সাতক্ষীরায় আলোচিত নিয়োগ বানিজ্যে শিক্ষক, সভাপতির সাথে ইউ,পি চেয়ারম্যান জড়িত থাকার অভিযোগ !

- আপডেট সময় : ০৯:১৮:৪২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৩ ১১৮ বার পড়া হয়েছে
নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরা তালায় আলোচিত অর্ধকোটি টাকার নিয়োগ বানিজ্যে প্রধান শিক্ষক ও সভাপতির সাথে একজন ইউপি চেয়ারম্যান জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে বিভিন্ন সময় নিয়োগ বানিজ্যের সাথে জড়িত ব্যক্তিদের বক্তব্য নিতে চাইলে তারা বিভিন্ন অপ-কৌশল সহ নানা ফন্দিফিকির এমনকি বক্তব্য দিতে তাদের অপারগতা এবং অনিহা প্রকাশ পেয়েছে। বলাই বাহুল্য যে নীরবতা তাদের অপকর্মের সম্মতির লক্ষন তা বলার অপেক্ষা রাখেনা। জানা গেছে, সাতক্ষীরা তালা উপজেলার সৈয়দ দীদার বখ্ত মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক এ,এস,এম মিজানুর রহমান অত্র বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মুরশিদা পারভীন কর্তৃক অর্ধকোটি টাকা নিয়োগ বানিজ্যের মুল পরিকল্পনাকারী মাস্টার মাইন্ড ছিলেন ঐ ইউ,পি চেয়ারম্যান। নিয়োগ বানিজ্যের দেড় মাস পার হলেও অত্র বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক, ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি সহ মুল পরিকল্পনাকারী কথিত ইউপি চেয়ারম্যান রয়েছেন বহাল তবিয়তে। এ ব্যাপারে গণমাধ্যম কর্মীরা বক্তব্য নেওয়ার জন্য প্রধান শিক্ষক ও সভাপতির মুঠো ফোনে একাধিকবার আলাপের চেষ্টা করেও বার- বার ব্যর্থ হয়েছেন। গণমাধ্যম কর্মীরা কৌশলে নিজেদের মোবাইল নম্বর পরিবর্তন করে উল্লেখিত ব্যক্তিদের সাথে আলাপকালে গণমাধ্যম কর্মীরা নিজেদের পরিচয় দিয়ে বক্তব্য নিতে চাইলে তড়িঘড়ি করে আলাপ কলটির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়ার রেকর্ড আছে প্রধান শিক্ষক মিজানুর রহমান ও ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মুরশিদা পারভীন এর বিরুদ্ধে। এদিকে সৈয়দ দীদার বখ্ত মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের ৩ পদে অর্ধকোটি টাকা উৎকোচ বানিজ্যে জড়িত স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান রয়েছে ধরাছোঁয়ার বাইরে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক ব্যক্তি বলেন, কথিত ঐ ইউপি চেয়ারম্যান সবার অন্তরালে ইঁদুরের গর্তে লুকিয়ে আছেন। তারা আরও অভিযোগ তুলে বলেন, নিয়োগ বানিজ্যের মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিয়ে তিনি বেশ ফুরফুরে মেজাজে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। নিয়োগ কেন্দ্রিক হাতিয়ে নেওয়া অর্ধকোটি টাকার অর্ধেক ভাগ নিয়েছেন স্থানীয় ঐ জনপ্রতিনিধি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন শিক্ষক বলেন, সৈয়দ দীদার বখ্ত মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ে গত ১ই সেপ্টেম্বর নিয়োগ কেন্দ্রিক বোর্ডে যেন বড় ধরনের কোন রকম সমস্যার সৃষ্টি না হয় সে জন্য নিয়োগ বানিজ্যের প্রায় অর্ধেক অর্ধেক টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন স্থানীয় ঐ জনপ্রতিনিধি। এ ছাড়া নিয়োগ কেন্দ্রিক হাতিয়ে নেওয়া টাকা থেকে মোটা অংকের টাকা দিয়ে ম্যানেজ করতে হয়েছে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার ও ডিজি প্রতিনিধি কে। অর্ধকোটি টাকা নিয়োগ বানিজ্যের সাথে জড়িত ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মিজানুর রহমান, ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মুরশিদা পারভীন, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার, ডিজি প্রতিনিধি অজয় কুমার হালদার সহ দুর্নীতিবাজ ইউপি চেয়ারম্যান এর বিরুদ্ধে কোন প্রকার দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেয়নি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এমন অভিযোগ এলাকাবাসীর। নিয়মবহির্ভূত ভাবে বোর্ড কমিটিকে ম্যানেজ করে বিধিবহির্ভূত ভাবে নিয়োগ প্রদান করায় ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার পাশাপাশি ক্ষোভে ফুঁসে উঠেছে সাধারন মানুষ। গত ২৬-০৪-২৩ ইং তারিখ সাতক্ষীরার স্থানীয় দৈনিক যুগের বার্তা পত্রিকায় সৈয়দ দীদার বখ্ত মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ে নিয়োগের জন্য অফিস সহকারী কাম হিসাব সহকারী, পরিচ্ছন্নতা কর্মী, অফিস সহায়ক পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির প্রেক্ষিতে চাকরি প্রত্যাশিরা নিজ নিজ পছন্দ অনুযায়ী উল্লেখিত পদের বিপরীতে আবেদন করেন। অভিযোগ উঠেছে, সৈয়দ দীদার বখ্ত মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ে অফিস সহকারী কাম হিসাব সহকারী, পরিচ্ছন্নতা কর্মী, অফিস সহায়ক পদে নিয়োগ বোর্ডের পূর্বে উল্লেখিত ৩ পদের বিপরীতে তিন প্রার্থীকে মনোনীত করেন। উৎকোচ বিনিময়ে প্রশ্ন ফাঁস করে সাজানো পাতানো নিয়োগ পরীক্ষার মধ্য দিয়ে নিয়মবহির্ভূত নীতি অনুসরণ করে অবৈধ পন্থায় মনোনীত তিন প্রার্থীকে নিয়োগ প্রদান করা হয়। অভিযোগ উঠেছে, সৈয়দ দীদার বখ্ত মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির স্ব-ঘোষিত ১ই সেপ্টেম্বর শুক্রবার সকাল ৮.৩০ মিনিট সময় পরীক্ষার সময়সূচি উল্লেখ করা হলেও পরিপত্রের নিয়ম উপেক্ষা করে পরীক্ষার সময়সূচির আগে ভাগেই পাতানো নিয়োগ বোর্ড সম্পন্নকরণ করা হয় বলে এ দাবি করেন ভুক্তভোগী পরীক্ষার্থী মিজানুর রহমান। প্রবেশপত্রে উল্লেখ থাকা সময়সীমার আগেভাগেই সাজানো পাতানো বোর্ড শেষ করার কারনে অফিস সহকারী কাম হিসাব সহকারী পদে আবেদন করা চাকরি প্রত্যাশি যোগ্য প্রার্থী মিজানুর রহমান নিয়োগ পরীক্ষা থেকে বঞ্চিত হন। সৈয়দ দীদার বখ্ত মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মুরশিদা পারভীন ও ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক এস,এম, মিজানুর রহমান কর্তৃক নিয়োগ বানিজ্য করায় ভুক্তভোগী প্রার্থী মিজানুর রহমান উল্লেখিত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে উৎকোচ বানিজ্য, অনিয়ম সহ দূর্নীতি তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ সহ অবৈধ নিয়োগ বাতিলের দাবিতে গত ৬ সেপ্টেম্বর তালা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন। স্থানীয়রা অভিযোগ তুলে বলেন, সৈয়দ দীদার বখ্ত মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এস,এম মিজানুর রহমান ও অত্র বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও তালা উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মুরশিদা পারভীন পাপড়ি পরস্পর যোগসাজশে মনোনীত করা তিন প্রার্থীর নিকট থেকে উল্লেখিত পদের বিপরীতে ৪০ লক্ষ টাকা উৎকোচ গ্রহন করেন। নিয়োগ বোর্ড বসানোর পূর্বে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের মনোনীত তিন প্রার্থীরা হলেনঃ (১) অফিস সহকারী কাম হিসাব সহকারী পদে তালা উপজেলার লাউতাড়া গ্রামের নওয়াব আলী এর ছেলে মোঃ নয়ন হোসেন কে মনোনীত করে নিয়োগ বোর্ড বসানোর পূর্বে তার নিকট থেকে ১৬ লক্ষ টাকা সৈয়দ দিদার বখ্ত মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মিজানুর রহমান ও অত্র বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মুরশিদা পারভীন পাপড়ি ১৬ লক্ষ টাকা উৎকোচ গ্রহণ করেন। (২) পরিচ্ছন্নতা কর্মী পদে একই উপজেলার সুভাষিণী গ্রামের রফিক মোড়লের ছেলে মোঃ রায়হান হোসেন কে মনোনীত করে তার নিকট থেকে ১২ লক্ষ টাকা উৎকোচ গ্রহণ করেন অত্র বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও সভাপতি। (৩) অফিস সহায়ক পদে একই উপজেলার সুভাষিণী গ্রামের রুস্তম সরদার এর ছেলে মোঃ মনিরুজ্জামান কে মনোনীত করে নিয়োগ বোর্ড বসার পূর্বে তার নিকট থেকে ১২ লক্ষ টাকা উৎকোচ গ্রহণ করেন সৈয়দ দীদার বখ্ত মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মিজানুর রহমান ও ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি, তালা উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান মুরশিদা পারভীন পাপড়ি। উল্লেখিত ৩ জন প্রার্থীর নিকট থেকে ঘুষ বানিজ্যের কালো টাকা সাদা করার নিমিত্তে সাতক্ষীরা তালা উপজেলার তালা সরকারি বিদে উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক, ডিজি প্রতিনিধি অজয় কুমার হালদার ও তালা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার শেখ ফিরোজ আহমেদ কে মোটা অংকের টাকায় ম্যানেজ করে গত ০১-০৯-২৩ ইং তারিখ শুক্রবার রাতের আধাঁরে একটি অদৃশ্য সাজানো পাতানো নিয়োগ বোর্ডে প্রধান শিক্ষক ও সভাপতি কর্তৃক মনোনীত ৩ প্রার্থীকে উত্তীর্ণ করে নিয়োগ প্রদান করা হয়ছে বলে এ দাবি করেছেন ভুক্তভোগী ও স্থানীয়রা। খোজ খবর নিয়ে জানা গেছে, সৈয়দ দীদার বখ্ত মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের ৩ শুন্য পদে নিয়োগ কেন্দ্রিক লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার সময়সূচি ০১-০৯-২৩ ইং তারিখ শুক্রবার সকাল ০৮.৩০ মিনিট নির্ধারন করা হয় যা প্রার্থীদের প্রবেশপত্রে স্পষ্ট ভাবে উল্লেখ করা আছে। সৈয়দ দীদার বখ্ত মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের কমিটির বেধে দেওয়া স্ব-ঘোষিত সময় সীমার আগেই সকাল ৮.