সাতক্ষীরা 11:39 pm, Sunday, 8 November 2026
সংবাদ শিরোনাম ::
ছবিটা ক্লিয়ার করে দাও সাতক্ষীরায় ‘বিজ’-এর কৃষি কর্মসূচির আওতায় ফলজ, বনজ ও ঔষধি চারা বিতরণ আলিপুর ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে আলোচনায় আব্দুর রউফের পৌত্র সামির সোয়েব রাদমির অন্যায়ের বিরুদ্ধে আপসহীন, অধিকার ও সম্প্রীতির প্রশ্নে অদম্য—নতুন প্রত্যয়ে সাতক্ষীরায় যুব ঐক্য পরিষদ আশাশুনিতে শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের মাসিক কর্মপরিকল্পনা বৈঠক অনুষ্ঠিত পর্নোগ্রাফি ও চাঁদাবাজির মামলায় সাতক্ষীরার কথিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর, আব্দুল্লাহ আল মামুন গ্রেপ্তার ফ্রান্সের বর্তমান অবস্থা (জনগণের ক্ষোভ ও সামরিক শক্তি বৃদ্ধি) সাতক্ষীরায় মোটরসাইকেল চুরির অভিযোগে সার্জেন্টের ছেলে আটক, গণপিটুনির পর পুলিশের হেফাজতে সাতক্ষীরার ভোমরা সীমান্তে ভারতে পাচারকালে ১ কোটি ৫৫ লক্ষ টাকার স্বর্ণ সহ আটক: ১ সাতক্ষীরা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে কোষাধ্যক্ষ পদপ্রার্থী অ্যাডভোকেট শামীম রেজা সাতক্ষীরার দেবহাটায় গৃহবধূকে হেনস্তার চেষ্টা ও শিশুদের হয়রানির অভিযোগে যুবক আটক

কালিগঞ্জ ছাড়লো সেনাবাহিনীর ‘৩৭ বীর’ ইউনিট প্রত্যাহারে উদ্বিগ্ন স্থানীয়রা

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : 07:34:44 pm, Sunday, 5 April 2026 125 300 বার পড়া হয়েছে
Khandakarit.com

সাতক্ষীরা কন্ঠ ডেস্ক: সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলায় দীর্ঘদিন ধরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনকারী সেনাবাহিনীর অস্থায়ী ক্যাম্প সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাহার করা হয়েছে। এতে করে স্থানীয় জনমনে স্বস্তির পরিবর্তে চরম উদ্বেগ, নিরাপত্তাহীনতা এবং অনিশ্চয়তার ছায়া নেমে এসেছে।

রবিবার (৫ এপ্রিল ২০২৬) সকাল ৮টার পর ৩৭ বীর ইউনিটের ক্যাপ্টেন মোঃ সাজিদের নেতৃত্বে ৫৪ জন সেনাসদস্য কালিগঞ্জ সরকারি পলিটেকনিক্যাল কলেজে স্থাপিত ক্যাম্প গুটিয়ে যশোর সেনানিবাসের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। নির্বাচনের প্রায় ৫১ দিন পর এবং অন্তর্বর্তীকালীন সময়জুড়ে পরিচালিত সফল অভিযান শেষে এই প্রত্যাহার কার্যক্রম সম্পন্ন হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সেনাবাহিনীর উপস্থিতিকালে কালিগঞ্জে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসে। মাদক, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী কার্যক্রম এবং রাজনৈতিক সহিংসতা প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে আসে। সাধারণ মানুষ দীর্ঘদিন পর স্বস্তিতে চলাফেরা করতে পেরেছিল।
কিন্তু সেনাবাহিনী চলে যাওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়তেই স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। অনেকেই আশঙ্কা করছেন, সুযোগসন্ধানী ও অপরাধী চক্র আবার সক্রিয় হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে গ্রামীণ জনপদগুলোতে রাতের নিরাপত্তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে শঙ্কা বাড়ছে।
কালিগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব ডা. শফিকুল ইসলাম বাবু বলেন, সেনাবাহিনীর ভূমিকা ছিল অনবদ্য। এই মুহূর্তে তাদের প্রত্যাহার কোনোভাবেই কাম্য ছিল না। একটি সুবিধাবাদী চক্র আবার সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা করছে। তারা এলাকায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির সুযোগ নিতে পারে। আরও কিছুদিন সেনাবাহিনী থাকলে এই অশুভ শক্তিকে সম্পূর্ণভাবে নির্মূল করা সম্ভব হতো।

