কারাগার, কলহ আর মামলার বেড়াজালে নিঃস্ব এক বাবার সন্তান ফিরে পাওয়ার প্রার্থনা
- আপডেট সময় : 11:01:26 am, Wednesday, 6 August 2025 171 300 বার পড়া হয়েছে

আফজাল হোসেন, নিজস্ব প্রতিনিধি :একসময় ছিল সুখের সংসার—স্ত্রী আর দুই ফুটফুটে সন্তানকে ঘিরেই জীবনটা ছিল পূর্ণ। কিন্তু সময়ের নির্মম ছোবলে সেই সংসার আজ ধ্বংসস্তূপ। সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার কালিকাপুর গ্রামের হামজার আলী বিশ্বাসের ছেলে হাফিজুর রহমান এখন নিঃস্ব, নিঃসঙ্গ এবং সন্তানদের জন্য বুকভরা হাহাকার নিয়ে দিন পার করছেন।
২০০৯ সালে একই গ্রামের মো. সিদ্দিকুল ইসলামের মেয়ে মৌসুমী আক্তার ময়নার সঙ্গে হাফিজুরের বিয়ে হয়। কন্যা ও পুত্রসন্তান জন্মের পর তাদের সংসারে ছিল সুখ-শান্তি। কিন্তু ২০১৭ সালে ঘটে ছন্দপতন।
অভিযোগ অনুযায়ী, হাফিজুরের চাচা শ্বশুর ইলিয়াস শেফালী(ছদ্মনাম)নামের এক নারীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়ালে ঘটনা প্রবাহে দায়ের হয় অপহরণ মামলা। সেই মামলায় জড়িয়ে পড়েন হাফিজুরও। এতে তিনি সাড়ে সাত মাস কারাভোগ করেন।
কারামুক্তির পর সংসারে ফিরে আর আগের মতো স্বাভাবিক জীবন ফিরে পাননি হাফিজুর। তার দাবি, স্ত্রী ময়নার আচরণে আসে পরিবর্তন; তিনি দুই প্রতিবেশীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। বহুবার বোঝানোর চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়ে শেষ পর্যন্ত ২০১৯ সালে উল্টো ময়না তার বিরুদ্ধেই যৌতুক মামলা দায়ের করেন।
পরবর্তীতে কিছুদিনের জন্য স্ত্রী ময়না পুনরায় সংসারে ফিরলেও পুরনো অভিযোগ আবারও মাথাচাড়া দেয়। একদিন ঝগড়ার সময় হাফিজুর তাকে থাপ্পড় মারলে, ময়না বাবার বাড়ি ফিরে গিয়ে অভিযোগ করেন। এরপর তার স্বজনরা এসে হাফিজুরকে মারধর করে এবং ঘর থেকে ৪০ হাজার টাকা লুটে নেয় বলে অভিযোগ তার।
এ ঘটনা ঘিরে দুই পরিবারের মধ্যে পাল্টাপাল্টি মামলা হয়। ময়না এখন একই গ্রামের আব্দুল মজিদের ছেলে আইয়ুব আলীর সঙ্গে নতুন সংসার শুরু করেছেন। তবে সন্তানদের বাবার বাড়িতে রেখে গিয়ে তিনি আদালতে মামলা ও হয়রানির মাধ্যমে হাফিজুরকে বিপাকে ফেলছেন বলে অভিযোগ।
এ বিষয়ে চাচা শ্বশুর ইলিয়াস বলেন, “সবকিছু হাফিজুরের সন্দেহ থেকেই শুরু। তবে ময়নার বিরুদ্ধে অনৈতিক সম্পর্কের কোনো প্রমাণ তার কাছে নেই। অভিযুক্ত দুই প্রতিবেশীও অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
ময়নার বর্তমান স্বামী আইয়ুব আলী বলেন, আমাদের সংসার ৪-৫ মাস ধরে চলছে।
অন্যদিকে ভেঙে পড়া হাফিজুর রহমান বলেন, “আমি আর কিছু চাই না, শুধু আমার সন্তান দুটোকে ফিরে পেতে চাই। তাদের নিয়েই ভালোভাবে বাঁচতে চাই। হয়রানিমূলক মামলা থেকে মুক্তি পেতে প্রশাসনের কাছে ন্যায়বিচার চাই।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ময়না বলেন, হাফিজুরের সাথে মামলা আদালতে বিচারাধীন। আমি সাংবাদিকদের সঙ্গে কোনো মন্তব্য করতে আগ্রহী নই।
স্থানীয় বাসিন্দা হাসান মোড়ল, ইসা শেখ ও জাহিদ ফকির জানান, “দীর্ঘদিন ধরে হাফিজুর স্ত্রীর দ্বারা নির্যাতনের শিকার। ময়না এখন অন্যত্র বিয়ে করলেও মামলা দিয়ে তাকে হয়রানি করে চলেছে। দেশে এখন পুরুষ নির্যাতন প্রতিরোধ আইন সময়ের দাবি হয়ে দাঁড়িয়েছে।”
তাদের মতে, সমাজ ও প্রশাসনের দায়িত্বশীল হস্তক্ষেপ ছাড়া এই মানবিক ট্র্যাজেডি আরও জটিল আকার নিতে পারে।





