০০ টার সময় অফিস সহকারী কাম হিসাব সহকারী পদে আবেদনকারী চাকরি প্রত্যাশি তালা উপজেলার সুভাষিণী গ্রামের মোঃ আনছার আলী শেখ এর ছেলে ভুক্তভোগী মোঃ মিজানুর রহমান নিয়োগ কেন্দ্রে উপস্থিত হন। তিনি উপস্থিত হয়ে জানতে পারেন নিয়োগ বোর্ড অনেক আগেই শেষ হয়ে গেছে। ভুক্তভোগী মিজানুর রহমান জানান, সকাল ৮.০০ টায় অত্র বিদ্যালয়ে উপস্থিত হয়ে তিনি কোন দৃশ্যমান নিয়োগ পরীক্ষা কিংবা কোন নিয়োগ বোর্ড বসতে দেখেনি। ভুক্তভোগী মিজানুর রহমান বলেন, বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর অফিস সহকারী কাম হিসাব সহকারী পদে আবেদন করেন একইসাথে তিনি সৈয়দ দীদার বখ্ত মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এস,এম মিজানুর রহমান এর সাথে চাকরির জন্য আলাপ করলে প্রধান শিক্ষক ২০ লক্ষ টাকা উৎকোচ দাবি করেন।ভুক্তভোগী উক্ত টাকার যোগান দিতে অপারগতা প্রকাশ করায় তার আবেদন করা পদে প্রধান শিক্ষক ও সভাপতির মনোনীত প্রার্থীকে উৎকোচ বিনিময়ে অদৃশ্য নিয়োগ বোর্ডে উত্তীর্ণ করা হয়। তিনি আরও অভিযোগ করে বলেন, সৈয়দ দীদার বখ্ত মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এস,এম মিজানুর রহমান ও অত্র বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মুরশিদা পারভীন পাপড়ি পরস্পর যোগসাজশে অফিস সহকারী পদে মোঃ মনিরুজ্জামান, পরিচ্ছন্ন কর্মী পদে মোঃ রায়হান হোসেন, অফিস সহকারী কাম হিসাব সহকারী পদে মোঃ নয়ন হোসেন কে মনোনীত করে তাদের নিকট থেকে ৫০ লক্ষ টাকা উৎকোচ গ্রহণ করেছেন। এ ছাড়া প্রধান শিক্ষক ও ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি কর্তৃক মনোনীত তিন প্রার্থীর মাঝে নিয়োগ বোর্ডের আগেভাগেই মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার ও ডিজি প্রতিনিধির সহযোগিতায় প্রশ্ন পত্র ফাঁস করা হয় বলে দাবি করেন ভুক্তভোগী মিজানুর রহমান। তিনি আরও বলেন, উৎকোচ বানিজ্যের টাকা নিয়ে বহালতবিয়তে রয়েছেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক এস,এম মিজানুর রহমান ও ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মুরশিদা পারভীন পাপড়ি। তথ্য অনুসন্ধানে জানা গেছে, কিছু সংখ্যক উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার এবং ডিজি প্রতিনিধিরা সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শুন্য পদে নিয়োগ পরীক্ষার আগে ভাগেই মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে প্রধান শিক্ষক ও সভাপতি কর্তৃক মনোনীত প্রার্থীদের কাছে প্রশ্ন পত্র ফাঁস করা হয়। এসব প্রশ্ন পত্র ফাঁসের কারণে সাতক্ষীরার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দেদারসে চলছে নিয়োগ বানিজ্য। জানা গেছে, নিয়োগ পরীক্ষার সময় শিক্ষা অফিসার এবং ডিজি প্রতিনিধি ঘুষ বানিজ্যের মাধ্যমে নিয়োগ বোর্ড বসার পূর্বে ফাঁস করা একই টাইপের প্রশ্ন পত্র নিয়োগ পরীক্ষার সময় ফটোকপি করে পরীক্ষা কেন্দ্রে প্রধান শিক্ষক ও সভাপতি কর্তৃক উৎকোচ বিনিময়ে মনোনীত প্রার্থীদের মাঝে বিতরণ করেন। আবার অনেক সময় নিরপেক্ষ ভাবে নিয়োগ পরীক্ষার জন্য স্থানীয়দের চাপের মুখে পড়ে