সাতক্ষীরা 12:22 am, Monday, 9 November 2026
সংবাদ শিরোনাম ::
ছবিটা ক্লিয়ার করে দাও সাতক্ষীরায় ‘বিজ’-এর কৃষি কর্মসূচির আওতায় ফলজ, বনজ ও ঔষধি চারা বিতরণ আলিপুর ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে আলোচনায় আব্দুর রউফের পৌত্র সামির সোয়েব রাদমির অন্যায়ের বিরুদ্ধে আপসহীন, অধিকার ও সম্প্রীতির প্রশ্নে অদম্য—নতুন প্রত্যয়ে সাতক্ষীরায় যুব ঐক্য পরিষদ আশাশুনিতে শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের মাসিক কর্মপরিকল্পনা বৈঠক অনুষ্ঠিত পর্নোগ্রাফি ও চাঁদাবাজির মামলায় সাতক্ষীরার কথিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর, আব্দুল্লাহ আল মামুন গ্রেপ্তার ফ্রান্সের বর্তমান অবস্থা (জনগণের ক্ষোভ ও সামরিক শক্তি বৃদ্ধি) সাতক্ষীরায় মোটরসাইকেল চুরির অভিযোগে সার্জেন্টের ছেলে আটক, গণপিটুনির পর পুলিশের হেফাজতে সাতক্ষীরার ভোমরা সীমান্তে ভারতে পাচারকালে ১ কোটি ৫৫ লক্ষ টাকার স্বর্ণ সহ আটক: ১ সাতক্ষীরা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে কোষাধ্যক্ষ পদপ্রার্থী অ্যাডভোকেট শামীম রেজা সাতক্ষীরার দেবহাটায় গৃহবধূকে হেনস্তার চেষ্টা ও শিশুদের হয়রানির অভিযোগে যুবক আটক

ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অর্থ লুটপাটের দাবি

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : 07:55:48 pm, Sunday, 10 May 2026 161 300 বার পড়া হয়েছে
Khandakarit.com

সাতক্ষীরা কন্ঠ ডেস্ক:সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার মথেরেশপুর ইউনিয়নে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি ও সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল হাকিমের বিরুদ্ধে। স্থানীয় ইউপি সদস্য, সাধারণ মানুষ ও ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, সরকারি উন্নয়ন কাজের নামে ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিল, নিম্নমানের নির্মাণ কাজ এবং বরাদ্দের অর্থ ও খাদ্যসামগ্রী আত্মসাতের মাধ্যমে লাখ লাখ টাকা লুটপাট করা হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভ ও আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

রবিবার (১০ মে) সকাল ১০টার দিকে সরেজমিনে বিভিন্ন প্রকল্প এলাকা ঘুরে দেখা যায়, ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের নিজদেবপুর গ্রামের সাইদুল ঢালীর বাড়ি থেকে হাবিব ঢালীর বাড়ি পর্যন্ত প্রায় এক লাখ টাকা ব্যয়ে একটি ইট সোলিং রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, রাস্তা নির্মাণের প্রকল্পটি মূলত চেয়ারম্যান আব্দুল হাকিমের ভায়রা ভাইয়ের ব্যক্তিগত চলাচলের সুবিধার্থে করা হয়েছে। যদিও এটি ব্যক্তি মালিকানাধীন রাস্তা, তবুও সরকারি রাস্তা হিসেবে দেখিয়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
এলাকাবাসী আরও জানান, ইউনিয়নে সরকারি বরাদ্দের ৭ টন চালের বিনিময়ে পরিচালিত একটি পুকুর খনন প্রকল্পেও ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে। প্রকল্পটির উদ্দেশ্য ছিল এলাকাবাসীর সুপেয় পানির সংকট দূর করা। কিন্তু বর্তমানে পুকুরটির চারপাশে দেয়াল নির্মাণ করে সেটিকে ব্যক্তিগত নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হয়েছে। এর ফলে ওই এলাকার প্রায় ৩৫টি সনাতন ধর্মাবলম্বী পরিবার, জেলে সম্প্রদায়সহ অসংখ্য সাধারণ মানুষ সুপেয় পানি ব্যবহার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
স্থানীয়দের দাবি, প্রকল্পের সুবিধা সাধারণ মানুষের জন্য নিশ্চিত করার কথা থাকলেও তা এখন একটি বিশেষ গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে। এ নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে।

এদিকে নিজদেবপুর পূর্বপাড়া এলাকায় হালিম সরদারের বাড়ি থেকে মোল্লাবাড়ি মসজিদ পর্যন্ত প্রায় ২ লাখ ৬০ হাজার টাকা ব্যয়ে নির্মিত রাস্তার কাজেও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, রাস্তার দুই পাশে মাটি ভরাট বাবদ বরাদ্দকৃত প্রায় ৩০ হাজার টাকার কাজ বাস্তবে করা হয়নি। বরং পুরো অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে দাবি করেন তারা।

