বিলুপ্তির পথে সাতক্ষীরার ‘যশ’: শীত ফুরালেও মিলল না খেজুরের রস
- আপডেট সময় : 11:32:52 pm, Saturday, 31 January 2026 238 300 বার পড়া হয়েছে

জিএম আমিনুল হক: বাংলার শীত মানেই খেজুরের রসের স্বাদ ও নলেন গুড়ের ঘ্রাণ। কিন্তু চলতি মৌসুমে সাতক্ষীরার অধিকাংশ মানুষের জিভে সেই স্বাদ আর ধরা দেয়নি। একসময় বহুল প্রচলিত প্রবাদ— ‘সাতক্ষীরার যশ, তাল-খেজুরের রস’—আজ বিলুপ্তির পথে।
নির্বিচারে খেজুরগাছ কেটে ইটভাটায় জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার, দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে জেলায় দ্রুত কমে যাচ্ছে খেজুরগাছের সংখ্যা। পাশাপাশি পেশা বদলে ফেলায় কমে গেছে গাছির সংখ্যাও। ফলে শীতের শেষ সময়েও মিলছে না পর্যাপ্ত রস।
বালিথা গ্রামের রাজ্জাক মিঞা বলেন, “গাছ আছে, কিন্তু গাছি নেই। এক ভাড় রস এখন ২০০–৩০০ টাকা, তাও সহজে পাওয়া যায় না।”
কোমরপুর গ্রামের জাহাঙ্গীর কবীর জানান, “আগে শীতের সকালে নলেন গুড় জ্বালানোর গন্ধে ঘুম ভাঙত। এখন সেই স্বাদ স্মৃতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ।”
স্থানীয়রা জানান, আগে এক কাঁটায় যেখানে দুই ভাড় রস মিলত, এখন সেখানে অর্ধেক পাওয়াও কঠিন। ফলে নলেন গুড়, পাটালি ও পিঠাপুলির ঐতিহ্যও হারিয়ে যেতে বসেছে।
কৃষি বিভাগ বলছে, খেজুরগাছ থেকে রস সংগ্রহ একটি দক্ষ শিল্প। তবে গাছ ও গাছির সংখ্যা কমে যাওয়ায় এই ঐতিহ্য আজ হুমকির মুখে। সচেতন মহলের দাবি, পরিকল্পিতভাবে খেজুরগাছ রোপণ ও সংরক্ষণ না করলে ভবিষ্যতে সাতক্ষীরার খেজুরের রস কেবল ইতিহাসেই সীমাবদ্ধ থাকবে।
শীত বিদায় নিচ্ছে, কিন্তু প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে—নলেন গুড়ের সেই চেনা ঘ্রাণ কি আর ফিরবে সাতক্ষীরার বাতাসে?


























