সাতক্ষীরা 4:36 am, Monday, 9 November 2026
সংবাদ শিরোনাম ::
ছবিটা ক্লিয়ার করে দাও সাতক্ষীরায় ‘বিজ’-এর কৃষি কর্মসূচির আওতায় ফলজ, বনজ ও ঔষধি চারা বিতরণ আলিপুর ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে আলোচনায় আব্দুর রউফের পৌত্র সামির সোয়েব রাদমির অন্যায়ের বিরুদ্ধে আপসহীন, অধিকার ও সম্প্রীতির প্রশ্নে অদম্য—নতুন প্রত্যয়ে সাতক্ষীরায় যুব ঐক্য পরিষদ আশাশুনিতে শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের মাসিক কর্মপরিকল্পনা বৈঠক অনুষ্ঠিত পর্নোগ্রাফি ও চাঁদাবাজির মামলায় সাতক্ষীরার কথিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর, আব্দুল্লাহ আল মামুন গ্রেপ্তার ফ্রান্সের বর্তমান অবস্থা (জনগণের ক্ষোভ ও সামরিক শক্তি বৃদ্ধি) সাতক্ষীরায় মোটরসাইকেল চুরির অভিযোগে সার্জেন্টের ছেলে আটক, গণপিটুনির পর পুলিশের হেফাজতে সাতক্ষীরার ভোমরা সীমান্তে ভারতে পাচারকালে ১ কোটি ৫৫ লক্ষ টাকার স্বর্ণ সহ আটক: ১ সাতক্ষীরা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে কোষাধ্যক্ষ পদপ্রার্থী অ্যাডভোকেট শামীম রেজা সাতক্ষীরার দেবহাটায় গৃহবধূকে হেনস্তার চেষ্টা ও শিশুদের হয়রানির অভিযোগে যুবক আটক

সাতক্ষীরা সরকারি কলেজে ১০ বিঘা জমি লীজ নিয়ে বিভ্রান্তি, কর্তৃপক্ষের ব্যাখ্যা

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : 10:04:05 pm, Monday, 20 April 2026 125 300 বার পড়া হয়েছে
Khandakarit.com

সাতক্ষীরা কণ্ঠ ডেস্ক: সাতক্ষীরা সরকারি কলেজের ১০ বিঘা জমি লীজ প্রদানকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও কিছু গণমাধ্যমে নানা ধরনের আলোচনা ও বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে কলেজ কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিয়েছে।
জানা গেছে, কলেজের প্রায় ৯০ বিঘা জমির মধ্যে ১০ বিঘা জমি ধান ও সরিষা চাষের জন্য লীজ দেওয়া হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্র ও সরেজমিন অনুসন্ধানে দেখা গেছে, আলোচিত জমিটি কোনো একাডেমিক কার্যক্রম, খেলার মাঠ বা শিক্ষার্থীদের উন্মুক্ত ব্যবহারের অংশ নয়।
কলেজ কর্তৃপক্ষের দাবি, জমিটি নিচু হওয়ায় বর্ষা মৌসুমে পানি জমে থাকে এবং বছরের অধিকাংশ সময় এটি অনাবাদী অবস্থায় পড়ে থাকে। এই জমিকে উৎপাদনশীল করার লক্ষ্যে কৃষিকাজের জন্য লীজ দেওয়া হয়েছে, যার মাধ্যমে প্রতিবছর প্রায় ৭০ হাজার টাকা কলেজের তহবিলে যুক্ত হচ্ছে। এই অর্থ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নমূলক কাজে ব্যয় করা হচ্ছে।
জমিটি একটি সংরক্ষিত এলাকায় অবস্থিত, যেখানে তারকাঁটা দিয়ে বাউন্ডারি দেওয়া রয়েছে। একই এলাকায় একটি ছাত্রী হোস্টেল রয়েছে, যেখানে প্রায় ১৪৩ জন শিক্ষার্থী বসবাস করে। ছাত্রীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনায় রেখে এলাকাটি সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
এছাড়া সংরক্ষিত এলাকার প্রবেশমুখে একটি বোটানিক্যাল গার্ডেন স্থাপন করা হয়েছে এবং সেখানে নিয়মিত বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। পুরো এলাকাটি একটি পরিকল্পিত ও পরিবেশবান্ধব জোন হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে কলেজের বাকি বিস্তৃত এলাকায় একাধিক খেলার মাঠ, উন্মুক্ত প্রাঙ্গণ, গাছপালা, একটি বড় পুকুর এবং শিক্ষার্থীদের বসার জন্য পাকা ব্যবস্থা রয়েছে। পুকুরের দুই পাশে ঘাট নির্মাণ করা হয়েছে এবং শিক্ষার্থীদের জন্য একটি প্রশস্ত কমনরুমও চালু আছে। প্রায় ১৮ হাজার শিক্ষার্থীর জন্য পর্যাপ্ত খোলা জায়গা রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
তবে কিছু শিক্ষার্থীর অভিযোগ, লীজ দেওয়া জমির কারণে ক্যাম্পাসে তাদের চলাচলে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে। এ বিষয়ে কলেজ প্রশাসনের বক্তব্য, একটি ক্ষুদ্র গোষ্ঠী মূলত সংরক্ষিত ছাত্রী হোস্টেল এলাকায় প্রবেশের সুযোগ চাচ্ছে, যা নিরাপত্তাজনিত কারণে অনুমোদনযোগ্য নয়।
কর্তৃপক্ষ আরও জানায়, সাধারণ শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে এ ধরনের কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। বরং একটি ছোট গোষ্ঠী বিষয়টিকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করে অযথা বিতর্ক তৈরি করছে, যা শিক্ষাঙ্গনের স্বাভাবিক পরিবেশ ব্যাহত করতে পারে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে ছাত্রীদের নিরাপত্তার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব পাওয়া উচিত।
সবশেষে, অনাবাদী জমিকে উৎপাদনশীল করে অর্থনৈতিক সুবিধা অর্জন এবং একই সঙ্গে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার এই উদ্যোগকে ভুলভাবে উপস্থাপন করা অনাকাঙ্ক্ষিত। সচেতন মহলের উচিত তথ্যভিত্তিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে বিষয়টি মূল্যায়ন করা।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
ভাষা চেঞ্জ করুন