নিয়োগ বোর্ডের পূর্বে ফাঁস হওয়া একই টাইপের প্রশ্ন মোবাইলে ছবি তুলে রাখা কিংবা পকেটে নিয়ে যাওয়া এমনকি নিজেদের সাথে নিয়ে যাওয়া ব্যাগের ভেতরে লুকিয়ে রাখা প্রশ্ন দেখে হুবহু প্রশ্ন তৈরি করে মানুষকে বোকা বানানোর মধ্য দিয়ে সাজানো পাতানো নিয়োগ সম্পন্ন করেন। পরিপত্রের নিয়ম অনুযায়ী এসব প্রক্রিয়া বিধিবহির্ভূত এবং শাস্তি যোগ্য অপরাধ বিধান থাকলেও বন্ধ হচ্ছে না নিয়োগ বানিজ্য। তথ্য অনুসন্ধানে জানা গেছে, এসব পাতানো নিয়োগ প্রতি ১ লক্ষ টাকা থেকে শুরু করে ২ লক্ষ টাকা পর্যন্ত উৎকোচ নিচ্ছেন ডিজি প্রতিনিধি ও মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার। এ বিষয় তালা উপজেলার সৈয়দ দীদার বখ্ত মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এস,এম মিজানুর রহমান এর সাথে মুঠোফোনে আলাপকালে বক্তব্য নিতে চাইলে তিনি ১ মিনিট সময় ধরে কোন কথা না বলে নিশ্চুপ ছিলেন। দীর্ঘ ১ মিনিট অতিবাহিত হওয়ার পর তিনি আলাপ কলটির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন। এ সময় প্রতিবেদক আবারও বক্তব্য নেওয়ার জন্য একাধিকবার আলাপের চেষ্টা কালে আলাপ কলটি গ্রহণ না করায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। এ বিষয় তালা উপজেলার সৈয়দ দীদার বখ্ত মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও তালা উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মুরশিদা পারভীন পাপড়ির সাথে মুঠো ফোনে আলাপকালে দুর্নীতির ব্যাপারে বক্তব্য নিতে চাইলে তিনি কোন প্রকার বক্তব্য না দিয়ে কৌশলে তড়িঘড়ি করে আলাপ কলটির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন। এ সময় প্রতিবেদক বক্তব্যের জন্য একাধিকবার মুঠোফোনে আলাপের চেষ্টা কালে আলাপ কলটি গ্রহণ না করায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। এ বিষয় ডিজি প্রতিনিধি ও তালা সরকারি বিদে উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক অজয় কুমার হালদার এর সাথে মুঠো ফোনে একাধিকবার আলাপের চেষ্টা কালে আলাপ কলটি গ্রহণ না করায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। এ বিষয় তালা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার সেখ ফিরোজ আহমেদ এর সাথে মুঠো ফোনে আলাপ কালে নিয়োগ বোর্ডের পূর্বে ১ লক্ষ টাকা দিয়ে ম্যানেজ করেছিল কিনা জানতে চাইলে তিনি অস্বীকার করে বলেন, আমাকে কেউ ম্যানেজ করিনি। এ বিষয় সাতক্ষীরা জেলা শিক্ষা অফিসার মোঃ শাহাজাহান কবির মুঠো ফোনে আলাপকালে বলেন, নিয়োগ বোর্ডের পূর্বে যদি প্রধান শিক্ষক এবং সভাপতি নিয়োগ কেন্দ্রিক উৎকোচ বানিজ্য করে থাকে তা হলে সেটা হবে নিয়মবহির্ভূত। তিনি আরও বলেন, নিয়োগ পরীক্ষার সময়সূচির আগেভাগেই যদি পরীক্ষা হয়ে থাকে তা হলে সেই নিয়োগ অবৈধ বলে বিবেচিত হবে। এদিকে নিয়োগ বানিজ্যের সাথে জড়িত ব্যক্তিদের তদন্ত পূর্বক আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্ত মুলক শাস্তির পাশাপাশি বিধিবহির্ভূত নিয়োগ বাতিলের দাবি জানিয়েছেন প্রার্থী মিজানুর রহমান, সুশীল সমাজ সহ এলাকাবাসী।