিত সাংবাদিক পরিচয় ব্যবহার করে কেউ যদি অপরাধ কর্মকাণ্ড চালায়, তবে তা শুধু আমার নয়—পুরো এলাকার শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য হুমকি।”

তিনি প্রশাসনের কাছে তার ক্রয়কৃত, রেকর্ডভুক্ত ও দখলকৃত জমিতে যাতে কোনো প্রকার বিঘ্ন সৃষ্টি না হয় এবং সংশ্লিষ্ট পরিবারের চাঁদাবাজি, দখলবাজি ও হয়রানিমূলক কর্মকাণ্ড বন্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া ও “এশিয়ান টিভি” কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ—করেছেন তাদের প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহার করে কেউ যাতে অনৈতিক বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত না হতে পারে। তিনি তদন্ত করে শাহিন ওরফে শাকিল সহ তার পরিবারের হয়রানী বন্দে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহনের আহবান জানিয়েছেন। এ বিষয়ে প্রধান অভিযুক্ত শাহিন ওরফে শাকিলের কাছে জানতে চাইলে তিনি সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন জমি-জমা সংক্রান্ত ঝামেলার কারণে আমার প্রতিপক্ষ কবির আহম্মেদ এমন অভিযোগ করেছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
ভাষা চেঞ্জ করুন

কালিগঞ্জে জমি দখল, ভয়ভীতি ও মিথ্যা মামলার অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন

আপডেট সময় : 10:12:33 pm, Wednesday, 29 October 2025

নিজস্ব প্রতিনিধি :সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে জমি দখল, ভয়ভীতি, মিথ্যা মামলা ও সামাজিকভাবে হেয় করার অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন করেছেন উপজেলার কুশলিয়া ইউনিয়নের ঠেকরা গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা কাজী কবির আহম্মদ। মঙ্গলবার (২৯ অক্টোবর) বিকেলে কালিগঞ্জ সাংবাদিক ফোরামে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি লিখিত বক্তব্যে বলেন একই গ্রামের এক ব্যক্তি তথাকথিত সাংবাদিক পরিচয় ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় দখলবাজি, চাঁদাবাজি ও ত্রাস সৃষ্টি করে চলেছে।

অভিযোগে তিনি বলেন, ঠেকরা মৌজার ৩৪২ খতিয়ান ও ৪৫৬ দাগে মোট ৩৯ শতক জমি কবির আহম্মেদ বৈধভাবে দলিলমূলে ক্রয় করেছেন। কিন্তু স্থানীয় এক পরিবার—মৃত কাজী আবু হানিফার পাঁচ পুত্র, যথাক্রমে শফিকুল ইসলাম, আহাদুল ইসলাম, শাহিন ওরফে শাকিল, শাহীলাল ও সুমন—জোরপূর্বক ওই জমির ২২ শতক দখলের চেষ্টা করছে। এর মধ্যে শাহিন ওরফে শাকিল নিজেকে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে প্রশাসনের ভয় দেখানো, মিথ্যা মামলা ও সামাজিকভাবে হয়রানির মাধ্যমে এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি করছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

কাজী কবির আহম্মদ জানান, সম্প্রতি “এশিয়ান টিভি”-এর নাম ব্যবহার করে একটি ইউটিউব প্রতিবেদনে তার বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত তথ্য প্রচার করা হয়েছে। ওই প্রতিবেদনে তাকে অবৈধ দখলদার হিসেবে উপস্থাপন করা হলেও, প্রশাসনিক ও আদালতের অনুসন্ধানে দেখা গেছে তার দলিল বৈধ এবং দখল সঠিক রয়েছে। বরং প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধেই ভূমি অপরাধ আইনের ১৮৮ ধারায় চার্জশিট গঠিত হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

তিনি বলেন, বিষয়টি স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের কাছে অভিযোগ আকারে দাখিলের পর একাধিক শুনানি হয়। চেয়ারম্যানের রায়ে বলা হয়, “যদি ষোল আনা প্লটে জমি কম বা বেশি থাকে, তবে রেকর্ডধারী ব্যক্তি ভোগদখল করিবে।” পরবর্তীতে দুইজন আমিনের উপস্থিতিতে জমির মাপ নেওয়া হলে দেখা যায়, তার দখলে থাকা জমির পরিমাণ ঠিক ৩৯ শতক—যা দলিল অনুযায়ী বৈধ। কিন্তু প্রতিপক্ষ পরিবার রায় মানতে অস্বীকৃতি জানিয়ে বিভিন্নভাবে সময়ক্ষেপণ করছে এবং দখলচেষ্টার পাঁয়তারা চালাচ্ছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়, অভিযুক্ত শাহিন ওরফে শাকিল সাংবাদিক পরিচয়ের অপব্যবহার করে ঘের দখল, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও মিথ্যা মামলা দিয়ে এলাকাবাসীকে জিম্মি করে রেখেছে। ওই পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের বিরুদ্ধেও রয়েছে নানাবিধ অপরাধের অভিযোগ। এর মধ্যে শফিকুল ইসলাম প্রতারণার মাধ্যমে বহু বিয়ে করে আর্থিক প্রতারণা করেছেন; আহাদুল ইসলাম প্রায় ৩৫–৩৬ লাখ টাকা আত্মসাৎ করে স্ত্রী-সন্তানসহ পালিয়ে আছেন; শাহীলাল স্ত্রী-সন্তান রেখে আত্মীয়কে বিয়ে করে সামাজিকভাবে বিতর্কিত হয়েছেন; সুমন দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসায় জড়িত এবং এলাকায় “গাঁজার সম্রাট” নামে পরিচিত—এমন দাবিও করেন অভিযোগকারী।

সংবাদ সম্মেলনে কাজী কবির আহম্মদ বলেন, “আমি একজন অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা। জীবনের সঞ্চয়ে ক্রয় করা বৈধ সম্পত্তি এখন দখলবাজদের টার্গেট হয়েছে। তথাকথিত সাংবাদিক পরিচয় ব্যবহার করে কেউ যদি অপরাধ কর্মকাণ্ড চালায়, তবে তা শুধু আমার নয়—পুরো এলাকার শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য হুমকি।”

তিনি প্রশাসনের কাছে তার ক্রয়কৃত, রেকর্ডভুক্ত ও দখলকৃত জমিতে যাতে কোনো প্রকার বিঘ্ন সৃষ্টি না হয় এবং সংশ্লিষ্ট পরিবারের চাঁদাবাজি, দখলবাজি ও হয়রানিমূলক কর্মকাণ্ড বন্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া ও “এশিয়ান টিভি” কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ—করেছেন তাদের প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহার করে কেউ যাতে অনৈতিক বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত না হতে পারে। তিনি তদন্ত করে শাহিন ওরফে শাকিল সহ তার পরিবারের হয়রানী বন্দে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহনের আহবান জানিয়েছেন। এ বিষয়ে প্রধান অভিযুক্ত শাহিন ওরফে শাকিলের কাছে জানতে চাইলে তিনি সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন জমি-জমা সংক্রান্ত ঝামেলার কারণে আমার প্রতিপক্ষ কবির আহম্মেদ এমন অভিযোগ করেছেন।