সাতক্ষীরা সরকারি কলেজে ১০ বিঘা জমি লীজ নিয়ে বিভ্রান্তি, কর্তৃপক্ষের ব্যাখ্যা

আপডেট সময় : 10:04:05 pm, Monday, 20 April 2026

সাতক্ষীরা কণ্ঠ ডেস্ক: সাতক্ষীরা সরকারি কলেজের ১০ বিঘা জমি লীজ প্রদানকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও কিছু গণমাধ্যমে নানা ধরনের আলোচনা ও বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে কলেজ কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিয়েছে।
জানা গেছে, কলেজের প্রায় ৯০ বিঘা জমির মধ্যে ১০ বিঘা জমি ধান ও সরিষা চাষের জন্য লীজ দেওয়া হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্র ও সরেজমিন অনুসন্ধানে দেখা গেছে, আলোচিত জমিটি কোনো একাডেমিক কার্যক্রম, খেলার মাঠ বা শিক্ষার্থীদের উন্মুক্ত ব্যবহারের অংশ নয়।
কলেজ কর্তৃপক্ষের দাবি, জমিটি নিচু হওয়ায় বর্ষা মৌসুমে পানি জমে থাকে এবং বছরের অধিকাংশ সময় এটি অনাবাদী অবস্থায় পড়ে থাকে। এই জমিকে উৎপাদনশীল করার লক্ষ্যে কৃষিকাজের জন্য লীজ দেওয়া হয়েছে, যার মাধ্যমে প্রতিবছর প্রায় ৭০ হাজার টাকা কলেজের তহবিলে যুক্ত হচ্ছে। এই অর্থ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নমূলক কাজে ব্যয় করা হচ্ছে।
জমিটি একটি সংরক্ষিত এলাকায় অবস্থিত, যেখানে তারকাঁটা দিয়ে বাউন্ডারি দেওয়া রয়েছে। একই এলাকায় একটি ছাত্রী হোস্টেল রয়েছে, যেখানে প্রায় ১৪৩ জন শিক্ষার্থী বসবাস করে। ছাত্রীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনায় রেখে এলাকাটি সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
এছাড়া সংরক্ষিত এলাকার প্রবেশমুখে একটি বোটানিক্যাল গার্ডেন স্থাপন করা হয়েছে এবং সেখানে নিয়মিত বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। পুরো এলাকাটি একটি পরিকল্পিত ও পরিবেশবান্ধব জোন হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে কলেজের বাকি বিস্তৃত এলাকায় একাধিক খেলার মাঠ, উন্মুক্ত প্রাঙ্গণ, গাছপালা, একটি বড় পুকুর এবং শিক্ষার্থীদের বসার জন্য পাকা ব্যবস্থা রয়েছে। পুকুরের দুই পাশে ঘাট নির্মাণ করা হয়েছে এবং শিক্ষার্থীদের জন্য একটি প্রশস্ত কমনরুমও চালু আছে। প্রায় ১৮ হাজার শিক্ষার্থীর জন্য পর্যাপ্ত খোলা জায়গা রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
তবে কিছু শিক্ষার্থীর অভিযোগ, লীজ দেওয়া জমির কারণে ক্যাম্পাসে তাদের চলাচলে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে। এ বিষয়ে কলেজ প্রশাসনের বক্তব্য, একটি ক্ষুদ্র গোষ্ঠী মূলত সংরক্ষিত ছাত্রী হোস্টেল এলাকায় প্রবেশের সুযোগ চাচ্ছে, যা নিরাপত্তাজনিত কারণে অনুমোদনযোগ্য নয়।
কর্তৃপক্ষ আরও জানায়, সাধারণ শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে এ ধরনের কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। বরং একটি ছোট গোষ্ঠী বিষয়টিকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করে অযথা বিতর্ক তৈরি করছে, যা শিক্ষাঙ্গনের স্বাভাবিক পরিবেশ ব্যাহত করতে পারে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে ছাত্রীদের নিরাপত্তার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব পাওয়া উচিত।
সবশেষে, অনাবাদী জমিকে উৎপাদনশীল করে অর্থনৈতিক সুবিধা অর্জন এবং একই সঙ্গে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার এই উদ্যোগকে ভুলভাবে উপস্থাপন করা অনাকাঙ্ক্ষিত। সচেতন মহলের উচিত তথ্যভিত্তিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে বিষয়টি মূল্যায়ন করা।