অপরদিকে নিত্যানন্দপুর এলাকায় নওশাদ গাজীর বাড়ি থেকে জুব্বারের বাড়ি পর্যন্ত ইটের সোলিং রাস্তা নির্মাণ কাজেও সীমাহীন দুর্নীতির অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের দাবি, নিম্নমানের ইট ও অপর্যাপ্ত নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করায় রাস্তার স্থায়িত্ব নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। কিছুদিন যেতে না যেতেই রাস্তার বিভিন্ন অংশ ভেঙে যেতে শুরু করেছে বলেও জানান তারা।
স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, উন্নয়নের নামে এমন অনিয়ম ও দুর্নীতি চলতে থাকলে সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড প্রশ্নবিদ্ধ হবে। তারা অবিলম্বে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।এ বিষয়ে চেয়ারম্যান আব্দুল হাকিমের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
ভাষা চেঞ্জ করুন

ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অর্থ লুটপাটের দাবি

আপডেট সময় : 07:55:48 pm, Sunday, 10 May 2026

সাতক্ষীরা কন্ঠ ডেস্ক:সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার মথেরেশপুর ইউনিয়নে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি ও সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল হাকিমের বিরুদ্ধে। স্থানীয় ইউপি সদস্য, সাধারণ মানুষ ও ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, সরকারি উন্নয়ন কাজের নামে ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিল, নিম্নমানের নির্মাণ কাজ এবং বরাদ্দের অর্থ ও খাদ্যসামগ্রী আত্মসাতের মাধ্যমে লাখ লাখ টাকা লুটপাট করা হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভ ও আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

রবিবার (১০ মে) সকাল ১০টার দিকে সরেজমিনে বিভিন্ন প্রকল্প এলাকা ঘুরে দেখা যায়, ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের নিজদেবপুর গ্রামের সাইদুল ঢালীর বাড়ি থেকে হাবিব ঢালীর বাড়ি পর্যন্ত প্রায় এক লাখ টাকা ব্যয়ে একটি ইট সোলিং রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, রাস্তা নির্মাণের প্রকল্পটি মূলত চেয়ারম্যান আব্দুল হাকিমের ভায়রা ভাইয়ের ব্যক্তিগত চলাচলের সুবিধার্থে করা হয়েছে। যদিও এটি ব্যক্তি মালিকানাধীন রাস্তা, তবুও সরকারি রাস্তা হিসেবে দেখিয়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
এলাকাবাসী আরও জানান, ইউনিয়নে সরকারি বরাদ্দের ৭ টন চালের বিনিময়ে পরিচালিত একটি পুকুর খনন প্রকল্পেও ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে। প্রকল্পটির উদ্দেশ্য ছিল এলাকাবাসীর সুপেয় পানির সংকট দূর করা। কিন্তু বর্তমানে পুকুরটির চারপাশে দেয়াল নির্মাণ করে সেটিকে ব্যক্তিগত নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হয়েছে। এর ফলে ওই এলাকার প্রায় ৩৫টি সনাতন ধর্মাবলম্বী পরিবার, জেলে সম্প্রদায়সহ অসংখ্য সাধারণ মানুষ সুপেয় পানি ব্যবহার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
স্থানীয়দের দাবি, প্রকল্পের সুবিধা সাধারণ মানুষের জন্য নিশ্চিত করার কথা থাকলেও তা এখন একটি বিশেষ গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে। এ নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে।

এদিকে নিজদেবপুর পূর্বপাড়া এলাকায় হালিম সরদারের বাড়ি থেকে মোল্লাবাড়ি মসজিদ পর্যন্ত প্রায় ২ লাখ ৬০ হাজার টাকা ব্যয়ে নির্মিত রাস্তার কাজেও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, রাস্তার দুই পাশে মাটি ভরাট বাবদ বরাদ্দকৃত প্রায় ৩০ হাজার টাকার কাজ বাস্তবে করা হয়নি। বরং পুরো অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে দাবি করেন তারা।

অপরদিকে নিত্যানন্দপুর এলাকায় নওশাদ গাজীর বাড়ি থেকে জুব্বারের বাড়ি পর্যন্ত ইটের সোলিং রাস্তা নির্মাণ কাজেও সীমাহীন দুর্নীতির অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের দাবি, নিম্নমানের ইট ও অপর্যাপ্ত নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করায় রাস্তার স্থায়িত্ব নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। কিছুদিন যেতে না যেতেই রাস্তার বিভিন্ন অংশ ভেঙে যেতে শুরু করেছে বলেও জানান তারা।
স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, উন্নয়নের নামে এমন অনিয়ম ও দুর্নীতি চলতে থাকলে সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড প্রশ্নবিদ্ধ হবে। তারা অবিলম্বে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।এ বিষয়ে চেয়ারম্যান আব্দুল হাকিমের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।