অন্যদিকে, বিষ্ণুপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গির আলম জানান, সেনাবাহিনীর উপস্থিতিতে এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় ছিল। তবে সেনাবাহিনী চলে যাওয়ার পর স্থানীয় প্রশাসন, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, ইউএনও এবং পুলিশ সম্মিলিতভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
তবে সাধারণ মানুষের একাংশ পুলিশের কার্যক্রম নিয়ে সন্তুষ্ট নয়। তাদের অভিযোগ, পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা এবং দলীয় দৃষ্টিভঙ্গি অপরাধীদের উৎসাহিত করতে পারে। এ কারণে তারা দ্রুত পুলিশি টহল বৃদ্ধি, গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার এবং কঠোর আইন প্রয়োগের দাবি জানিয়েছেন।
এলাকাবাসীর মতে, সেনাবাহিনী যে নিরাপদ পরিবেশ বা ‘সেফ জোন’ তৈরি করে দিয়ে গেছে, তা ধরে রাখা এখন প্রশাসনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। যদি কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হয়, তাহলে কালিগঞ্জ আবারও অপরাধীদের অভয়ারণ্যে পরিণত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়তে পারে।
সার্বিকভাবে, সেনাবাহিনীর প্রত্যাহারের পর কালিগঞ্জে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখা এখন প্রশাসনের সক্ষমতা ও নিরপেক্ষতার বড় পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
ভাষা চেঞ্জ করুন

কালিগঞ্জ ছাড়লো সেনাবাহিনীর ‘৩৭ বীর’ ইউনিট প্রত্যাহারে উদ্বিগ্ন স্থানীয়রা

আপডেট সময় : 07:34:44 pm, Sunday, 5 April 2026

সাতক্ষীরা কন্ঠ ডেস্ক: সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলায় দীর্ঘদিন ধরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনকারী সেনাবাহিনীর অস্থায়ী ক্যাম্প সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাহার করা হয়েছে। এতে করে স্থানীয় জনমনে স্বস্তির পরিবর্তে চরম উদ্বেগ, নিরাপত্তাহীনতা এবং অনিশ্চয়তার ছায়া নেমে এসেছে।

রবিবার (৫ এপ্রিল ২০২৬) সকাল ৮টার পর ৩৭ বীর ইউনিটের ক্যাপ্টেন মোঃ সাজিদের নেতৃত্বে ৫৪ জন সেনাসদস্য কালিগঞ্জ সরকারি পলিটেকনিক্যাল কলেজে স্থাপিত ক্যাম্প গুটিয়ে যশোর সেনানিবাসের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। নির্বাচনের প্রায় ৫১ দিন পর এবং অন্তর্বর্তীকালীন সময়জুড়ে পরিচালিত সফল অভিযান শেষে এই প্রত্যাহার কার্যক্রম সম্পন্ন হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সেনাবাহিনীর উপস্থিতিকালে কালিগঞ্জে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসে। মাদক, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী কার্যক্রম এবং রাজনৈতিক সহিংসতা প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে আসে। সাধারণ মানুষ দীর্ঘদিন পর স্বস্তিতে চলাফেরা করতে পেরেছিল।
কিন্তু সেনাবাহিনী চলে যাওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়তেই স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। অনেকেই আশঙ্কা করছেন, সুযোগসন্ধানী ও অপরাধী চক্র আবার সক্রিয় হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে গ্রামীণ জনপদগুলোতে রাতের নিরাপত্তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে শঙ্কা বাড়ছে।
কালিগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব ডা. শফিকুল ইসলাম বাবু বলেন, সেনাবাহিনীর ভূমিকা ছিল অনবদ্য। এই মুহূর্তে তাদের প্রত্যাহার কোনোভাবেই কাম্য ছিল না। একটি সুবিধাবাদী চক্র আবার সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা করছে। তারা এলাকায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির সুযোগ নিতে পারে। আরও কিছুদিন সেনাবাহিনী থাকলে এই অশুভ শক্তিকে সম্পূর্ণভাবে নির্মূল করা সম্ভব হতো।

অন্যদিকে, বিষ্ণুপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গির আলম জানান, সেনাবাহিনীর উপস্থিতিতে এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় ছিল। তবে সেনাবাহিনী চলে যাওয়ার পর স্থানীয় প্রশাসন, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, ইউএনও এবং পুলিশ সম্মিলিতভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
তবে সাধারণ মানুষের একাংশ পুলিশের কার্যক্রম নিয়ে সন্তুষ্ট নয়। তাদের অভিযোগ, পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা এবং দলীয় দৃষ্টিভঙ্গি অপরাধীদের উৎসাহিত করতে পারে। এ কারণে তারা দ্রুত পুলিশি টহল বৃদ্ধি, গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার এবং কঠোর আইন প্রয়োগের দাবি জানিয়েছেন।
এলাকাবাসীর মতে, সেনাবাহিনী যে নিরাপদ পরিবেশ বা ‘সেফ জোন’ তৈরি করে দিয়ে গেছে, তা ধরে রাখা এখন প্রশাসনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। যদি কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হয়, তাহলে কালিগঞ্জ আবারও অপরাধীদের অভয়ারণ্যে পরিণত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়তে পারে।
সার্বিকভাবে, সেনাবাহিনীর প্রত্যাহারের পর কালিগঞ্জে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখা এখন প্রশাসনের সক্ষমতা ও নিরপেক্ষতার বড় পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে।